19.2 C
London
August 28, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশদের খাবারে সিগালের হানাঃ বছরে চুরি ১৭ কোটি ১০ লাখ পাউন্ডের!

যুক্তরাজ্যের সমুদ্রসৈকত কিংবা শহরের ব্যস্ত সড়কে খাবার হাতে নিয়ে দাঁড়ানো মানুষের জন্য সিগালের হামলা এখন শুধু বিরক্তির কারণ নয়, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতিরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন এক গবেষণার হিসাবে, এসব সামুদ্রিক পাখির খাবার ছিনিয়ে নেওয়ার কারণে ব্রিটিশরা বছরে প্রায় ১৭ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড মূল্যের খাবার হারাচ্ছেন।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমপেয়ার দ্য মার্কেটের করা জাতীয় পর্যায়ের এক জরিপে যুক্তরাজ্যের ২ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৭১ শতাংশ জানিয়েছেন, কোনো না কোনো সময় সিগাল তাদের খাবার চুরি করেছে অথবা খাবার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকেরা হিসাব করে দেখেছেন, সিগালের কারণে বছরে খাবার হারানোর আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় ১৭১,৮৮৯,৫১৮ পাউন্ডে।

গবেষণার হিসাবটি করা হয়েছে জরিপে সিগালের হাতে খাবার চুরি বা চুরির চেষ্টার শিকার হওয়া মানুষের অনুপাতকে যুক্তরাজ্যের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ওপর প্রয়োগ করে। এর সঙ্গে গত ১২ মাসে প্রত্যেক আক্রান্ত ব্যক্তির এমন অভিজ্ঞতার গড় সংখ্যা এবং চুরি বা চুরির চেষ্টার শিকার খাবারের গড় মূল্যও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জরিপে খাবারের গড় মূল্য ধরা হয়েছে ৫.৫০ পাউন্ড।

সিগালের সবচেয়ে পছন্দের খাবার হিসেবে উঠে এসেছে ব্রিটিশদের জনপ্রিয় মাছ ও চিপস। জরিপে অংশ নেওয়া ৭২ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তাদের মাছ ও চিপস সিগাল চুরি করেছে অথবা চুরি করার চেষ্টা করেছে।

এরপর সিগালের আক্রমণের তালিকায় রয়েছে স্যান্ডউইচ ২১ শতাংশ এবং আইসক্রিম ২০ শতাংশ। অর্থাৎ সমুদ্রসৈকতে বসে অবসর সময় কাটানোর সময় ব্রিটিশদের জনপ্রিয় খাবারগুলোই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকছে।

তবে সিগালের নজর শুধু খাবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের ৯ শতাংশ জানিয়েছেন, এসব পাখি শিশুদের খেলনাও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে। আর ৭ শতাংশ বলেছেন, ক্যান বা বোতলজাত পানীয়ও সিগালের লক্ষ্য হয়েছে।

সিগালের হাত থেকে খাবার রক্ষা করতে গিয়ে ব্রিটিশদের দৈনন্দিন খাওয়ার অভ্যাসেও পরিবর্তন এসেছে। জরিপে ৭৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, এসব পাখির হাত থেকে খাবার বাঁচাতে তারা বাইরে কোথায় বা কীভাবে খাবেন, তা পরিবর্তন করেছেন।

এর মধ্যে ৪৩ শতাংশ মানুষ খাবার সিগালের দৃষ্টির আড়ালে লুকিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করেছেন। ৩১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, খাবার ছিনিয়ে নেওয়ার আগেই দ্রুত খেয়ে ফেলার চেষ্টা করেন।

আর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৩২ শতাংশ ব্রিটিশ বলেছেন, সিগালের কারণে তারা খাবার ফেলে দিয়েছেন, হারিয়েছেন কিংবা খাবার রক্ষার চেষ্টা ছেড়ে দিয়েছেন। যাদের খাবার একবার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, তাদের মধ্যে ৬৯ শতাংশ একাধিকবার এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন।

সিগালের খাবার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা এতটাই সাধারণ হয়ে উঠেছে যে ৮২ শতাংশ ব্রিটিশ জানিয়েছেন, তারা নিজেরা আক্রান্ত না হলেও অন্য কাউকে সিগালের হাতে খাবার হারাতে দেখেছেন।

গবেষণার ফল প্রকাশের পর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কমপেয়ার দ্য মার্কেট। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো ‘গুল গ্যারান্টি’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করেছে।

মারগেটের পিটার্স ফিশ ফ্যাক্টরিতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কোনো ক্রেতার মাছ ও চিপস ক্ষুধার্ত সিগাল ছিনিয়ে নিলে তাকে বিনামূল্যে নতুন খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার পাউন্ড বরাদ্দ করেছে এবং সেই অর্থ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেতাদের খাবার প্রতিস্থাপন করা হবে।

কমপেয়ার দ্য মার্কেটের অর্থবিষয়ক বিশেষজ্ঞ চার্লি ইভান্স বলেন, মানুষ চিপস নিয়ে বসার পর মাত্র কয়েক সেকেন্ড অন্যদিকে তাকালেই অনেক সময় দেখতে পান, তাদের খাবার ‘ডানা মেলে উড়ে গেছে’। তার ভাষায়, সিগাল দীর্ঘদিন ধরে মানুষের হাত থেকে খাবার ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পরিচিত। এই গবেষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি জানতে চেয়েছিল, এই ‘দুষ্টু সামুদ্রিক অপরাধ’ ব্রিটিশদের কতটা আর্থিক ক্ষতি করছে।

গবেষণার ফল বলছে, যুক্তরাজ্যে সিগালের খাবার ছিনিয়ে নেওয়া এখন নিছক হাস্যরসের বিষয় নয়। এর সঙ্গে মানুষের খাবারের অপচয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং বাইরে খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তনের বিষয়টিও যুক্ত হয়ে গেছে। আর সেই ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ১৭ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড—যা সিগালের খাবার-চুরিকে ব্রিটিশদের জন্য এক অদ্ভুত কিন্তু ব্যয়বহুল সমস্যায় পরিণত করেছে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

ইভেট কুপারের নেতৃত্বে ৪০ দেশের বৈঠক, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার উদ্যোগ

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি বেনিফিট ব্যবস্থার সংস্কার করে মানুষকে কাজে ফেরাতে চায়

যুক্তরাজ্যের ডাবলিনে হামলার জেরে রাস্তায় নামলেন অভিবাসীরা, বর্ণবাদ বন্ধের দাবি