Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

আশ্রয়প্রার্থী চুক্তি ঘিরে আইনি লড়াইঃ যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে রুয়ান্ডার অভিযোগ

রুয়ান্ডা সরকার যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দুই দেশের মধ্যে বাতিল হওয়া বিতর্কিত অভিবাসী চুক্তির আওতায় পাওনা অর্থ পরিশোধ না করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে কিগালি।

রুয়ান্ডা নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত স্থায়ী সালিশ আদালতে (Permanent Court of Arbitration) একটি মামলা দায়ের করেছে। দেশটির দাবি, যুক্তরাজ্য আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়ান্ডায় পাঠানোর চুক্তির অধীনে যে আর্থিক ও নীতিগত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, এই অভিবাসী চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল যুক্তরাজ্যের পূর্ববর্তী রক্ষণশীল সরকার আমলে। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য কিছু আশ্রয়প্রার্থীকে রুয়ান্ডায় পাঠাবে এবং বিনিময়ে দেশটির আশ্রয় ব্যবস্থা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রদান করবে।

তবে ২০২৪ সালে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার চুক্তিটি বাতিল করেন। এর পর যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানায়, চুক্তি বাতিল হওয়ায় পরিকল্পিত ভবিষ্যৎ অর্থপ্রদান হিসেবে ধরা ২২০ মিলিয়ন পাউন্ড রুয়ান্ডাকে দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের রুয়ান্ডা নীতি করদাতাদের বিপুল সময় ও অর্থ অপচয় করেছে। ব্রিটিশ করদাতাদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আমাদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে রক্ষা করব।”

রুয়ান্ডা সরকার সরাসরি বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রুয়ান্ডার সংবাদপত্র নিউ টাইমস-এ প্রকাশিত সালিশ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত একটি বহিরাগত নিবন্ধের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, সালিশ প্রক্রিয়াটি মূলত চুক্তির অধীনে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি পালনের ব্যর্থতা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গড়ে উঠেছে। রুয়ান্ডার দাবি, চুক্তি বাতিল হলেও পূর্বে গৃহীত অঙ্গীকার থেকে যুক্তরাজ্য একতরফাভাবে সরে আসতে পারে না।

এই আইনি লড়াই যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে অন্যান্য দেশের দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে কিংবা আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) কমানোর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।

 

মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে লুৎফে সিদ্দিকী এ কথা জানান। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও অর্জনের বিষয়ে জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক কমানোর বিষয়ে আন্তরিক এবং শিগগিরই এ–সংক্রান্ত ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিদ্যমান ২০ শতাংশ শুল্ক ঠিক কতটা কমানো হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানান তিনি।

দাভোসে সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন জানিয়ে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অশুল্কনীতির অনেক বিষয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের বাণিজ্যঘাটতি ছিল, তা অনেকটা কমে এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর থেকে বাণিজ্য বাধা কমাতে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুতই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।’

বাংলাদেশ–ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসঙ্গে লুৎফে সিদ্দিকী জানান, ইইউ কমিশনার রোক্সানা মিনজাতু ও জোজেফ সিকেলার সঙ্গে সম্ভাব্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইইউর সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের আগ্রহের কথা স্পষ্ট করেছি। তারা এতে আগ্রহ দেখিয়েছে, তবে তাদের প্রক্রিয়াটি ধীরে এগোচ্ছে।’

লুৎফে সিদ্দিকী আরও বলেন, ইইউ বর্তমানে ভারতের সঙ্গে এফটিএ নিয়ে কাজ করছে এবং এরপর হয়তো ভিয়েতনামের দিকে এগোবে, যা বাংলাদেশের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জের হতে পারে। তবে তিনি বলেন, ‘তাতেও ভয়ের কিছু নেই। আমাদের আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। পরবর্তী সরকারের জন্য আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত নোট রেখে যাব।’

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

ভারত–রাশিয়া নির্ভরতা কমিয়ে নতুন সামরিক কৌশলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক কৌশলে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে এখন থেকে পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় ‘কেস-টু-কেস’ ভিত্তিতে এসব দেশে সেনা কর্মকর্তা পাঠানোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর লড়াকু সক্ষমতা বাড়াতে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্রিগেডসহ তিনটি নতুন স্পেশাল ফোর্সেস ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

