TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লেবারের ভরাডুবির পর চাপে স্টারমারঃ গর্ডন ব্রাউনকে বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগ

ব্রিটেনের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভয়াবহ পরাজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলটির ভেতরে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান পদত্যাগের চাপের মধ্যেই তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকে ডাউনিং স্ট্রিটের বিশেষ বাণিজ্য ও বৈশ্বিক অর্থায়নবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি ইতিহাসের অন্যতম খারাপ ফলাফল করে। এরপর থেকেই দলটির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জোরালো হতে থাকে। প্রায় ৩০ জন লেবার এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের কাছে তার বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থাকা গর্ডন ব্রাউনকে দেশের “নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা” জোরদারের লক্ষ্যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিষয়ে বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ব্যারোনেস হারম্যানকে নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব নিয়োগের মধ্যেও দলীয় বিদ্রোহ থামছে না। অনেক এমপি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বর্তমান নেতৃত্ব অব্যাহত থাকলে আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবার “সম্পূর্ণ ধ্বংসের” মুখে পড়তে পারে।

যদিও স্যার কিয়ার স্টারমার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি এখনই পদত্যাগ করছেন না। তার ভাষায়, তিনি দেশকে “বিশৃঙ্খলার মধ্যে ঠেলে” দিতে চান না।
এদিকে লেবারের ভেতরে স্টারমারবিরোধী অবস্থান আরও তীব্র করেছেন টনি ভন নামের এক এমপি। তিনি অ্যাঞ্জেলা রেইনারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এবং সরকারের অভিবাসন সংস্কার পরিকল্পনারও সমালোচক।

টনি ভন স্টারমারকে সাবেক কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও লিজ ট্রাসের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, নেতৃত্ব পরিবর্তন না করলে লেবারের ভবিষ্যৎ আরও সংকটে পড়বে।

তিনি বলেন, “অনেকে বলেন নেতৃত্ব পরিবর্তন করলে আমরা কনজারভেটিভদের মতো দেখাব। কিন্তু পার্টিগেট কেলেঙ্কারির পরও যদি বরিস জনসনকে রাখা হতো, তাহলে কি পরিস্থিতি ভালো হতো? অথবা অর্থনীতি বিপর্যস্ত করার পরও যদি লিজ ট্রাসকে দায়িত্বে রাখা হতো?”

তিনি আরও বলেন, ভোটাররা স্টারমারের নেতৃত্বে পরিবর্তনের ধীরগতিতে হতাশ এবং অতীতের ভুলের কারণে এখনো ক্ষুব্ধ। তার মতে, জনগণ এখন এমন একজন নেতাকে চায়, যার স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি, দৃঢ় অবস্থান এবং মানুষকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা রয়েছে।

টনি ভন সতর্ক করে বলেন, আগামী বছরের স্থানীয় নির্বাচনের আগেই যদি সুশৃঙ্খল নেতৃত্ব পরিবর্তন না আনা হয়, তাহলে লেবার কার্যত নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী শক্তির কাছে আগেভাগেই পরাজয় মেনে নেবে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

কেয়ার ভিসা কমাতে যাচ্ছে ব্রিটেন, আসতে পারে নতুন শর্ত

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ভিসা সিদ্ধান্তে বিস্ময়—স্বামী অনুমোদিত, স্ত্রীকে ‘প্রকৃত ভিজিটর নন’ ঘোষণা

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটিশ পরিবারকে ব্যাটারি ও খাদ্য মজুতের নির্দেশ