14.4 C
London
October 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

সিরিয়াকে নিরাপদ ঘোষণা করে শরণার্থী মর্যাদা বাতিল ব্রিটেনের

ব্রিটেনে বসবাসরত সিরীয় শরণার্থীদের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সিরিয়াকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য নিরাপদ বিবেচনা করে দেশটির এক প্লাস্টিক সার্জনের শরণার্থী মর্যাদা বাতিল করেছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর। এর ফলে স্ত্রী ও ছয় সন্তানসহ ওই চিকিৎসককে ব্রিটেন থেকে বহিষ্কারের মুখে পড়তে হচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ানের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে নির্যাতনের আশঙ্কায় ওই চিকিৎসক ২০১৬ সালে ব্রিটেনে আশ্রয় নেন। বর্তমানে তিনি লন্ডনে বসবাস করছেন। সিরিয়ায় প্লাস্টিক সার্জন হিসেবে কাজ করার পর ব্রিটেনে নিজের চিকিৎসা-সংক্রান্ত যোগ্যতা স্বীকৃত করিয়ে তিনি জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলের নিবন্ধনও পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি একটি জিপি সার্জারিতে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন। তার তিন সন্তান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে।

ওই চিকিৎসক বলেন, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সিদ্ধান্তে তিনি হতবাক। পরিবারকে নিরাপদে রাখার আশায় ব্রিটেনে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু এখন তার শরণার্থী মর্যাদা বাতিল করা হয়েছে। সিরিয়ায় এখনও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে, যাদের হাতে তিনি আগে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন বলে জানান। তার আশঙ্কা, দেশে ফিরে গেলে এসব গোষ্ঠীর কাছ থেকে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তা পাবেন না। বর্তমান সিরীয় সরকারও তাদের সুরক্ষা দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, সিরিয়ার পরিস্থিতি এখনও জটিল হলেও দেশটিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। কর্তৃপক্ষের বিবেচনায়, ওই ব্যক্তির নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কাকে আর যথেষ্ট ভিত্তিসম্পন্ন বলে গণ্য করা যাচ্ছে না। শরণার্থী মর্যাদা বাতিলের এই আইনি প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সিজেশন’।

তবে ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থানের সঙ্গে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার নির্দেশনার বিরোধ রয়েছে। সংস্থাটি সর্বশেষ নির্দেশনায় বলেছে, সিরিয়ার সামগ্রিক স্থিতিশীলতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত শরণার্থীদের মর্যাদা বাতিল করে দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ থেকে রাষ্ট্রগুলোর বিরত থাকা উচিত।

এদিকে ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ নির্দেশনায় সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে এখনও অস্থিতিশীল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘর্ষ ও সহিংসতা ঘটতে পারে, যার মধ্যে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলাও রয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামো, বিশুদ্ধ পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির কারণে দেশটিতে মানবিক সংকট অব্যাহত রয়েছে।

ওই পরিবারের আইনজীবী মানিনি মেনন বলেন, অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সিরীয় শরণার্থী ও তাদের পরিবারকে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মতে, সিরিয়ার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে স্থিতিশীল হয়নি, যাতে শরণার্থীদের নিরাপদে ফিরিয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে সমর্থন করা যায়। তিনি বলেন, ব্রিটেনে নতুন জীবন গড়ে তোলা পরিবারগুলোর জন্য এই সিদ্ধান্তের পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট একটি জাতীয়তার শরণার্থীদের সুরক্ষা প্রত্যাহারের ঘটনা ব্রিটেনে নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে। একই ভিত্তিতে আরও কয়েকটি সিরীয় পরিবারের শরণার্থী মর্যাদা বাতিল করা হয়েছে বলেও ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে ব্রিটেনে বসবাসরত হাজারো সিরীয় শরণার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রকৃত শরণার্থীদের ব্রিটেন সবসময় সুরক্ষা দেবে এবং কাউকে বিপদের মুখে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে কারও নিজ দেশে ফেরার পরিস্থিতি নিরাপদ বলে বিবেচিত হলে তাকে ফিরে যেতে হবে। সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তি গড়ে তোলা ও বজায় রাখার বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এমকে

আরো পড়ুন

সেকশন ২১ ‘নো ফল্ট’ নোটিশে লন্ডনে গণউচ্ছেদের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ সাদিক খান

লেবারের অভিবাসন কড়াকড়িতে সমর্থন এন্ডি বার্নহ্যামেরঃ দলে নতুন বিতর্ক

যুক্তরাজ্যে টিউলিপ সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদ