TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থায় এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগঃ বৈষম্যের ঝুঁকিতে অভিবাসীরা

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বৈষম্য, অতিরিক্ত নজরদারি এবং ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের এই প্রবণতা দেশটিতে ‘স্বয়ংক্রিয় বৈরী পরিবেশ’ তৈরি করছে।

২৮ অক্টোবর প্রকাশিত ১০৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে মানবাধিকার ও ডিজিটাল অধিকারবিষয়ক সংগঠন ওপেন রাইটস গ্রুপ (ওআরজি)। ‘অটোমেটেড ডিসক্রিমিনেশন: আনপ্যাকিং দ্য ডিজিটাল হোস্টাইল এনভায়রনমেন্ট’ শিরোনামের প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন এআই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অভিবাসীদের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান লেবার সরকারসহ যুক্তরাজ্যের ধারাবাহিক সরকারগুলো অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে ক্রমশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। অভিবাসনসংক্রান্ত সমস্যাগুলোকে প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

প্রতিবেদনটির লেখক ফাবিও কিউসি বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুত যুক্ত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের দিকে এগোচ্ছে। তার মতে, অভিবাসন বিষয়ে কঠোর নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নীতির সঙ্গে এআইয়ের ব্যবহার যুক্ত হলে বৈষম্য ও নিয়ন্ত্রণের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যবহৃত ও পরীক্ষাধীন এআই প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে আশ্রয়প্রার্থীদের বয়স অনুমান, আশ্রয় আবেদনের সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ তৈরি, অভিবাসন নীতিমালা সংক্ষেপ করা এবং কোন আশ্রয় আবেদনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে তা নির্ধারণে সহায়তা করা।

এ ছাড়া অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সন্দেহে ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ এবং কোনো বিয়ে প্রকৃত নাকি অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো—তা শনাক্ত করতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সীমান্ত নিয়ন্ত্রণেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। ওয়েলসের হলিহেড বন্দরে বহিষ্কারের আদেশ পাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন বা সরাসরি মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি শনাক্ত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘সেরবেরাস’ প্রকল্পের মতো পূর্বাভাসভিত্তিক বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিশেষভাবে আশ্রয়প্রার্থীদের সাক্ষাৎকারের সারসংক্ষেপ তৈরিতে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। এতে সতর্ক করা হয়েছে, এ ধরনের প্রযুক্তি মূল সাক্ষাৎকারে নেই—এমন তথ্যও সারসংক্ষেপে যুক্ত করতে পারে অথবা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করতে পারে। ফলে আশ্রয়প্রার্থীদের বক্তব্য মূল্যায়ন এবং তাদের আবেদন মঞ্জুর বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এআইয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বৈষম্যের ঝুঁকিও তুলে ধরেছে ওআরজি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মূলত তথ্যের মধ্যে থাকা বিভিন্ন ধরন ও প্রবণতা বিশ্লেষণ করে ফলাফল তৈরি করে। প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত তথ্যে পক্ষপাত বা বৈষম্যমূলক ধারণা থাকলে প্রযুক্তির সিদ্ধান্তেও তার প্রতিফলন ঘটতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবকেও বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তথ্য অধিকার আইনে করা বিভিন্ন আবেদনের জবাবে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে অনেক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কোন প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে এর ভূমিকা কতটুকু এবং বৈষম্য ঠেকাতে কী ধরনের সুরক্ষা রয়েছে, তা জনসাধারণের কাছে স্পষ্ট নয়।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত অনেক প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলভিত্তিক প্রতিষ্ঠানসহ বিদেশি বেসরকারি প্রযুক্তি কোম্পানির কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিবেদনে পাঁচটি সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে অভিবাসন নীতির মৌলিক সমস্যার সমাধানের বিকল্প হিসেবে এআই ব্যবহার না করা, উচ্চঝুঁকির এআই প্রযুক্তির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বড় প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং এআই ব্যবহারের পেছনে থাকা রাজনৈতিক ও নীতিগত বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা।

সূত্রঃ ইলেকট্রনিক ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক

এমকে

আরো পড়ুন

শরনার্থী নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সমালোচনায় বিভিন্ন এনজিও ও সংস্থা

শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের র‍্যাপিড করোনা টেস্ট বাধ্যতামূলক

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের মসজিদে মুসলমানদের প্রতি ইসলামবিদ্বেষী হামলাঃ হামলাকারী গ্রেপ্তার