গত রোববার ও সোমবার (২৫ ও ২৬ জানুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সেনাসদর ও ফরমেশন কমান্ডারদের দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন ইউনিট গঠনের প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (এএফডি) থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

সম্মেলনের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল ভারত ও রাশিয়ায় বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ পাঠানোর দীর্ঘদিনের প্রচলিত নীতি পুনর্বিবেচনা। ৫ আগস্টের আগে পর্যন্ত এই দুই দেশ ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার ক্যাডেটদের প্রশিক্ষণের প্রধান গন্তব্য। তবে এখন থেকে এই প্রক্রিয়া আর স্বয়ংক্রিয় থাকবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হাতে আসা নথিপত্র ও সম্মেলন সূত্র অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ভারত ও রাশিয়ায় প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, কৌশলগত গুরুত্ব এবং আর্থিক শর্ত বিবেচনা করে পৃথকভাবে। প্রতিটি প্রস্তাব আলাদাভাবে যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তকে দেশ দুটির সঙ্গে সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো দেশগুলোতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়েও সম্মেলনে আলোচনা হয়েছে। সামরিক সূত্রগুলোর মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেনাবাহিনীর নেওয়া এটি অন্যতম সুস্পষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত।

সেনাবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা জোরদার করতে একটি নতুন প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড এবং দুটি প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে পরিকল্পনা দপ্তর থেকে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয় এবং পরের মাসে তা সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠানো হয়। বর্তমানে এটি জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। প্রস্তাবিত ইউনিটগুলোকে স্থায়ী কাঠামোর আওতায় গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এছাড়া সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ জনবল কাঠামো নির্ধারণ এবং বিদ্যমান অ্যাডহক বা অস্থায়ী ইউনিটগুলোকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার বিষয়েও নীতিনির্ধারণী আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সেনাসদরের এই সম্মেলনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ছাড়াও পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ জেনারেলরা উপস্থিত ছিলেন। ফরমেশন কমান্ডাররা নিজ নিজ দায়িত্বাধীন এলাকার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সম্মেলন শেষ হওয়ার পর আজ মঙ্গলবার সেনাপ্রধানের রংপুরে অবস্থিত ৬৬ পদাতিক ডিভিশন পরিদর্শনের কথা রয়েছে। সফরে তাঁর সঙ্গে একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ও চারজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থাকার কথা জানা গেছে।
সম্মেলন ঘিরে সেনানিবাসে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ডাইরেক্টরেট সম্মেলনস্থলের নজরদারি জোরদার করে এবং মিলিটারি অপারেশন্স ডাইরেক্টরেট সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইসলামবিরোধী প্রচারণা চালানোয় ইসরায়েলি নাগরিকের ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

ইসলামবিরোধী প্রচারণা চালানোর অভিযোগে ইসরায়েলি সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে কেউ অস্ট্রেলিয়ায় এলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দেশটির সরকার।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ঘৃণা ছড়ানো অস্ট্রেলিয়ায় আসার কোনো বৈধ কারণ হতে পারে না।’ ইসরায়েল থেকে ফ্লাইট ছাড়ার মাত্র তিন ঘণ্টা আগে ইয়াহুদের ভিসা বাতিল করা হয়।

টনি বার্ক এএফপি বার্তা সংস্থাকে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘যারা অস্ট্রেলিয়ায় আসতে চান, তাদের সঠিক ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে এবং সঠিক উদ্দেশ্য নিয়ে আসতে হবে।’

ভিসা বাতিলের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইয়াহুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ইসলামের দৃষ্টিতে অবিশ্বাসী, ধর্মত্যাগী, নারীর অধিকার, শিশুদের অধিকার কিংবা সমকামীদের অধিকার সহ্য করে না। তিনি ইসলামকে ‘ঘৃণ্য মতাদর্শ’ ও ‘আগ্রাসী’ বলেও উল্লেখ করেন।

চলতি মাসের শুরুতে সিডনির বন্ডাই বিচে এক ইহুদি অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বন্দুক হামলার পর অস্ট্রেলিয়া তার ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ আইন’ আরও কঠোর করেছে।

যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের নাগরিকত্ব পাওয়া ইয়াহুদ অতীতে আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এক পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সোমালি বংশোদ্ভূত মুসলিম কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরকে বহিষ্কারের আহ্বান জানান। অন্য এক পোস্টে তিনি জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ নিয়ে বিদ্রূপ করেন।

