যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম ক্রাউন কোর্টে এক ভয়াবহ অপরাধের ঘটনায় জোন অ্যাশবি নামের এক ব্যক্তি ধর্ষণসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একজন শিখ নারীকে “মুসলিম ভেবে” তার ওপর ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হামলা চালান।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ৩২ বছর বয়সী অ্যাশবি—যার কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই—ধর্ষণ, ডাকাতি, ইচ্ছাকৃত গলা চেপে ধরা এবং ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে তিনি হঠাৎ করেই দোষ স্বীকার করেন।
ঘটনাটি ঘটে আদালতে জনসম্মুখে এক ব্যক্তির তীব্র প্রতিক্রিয়ার পর। ওই ব্যক্তি আসামিকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি করলে অ্যাশবি তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে তার অবস্থান পরিবর্তন করে দোষ স্বীকার করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, অ্যাশবি ভুক্তভোগী নারীকে একটি বাসে অনুসরণ করেন এবং পরে তার ওয়ালসাল এলাকার বাসায় প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি তাকে আক্রমণ করেন এবং ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করেন। ভুক্তভোগী নারী আদালতে জানান, হামলাকারী তাকে “মুসলিম নারী” বলে গালি দেন, যদিও তিনি বারবার বলেন যে তিনি শিখ ধর্মাবলম্বী।
আদালতে প্রদর্শিত বডি-ওর্ন ক্যামেরা ফুটেজে ভুক্তভোগীর বর্ণনা উঠে আসে। তিনি বলেন, হামলাকারীর হাতে একটি লাঠি ছিল, তিনি আলো নিভিয়ে দেন এবং তাকে ভয় দেখান। এরপর তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর সঙ্গে একই বাসে ছিলেন এবং পরে তাকে অনুসরণ করেন। তদন্তে ডিএনএ প্রমাণ, আঙুলের ছাপ এবং ভুক্তভোগীর শনাক্তকরণের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।
বিচারক বলেন, এই ধরনের অপরাধকারী ব্যক্তি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং তার বিরুদ্ধে আজীবন কারাদণ্ডের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ধর্মীয় বিদ্বেষের ভিত্তিতে কোনো নারীর বাড়িতে প্রবেশ করে এমন অপরাধ “অত্যন্ত গুরুতর ও নিন্দনীয়”।
ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানায়, এটি একটি ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত ভয়াবহ হামলা, যা শক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। তাদের মতে, তদন্তের দৃঢ়তার কারণেই আসামি শেষ পর্যন্ত দোষ স্বীকার করতে বাধ্য হন।
আদালত শুক্রবার মামলার সাজা ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

