TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাজ্যের গ্যাটউইক এয়ারপোর্টে মুনাফায় ধসঃ কমেছে যাত্রীসংখ্যাও

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় যুক্তরাজ্যের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের মুনাফা ও যাত্রীসংখ্যা কমেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিমানবন্দরটির কর-পূর্ব মুনাফা প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমেছে।

ওয়েস্ট সাসেক্সের এই বিমানবন্দর জানিয়েছে, ৩০ জুন পর্যন্ত ছয় মাসে কর-পূর্ব মুনাফা হয়েছে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ পাউন্ড। গত বছরের একই সময়ে এই মুনাফা ছিল ১৬ কোটি ৬২ লাখ পাউন্ড। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা কমেছে ১৮ শতাংশ।

একই সময়ে গ্যাটউইকের দুটি টার্মিনাল দিয়ে যাতায়াত করেছেন ১ কোটি ৯১ লাখ যাত্রী, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কম।

যাত্রী কমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে দীর্ঘপাল্লার আন্তর্জাতিক ভ্রমণে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে দীর্ঘপাল্লার যাত্রীসংখ্যা ৯ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। স্বল্পপাল্লার যাত্রীও কমেছে, তবে তুলনামূলকভাবে কম—৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

গ্যাটউইক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ইরান যুদ্ধের কারণে উড়োজাহাজের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের ভ্রমণ সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত জেট জ্বালানির কোনো ঘাটতি দেখা দেয়নি। যুদ্ধকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে অনেক যাত্রীও আগেভাগে টিকিট না কেটে যাত্রার সময়ের কাছাকাছি সময়ে বুকিং করছেন।

বিমানবন্দরের আর্থিক প্রতিবেদনে অবশ্য পুরো চিত্রটি একেবারে নেতিবাচক নয়। প্রথম ছয় মাসে পরিচালন মুনাফা ৫ শতাংশ বেড়ে ১৯ কোটি ৭২ লাখ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আয় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫১ কোটি ৫২ লাখ পাউন্ড। তবে পরিচালন ব্যয়ও ৫ শতাংশ বেড়ে ৩১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডে পৌঁছেছে।

গ্যাটউইক জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে সাতটি নতুন বিমান সংস্থা তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জেট২, এয়ার ফ্রান্স, কনডর ও ইউরোউইংস। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এয়ার জিম্বাবুয়ে ও এয়ার অ্যারাবিয়াও গ্যাটউইকে কার্যক্রম শুরু করেছে।

বিমানবন্দরের গাড়ি পার্কিং ব্যবসা থেকেও আয় কিছুটা বেড়েছে। প্রথম ছয় মাসে এই খাতের আয় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৬ কোটি ৮৬ লাখ পাউন্ড হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু গ্যাটউইকেই সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম বিমানবন্দর হিথ্রোও চলতি বছরের যাত্রী ও মুনাফার পূর্বাভাস কমিয়েছে। হিথ্রো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক ভ্রমণ চাহিদায় চাপ তৈরি করছে।

এদিকে গ্যাটউইকের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণের পথও খুলেছে। আগস্টের শুরুতে আপিল আদালতের রায়ের পর বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার আইনি বাধা অনেকটাই কেটে গেছে।

প্রায় ২২০ কোটি পাউন্ডের এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় গ্যাটউইকের জরুরি রানওয়েটি ১২ মিটার উত্তরে সরিয়ে নেওয়া হবে। এর ফলে বিমানবন্দরটি বছরে প্রায় ১ লাখ অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।

লন্ডন গ্যাটউইকের প্রধান নির্বাহী পিয়ের হুগ-শমিট বলেন, ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কঠিন হলেও বিমানবন্দরটি সামগ্রিকভাবে ভালো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে গ্যাটউইকের প্রবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে তারা আশাবাদী। নর্দার্ন রানওয়ে প্রকল্পের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় এখন পরিকল্পনার পর্যায় পেরিয়ে বিস্তারিত নকশা ও বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।

গ্যাটউইকের আর্থিক ফলাফল এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন খাতে জ্বালানি, যাত্রী চাহিদা এবং ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরটির দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে সক্ষমতা বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি করছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে যুদ্ধের ধাক্কা সামলানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির প্রস্তুতিও নিচ্ছে গ্যাটউইক।

সূত্রঃ দ্য ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের ৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে নিউজিল্যান্ড

তুষারপাতের পর বার্মিংহামের আকাশে বিস্ময়কর গোলাপি রং, উচ্ছ্বসিত বাসিন্দারা