17.9 C
London
August 22, 2026
TV3 BANGLA
ফিচার

তুরস্কে সিন্ডারেলার দুর্গের মতো শত শত প্রাসাদঃ কিন্তু নেই কোনো মানুষের বসতি

তুরস্কের পাহাড়ঘেরা একটি জনপদে একসময় গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখা হয়েছিল রূপকথার রাজ্যের মতো বিলাসবহুল একটি আবাসন নগরী। সারি সারি তিনতলা প্রাসাদ, গথিক স্থাপত্য, সুউচ্চ মিনার আর অলংকৃত বারান্দা—সব মিলিয়ে যেন ডিজনির সিন্ডারেলার দুর্গ। কিন্তু প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলারের সেই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প আজ বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ‘ভূতুড়ে নগরী’তে পরিণত হয়েছে।

ইস্তাম্বুল থেকে বেশি দূরে নয়, মুদুরনু শহরের কাছে ‘বুর্জ আল বাবাস’ নামে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সারোট গ্রুপের পরিকল্পনা ছিল ৭৩২টি অভিন্ন প্রাসাদ-আকৃতির বিলাসবহুল ভিলা নির্মাণের। প্রকল্পটি চার বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সেটি আজও অসমাপ্ত।

প্রাসাদগুলোর নকশা ডিজনির দুর্গের সঙ্গে তুলনা করা হলেও এগুলো অনুপ্রাণিত হয়েছিল ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক গালাতা টাওয়ার ও মেইডেনস টাওয়ারের স্থাপত্য থেকে। প্রতিটি ভিলায় কাছের বাবাস উষ্ণ প্রস্রবণের পানি সরবরাহ করে ব্যক্তিগত ইনডোর সুইমিং পুল তৈরির পরিকল্পনাও ছিল।

শুধু বাড়ি নির্মাণেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই উদ্যোগ। সেখানে বিশাল গম্বুজাকৃতির শপিং সেন্টার, মসজিদ, সিনেমা হল, ঐতিহ্যবাহী তুর্কি হাম্মাম এবং পাহাড়ঘেরা একটি পূর্ণাঙ্গ বিলাসবহুল আবাসিক শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র গরম থেকে স্বস্তি পেতে ধনী উপসাগরীয় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করাই ছিল প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য।

প্রচারপত্রে প্রতিটি প্রাসাদের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল তিন লাখ সত্তর হাজার থেকে পাঁচ লাখ ত্রিশ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় সাড়ে চার থেকে সাড়ে ছয় কোটি টাকার সমান। নির্মাণ শুরুর আগেই প্রায় অর্ধেক প্রাসাদ বিক্রি হয়ে যায় এবং বেশিরভাগ ক্রেতাই ছিলেন কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশের নাগরিক।

তবে নির্মাণ শুরুর পরপরই একের পর এক সংকট দেখা দেয়। ঠিকাদাররা পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন, শ্রমিকরা বেতন না পাওয়ায় আন্দোলনে নামেন এবং অনেক ঠিকাদার কাজ ছেড়ে দিয়ে আইনি লড়াই শুরু করেন। পরে তুরস্কের অর্থনৈতিক অস্থিরতা, ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের প্রভাব এবং বিক্রি কমে যাওয়ায় প্রকল্পটি মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে। শেষ পর্যন্ত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেলে কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

২০২২ সাল পর্যন্ত একটি প্রাসাদও পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সেখানে অন্তত ৫৮৭টি অর্ধনির্মিত প্রাসাদ দাঁড়িয়ে রয়েছে। বছরের পর বছর বৃষ্টি, তুষারপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক ভবনে পানির ক্ষতি ও কাঠামোগত অবনতি দেখা দিয়েছে।

২০২৪ সালে প্রকল্পটি আবার আলোচনায় আসে, যখন কুয়েতের আমির তুরস্ক সফরে বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানা যায়। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি তখন দাবি করেছিলেন, শীতের কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পরের গ্রীষ্মে নির্মাণ পুনরায় শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

তবে ২০২৬ সালেও প্রকল্পটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। অধিকাংশ প্রাসাদ এখনো ফাঁকা ও অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একসময়ের ‘রূপকথার গ্রাম’ আজ পর্যটক, আলোকচিত্রী ও নগর অনুসন্ধানকারীদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় পরিত্যক্ত আবাসন প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।

সূত্রঃ মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

দুঃসংবাদ পেল অ্যাপল

নিউজ ডেস্ক

এআই নিয়ে লড়াই, আদালতে মুখোমুখি দুই ধনকুবের

নিউজ ডেস্ক

হাঁসের মাংস থেকে দূরে থাকবেন যারা