TV3 BANGLA
স্পোর্টস

সাত ক্রিকেটার ছাঁটাই, কোচ বরখাস্ত—তারপর কিং চার্লসকেও বয়কট! পাকিস্তান দলে চরম বিশৃঙ্খলা

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ভেতরের অস্থিরতা এবার গড়াল রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান পর্যন্ত। রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাতে বাদ পড়া খেলোয়াড়দেরও উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের মধ্যে একজন খেলোয়াড় সেই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে অনুষ্ঠানে যাননি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) আচরণের প্রতিবাদেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন।

২ সেপ্টেম্বর ক্ল্যারেন্স হাউসে অনুষ্ঠিত হয় রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে পাকিস্তান দলের সাক্ষাৎ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের টানা ব্যর্থতার মধ্যেই এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। দলের বর্তমান সংকটের কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিতির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করেছিল পিসিবি। সে কারণেই দল থেকে বাদ পড়া খেলোয়াড়দেরও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল।

পাকিস্তান প্রথম টেস্টে হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে লর্ডসে ১৯৪ রানে হেরে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। দুই ম্যাচের চার ইনিংসেই পাকিস্তান ২০০ রানের নিচে অলআউট হয়। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পিসিবি মাঝপথেই দলে ব্যাপক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এরপর সাতজন ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। একই সঙ্গে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং দলের কোচিং কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়। তৃতীয় টেস্টের জন্য সাতজন নতুন খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া হয়, যাদের মধ্যে পাঁচজনের এখনো টেস্ট অভিষেক হয়নি।

দল থেকে বাদ পড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলী আগা ও ইমাম-উল-হকের মতো পরিচিত নামও ছিল। রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হক লর্ডস টেস্টের পরই পাকিস্তানে ফিরে যান। অন্যদিকে বাদ পড়া কয়েকজন খেলোয়াড় তখনো ইংল্যান্ডে অবস্থান করছিলেন এবং তাদের রাজা চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

শেষ পর্যন্ত বাদ পড়া খেলোয়াড়দের মধ্যে আলী উসমান, আমির জামাল, খুররম শাহজাদ ও মুহাম্মদ আওয়াইস জাফর ক্ল্যারেন্স হাউসে উপস্থিত হন। তবে পঞ্চম একজন খেলোয়াড় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান। তার নাম প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিসিবির পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে করা আচরণের প্রতিবাদ হিসেবেই ওই খেলোয়াড় রাজকীয় সাক্ষাৎ এড়িয়ে যান।

ঘটনাটি পাকিস্তান দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মাত্রা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। কারণ একটি আন্তর্জাতিক সফরের মাঝপথে একসঙ্গে সাতজন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া, কোচিং স্টাফে বড় পরিবর্তন এবং এরপর বাদ পড়া খেলোয়াড়দের একটি আনুষ্ঠানিক রাজকীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে বাধ্য করার সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে দলের পরিস্থিতি যে অত্যন্ত অস্বাভাবিক, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারদের মধ্যেও পিসিবির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি মাঝপথে এত বড় পরিবর্তনকে নির্বাচক কমিটির ‘সবচেয়ে বিস্ময়কর সিদ্ধান্তগুলোর একটি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

তবে বিতর্কের মধ্যেও রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দলের সাক্ষাৎ শেষ পর্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশেই সম্পন্ন হয়। রাজা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ইংল্যান্ড সফরের কঠিন সময়ের মধ্যে পাকিস্তান দলকে উৎসাহ দেন। পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম রাজাকে স্বাক্ষর করা একটি ক্রিকেট ব্যাট উপহার দেন। পিসিবি চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী মোহসিন নাকভিও রাজাকে একটি উপহার দেন।

রাজপরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ ইংল্যান্ড সফররত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দলগুলোর জন্য প্রচলিত একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন। ফলে একজন খেলোয়াড়ের এই অনুষ্ঠান থেকে সরে দাঁড়ানোকে শুধু ব্যক্তিগত অনুপস্থিতি হিসেবে না দেখে পাকিস্তান দলের বর্তমান অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এদিকে পাকিস্তানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মাঠে ঘুরে দাঁড়ানো। সিরিজ ইতোমধ্যে ইংল্যান্ড ২-০ ব্যবধানে নিশ্চিত করেছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে তৃতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল। ব্যাপক পরিবর্তনের পর নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে পাকিস্তান এখন অন্তত সিরিজের শেষ ম্যাচে সম্মানজনক ফল অর্জনের চেষ্টা করবে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

পিসিবিকে রাজি করাতে লাহোরে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান, আছেন বুলবুলও

প্রধানমন্ত্রী ডেকেছেন তামিম ইকবালকে

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বড় সংকটঃ ইংল্যান্ডসহ ইউরোপের জাতীয় দলগুলোর বয়কটের ঘোষণা