ব্রিটেনের উইল্টশায়ারের সুইন্ডন শহরে অর্থপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭৫ হাজার পাউন্ড মূল্যের অবৈধ তামাকজাত পণ্য এবং অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে—এমন দুই হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করেছে পুলিশ। শুক্রবার শহরের পাঁচটি দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। উইল্টশায়ার পুলিশের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানের অংশ হিসেবে অবৈধ অর্থ, পণ্য এবং শোষণের শিকার অবৈধভাবে কর্মরত শ্রমিকদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানে মোট ৮৯ হাজার ২০৫টি অবৈধ তামাকজাত স্টিক জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এসব পণ্যের আনুমানিক খুচরা বাজারমূল্য ৭৪ হাজার ৭২১ পাউন্ড। এ ঘটনায় অপরাধ তদন্ত চলমান রয়েছে।
উইল্টশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির সমন্বয়ে পরিচালিত ‘অপারেশন মাচিনাইজ’-এর আওতায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের অর্থের উৎস শনাক্ত করা, অবৈধ পণ্য জব্দ করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এ অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
উইল্টশায়ার পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন ইউনিটের প্রধান গোয়েন্দা পরিদর্শক স্টিভ এডওয়ার্ডস বলেছেন, অর্থপাচারের সমস্যা দুর্ভাগ্যজনকভাবে সর্বত্রই রয়েছে। তার ভাষ্য, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র শহরের প্রধান সড়কগুলোর বিভিন্ন দোকানকে ব্যবহার করে অপরাধলব্ধ অর্থ বৈধ আয়ের মতো দেখানোর চেষ্টা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থপাচার করে তারা অপরাধমূলক জীবনযাপন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরও অপরাধে অর্থায়ন করছে।
তিনি বলেন, কিছু নাপিতের দোকান, ভেপের দোকান ও ছোট মুদিদোকান অপরাধী চক্রের অপব্যবহারের শিকার হচ্ছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেক বৈধ ব্যবসাও পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে তল্লাশি চালানো পাঁচটি দোকানের মধ্যে একটি দোকানে কোনো অবৈধ পণ্য পাওয়া যায়নি। তবে অন্যান্য দোকান থেকে কী কী সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অবৈধভাবে পরিচালিত ছোট দোকান, ভেপের দোকান ও নাপিতের দোকানকে ঘিরে সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগ সামনে আসার পর ব্রিটিশ সরকার এ বছরের শুরুতে উচ্চপর্যায়ের অপরাধ দমনে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি বিশেষ ইউনিট গঠনের ঘোষণা দেয়। এর আগে জুন মাসে সরকার জানায়, সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দোকান সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে।
সূত্রঃ বিবিসি
এমকে

