7.1 C
London
October 8, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ‘রক্তপানকারী শয়তানপূজারী’র সাজাঃ অনির্দিষ্টকালের জন্য মানসিক হাসপাতালে প্রেরণ

রক্ত পান করলে মানুষ ভ্যাম্পায়ারে পরিণত হবে—এমন বিশ্বাসে বছরের পর বছর অদ্ভুত ও ভয়ংকর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি আদালত। আদালতে বলা হয়েছে, তিনি শয়তানপূজার বিশেষ দিনগুলোতে বিভিন্ন গির্জার সামনে ও ভেতরে হরিণ ও ভেড়ার মৃতদেহ ফেলে রেখে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করতেন।

 

যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পশায়ারের টটন এলাকার ৪৮ বছর বয়সী বেনজামিন লুইস-এর বিরুদ্ধে মামলার শুনানি শেষে সাউদাম্পটন ক্রাউন কোর্ট এই আদেশ দেন। তিনি ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক ইচ্ছাকৃত হয়রানির পাঁচটি এবং চুরির দুটি অভিযোগ স্বীকার করেছেন।

আদালতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিউ ফরেস্ট এলাকার একাধিক গির্জাকে লক্ষ্য করে তিনি ধারাবাহিকভাবে এসব ঘটনা ঘটান। পুলিশ বলছে, শয়তানপূজার ক্যালেন্ডারের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো বেছে নিয়েই তিনি অপরাধগুলো সংঘটিত করতেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি চালিয়ে ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, তিনি খামার থেকে সদ্য জন্ম নেওয়া মেষশাবক চুরি করে হত্যা করেন, তাদের দেহ বিকৃত করেন এবং একটি গির্জার পতাকাদণ্ডে ঝুলিয়ে রাখেন। অন্য ঘটনায় একটি হরিণের কাটা মাথা গির্জার ধর্মোপদেশ দেওয়ার স্থানে রেখে যান। কোথাও উল্টো ক্রুশচিহ্ন, কোথাও ট্যারোট কার্ড, আবার কোথাও ক্রুশচিহ্ন ও অন্যান্য বস্তু রেখে ধর্মীয় প্রতীককে অবমাননার চেষ্টা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, এসব ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, গির্জার যাজক এবং উপাসনাকারীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিজেদের এবং তাদের গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

পুলিশ তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হাতে লেখা একটি নোট উদ্ধার করে, যেখানে লেখা ছিল, “ভ্যাম্পায়ার হওয়া মজার।” এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী, শয়তানপূজা এবং ধারাবাহিক হত্যাকারীদের ওপর লেখা একাধিক বইও উদ্ধার করা হয়।

আদালতে আরও জানানো হয়, ছোটবেলা থেকেই বেনজামিন লুইসের ভ্যাম্পায়ার নিয়ে অস্বাভাবিক আকর্ষণ ছিল। তিনি একটি ভ্যাম্পায়ার গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন এবং সেখানে অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত একে অপরের রক্ত পান করতেন। তার বিশ্বাস ছিল, প্রাণীর রক্ত পান করলে তিনি শক্তি অর্জন করবেন, দীর্ঘজীবী হবেন এবং শেষ পর্যন্ত ভ্যাম্পায়ারে রূপান্তরিত হবেন।

এটি তার প্রথম অপরাধ নয়। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি একটি গির্জার ক্রুশের ওপর মৃত ব্যাঙ রেখে আলোচনায় আসেন। পরে ২০০৩ সালে নিজেকে ভ্যাম্পায়ার পরিচয় দিয়ে এক যাজক ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের দায়ে ১২ মাসের কারাদণ্ডও ভোগ করেন।

ফরেনসিক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আদালতকে জানান, বেনজামিন লুইসের মধ্যে অটিজম, মিশ্র ব্যক্তিত্বজনিত ব্যাধি, অবসেসিভ কমপালসিভ ডিসঅর্ডার (ওসিডি), সম্ভাব্য মৃদু শেখার সমস্যা এবং বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন কল্পনাপ্রবণ চিন্তার লক্ষণ রয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, প্রাণীগুলোকে হত্যা করে তাদের দেহ বিকৃত করা এবং গির্জায় প্রদর্শন করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এসব অপরাধের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড প্রাপ্য ছিল। তবে অভিযুক্তের মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা জেসিকা সারম্যান বলেন, এটি তার কর্মজীবনের সবচেয়ে অদ্ভুত মামলাগুলোর একটি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত বিশ্বাস করতেন রক্ত পান করলে তিনি কখনও মারা যাবেন না, নরকে যাবেন না এবং একসময় সত্যিকারের ভ্যাম্পায়ারে পরিণত হবেন।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

২৬ আগস্ট কনস্যুলার সেবা প্রদান করবে লন্ডনের বাংলাদেশ হাই কমিশন

অনলাইন ডেস্ক

হুতিদের সাথে শত্রুতায় মন্দার শঙ্কা যুক্তরাজ্যে

ইউনিভার্সাল ক্রেডিটসহ ৪ বেনিফিট গ্রহীতারা পেতে পারেন £১৫০ সহায়তাঃ দ্রুত পদক্ষেপের পরামর্শ