ভিসা বাতিল হলেও ইয়াহুদ এক্সে লেখেন, ‘আমাকে বেআইনিভাবে অস্ট্রেলিয়ায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে, আমি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’ আরেক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এটি স্বৈরাচার, সেন্সরশিপ ও নিয়ন্ত্রণের গল্প।’

পূর্বে ঘৃণা ছড়ানোর আশঙ্কায় যে আইনে অন্যদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে ঠিক একই কারণে ইয়াহুদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

এর আগেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের কারণে ইসরায়েলি-আমেরিকান অ্যাক্টিভিস্ট ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিলেল ফুল্ডের ভিসা বাতিল করেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ায় বিভাজন ছড়াতে পারে এই আশঙ্কায় ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী মাফদাল–রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টির আইনপ্রণেতা এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জোট সরকারের সদস্য সিমচা রথম্যানের ভিসাও বাতিল করা হয়েছিল।

এদিকে, সিডনি ও মেলবোর্নে ইয়াহুদকে আমন্ত্রণ জানানো রক্ষণশীল সংগঠন ‘অস্ট্রেলিয়ান জিউইশ অ্যাসোসিয়েশন’ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজির সরকারের এই সিদ্ধান্তে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

সূত্রঃ এএফপি

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে খেলার অনুমতি দেবে না সরকার!

বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে পাকিস্তান। আইসিসির সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক’ মনে করে পাকিস্তান এখন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে।

সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র দ্য নিউজকে জানিয়েছে, ফেডারেল সরকার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে জাতীয় দল বিশ্বকাপে পাঠানোর অনুমতি নাও দিতে পারে। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্ট নিয়ে ইসলামাবাদে অসন্তোষ বাড়ছে। আইসিসির ‘স্পষ্ট দ্বিমুখী নীতি’ই এর মূল কারণ বলে মনে করছে সরকার।

বাংলাদেশ নিরাপত্তার কথা জানিয়ে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে চেয়েছিল। আইসিসি সেই আবেদন নাকচ করে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পরই ইসলামাবাদ নড়েচড়ে বসে।

আজ সোমবার ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির বৈঠকে বসার কথা। এরপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি সূত্র বলেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর হাতে। তবে প্রাথমিক ইঙ্গিত বলছে, সরকার পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে অংশ নিতে নাও দিতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা শুধু ক্রিকেটের বিষয় না। এটা নীতির প্রশ্ন। বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আইসিসির সৎমায়ের মতো আচরণ পাকিস্তানকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।’

ওই সূত্র জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দ্বৈত নীতি চলতে পারে না। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক খেলায় দুই রকম মানদণ্ড থাকতে পারে না। একদিকে ভারত ইচ্ছেমতো ভেন্যু বেছে নিতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ নিরাপত্তার কথা বলেও ভেন্যু বদলাতে পারে না। আইসিসি যদি সত্যিই বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট চায়, তাহলে এই বাছাই করা নীতি বন্ধ করতে হবে।’

এর আগে মহসিন নাকভি আইসিসির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নেওয়া আইসিসির নীতিগত অসঙ্গতি তুলে ধরে। এতে ন্যায্যতার চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে নাকভি পরিষ্কার করে দেন, পিসিবি সরকারের সিদ্ধান্তই মানবে। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের। পিসিবি সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য।’

এদিকে লাহোরে এক বৈঠকে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা চেয়ারম্যান নাকভির পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। খেলোয়াড়রা একমত হয়ে বলেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে, বিশ্বকাপ খেলা বা না খেলা সেই সিদ্ধান্তই তারা মানবেন।

সূত্রঃ দ্য নিউজ

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

নির্বাচন উপলক্ষে মোটরসাইকেল ৩ দিন; অন্যান্য যান চলাচল ২৪ ঘণ্টা বন্ধ

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের পূর্ববর্তী মধ্যরাত অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহণের দিন এবং এর আগে-পরে নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি ক্যাবসহ চার ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এছাড়া মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর তিন দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন পরিচালনা-০২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের পূর্ববর্তী মধ্যরাত অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

অন্যদিকে, ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

জরুরি সেবা ও বিশেষ প্রয়োজনে কিছু ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসন। অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক ও সংবাদপত্রের গাড়ি। জরুরি সেবা যেমন—ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত যানবাহন।

