18.3 C
London
August 29, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডন-প্যারিসের সম্পর্ক জোরদারে ম্যাক্রোঁ-বার্নহ্যাম বৈঠকঃ আলোচনায় ব্রেক্সিট রিসেট

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুক্তরাজ্য সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক নতুন করে সাজানো, বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসতে পারে।

বার্নহ্যাম জুলাই ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর ম্যাক্রোঁর সফরটি ইউরোপীয় কোনো নেতার সঙ্গে তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বার্নহ্যাম ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক বৈঠকে তিনি ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাজ্যকে আরও ‘সাহসী’ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় হতে পারে তথাকথিত ‘ব্রেক্সিট রিসেট’। ব্রেক্সিটের পর বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে বাস্তবভিত্তিক নতুন সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে দুই নেতা আলোচনা করতে পারেন।

বাণিজ্যিক সম্পর্কও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বার্নহ্যাম সরকার আগ্রহী। তবে ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইউরোপের সম্পর্ক এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং বাণিজ্য ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অভিবাসনও ম্যাক্রোঁ-বার্নহ্যাম আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে লন্ডন-প্যারিস সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়। দুই দেশ এই সমস্যা মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও কার্যকর করার পথ খুঁজতে পারে।

তবে বৈঠকটি শুধু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক কূটনীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর সবচেয়ে বড় প্রতীক হয়ে উঠেছে ঐতিহাসিক বায়ো ট্যাপেস্ট্রি।

প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো বায়ো ট্যাপেস্ট্রি ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে প্রদর্শনের জন্য ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আনা হয়েছে। ফ্রান্সের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে লন্ডনে এর প্রদর্শনী শুরু হওয়ার কথা। একই সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রিটিশ মিউজিয়াম ফ্রান্সে সাটন হু-র ঐতিহাসিক নিদর্শনসহ অন্যান্য প্রত্নসম্পদ প্রদর্শনের জন্য ঋণ দিচ্ছে।

ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকেও ম্যাক্রোঁর সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০ জুলাইয়ের এক ফোনালাপে বার্নহ্যাম ও ম্যাক্রোঁ যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স সম্পর্ক, ইউক্রেন, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। ওই সময় বার্নহ্যাম বায়ো ট্যাপেস্ট্রি যুক্তরাজ্যে আনার ক্ষেত্রে ম্যাক্রোঁর ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে মাছ ধরার অধিকার, বাণিজ্য, সীমান্ত পারাপার ও অভিবাসন নিয়ে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফলে ম্যাক্রোঁর এই সফরকে শুধু একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হিসেবে নয়, বরং লন্ডন ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইউরোপীয় নিরাপত্তাও দুই নেতার আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। বার্নহ্যাম সম্প্রতি ইউরোপের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করছে।

সব মিলিয়ে ম্যাক্রোঁর লন্ডন সফর ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্য-ইউরোপ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিতে পারে। বাণিজ্য ও সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়—বহুমুখী সহযোগিতার মাধ্যমে লন্ডন ও প্যারিস তাদের পুরোনো সম্পর্ককে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

আরো পড়ুন

প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে ‘সন্ত্রাসী’ ঘোষণার পথে যুক্তরাজ্য, নিন্দা ঝড় রাজনৈতিক মহলে

স্টারমারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে লেবার এমপিরা, ফিলিস্তিন স্বীকৃতিতে ৫৯ জনের প্রকাশ্য বিদ্রোহ

যানজট ঠেকাতে লন্ডনে কনজেশন চার্জের সময় বাড়ানোর ভাবনা