ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসে সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে লেবার পার্টির ধ্বংসাত্মক ফলাফলের পর চরম চাপের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার। দল ইংল্যান্ডে ১,৪০০-এরও বেশি কাউন্সিলর, স্কটিশ পার্লামেন্টে চারটি আসন (১৯৯৯ সালের পর সবচেয়ে খারাপ ফল) এবং বিকেন্দ্রীকরণের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ওয়েলশ পার্লামেন্ট (সেনেড) এর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।
এই বিপর্যয়ের মধ্যেই পার্লামেন্টারি লেবার পার্টির ভিতর থেকে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ বা তার নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার দাবি জোরালো হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো কেবিনেট মন্ত্রী বা সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকাশ্যে স্টারমারকে উৎখাতের উদ্যোগ ঘোষণা করেননি, কিন্তু লেবার এমপিরা গভীর ক্ষোভে ফুঁসছেন। প্রাক্তন মন্ত্রী ক্যাথরিন ওয়েস্ট সরাসরি আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন, আগামী সোমবারের মধ্যে কেবিনেট যদি স্টারমারকে প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ না নেয়, তাহলে তিনি নিজেই দলীয় নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করার চেষ্টা করবেন।
অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, স্টারমারের অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে সম্প্রতি কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায়। লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, এপস্টিন ফাইলের অপ্রকাশিত তথ্য ফাঁস এবং শীর্ষ পদে নিরাপত্তা যাচাইকরণে ব্যর্থতার মতো ঘটনা দল ও জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
প্রশ্ন হলো, কীভাবে একজন লেবার প্রধানমন্ত্রীকে উৎখাত করা সম্ভব? লেবার পার্টির সংবিধান অনুযায়ী, দলীয় নেতার বিরুদ্ধে আস্থা ভোট আনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক এমপি লিখিত সমর্থন দিলে তবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়। বিতর্কের মধ্যেই স্টারমারের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি কেবিনেটের পদক্ষেপ এবং সংসদ সদস্যদের অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
এম.কে

