মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি শহরে উজ্জ্বল লাল রঙে মোড়া একটি ভবঘুরে বিড়াল ঘুরে বেড়ানোর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রাণীটিকে ‘নরকের বিড়াল’ বলে আখ্যা দিলেও স্থানীয় প্রাণী সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে এর কাছ থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিড়ালটির শরীরে লাল রঙ বা রঞ্জক পদার্থ লেগে রয়েছে। প্রাণীটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে চিকিৎসার আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষ যদি নিজেরা বিড়ালটিকে ধরতে বা উদ্ধার করতে যান, তাহলে চলমান অভিযান ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রাণী সুরক্ষা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিড়ালটিকে ধরার প্রচেষ্টা চলছে। তাদের দল নিরাপদ উপায়ে সেটিকে ধরার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে, যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা যায়। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় মানবিক ফাঁদ বসিয়েও বিড়ালটিকে ধরার চেষ্টা চলছে।
বিড়ালটির ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রাণীটি হয়তো কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, এটি অবৈধ কুকুর লড়াইয়ের সঙ্গে জড়িত কোনো ঘটনার ফল হতে পারে। তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অস্বাভাবিক চেহারার কারণে অনেকেই বিড়ালটিকে ‘লুসিফার’ বা ‘নরকের বিড়াল’ নামে ডাকছেন। আবার অনেকেই প্রাণীটির প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসার দাবি তুলেছেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিড়ালটি এখনো ধরা পড়েনি। তবে স্থানীয়দের মতে, বৃষ্টি এবং নিজের শরীর পরিষ্কার করার কারণে তার গায়ের লাল রঙ কিছুটা ফিকে হতে শুরু করেছে। উদ্ধারকারী দল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রাণীটি উদ্ধার হলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এখন পর্যন্ত প্রাণীটির গায়ে লাল রঙ লাগানোর ঘটনায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের মতে, বিড়ালটি নিরাপদে উদ্ধার হওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
সূত্রঃ দ্য ডেইলি সান
এম.কে

