11.6 C
London
April 21, 2026
TV3 BANGLA
আমেরিকা

যুদ্ধে নিজেদের সাফল্য তুলে ধরছে না, মার্কিন গণমাধ্যমের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর অর্জিত সাফল্যসমূহ সঠিকভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে সিএনএনসহ দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সংবাদমাধ্যমগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অর্জনকে খাটো করে দেখাচ্ছে।

ট্রাম্পের মতে, গণমাধ্যমগুলোর এই ধরনের নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন কেবল মার্কিন বাহিনীর জন্য অবমাননাকরই নয়, বরং এটি শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে। মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই কড়া সমালোচনার বিষয়টি উঠে এসেছে।

ট্রাম্প তার পোস্টে গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে চালানো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি এই অভিযানকে একটি ‘চরম ও পূর্ণাঙ্গ ধ্বংসযজ্ঞ’ হিসেবে বর্ণনা করে দাবি করেন যে, এই হামলার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি তছনছ করে দেওয়া হয়েছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্টের মতো প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলো এই সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ক্ষতি’ বা ‘পরাজয়’ হিসেবে চিত্রায়িত করছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। ট্রাম্প মনে করেন, এই প্রভাবশালী সংবাদপত্রগুলো সত্য গোপন করে মার্কিন জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমগুলোর এমন ভূমিকার সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ভুল ও পক্ষপাতমূলক সংবাদ পরিবেশনের ফলে খোদ শত্রুপক্ষও বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং তারা মার্কিন শক্তির প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে পারছে না।

তিনি সিএনএনসহ অন্যান্য মিডিয়া নেটওয়ার্কগুলোকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তারা আমাদের মহান বৈমানিক ও সেনাদের প্রাপ্য কৃতিত্ব দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, গণমাধ্যমের এই আচরণ মূলত জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এবং এটি সম্মুখসমরে থাকা সেনাদের মনোবল কমিয়ে দেওয়ার একটি অপচেষ্টা।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মার্কিন মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের হলেও যুদ্ধের এই সংকটকালীন সময়ে তা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যেখানে প্রেসিডেন্ট সামরিক বিজয় দাবি করছেন, সেখানে গণমাধ্যমগুলো ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান এবং অভিযানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো সংস্থাগুলো যখন এই সংঘাত নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছে, তখন দেশের ভেতরের এই অভ্যন্তরীণ বাকযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্রঃ মিডল ইস্ট আই।

এম.কে

আরো পড়ুন

ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে সংশয়, জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেননি ট্রাম্প

ব্রেক্সিট এরমতো টেক্সিট হতে পারে আমেরিকার গলার কাঁটা!

কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ বন্যা, জরুরি অবস্থা জারি