লন্ডনে গণপরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে টিউব রেল চালকদের ২৪ ঘণ্টার ধারাবাহিক ধর্মঘটের প্রথম ধাপ শুরু হওয়ায়। কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে টিউব যাত্রা শেষ করার পরামর্শ দিয়েছে, কারণ সন্ধ্যার পর থেকে আর কোনো পরিষেবা থাকবে না।
রেল, মেরিটাইম অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ইউনিয়নের সদস্যরা বুধবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন। তাদের এই কর্মসূচির ফলে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
ধর্মঘটের কারণে সার্কেল লাইন ও পিকাডিলি লাইনে সম্পূর্ণ পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। এছাড়া মেট্রোপলিটন লাইনে বেকার স্ট্রিট থেকে অ্যালডগেট পর্যন্ত এবং সেন্ট্রাল লাইনে হোয়াইট সিটি থেকে লিভারপুল স্ট্রিট পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য অনেক লাইনে আংশিক পরিষেবা চালু থাকলেও তা খুবই সীমিত।
ধর্মঘট শুরুর পর থেকেই যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। কোথাও ট্রেন একেবারেই নেই, আবার কোথাও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। অনেক যাত্রী ট্রেনে উঠতেই পারেননি।
পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার আগে কোনো টিউব পরিষেবা চালু হবে না এবং চালু হওয়ার পরও অতিরিক্ত ভিড়ের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এলিজাবেথ লাইন, ওভারগ্রাউন্ড, ট্রাম ও বাস চলাচল করছে—যদিও এসব পরিবহনেও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চাপ দেখা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব পড়েছে। অনেক মানুষ যাতায়াত এড়িয়ে চলায় দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্রেতা কমে গেছে। একই সঙ্গে বহু যাত্রী হঠাৎ করেই ধর্মঘটের কারণে বিপাকে পড়েছেন।
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের দাবিগুলো উপেক্ষিত হওয়ায় “আর কোনো বিকল্প ছিল না” বলেই তারা ধর্মঘটে যেতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে পরিবহন কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তাদের প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো স্বেচ্ছামূলক এবং তারা ইউনিয়নকে ভবিষ্যতের ধর্মঘট স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক যাত্রী পরিষেবা বন্ধ ছিল এবং অয়েস্টার কার্ড ব্যবহার প্রায় ১৩ শতাংশ কমে গেছে। অন্যদিকে সাইকেল ভাড়ার চাহিদা ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিকল্প যাতায়াতের প্রবণতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে সড়কে যানবাহনের চাপ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও কিছু এলাকায় যানজট লক্ষ্য করা গেছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার থেকে আরও একটি ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা লন্ডনের পরিবহন ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

