ব্রিটেনে ভাতার ক্ষেত্রে জালিয়াতি ও ভুল অর্থ প্রদান ঠেকাতে ব্যাংক হিসাব যাচাই কার্যক্রম শুরু করেছে দেশটির কর্ম ও পেনশন বিভাগ (ডিডব্লিউপি)। নতুন এই ব্যবস্থায় প্রাথমিকভাবে তিন ধরনের ভাতাভোগীর হিসাব যাচাই করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো, যারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেন না, অথচ ভাতা পাচ্ছেন, তাদের শনাক্ত করা।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট, পেনশন ক্রেডিট এবং নিউ স্টাইল এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট অ্যালাউন্স (ইএসএ)। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন এবং স্বাধীন তদারকির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থাটির নাম এলিজিবিলিটি ভেরিফিকেশন নোটিস (ইভিএন)। এর আওতায় ডিডব্লিউপি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আনুষ্ঠানিক নোটিস পাঠাতে পারে। ব্যাংকগুলো নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী হিসাব যাচাই করে এমন কোনো হিসাব শনাক্ত হলে বিভাগটিকে জানাবে, যেখানে ভাতাভোগীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
যেমন, কোনো ভাতাভোগীর ঘোষণাবহির্ভূত সঞ্চয় বা সম্পদ রয়েছে কি না, কিংবা অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় বিদেশে অবস্থান করছেন কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।
তবে ডিডব্লিউপি জানিয়েছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভাগটি সরাসরি কারও অনলাইন ব্যাংকিংয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের বিস্তারিত লেনদেনের বিবরণী বা তিনি কোথায় কীভাবে অর্থ ব্যয় করেন, সেই তথ্যও দেওয়ার কথা নয়। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ হলে ব্যাংক সীমিত কিছু তথ্য সরবরাহ করবে। এরপর প্রয়োজন হলে ডিডব্লিউপি আলাদাভাবে দাবি যাচাই করবে। শুধু ব্যাংকের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে জালিয়াতির জন্য দায়ী করা বা ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
এদিকে, ভাতার অতিরিক্ত অর্থ ফেরত আদায়ের ক্ষেত্রেও সরকারের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যাংক হিসাব থেকে এককালীন বা কিস্তিতে অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। অন্য উপায়ে অর্থ আদায় সম্ভব না হলে এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে, এক হাজার পাউন্ড বা তার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে আদালতের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল বা ব্যবহারে অযোগ্য ঘোষণার আবেদনও করা যেতে পারে।
ডিডব্লিউপির হিসাব অনুযায়ী, নতুন ব্যাংক যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে সরকারি অর্থের প্রায় ১২০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হবে এবং পরবর্তী সময়ে এর পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সূত্রঃ ডিডব্লিউপি, ওয়েলস অনলাইন ও ডেইলি রেকর্ড
এমকে

