TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

আইনের শাসনের পক্ষে ব্রিটিশ মুসলিমদের স্পষ্ট বার্তাঃ গ্রুমিং গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যে শিশুদের যৌন শোষণ ও গ্রুমিং গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের বিশিষ্ট সুফি ধর্মীয় নেতা মুহাম্মদ হাসান হাশিব-উর-রেহমান। তার বক্তব্য, কোনো অপরাধী নিজের সম্প্রদায়ের মানুষ হলেও তাকে আড়াল না করে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করতে হবে।

যুক্তরাজ্য সফরে থাকা এই ধর্মীয় নেতা বলেছেন, ব্রিটিশ পাকিস্তানিদের গ্রুমিং গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো এবং শিশুদের শোষণে জড়িত ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া উচিত। তার মতে, অন্যায় সম্পর্কে জেনেও নীরব থাকা কার্যত সেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার মতো।

তিনি বলেন, নিজেদের সম্প্রদায়ের কেউ অপরাধ, উগ্রবাদ বা গ্রুমিং গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরোধিতা করতে হবে। বন্ধু কিংবা আত্মীয় কেউ এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে তাকেও ব্যক্তিগতভাবে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করার আহ্বান জানান তিনি।

মুহাম্মদ হাসান হাশিব-উর-রেহমান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির ঈদগাহ শরিফের খাদেম। এটি পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুফি ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তান ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। তার ধর্মীয় কেন্দ্রের যুক্তরাজ্যে হাজারো অনুসারী রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রুমিং, যৌন শোষণ, মাদক, অপরাধ কিংবা উগ্রবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ম, জাতিগত পরিচয় বা পারিবারিক পটভূমি বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তার ভাষ্য, মুসলিমদেরই এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সবার আগে নিন্দা জানানো উচিত।

মুহাম্মদ হাসান হাশিব-উর-রেহমান আরও বলেন, গ্রুমিং গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা ইসলাম কিংবা পাকিস্তানি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে না। মুসলিম পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধ করলে তা ধর্মীয় শিক্ষা ও সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তির বিরুদ্ধেই যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে কোনো অপরাধীকে রক্ষা করা উচিত নয়। যারা অপরাধে জড়িত, তারা যে পরিচয়েরই হোক, তাদের প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে গ্রুমিং গ্যাং নিয়ে যুক্তরাজ্যে স্বাধীন জনতদন্তের কাজও এগিয়ে চলছে। ব্যারোনেস লংফিল্ডের নেতৃত্বাধীন এই তদন্তের আওতায় প্রথম পর্যায়ে লন্ডন, ব্র্যাডফোর্ড ও ওল্ডহ্যামকে রাখা হয়েছে।

তদন্তে পুলিশ, স্থানীয় কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গ্রুমিং গ্যাংয়ের ঘটনায় কীভাবে সাড়া দিয়েছিল এবং অপরাধীদের জাতিগত, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে উদ্বেগের কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

ধর্মীয় নেতা বলেন, বিভিন্ন ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নেওয়া তরুণ ব্রিটিশ মুসলিমদের মধ্যে নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। তার মতে, ধর্মীয় নেতাদের প্রচলিত ধর্মীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি যে দেশে মুসলিমরা বসবাস করেন, সেই দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের দায়িত্ব নিয়েও কথা বলা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, গ্রুমিং গ্যাং, মাদক ব্যবসা, অপরাধ ও উগ্রবাদের সঙ্গে জড়িত মুসলিমরা বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের অপরাধ কোনো একটি ধর্মীয় বা জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

তার বক্তব্যে গ্রুমিং গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশকে তথ্য দেওয়া, অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং ধর্মীয় বা সম্প্রদায়গত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে আইনের প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে জব্দের পথে জাভেদের সম্পদ

অভিবাসী পাচারঃ ব্রিটেনে এক ইরানির ১৭ বছরের কারাদণ্ড

অবৈধ কর্মী রাখায় লন্ডনের রেস্টুরেন্টে £১২০,০০০ জরিমানা, লাইসেন্স বাতিলের আশঙ্কা