ব্রিটেনের পুরো আশ্রয়ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রিফর্ম ইউকে দলের নেতা নাইজেল ফারাজ। ক্ষমতায় গেলে আশ্রয়ের অপেক্ষায় থাকা ৯০ হাজার আবেদনকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। আগামী ১২ অক্টোবর সোমবার নিজের নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা ঘোষণা করার কথা রয়েছে তার।
দ্য সানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রিস্টোরিং জাস্টিস’ নামের এই পরিকল্পনার আওতায় ব্রিটেনে জাতীয় নিরাপত্তা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে আশ্রয়সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম স্থগিত, নতুন শরণার্থীদের বসতি স্থাপনের সুযোগ বন্ধ এবং আইনি পথে শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি বাতিল করার প্রস্তাব রয়েছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে আশ্রয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা প্রায় ৯০ হাজার মানুষের আবেদন বাতিল করা হবে। এরপর তাদের নিজ দেশে অথবা নিরাপদ প্রতিবেশী কোনো দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে যাদের শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, তাদের মামলাও পুনর্বিবেচনা করা হবে।
ফারাজের দাবি, ব্রিটেন বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা সংকটের মুখে রয়েছে। তিনি বলেন, দেশে অবৈধভাবে কতজন অবস্থান করছেন এবং তাদের কারণে কী ধরনের হুমকি তৈরি হতে পারে, তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত নতুন আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ করা উচিত নয়। তার ভাষায়, সরকারের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে কাজ করা কর্মকর্তাদের আগের শরণার্থী অনুমোদনগুলো পর্যালোচনা এবং বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হবে। পাশাপাশি শাবানা মাহমুদ গত মাসে যে আইনি শরণার্থী পুনর্বাসন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেটিও বাতিল করতে চায় রিফর্ম ইউকে। ওই কর্মসূচির মাধ্যমে আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনের আরও শরণার্থীকে ব্রিটেনে আনার পরিকল্পনা ছিল।
ইউক্রেনের নাগরিকদের জন্য চালু করা ‘হোমস ফর ইউক্রেন’ কর্মসূচিসহ অন্যান্য আইনি পুনর্বাসন পথও বন্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে ২০২২ সালে কর্মসূচিটি চালুর পর থেকে ব্রিটেনে আসা ইউক্রেনীয়দের দেশটিতে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে রিফর্ম ইউকে সংসদের প্রথম মেয়াদে অনিবন্ধিতভাবে বসবাসকারী এবং ছোট নৌকায় ব্রিটেনে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ ছয় লাখ মানুষকে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। নতুন পরিকল্পনায় আশ্রয়ব্যবস্থার ওপর আরও কঠোর পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
তবে এসব পদক্ষেপ এখনো রিফর্ম ইউকের রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি। দলটি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত এগুলো কার্যকর সরকারি নীতি নয়। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনগত বাধা ও আদালতের ভূমিকা কী হবে, তা-ও পরিকল্পনা ঘোষণার পর স্পষ্ট হতে পারে।
সূত্রঃ দ্য সান
এমকে