বিমানবন্দরে যাওয়া-আসা করার যাত্রী বা আত্মীয়-স্বজনের গাড়ি (টিকেট প্রদর্শন সাপেক্ষে)। দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী যানবাহন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনি এজেন্টের জন্য রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে ১টি গাড়ি (জিপ/কার/মাইক্রোবাস)। টেলিযোগাযোগ সেবায় নিয়োজিত বিটিআরসি ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এবং আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে বের হওয়া বা প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। এছাড়া স্থানীয় বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনাররা চাইলে আরও কিছু যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবেন বা শিথিল করতে পারবেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্বাচন ও গণভোট।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

‘ডাকসু মাদকের আড্ডাখানা-বেশ্যাখানা’ বলা জামায়াত নেতাকে অব্যাহতি

বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসান।
বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানকে দলের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার দলীয় সদস্য (রুকন) পদও স্থগিত করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি এক জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে শামীম আহসান বেফাঁস মন্তব্য করেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তার ওই বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এটি দলটির নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী। এ কারণে জেলা কর্মপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শামীম আহসানের সদস্য (রুকন) পদ স্থগিত করা হলো এবং সংগঠনের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

জামায়াতে ইসলামীর বরগুনা জেলার আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শামীম আহসানের বক্তব্য জামায়াতে ইসলামীর নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

উল্লেখ্য, বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে শামীম আহসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। গত শনিবার তিনি পাথরঘাটা উপজেলার কাটাখালীতে জামায়াতের প্রার্থী সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

আদানির চুক্তিতে বছরে গচ্চা যাচ্ছে ৬ হাজার কোটি টাকা

ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা অসম বিদ্যুৎ চুক্তির কারণে বছরে বাংলাদেশের গচ্চা যাচ্ছে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। প্রতি বছর এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বেশি দিতে হচ্ছে। এ চুক্তিতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। বাংলাদেশ সরকার চাইলে এ চুক্তি বাতিল করতে পারবে এবং এজন্য ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবে। এ চুক্তির সঙ্গে জড়িত সাত-আটজন ব্যক্তির অবৈধ সুবিধা নেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

গতকাল বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০-এর অধীনে সম্পাদিত চুক্তি পর্যালোচনা জাতীয় কমিটি বিদ্যুৎ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। কমিটি বলেছে, শেষ সময়ে এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার কিচূ করতে পারবে না, তবে নির্বাচিত সরকারকেই এখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কমিটি আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বাতিলে সিঙ্গাপুরের সালিশি আদালতে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছে। এ ছাড়া কমিটি আদানির সঙ্গে করা চুক্তিকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে ‘খারাপ’ চুক্তি বলে অভিহিত করেছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আদানির সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়ে নির্দেশনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয় থেকেই আসত। আর এ চুক্তির সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের কয়েক মিলিয়ন ডলারের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার তথ্যও কমিটির হাতে এসেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। হাই কোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিটিতে ছিলেন বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবদুল হাসিব চৌধুরী, কেপিএমজি বাংলাদেশ সাবেক সিওও আলী আশরাফ, বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন, ইউনির্ভাসিটি অব লন্ডনের ফ্যাকাল্টি অব ল অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক মোশতাক হোসেন খান। কমিটি গত ২০ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ে বিশেষ আইনে করা চুক্তিগুলোর বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

গতকাল সাংবাদিকদের চূড়ান্ত এ প্রতিবেদন সম্পর্কে জানানো হয়। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে পিডিবির লোকসান ছিল সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা আর ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিদ্যুৎ কিনতে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় খরচ হয় ১২ টাকা ৩৫ পয়সা, কিন্তু বিক্রি হয় ৬ টাকা ৬৩ পয়সায়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ। বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দেওয়া টাকা বেড়েছে ১১ গুণেরও বেশি। ক্যাপাসিটি পেমেন্টের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২০ গুণ।

জাতীয় কমিটির হিসাব অনুযায়ী, মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের মধ্যে ৭ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট থেকে ৯ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় না। জ্বালানি এবং অবকাঠামোর অভাবেই এ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় না। এতে আরও বলা হয়, এইচএফও বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ টাকা বেশি খরচ হয়। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে খরচ হয় ৪৫ শতাংশ বেশি। সৌর বিদ্যুৎ কিনতে স্বাভাবিক দামের চেয়ে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বেশি খরচ হয়।

