TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে হালাল ব্যবস্থায় পশু জবাই বন্ধ চায় ডানপন্থীরাঃ সরকারের স্পষ্ট না

যুক্তরাজ্যে হালাল জবাই নিষিদ্ধের দাবিতে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অজ্ঞান (স্টান) না করে পশু জবাই—যার মধ্যে হালাল জবাইও অন্তর্ভুক্ত—নিষিদ্ধ করার দাবিতে পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটে করা একটি পিটিশনে ইতোমধ্যে ৫১ হাজারের বেশি স্বাক্ষর পড়েছে। তবে বিতর্ক তীব্র হলেও ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, ধর্মীয় কারণে স্টান ছাড়া জবাই নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে তাদের নেই।

গত ৩০ মার্চ ফিলিপ ওয়েস্টন নামে এক ব্যক্তি এই পিটিশনটি চালু করেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এতে ৫১ হাজার ৬৪৬টি স্বাক্ষর জমা পড়েছে। পিটিশনটি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বাক্ষরের জন্য খোলা থাকবে। যুক্তরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী, ১০ হাজার স্বাক্ষর পেলে সরকারকে আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে হয় এবং এক লাখ স্বাক্ষর হলে বিষয়টি পার্লামেন্টে বিতর্কের জন্য বিবেচিত হতে পারে।

পিটিশনের উদ্যোক্তা ফিলিপ ওয়েস্টনের দাবি, যারা স্টান ছাড়া পশু জবাইয়ের বিরোধিতা করেন, তাদের এমন পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাংস খেতে বাধ্য করা উচিত নয়। তার ভাষায়, আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই ধরনের ধর্মীয় জবাই নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হালাল ও কোশার জবাইয়ের ধর্মীয় ছাড় বাতিলের দাবি যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী রাজনীতিতে নতুন গতি পেয়েছে। বিশেষ করে রিফর্মপন্থী ও অন্যান্য ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো প্রাণী কল্যাণের প্রশ্ন তুলে বিষয়টি জনপরিসরে জোরালোভাবে সামনে আনছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাণী কল্যাণের পাশাপাশি অভিবাসন ও পরিচয় রাজনীতির সঙ্গেও এই বিতর্ক জড়িয়ে পড়েছে।

তবে ধর্মীয় জবাইয়ের সমর্থকেরা এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইহুদি সংগঠন শেচিতা ইউকে-এর প্রতিনিধি শিমন কোহেন বলেছেন, “কেউ এটিকে নিষ্ঠুর মনে করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। বৈজ্ঞানিক গবেষণা দেখায়, শেচিতা পদ্ধতি মানবিকভাবে পশু জবাইয়ের একটি উপায়।”

এদিকে যুক্তরাজ্যের পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগ (DEFRA) জানিয়েছে, সরকার নীতিগতভাবে চায় পশুকে জবাইয়ের আগে অজ্ঞান করা হোক। তবে একই সঙ্গে মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী প্রস্তুত করা মাংস খাওয়ার অধিকারের প্রতিও সরকার সম্মান দেখায়।

সরকার আরও স্পষ্ট করেছে, স্টান ছাড়া ধর্মীয় জবাই নিষিদ্ধ করার মতো কোনো নতুন আইন আনার পরিকল্পনা বর্তমানে নেই। অর্থাৎ, বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই ধর্মীয় জবাইয়ের অনুমোদন বহাল রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে উৎপাদিত হালাল মাংসের একটি বড় অংশেই জবাইয়ের আগে স্টান ব্যবহার করা হয়। ২০২৪ সালের স্লটার সেক্টর সার্ভে অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে জরিপের সপ্তাহে উৎপাদিত হালাল মুরগির ৮৮ শতাংশই স্টান করার পর জবাই করা হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, “হালাল জবাই বন্ধের দিকে কি যাচ্ছে যুক্তরাজ্য?”—এই প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এলেও বর্তমান বাস্তবতা হলো, ডানপন্থী প্রচারণা ও পিটিশনের চাপ সত্ত্বেও ব্রিটিশ সরকার এখন পর্যন্ত আইন পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে বিতর্ক বাড়লেও হালাল জবাই নিষিদ্ধের পথে যুক্তরাজ্য এগোচ্ছে—এমন ঘোষণা দেওয়ার মতো সরকারি সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

সূত্রঃ ডেইলি মেইল

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে নতুন ভাড়াটিয়া সংষ্কার বিল নিয়ে বিতর্ক

রিফর্ম ইউকের ভবিষ্যৎ টার্গেট আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় বসা

ভিসা জালিয়াতি নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল যুক্তরাজ্য, ভুয়া চাকরির প্রলোভনে না পড়ার আহ্বান