9 C
London
April 22, 2026
TV3 BANGLA
আমেরিকাপ্রবাসে বাংলাদেশ

নিউইয়র্কে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশি তরুণ নিহতঃ সাহায্যের ফোনই হলো মৃত্যুর কারণ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের কুইন্সের ওজোন পার্ক এলাকায় এক বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ১৯ বছর বয়সী উইন রোজারিও নিজের নিরাপত্তার জন্য জরুরি সহায়তা নম্বরে ফোন করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশের গুলিতেই প্রাণ হারান তিনি।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ, স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১টা ৪০ মিনিটে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মানসিকভাবে অস্থির অনুভব করায় উইন নিজেই সাহায্য চেয়ে ফোন করেন। পুলিশ পৌঁছানোর আগে তিনি মাকে জানান যে তিনি স্বাভাবিক বোধ করছেন না।

পরে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ-এর দুই কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা বাসায় প্রবেশ করে উইনকে রান্নাঘরে দেখতে পান, যেখানে তার হাতে একটি সাধারণ কাঁচি ছিল। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই তাকে কাঁচি ফেলে দিতে নির্দেশ দেয়।

এসময় উইনের মা নটালি রোজারিও ছেলেকে রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। তিনি বারবার পুলিশকে অনুরোধ করেন গুলি না চালাতে এবং জানান যে তার ছেলে অসুস্থ। পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি নিজেই ছেলেকে জড়িয়ে ধরেন।

এক পর্যায়ে পুলিশ বৈদ্যুতিক শক যন্ত্র ব্যবহার করে উইনকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এতে তিনি মেঝেতে পড়ে যান। তবে ধস্তাধস্তির মধ্যে শক যন্ত্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তিনি আবার উঠে দাঁড়ান।
এরপর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পুলিশ দাবি করে, তারা নিজেদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে মনে করেছিল। পরবর্তী কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুই কর্মকর্তা একযোগে গুলি চালান। মোট ছয়টি গুলি উইনের শরীরে লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস প্রকাশিত বডি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনাকালে উইন পুলিশের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্বে ছিলেন এবং তার মা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

এই ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, একজন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তরুণকে বিকল্প উপায়ে শান্ত করার সুযোগ ছিল। প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যেত বলেও অনেকে মত দিয়েছেন।

ঘটনার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো চূড়ান্ত ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে, উইনের পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি নিয়মিত বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে। তাদের দাবি—দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

নিহত উইন রোজারিওর পরিবার বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। উন্নত ভবিষ্যতের আশায় তার পরিবার এক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায়। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখা এই তরুণের অকাল মৃত্যু এখন এক প্রবাসী পরিবারের অপূরণীয় ক্ষত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ সিবিএস নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাইন সিদ্দিক

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হোক বা না হোক—“আমরাই জিতব”: ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক

মাঝ-আকাশে খুলে পড়ল জানালা, জরুরি অবতরণ উড়োজাহাজের