কমিটি জানায়, জরুরি আইনের আড়ালে এ চুক্তিগুলো জাতীয় স্বার্থের চেয়ে একটি সীমিত গোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বড় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদক যারা সময়ের সঙ্গে ও বিভিন্ন প্রযুক্তিতে একাধিক চুক্তি পেয়েছে তারা এতে উপকৃত হন। নির্বাচিত দেশি-বিদেশি স্পন্সররা লাভবান হয়েছে সার্বভৌম গ্যারান্টি ও আন্তর্জাতিক সালিশি সুরক্ষার মাধ্যমে। অল্প কিছু স্পন্সরের কাছে চুক্তি কেন্দ্রীকরণ করায় দর কষাকষিতে তারা লাভবান হয়েছে।

কমিটি আরও উল্লেখ করেছে, বিতর্কিত কয়েকটি চুক্তির মধ্যে আছে আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তি। এটি দেশের বাইরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, কিন্তু ঝুঁকি বাড়ে বাংলাদেশের। এসএস পাওয়ারের এ চুক্তিতে দুটি বড় কেন্দ্র স্থাপন হয়। সামিট মেঘনাঘাটের ক্ষেত্রে গ্যাস শেষের পথে জেনেও এক জায়গায় একাধিক বড় কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে জানা যায়।

রিলায়েন্স জেরার ক্ষেত্রে ভারতে পড়ে থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশে চালানোর বিষয় উল্লেখ করা হয়। পায়রার ক্ষেত্রে যেখানে বন্দরই ঠিকমতো কাজ করে না, সেখানে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। আবার আদানির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরে অন্য বিদ্যুৎ আমদানির উৎস থেকে বেশি দামে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ ক্রয় যুক্তিসংগত দামের চেয়ে ৪ থেকে ৫ সেন্ট (প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা) বেশি।

সামিট মেঘনাঘাট-২ (গ্যাস) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর গড় ব্যয়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ইউনিট খরচ দেখা যায়। আবার সামিট বরিশাল (এইচএফও) অন্য এইচএফও কেন্দ্রের চেয়ে ব্যয়বহুল। এসএস পাওয়ারে সমমানের কয়লাভিত্তিক বিকল্প কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প। আর এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও চুক্তিতে রাজনৈতিক আশীর্বাদে থাকা স্পন্সর ও আমলাতান্ত্রিক অংশীদারত্বের যোগসাজশ পাওয়া যায়। এ চুক্তির কারণে সরকারের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেড়েছে ভর্তুকি, লোকসান ও বকেয়া।

জাতীয় কমিটি সুপারিশ করেছে আগামীতে সব বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি, সংশোধনী ও পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক প্রকিউরমেন্ট পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রকিউরমেন্ট নিশ্চিত করতে হবে। স্বাধীন জ্বালানি তদারকি প্রতিষ্ঠান গঠন করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদে দুর্নীতির প্রমাণ মিললে চুক্তি বাতিল করতে হবে। জাতীয় কমিটির প্রধান হাই কোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বল এখন বিদ্যুৎ বিভাগের কোর্টে। আদানির মামলার বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে সময় নেই।

আমরা চাইব পরবর্তী সরকার যেন এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়। বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ এবং এ কমিটির সদস ড. জহিদ হোসেন বলেন, এ চুক্তিগুলো স্পষ্টতই জাতীয় স্বার্থের চেয়ে একটি সীমিত গোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। অর্থবছর ২০১১ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের পরিশোধিত অর্থ ১১ গুণ বেড়েছে, অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে মাত্র ৪ গুণ। বিপিডিবি বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনছে এবং ২০২৫ অর্থবছরে এর বকেয়া দায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। উৎপাদন সক্ষমতায় উদ্বৃত্ত থাকা সত্ত্বেও সিস্টেমের ব্যবহার হার মাত্র ৪০-৫০ শতাংশ।

কমিটি হিসাব করেছে, অতিরিক্ত বা অকার্যকর সক্ষমতার বার্ষিক আর্থিক ব্যয় প্রায় ৯০০ মিলিয়ন থেকে ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে দেউলিয়ার পথে রয়েছে বিপিডিবি। তিনি বলেন, ঘাটতি ঠেকাতে গেলে পাইকারি দাম ৮৬ শতাংশ বাড়াতে হবে। আর ৮৬ শতাংশ দাম বাড়ালে ভারত-চীন- ভিয়েতনাম ও শ্রীলংকার চেয়ে বেশি হয়ে যাবে। ওইসব দেশের শিল্পের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না বাংলাদেশের শিল্প।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে তীব্র ঝড়ঃ স্কুল বন্ধ, রাস্তা ও রেল লাইন চলাচলের অনুপযুক্ত

