23.9 C
London
May 30, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

মুসলিম সমাজ হতে গুপ্তচর বানানোর চেষ্টা? ব্রিটিশ পুলিশের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ

ফিলিস্তিনপন্থী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকা ম্যানচেস্টারের এক মুসলিম ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, ব্রিটিশ পুলিশ তাকে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের বিষয়ে তথ্যদাতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা এবং কিছু ছোটখাটো অপরাধের ক্ষেত্রে ‘চোখ বন্ধ করে থাকার’ আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ম্যানচেস্টারের দুটি ক্যাফের মালিক ৫১ বছর বয়সী শামস (ডাকনাম) সাদিকের এই অভিযোগ যুক্তরাজ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নজরদারি, ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের প্রতি রাষ্ট্রীয় আচরণ এবং সম্ভাব্য মুসলিম বিদ্বেষ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সাদিকের দাবি, গত ১৫ মে অ্যাশটন-আন্ডার-লাইন পুলিশ স্টেশনে নিজের জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ফেরত নিতে গেলে দুই পুলিশ কর্মকর্তা তার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন। কর্মকর্তারা তাকে জানান, তার ডিভাইস পরীক্ষা করে তারা জেনেছেন তিনি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তবে এ বিষয়ে তাকে অভিযুক্ত করা হবে না।

সাদিকের ভাষ্যমতে, কর্মকর্তারা তাকে বলেন, “আমাদের সাহায্য করলে আপনারও লাভ হবে।” তিনি আর্থিক সুবিধার বিষয়টি জানতে চাইলে তারা ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নমনীয় আচরণ করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল বলে তার অভিযোগ।

তিনি মনে করেন, পুলিশ মূলত তাকে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। সাদিকের ভাষায়, কর্মকর্তারা তার সামাজিক প্রভাব ও মুসলিম সমাজে গ্রহণযোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছিলেন, যা তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে।

ঘটনার মাত্র চার দিন আগে মরক্কো থেকে ফেরার সময় ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরে সন্ত্রাসবাদ আইনের শিডিউল-৭ ধারায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা ওই জিজ্ঞাসাবাদে তার রাজনৈতিক মতামত, ফিলিস্তিনপন্থী কর্মকাণ্ড, ইরান এবং ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মসজিদে কোনো ব্যক্তি ‘চরমপন্থী মতাদর্শ’ প্রকাশ করলে তিনি কী করবেন—এ ধরনের প্রশ্ন তাকে বারবার করা হয়েছিল। এর ফলে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই বিষয়টিকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহের চোখে দেখার প্রবণতার সঙ্গে তুলনা করছেন।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া মুসলিম ও আরব বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। যদিও পুলিশ এসব পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে থাকে, সমালোচকদের মতে অনেক ক্ষেত্রে এর প্রভাব মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর অসমভাবে পড়ে।

সাদিক জানান, গত বছর তার ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে তার এক ক্যাফের দরজায় ক্ষুদ্র ইসরায়েলি পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারের পর অনেক প্রতিবেশীও তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি মনে করি এখন আমার সুরক্ষা অন্য কারও চেয়ে পুলিশের কাছ থেকেই বেশি প্রয়োজন। যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ থাকে, তাহলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হোক।”

সাদিকের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী সাইমন পুক অভিযোগ করেছেন, রাষ্ট্রের হয়ে তথ্য সংগ্রহে কাউকে প্ররোচিত করার জন্য আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার হয়ে থাকলে তা গুরুতর বিষয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিমানবন্দরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে জিজ্ঞাসাবাদের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ (জিএমপি) কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাজ্যে ইসলামোফোবিয়া বা মুসলিম বিদ্বেষ নিয়ে আলোচনা আবারও জোরালো হয়েছে। মুসলিম অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের আড়ালে কখনও কখনও মুসলিম নাগরিকদের প্রতি অতিরিক্ত সন্দেহ ও নজরদারির সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, যা সামাজিক বিভাজনকে আরও গভীর করতে পারে।

তবে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সাদিকের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেনি। ফলে বিষয়টি বর্তমানে একতরফা অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে এবং এর স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

শরনার্থীদের জন্য রুয়ান্ডায় ওয়ান-ওয়ে টিকেট: বরিস জনসন

পরিবার নিতে চাওয়া প্রবাসীদের দুঃসংবাদ দিল যুক্তরাজ্য

ম্যাকসুইনির পদত্যাগ, ম্যান্ডেলসন নিয়োগে স্টারমারকে পরামর্শ দেওয়ার পূর্ণ দায় স্বীকার