19.6 C
London
June 12, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অবৈধ কর্মী নিয়োগের অভিযোগে ৪৫ হাজার পাউন্ড জরিমানাঃ অল্পের জন্য বন্ধ হওয়া থেকে রক্ষা পেল লন্ডনের ‘ক্যাফে রাজ’

লন্ডনের এলথামে অবস্থিত জনপ্রিয় কারি হাউস ‘ক্যাফে রাজ’ অবৈধ কর্মী নিয়োগের অভিযোগে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংকটে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে। হোম অফিসের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট টিমের অভিযানে একজন বাংলাদেশি কর্মীকে আটক করার পর রেস্টুরেন্টটির লাইসেন্স বাতিলের দাবি উঠেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কঠোর শর্ত আরোপ করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি পরিচালিত এক অভিযানে হোম অফিসের কর্মকর্তারা রেস্টুরেন্ট থেকে মুহাম্মদ হাসান ওভি নামের ৩২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেন। তদন্তে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যে তার কাজ করার বৈধ অধিকার ছিল না। এ ঘটনার পর রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবৈধ কর্মী নিয়োগের অভিযোগ আনা হয়।

হোম অফিস দাবি করে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ক্যাফে রাজের ব্যবসায়িক লাইসেন্স সম্পূর্ণভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া, অবৈধভাবে কাজ করার অধিকারবিহীন কর্মী নিয়োগের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪৫ হাজার পাউন্ডের আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, কোনো নিয়োগকর্তা যদি যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া অবৈধ কর্মী নিয়োগ দেন, তাহলে প্রতি কর্মীর জন্য উল্লেখযোগ্য অঙ্কের জরিমানার মুখোমুখি হতে পারেন। গুরুতর ক্ষেত্রে ফৌজদারি অভিযোগও আনা হতে পারে।

তবে বিষয়টি পর্যালোচনার পর গ্রীনিচ কাউন্সিলের লাইসেন্সিং কমিটি রেস্টুরেন্টটি পুরোপুরি বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। কমিটি মনে করে, কঠোর নজরদারি ও নতুন শর্ত আরোপের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।

নতুন শর্ত অনুযায়ী, ক্যাফে রাজে ভবিষ্যতে কোনো কর্মী নিয়োগের আগে তাদের পাসপোর্ট, ভিসা এবং যুক্তরাজ্যে কাজ করার আইনি অধিকার সংক্রান্ত নথি বাধ্যতামূলকভাবে যাচাই করতে হবে। শুধু তাই নয়, নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্র নিয়মিত সংরক্ষণ এবং প্রতি তিন মাস অন্তর অডিট রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লাইসেন্সিং কমিটি আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত শর্ত লঙ্ঘিত হলে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে, যার মধ্যে লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিলের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবৈধ কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে হোম অফিস অভিযান জোরদার করেছে। বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট, টেকঅ্যাওয়ে, নির্মাণ খাত এবং নখের সেলুনের মতো খাতগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে শ্রমবাজারে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন আইন কার্যকর করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, ব্যবসায়িক মহলের একটি অংশ মনে করে, নিয়োগকর্তাদের জন্য ইমিগ্রেশন নিয়মাবলি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। তাই কর্মী নিয়োগের আগে সঠিক আইনি পরামর্শ গ্রহণ এবং “রাইট টু ওয়ার্ক” যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্যাফে রাজের ঘটনা যুক্তরাজ্যের রেষ্টুরেন্ট খাতের অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মী সংকট মোকাবিলার চাপে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি প্রয়োজনীয় আইনি যাচাই ছাড়া কর্মী নিয়োগ দেয়, তাহলে তার পরিণতি হতে পারে বড় অঙ্কের জরিমানা, সুনামহানি এবং ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

এক হাজার ইউক্রেনীয় শরণার্থীর খরচ মেটাবেন ব্রিটিশ ধনকুবের!

আগামী বছরই কী যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচন?

যুক্তরাজ্যে রিফর্ম ইউকের উত্থানে শঙ্কিত ব্রাসেলস, চুক্তি রক্ষায় ‘সেফটি প্রোভিশন’