TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যে পড়ার জন্য চাহিদাসম্পন্ন ৮ বিষয়ঃ এগিয়ে চিকিৎসা, প্রকৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শহর নির্বাচনের পাশাপাশি কোন বিষয়ে পড়াশোনা করলে ভবিষ্যতে চাকরির সুযোগ বেশি থাকবে, সেটিও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, অর্থনীতি ও নতুন প্রযুক্তিনির্ভর খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা থাকায় এসব সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করলে কর্মজীবনে তুলনামূলক ভালো সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান, দন্ত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা এখনো যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে স্থিতিশীল কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা, বেসরকারি হাসপাতাল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বিশেষায়িত পেশাজীবীর প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মসংস্থানের হার প্রায় ৯৫ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট ও জীবচিকিৎসা বিজ্ঞানী হিসেবে কাজের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসা গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল বিজ্ঞানের মতো ক্ষেত্রেও ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রকৌশলও যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানমুখী বিষয়গুলোর একটি। অবকাঠামো, উৎপাদন ও জ্বালানি খাতে প্রকৌশলীদের প্রয়োজন রয়েছে। পুরকৌশল, তড়িৎ প্রকৌশল, যন্ত্রকৌশল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে পড়াশোনা করে প্রকৌশলী, প্রকল্প ব্যবস্থাপক কিংবা নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরামর্শক হিসেবে কাজ করা যায়। একই সঙ্গে স্মার্ট অবকাঠামো, রোবোটিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা ও মহাকাশ প্রযুক্তির মতো নতুন ক্ষেত্রেও সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি খাত সম্প্রসারিত হওয়ায় সফটওয়্যার উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেঘভিত্তিক কম্পিউটিং ও সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষ গ্র্যাজুয়েটদের চাহিদা রয়েছে। সফটওয়্যার প্রকৌশলী, তথ্য বিশ্লেষক, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক ও মেঘভিত্তিক কম্পিউটিং প্রকৌশলী হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে।

ব্যবসা, ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতিও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে যুক্তরাজ্যের অবস্থানের কারণে ব্যাংকিং, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, বিপণন, পরিচালন ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক প্রযুক্তি খাতে এসব বিষয়ে পড়াশোনা করা গ্র্যাজুয়েটদের কাজের সুযোগ রয়েছে। ব্যবসা বিশ্লেষক, আর্থিক পরামর্শক, বিপণন কৌশলবিদ ও পরিচালন ব্যবস্থাপক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়া যেতে পারে।

তথ্যবিজ্ঞান ও বৃহৎ তথ্য বিশ্লেষণের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। ব্যবসা ও নীতিনির্ধারণে বিপুল পরিমাণ তথ্য ব্যবহারের কারণে তথ্য বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করতে সক্ষম দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হচ্ছে। তথ্য বিশ্লেষক, তথ্যবিজ্ঞানী এবং যন্ত্রশিক্ষা প্রকৌশলী হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে। ব্যাংকিং, অনলাইন বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ও সরকারি নীতিনির্ধারণসহ বিভিন্ন খাতে এই দক্ষতার ব্যবহার রয়েছে।

আইন, অর্থনীতি ও হিসাববিজ্ঞানও দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানমুখী বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এসব বিষয়ে পড়াশোনা করে করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংকিং, আর্থিক সেবা, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যে আইন বিষয়ে শুধু স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলেই আইনজীবী হিসেবে পেশায় প্রবেশ করা যায় না; সংশ্লিষ্ট পেশাগত যোগ্যতা অর্জনের প্রয়োজন হতে পারে।

স্থাপত্য ও নকশাও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের জন্য সম্ভাবনাময় বিষয়গুলোর একটি। নির্মাণ, নগর উন্নয়ন ও টেকসই অবকাঠামোর সঙ্গে এই বিষয়গুলোর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। স্থপতি, নগর নকশাবিদ ও অভ্যন্তরীণ নকশা পরামর্শক হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে। পরিবেশবান্ধব ভবন, স্মার্ট শহর ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্ব বাড়ায় এ খাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

এর বাইরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল বিপণন ও জীবপ্রযুক্তিকে দ্রুত বিকশিত ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকার বাড়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। একইভাবে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অনলাইন বাণিজ্যের প্রসারে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং পণ্য পরিবহন খাতে দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন বাড়ছে।

ডিজিটাল মাধ্যমনির্ভর ব্যবসার প্রসারের কারণে ডিজিটাল বিপণনও একটি সম্ভাবনাময় কর্মক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বিষয়বস্তু তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন অনুসন্ধান ও ডিজিটাল প্রচারণার মতো কাজে দক্ষ পেশাজীবীদের প্রয়োজন হচ্ছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ ও জীবনবিজ্ঞানে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কারণে জীবপ্রযুক্তি খাতেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তবে শুধু চাকরির সম্ভাবনা বিবেচনা করে কোনো বিষয় বেছে নেওয়া উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার খরচ, জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ, পেশাগত যোগ্যতার প্রয়োজনীয়তা এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রকৃত চাকরির সুযোগ বিবেচনা করা জরুরি।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগসংক্রান্ত সর্বশেষ নিয়মও গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা নীতির পরিবর্তন পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে শুধু বিষয় নয়, সেই বিষয়ের চাকরির বাজার এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন বিধিমালাও যাচাই করা প্রয়োজন।

সূত্রঃ ভ্যানগার্ড.কম

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসী কর্মসংস্থানে নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ

পশ্চিম লন্ডনে আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলে হামলার চেষ্টা, পাঁচজন গ্রেপ্তার

বিবি স্টকহোমে আশ্রয়প্রার্থীদের সঙ্গে ‘গবাদি পশুর’ মতো আচরণ