যুক্তরাজ্যে স্টর্ম চন্দ্রার কারণে ভারী বৃষ্টি, তীব্র বাতাস এবং তুষারপাত ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে স্কুল বন্ধ, রেলসেবা ব্যাহত এবং রাস্তা চলাচলের অনুপযুক্ত অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন প্রভাবিত হয়েছে।

 

ডেভনের ওটেরি স্ট মেরিতে জীবনঘাতী বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেখানে ওটার নদী তার সর্বোচ্চ রেকর্ডকৃত স্তরে পৌঁছেছে। পরিবেশ সংস্থা জানিয়েছে, পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের উপকূলীয় এলাকায় অ্যাম্বার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের বিভিন্ন অংশে বরফ ও বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে ঝড়ের মতো তুষারপাতের কারণে রাস্তা বন্ধ এবং রেল বিলম্বের সম্ভাবনা রয়েছে।

খারাপ আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন ফুটবল ম্যাচও স্থগিত করা হয়েছে। বেলফাস্টের Windsor Park-এ BetMcLean Cup সেমিফাইনাল এবং ইংল্যান্ডের West Midlands ও দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের League One ও League Two ক্লাবের ম্যাচ বাতিল হয়েছে। এর ফলে খেলোয়াড়, দর্শক এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নতুন পরিকল্পনা নিতে হয়েছে।

আগামীকাল ও বৃহস্পতিবারও উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টি, বরফ ও ঝড়ের সতর্কতা জারি থাকবে। স্থানীয়দের সতর্কতা অনুসরণ করতে, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং সর্বশেষ আবহাওয়ার আপডেট মনিটর করতে বলা হয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

স্পেনে মানবিক মোড়ঃ প্রচুর বাংলাদেশী সহ পাঁচ লাখ অভিবাসী পাচ্ছেন বৈধতা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহু দেশ যখন অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে সীমান্তে দেয়াল তুলছে ও কঠোর নীতি গ্রহণ করছে, তখন স্পেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সরকার বাংলাদেশিসহ প্রায় পাঁচ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

স্পেন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে যাদের ‘অদৃশ্য’ হিসেবে দেখা হতো—অর্থাৎ কাগজপত্রহীন অবস্থায় শ্রম দিয়ে যারা অর্থনীতি সচল রেখেছেন—তারাই বাস্তবে দেশের উন্নয়নের বড় চলনশক্তি। কৃষি, নির্মাণ, পরিচর্যা, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ শ্রমনির্ভর খাতে এই অভিবাসীদের অবদান উল্লেখযোগ্য বলে সরকার স্বীকার করেছে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্পেন একদিকে শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণ করতে চায়, অন্যদিকে কর-ব্যবস্থা ও সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আরও বেশি মানুষকে আনতে চায়। বৈধতা পেলে অভিবাসীরা কাজের চুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক সুবিধা পাবে—যা তাদের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় রাজস্বও বাড়াবে বলে মনে করছে মাদ্রিদ।

বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার বহু অভিবাসীর জন্য এই ঘোষণাকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা মানুষজনের জন্য এটি আইনি নিরাপত্তা ও মর্যাদার পথ খুলে দেবে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

তবে সিদ্ধান্তটি সমালোচনাও এড়ায়নি। ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী ও অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠীগুলো বলছে, এ ধরনের পদক্ষেপ নতুন করে অনিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে পারে। স্পেন সরকার এ আশঙ্কা নাকচ করে জানায়, এটি এককালীন ও নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া; পাশাপাশি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও বৈধ অভিবাসন চ্যানেল শক্তিশালী করা হবে।

সব মিলিয়ে, স্পেনের এই উদ্যোগ ইউরোপীয় অভিবাসন নীতিতে মানবিক ও বাস্তববাদী বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। কড়াকড়ির যুগে বৈধতার এই ঘোষণা অভিবাসন বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল—যেখানে ‘নিরাপত্তা’ নয়, ‘অবদান’কে কেন্দ্র করে নীতি নির্ধারণের বার্তা দিল মাদ্রিদ।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে