20.5 C
London
August 22, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

নতুন সীমান্ত নীতিতে বিপাকে দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকঃ যুক্তরাজ্যে ফিরতে না পেরে স্পেনে আটকা

যুক্তরাজ্যের নতুন সীমান্ত নীতির কারণে এক দ্বৈত নাগরিক নারী দেশে ফিরতে না পেরে স্পেনে আটকা পড়েছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজ্য নথিপত্র না থাকায় তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

২৬ বছর বয়সী নাতাশা কোক্রেন দে লে রোসা সম্প্রতি ইউরোপ সফরে গিয়ে এই জটিলতায় পড়েন। তিনি চলতি মাসের ২ এপ্রিল নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে যান বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে। পরে ৬ এপ্রিল যুক্তরাজ্যে ফেরার জন্য বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নেন।

তিনি চেক-ইন সম্পন্ন করে নিরাপত্তা ও পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ পার হলেও শেষ মুহূর্তে তাকে বোর্ডিং থেকে বিরত রাখা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, তার কাছে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় গ্রহণযোগ্য নথি নেই।

নাতাশা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে তার জন্ম সনদ, জাতীয় বীমা নম্বর, পি-৪৫ নথি এবং তার বাবার জন্ম সনদ দেখান। কিন্তু এগুলো গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তাকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি।

নাতাশা উত্তর লন্ডনের ইজলিংটনে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠেন। তার বাবা ব্রিটিশ এবং মা স্প্যানিশ নাগরিক। তবে তার জন্মের সময় বাবা-মা বিবাহিত না থাকায়, তার বাবার নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার কাছে স্থানান্তরিত হয়নি।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বৈত নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় অবশ্যই ব্রিটিশ বা আইরিশ পাসপোর্ট, অথবা ডিজিটাল ‘এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট’ দেখাতে হবে।

এই নিয়ম কার্যকর করেছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস।
ফলে নাতাশাকে দেশে ফিরতে হলে হয় ৫৮৯ পাউন্ড ব্যয় করে এই ডিজিটাল সনদ নিতে হবে, অথবা নতুন করে ব্রিটিশ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হবে। তবে এর জন্য তাকে প্রমাণ করতে হবে যে তার মা তার জন্মের সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবাধ চলাচলের অধিকার ভোগ করতেন—যার কোনো নথি তার কাছে নেই বলে তিনি দাবি করেন।

নাতাশা জানান, ব্রেক্সিটের পর তার মা ও ছোট বোন বসবাসের অনুমতির কাগজ পেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে জানানো হয়, তিনি ইতোমধ্যে ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় এ সুবিধার জন্য যোগ্য নন।

বর্তমানে তিনি স্পেনের সেভিয়া শহরে এক পরিচিত পরিবারের কাছে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, “আমি ইজলিংটনে জন্মেছি, কর দিয়েছি এবং ভোট দিয়েছি। আমি দ্বৈত নাগরিক, তবুও আমাকে যেন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি সৌভাগ্যবান যে থাকার জায়গা পেয়েছি। কিন্তু যদি আমার কোনো সহায়তা না থাকত, তাহলে আমি নেদারল্যান্ডসে গৃহহীন হয়ে পড়তাম।”

এ বিষয়ে হোম অফিস-এর এক মুখপাত্র জানান, নতুন নিয়ম অনুযায়ী সব ব্রিটিশ দ্বৈত নাগরিককে বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা এনটাইটেলমেন্ট সনদ প্রদর্শন করতে হবে। বিদেশ থেকেই এসব নথির জন্য আবেদন করা সম্ভব এবং ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে এ বিষয়ে জনসচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই নিয়ম সব নাগরিকের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশেও একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হয়।

তবে নাতাশার অভিযোগ, সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ আইন পরিবর্তন যথাযথভাবে জনগণকে জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেদের অবস্থার মিল খুঁজে পাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে আগেই নিয়ম যাচাই করা উচিত ছিল, তবুও দীর্ঘদিন ধরে একই নিয়মে চলার পর হঠাৎ এমন পরিবর্তনে সাধারণ নাগরিকদের জন্য বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

সূত্রঃ ইকো

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ভিসাধারীদের জন্য ২০২৫ সালের মধ্যে ই-ভিসা সিস্টেম চালু করতে যাচ্ছে

এই রমজানে কঠিন সময় পার করছেন ব্রিটেনের মুসলিমরাঃ স্টারমার

যুক্তরাজ্যে উইম্বলডন পার্কে ৩৯টি নতুন কোর্ট নির্মাণে হাই কোর্টের ছাড়পত্র, আন্দোলনকারীদের আইনি পরাজয়