TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে শরণার্থী নিতে নতুন স্পনসরশিপ কর্মসূচিঃ আবেদন শুরু দাতব্য সংস্থাগুলোর

যুক্তরাজ্যে শরণার্থীদের বৈধভাবে প্রবেশের সুযোগ দিতে নতুন তিনটি স্পনসরশিপ কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। এ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের শরণার্থীরা যুক্তরাজ্যে পুনর্বাসনের সুযোগ পেতে পারেন। নতুন কর্মসূচিতে শরণার্থীদের স্পনসর করতে আগ্রহী দাতব্য ও অলাভজনক সংস্থাগুলোর আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে।
২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে নতুন এই উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরদিন ৩০ অক্টোবর ইলেকট্রনিক ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক (ইআইএন) এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
নতুন কর্মসূচির আওতায় তিনটি পৃথক পথ চালু করা হচ্ছে। এগুলো হলো—নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কমিউনিটির মাধ্যমে স্পনসরশিপ, শরণার্থী কর্মসংস্থান রুট এবং শরণার্থী শিক্ষার্থী রুট। এর মাধ্যমে কমিউনিটি সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগদাতারা নিজেদের উদ্যোগে যোগ্য শরণার্থীদের চিহ্নিত করে যুক্তরাজ্যে আসার জন্য স্পনসর করতে পারবেন।
বাংলাদেশসহ যেসব দেশ থাকছে তালিকায়ঃ
প্রাথমিকভাবে সাতটি দেশ থেকে শরণার্থীদের এই কর্মসূচির আওতায় বিবেচনা করা হবে। দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, মিসর, ভারত, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও উগান্ডা।
তবে এসব দেশে অবস্থান করলেই কেউ শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার যোগ্য হবেন না। যোগ্য হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের নাগরিকত্বের দেশ ছেড়ে অন্য কোনো দেশে অবস্থান করতে হবে এবং ২০২৬ সালের ১ অক্টোবরের আগে তালিকাভুক্ত সাতটি দেশের কোনো একটিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অথবা জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কাছে নিবন্ধিত থাকতে হবে।
কারা স্পনসর করতে পারবেন?
নতুন কর্মসূচির আওতায় স্পনসর হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাজ্যে নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থা অথবা কমিউনিটি ইন্টারেস্ট কোম্পানি (সিআইসি) হতে হবে। পাশাপাশি তাদের সুনাম, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা, নীতিমালা, আর্থিক সক্ষমতা এবং শরণার্থীদের সহায়তা করার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ ও নেটওয়ার্ক থাকতে হবে।
অনুমোদন পাওয়া প্রধান স্পনসর সংস্থাগুলো স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন স্পনসরশিপ গ্রুপ গঠন ও তদারক করবে। শরণার্থীদের আবাসন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করতেও তারা সহযোগিতা করবে।
নতুন ব্যবস্থায় প্রধান স্পনসররা আবেদনকারীদের সঙ্গে হোম অফিসের যোগাযোগের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করবে। তারা স্পনসরশিপের উপযুক্ততা যাচাই, আবেদন জমা এবং পরবর্তী সময়ে স্পনসর গ্রুপগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে।
কবে থেকে যুক্তরাজ্যে আসতে পারবেন শরণার্থীরা?
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কমিউনিটি স্পনসরশিপ এবং শরণার্থী শিক্ষার্থী রুটের প্রধান স্পনসর হিসেবে অনুমোদন পেতে প্রতিষ্ঠানগুলোর আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে শরণার্থী কর্মসংস্থান রুটের জন্য স্পনসরশিপ আবেদন শুরু হবে ২০২৭ সালের বসন্তে।
নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রথম শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে আগমন ২০২৭ সালের শরৎকালের আগে প্রত্যাশা করা হচ্ছে না।
প্রথমে কয়েকশ, পরে কয়েক হাজার শরণার্থীঃ
নতুন কর্মসূচিতে কতসংখ্যক শরণার্থী যুক্তরাজ্যে আসতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুরুতে নতুন ও বিদ্যমান পুনর্বাসন কর্মসূচি মিলিয়ে শরণার্থীদের আগমন কয়েকশর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি ও স্পনসরশিপের সক্ষমতা বিবেচনায় এ সংখ্যা কয়েক হাজারে উন্নীত হতে পারে।
সরকার জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন কমে আসার সঙ্গে নতুন কর্মসূচির আওতায় শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে নতুন রুটে আসার জন্য প্রত্যেক শরণার্থীকে ইউএনএইচসিআরের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে থাকার জন্য উপযুক্ত স্পনসরশিপ ব্যবস্থাও থাকতে হবে। চূড়ান্ত অভিবাসন সিদ্ধান্ত নেবে হোম অফিস।
সরকার বলছে, কানাডার দীর্ঘদিনের বেসরকারি স্পনসরশিপ মডেল অনুসরণ করে নতুন এই কর্মসূচি তৈরি করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো যুদ্ধ ও নির্যাতনের কারণে নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া প্রকৃত শরণার্থীদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে আসার সুযোগ তৈরি করা।
সূত্রঃ ইলেকট্রনিক ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক
এমকে

আরো পড়ুন

উইন্টার ফুয়েল পেমেন্ট ও ১৫০ পাউন্ড সহায়তার নামে প্রতারণাঃ ব্রিটিশদের সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ

অভিবাসী ভিসা আবেদনে নিয়ম পরিবর্তন করায় বড় পতন

যুক্তরাজ্যে অনুমোদন পেল ওজন কমানোর ওয়েগোভি ট্যাবলেটঃ মিলবে ব্যক্তিগত প্রেসক্রিপশনে