যুক্তরাজ্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আসছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহার বাড়ালে গ্রাহকরা বিনামূল্যে বা কম দামে বিদ্যুৎ পেতে পারেন।
দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ পরিচালনাকারী সংস্থা জানিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন সময়গুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া হবে, যখন আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হয়ে যায়—বিশেষ করে রৌদ্রোজ্জ্বল ছুটির দিনে।
এতদিন গ্রাহকদের পিক সময় এড়িয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে বলা হতো। তবে নতুন পরিকল্পনায় এর উল্টোভাবে, কম চাহিদার সময় ব্যবহার বাড়াতে বলা হবে, যাতে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ অপচয় না হয় এবং পুরো ব্যবস্থার ভারসাম্য বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে দিন বড় হওয়া এবং আবহাওয়া উষ্ণ থাকার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে, কিন্তু সৌরশক্তি থেকে উৎপাদন বেড়ে যায়। পাশাপাশি ছোট আকারের স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসারও বড় কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বায়ু ও সৌরশক্তি উৎপাদনে বড় অগ্রগতি হয়েছে, ফলে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘটনা আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থার আওতায় গ্রাহকরা নির্দিষ্ট সময়ে কাপড় ধোয়ার যন্ত্র, বাসন ধোয়ার যন্ত্র চালানো বা বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ করলে পুরস্কৃত হবেন। এই পুরস্কারের মধ্যে থাকতে পারে কম দামের বিদ্যুৎ, নির্দিষ্ট সময়ে বিনামূল্যে ব্যবহার কিংবা পয়েন্ট, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন সুবিধায় রূপান্তর করা যাবে।
এই সুবিধা পেতে হলে গ্রাহকদের স্মার্ট মিটার থাকতে হবে এবং তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দেবে, আর কোম্পানিগুলো সেই অনুযায়ী গ্রাহকদের সুবিধা প্রদান করবে।
অঞ্চলভেদে এই পরিকল্পনার ভিন্নতা থাকতে পারে। কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া হলেও অন্য এলাকায় একই সময়ে ব্যবহার কমাতে বলা হতে পারে, যাতে সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় থাকে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কম চাহিদার সময় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পরিচালনা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। প্রয়োজনে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে উৎপাদন কমাতে নির্দেশনা দিতে হতে পারে।
যদিও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে, তবুও এখনো গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা রয়ে গেছে। এসব কেন্দ্র নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওঠানামার সময় দ্রুত উৎপাদন বাড়িয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের ভারসাম্য রক্ষা করে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালে চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই। তবে ভবিষ্যতে বাড়তে থাকা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রঃ বিবিসি
এম.কে

