TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

কলকাতা পুলিশে মুসলিম কর্মীদের দাড়ি রাখায় নিষেধাজ্ঞা জারি বিজেপি সরকারের

কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মী ও হোমগার্ডদের দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছে বাহিনীর সদর দপ্তর লালবাজার। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের দপ্তর থেকে জারি করা একটি মেমোতে প্রচলিত দাড়ি রাখার বিধিনিষেধ মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় বাংলা সংবাদমাধ্যম আজকালের প্রতিবেদনেও একই তথ্য উঠে এসেছে।

লালবাজারের ওই মেমো অনুযায়ী, বিভিন্ন পদমর্যাদার মোট ৪৭ জন পুলিশকর্মী ও হোমগার্ড দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আবেদনকারীদের নাম, পদমর্যাদা এবং বর্তমান কর্মস্থলের তালিকাও মেমোর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। আবেদনকারীরা কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোশাকের একরূপতা এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে কলকাতা পুলিশের প্রচলিত দাড়ি রাখার বিধিনিষেধ অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আবেদনকারীদের ব্যক্তিগতভাবে দাড়ি রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

আবেদনকারীদের একটি অংশ ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে দাড়ি রাখার অনুমতি চেয়েছিলেন। তাদের আবেদন নাকচ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানদের মাধ্যমে সিদ্ধান্তটি জানিয়ে দেওয়া এবং প্রচলিত বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দাড়ি রাখা নিয়ে কলকাতা পুলিশের এমন বিধিনিষেধের একটি পুরোনো নজিরও রয়েছে। ২০০২ সালে মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার কনস্টেবল মুহাম্মদ আকরাম আলী শেখকে দাড়ি রাখার কারণে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শঙ্কর সিং আকরামকে দাড়ি কামানো বা ছেঁটে ফেলার নির্দেশ দেন। আকরাম সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকার করলে তার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয় এবং ৫ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে Police Regulation of Bengal, 1943-এর Rule 684(A) প্রয়োগ করা হয়েছিল।

Telegraph India-এর প্রতিবেদনে আকরামের বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, হজ থেকে ফেরার পর তিনি দাড়ি রাখছিলেন এবং এর আগে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার অধীনে দায়িত্ব পালন করলেও কেউ তাকে দাড়ি কাটার নির্দেশ দেননি।

২০০২ সালের ওই ঘটনাকে ঘিরে সে সময় সংখ্যালঘু পুলিশ সদস্যদের দাড়ি রাখার অধিকার নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। একই সময় আটজন মুসলিম পুলিশ সদস্য সংখ্যালঘু কমিশনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে তাদের দীর্ঘ দাড়ি রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং নির্দেশ অমান্য করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

সূত্রঃ টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া \ আজকাল

এম.কে

আরো পড়ুন

ইরানের বিজয়ের খবরে হৃদরোগে আক্রান্ত রেজা পাহলভি, হাসপাতালে ভর্তি

ফ্রান্সের রুয়োতে বিনা খরচে গণপরিবহণে চড়বেন অভিবাসীরা

কানাডার ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