13.7 C
London
May 12, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

স্থানীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগ

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব ঘিরে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভরাডুবির পর সরকার ও দলজুড়ে অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। একের পর এক মন্ত্রীর পদত্যাগে ব্রিটিশ রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা দ্রুত কমে যাওয়ায় দলটির ভেতরেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে চারজন মন্ত্রী পদত্যাগ করে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে, তারা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর আর আস্থা রাখছেন না।

সবশেষ পদত্যাগ করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী জুবির আহমেদ। প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন,
“সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর এটি স্পষ্ট যে, যুক্তরাজ্যের জনগণ এখন আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আর বিশ্বাস করে না।”

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো দক্ষিণ-পশ্চিম আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় ঘরে ঘরে গিয়ে তিনি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সরকারের প্রতি তীব্র হতাশা দেখেছেন। তার দাবি, ভোটাররা লেবার পার্টি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে কিয়ার স্টারমারের নাম উল্লেখ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কেন্দ্রীয় অস্থিরতা স্কটিশ জাতীয়তাবাদী দলকে আবারও ক্ষমতায় টিকে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে।

পেশায় শল্যচিকিৎসক এই মন্ত্রী তার চিঠিতে লিখেছেন, “ নির্ভুলতা, স্পষ্টতা, সততা এবং উৎকর্ষের নীতিতে আমি বিশ্বাস করি। আর সেই নীতিই আমাকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বাধ্য করেছে যে, আপনার ক্ষমতায় থাকা আর গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি প্রধানমন্ত্রীকে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের আহ্বান জানান।
এদিকে সরকারের অভ্যন্তরে চাপ বাড়লেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পদত্যাগ করছেন না বলে নিশ্চিত করেছে তার দপ্তর। তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি নিজের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন।

তবে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা রয়েছে যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তাকে সরে দাঁড়ানোর সময়সূচি নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্যদিকে রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও কিয়ার স্টারমার নিজেকে সক্রিয় দেখানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মঙ্গলবার লন্ডনের একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং নির্মাণ খাতের শিক্ষানবিশদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের গণভোটের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করার পর থেকে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক নেতৃত্বে অস্থিরতা ক্রমেই বেড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি সেই সংকটকে আরও গভীর করেছে।

ক্ষমতায় আসার দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে নিজ দলের ভেতরেই তীব্র বিদ্রোহের মুখে পড়ে কিয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন বড় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে শুক্রবার খারাপ আবহাওয়া জন্য রেড এলার্ট জারি

সরকারের ব্যর্থ আশ্রয়নীতিঃ মানবিক সংকটে পরিণত হচ্ছে যুক্তরাজ্যের হোটেলগুলো

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের রেলযাত্রীদের জন্য রবিবার থেকে ভাড়া বৃদ্ধি