TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভঃ আটক প্রায় ৫০

লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-কে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ থেকে ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে এটিই প্রথম বড় ধরনের গণবিক্ষোভ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সামনে কয়েকশ মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। একটিতে লেখা ছিল, ‘আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি।’

একই দিনে এডিনবার্গে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের সামনেও সংগঠনটির সমর্থনে প্রতিবাদ ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

লন্ডনে বিক্ষোভ শুরুর আগে মেট্রোপলিটন পুলিশ অংশগ্রহণকারীদের সতর্ক করে জানায়, সেখানে কঠোর নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিক্ষোভে অংশ নিলে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে যারা কর্মসূচি আয়োজন, অন্যদের নির্দেশনা দেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়।

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিক্ষোভের দায়িত্বে থাকা পুলিশের কমান্ডার অ্যাডাম স্লোনেকি বলেন, যারা এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে আসছেন, তারা জানেন যে নিষিদ্ধ সংগঠনকে সমর্থন করা বেআইনি। তার ভাষায়, তারা মূলত জেনেশুনেই অপরাধ করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হচ্ছেন।

তবে বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ পুলিশের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতেই পুলিশ অতিরিক্ত কঠোরতা দেখিয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে প্রায় ৪০০ মানুষ অংশ নেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৭৯ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত নারী সু মরহল বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। গাজায় যা ঘটছে, তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অবস্থান বিশ্বনেতাদের, বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জানা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, গণহত্যা বন্ধের চেষ্টা করছেন এমন মানুষদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এর আগেও বিভিন্ন বিক্ষোভে পাঁচ থেকে ছয়বার গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানান তিনি। তারপরও নিজের বিশ্বাস ও অবস্থানের কারণে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে চান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৭২ বছর বয়সী ধর্মযাজক রেভারেন্ড বিল হোয়াইট বলেন, ফিলিস্তিনে যে পরিস্থিতি চলছে, তাতে ব্রিটেনের ভূমিকা তাকে হতাশ করেছে। তার অভিযোগ, ব্রিটেনের সরবরাহ করা অস্ত্র ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার পর তিনি লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার মতে, গণহত্যা প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন এমন মানুষদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

আয়োজক সংগঠন ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’-এর এক মুখপাত্র দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কত দূর যেতে পারে, পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ তা আবারও সামনে এনেছে। তাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হওয়া সম্ভব হতো না।

এদিকে, আগামী ৪ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত মাসে লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনের বাইরে সংগঠনটির সমর্থনে আয়োজিত আরেকটি বিক্ষোভ থেকে ১৬০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার অথবা আদালতে হাজিরার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য নতুন সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ রাখার পক্ষে তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জোনাথন পাওয়েলের স্ত্রী ও সাংবাদিক-লেখক সারাহ হেলমও প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কারণে আলোচনায় আসেন। তবে মেট্রোপলিটন পুলিশ পর্যালোচনা করে জানায়, তার ওই পোস্ট অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এমকে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনে মৃত্যু সহায়তা বিল ঠেকিয়ে দিল পার্লামেন্টঃ বিপক্ষে মুসলিম এমপিদের বড় অংশ

যুক্তরাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ট্যাক্সি সেবায় নতুন যুগের সূচনাঃ উদ্বিগ্ন ব্ল্যাক ক্যাব ও প্রাইভেট হায়ার চালকরা

যুক্তরাজ্যে ইসলামিক সামার ক্যাম্পে শিশুদের ‘জিহাদি আদর্শে’ গড়ার অভিযোগে বিতর্ক