TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে ৫ বছরের আইএলআর সুবিধা থাকছে কারাঃ ১০ বছরের নিয়মে পড়তে পারেন কারা

ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা আইএলআর (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন) পাওয়ার নিয়মে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অভিবাসীদের মধ্যে। বিশেষ করে যারা স্কিলড ওয়ার্কার, স্পাউস বা অন্যান্য ভিসায় ইতোমধ্যে কয়েক বছর ধরে ব্রিটেনে বসবাস করছেন, তাদের জন্য নতুন নিয়ম কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ডেইলি ড্যাজলিং ডনের ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আগামী সপ্তাহে হাউস অব কমন্সে সরকারের চূড়ান্ত আইএলআর নীতিমালা নিয়ে বক্তব্য দিতে পারেন। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ বৈধ অভিবাসীর স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের বিষয়টি সামনে রেখে সরকার এই পরিবর্তনগুলো বিবেচনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির দাবি, ব্রিটেনে ইতোমধ্যে বসবাসরত বিদেশি সোশ্যাল কেয়ার কর্মীদের প্রস্তাবিত ১৫ বছরের অপেক্ষার নিয়ম থেকে অব্যাহতি দিয়ে আগের পাঁচ বছরের পথ বহাল রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, স্কিলড ওয়ার্কার এবং স্পাউস ভিসাধারীদের জন্য কী ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন সুবিধা দেওয়া হবে, তা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

বিশেষ করে ২০২১ ও ২০২২ সালে ব্রিটেনে আসা এমন অনেক অভিবাসী রয়েছেন, যারা ইতোমধ্যে প্রথম ভিসা নবায়ন করেছেন এবং পাঁচ বছরের আইএলআর যোগ্যতা অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছেছেন। নতুন নিয়ম তাদের ওপরও কার্যকর হলে স্থায়ী বসবাসের জন্য আরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছরের নিয়ম কার্যকর হলে একক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভিসা নবায়ন ও স্বাস্থ্যসেবা সারচার্জ বাবদ কয়েক হাজার পাউন্ড ব্যয় বাড়তে পারে। চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে ভিসা-সংক্রান্ত মোট ব্যয় ২৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কাও তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া যারা প্রথমে ছয় বছর স্টুডেন্ট ও গ্র্যাজুয়েট ভিসায় থাকার পর দুই বছর স্কিলড ওয়ার্কার ভিসায় কাটিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়মের প্রভাব পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের ১০ বছরের পথ বাতিল হলে তাদের স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের সময় আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

স্পনসরশিপ হারানো কর্মীদের বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানের স্পনসর লাইসেন্স বাতিল হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নতুন অনুমোদিত নিয়োগদাতা খুঁজে নিতে হয়েছে। বিদ্যমান নিয়মে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন স্পনসর পেলে তাদের পাঁচ বছরের বসবাসের হিসাব অব্যাহত রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে আইএলআর পাওয়ার অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হলে নতুন নিয়োগদাতার স্পনসর লাইসেন্স হারানো বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

আইনি দিক থেকেও নতুন নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পুরোনো ভিসাধারীদের জন্য কোনো সুরক্ষা বা গ্র্যান্ডফাদারিং ব্যবস্থা না রাখা হলে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জুডিশিয়াল রিভিউয়ের আবেদন করা হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ২০০৮ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার নজির তুলে ধরা হয়েছে। মামলাটির নাম আর (এইচএসএমপি ফোরাম লিমিটেড) বনাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। ওই মামলায় চার বছরের স্থায়ী বসবাসের পথ পাঁচ বছরে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতে আইনি প্রশ্ন উঠেছিল। নতুন আইএলআর নীতির ক্ষেত্রেও এই নজির ব্যবহার করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, আইএলআর নীতির পরিবর্তন নিয়ে সরকারের জনমত যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই লাখ মতামত জমা পড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সামাজিক সেবাখাতের কর্মীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরোনো অভিবাসীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার বিষয়েও কাজ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব আলোচনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ইতোমধ্যে ব্রিটেনে বসবাসরত অভিবাসীদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কীভাবে কার্যকর হবে। যারা পাঁচ বছরের ভিসা রুটে রয়েছেন, তাদের আগের নিয়মে আইএলআর পাওয়ার সুযোগ থাকবে কি না, নাকি নতুন শর্ত পূরণ করতে হবে—এ বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

সূত্রঃ ডেইলি ড্যাজলিং ডন

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে অবৈধ কর্মী নিয়োগে ৪৫ হাজার পাউন্ড জরিমানাঃ বাতিল রেস্টুরেন্ট লাইসেন্স

টিকার চেয়ে লকডাউন বেশি কার্যকর: বরিস জনসন

নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টে পাস হলো ‘বিতর্কিত রুয়ান্ডা বিল’