Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ ‘অতিদরিদ্র্য’, বিপাকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান কমিউনিটি

যুক্তরাজ্যে দারিদ্র্যের হার গত তিন দশকের মধ্যে ভয়াবহতম পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে দেশটির প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ ‘অতিদারিদ্র্যের’ মধ্যে জীবনযাপন করছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশনের (জেআরএফ) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমলেও অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ‘অতিদরিদ্র’ বলতে মূলত সেই সব পরিবারকে বোঝানো হয়, যাদের আবাসন খরচ মেটানোর পর অবশিষ্ট আয় দেশটির মধ্যম আয়ের ৪০ শতাংশের চেয়েও কম। উদাহরণস্বরূপ, দুটি সন্তানসহ একটি দম্পতির ক্ষেত্রে এই আয়ের পরিমাণ বছরে আনুমানিক মাত্র ১৬ হাজার ৪০০ পাউন্ড।

এই গবেষণার সবচেয়ে ভীতিজাগানিয়া দিক হলো দেশটিতে আশঙ্কাজনক হারে শিশুদারিদ্র্য বৃদ্ধি পাওয়া। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের প্রায় ৪৫ লাখ শিশু দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠছে, যা দেশটির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টানা তিন বছর ধরে শিশুদারিদ্র্য বাড়তে থাকায় বর্তমান লেবার সরকার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস ঘোষণা করেছেন, আগামী এপ্রিল মাস থেকে কল্যাণসুবিধার ওপর থাকা ‘দুই শিশুর সীমা’ বা টু-চাইল্ড ক্যাপ বাতিল করা হবে। ২০১৭ সালে কনজারভেটিভ সরকার এই সীমা আরোপ করেছিল, যার ফলে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো তৃতীয় সন্তানের জন্য কোনো অতিরিক্ত সরকারি সহায়তা পেত না। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের প্রায় ৩১০ কোটি পাউন্ড অতিরিক্ত খরচ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে এই দারিদ্র্যের প্রভাব অনেক বেশি প্রকট। বিশেষ করে বাংলাদেশি এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কমিউনিটিগুলোর মধ্যে দারিদ্র্যের হার জাতীয় গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও এই অর্থনৈতিক সংকটের শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি। জেআরএফের এই প্রতিবেদনকে ‘সমাজের জন্য অত্যন্ত খারাপ খবর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন দাতব্য সংস্থা বিগ ইস্যুর প্রতিষ্ঠাতা জন বার্ড। তার মতে, আবাসন সংকট এবং নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম নিম্ন আয়ের মানুষদের ক্রমশ খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।

যদিও সরকার দুই শিশুর সীমা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে জোসেফ রাউনট্রি ফাউন্ডেশন সতর্ক করে বলেছে যে এটিই যথেষ্ট নয়। শিশুদারিদ্র্য পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে সরকারকে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

ব্রিটিশ মুসলিম এবং দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের একটি বড় অংশ যেহেতু লন্ডন এবং উত্তর ইংল্যান্ডের শিল্পাঞ্চলগুলোতে বসবাস করেন, তাই মুদ্রাস্ফীতির সরাসরি প্রভাব তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে। যদি দ্রুত কার্যকর কোনো অর্থনৈতিক সংস্কার না আনা হয়, তবে এই অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আগামী বছরগুলোতে আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

সিরিয়ায় আশ্রয় শিবিরে শামীমা বেগমের মুক্তির অপেক্ষাঃ আইএস বধূরা ব্যাগ প্যাকে ব্যস্ত

উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় আশ্রয় শিবির রোজে শামীমা বেগমকে দেখা গিয়েছে। সেখানে প্রাক্তন এই ব্রিটিশ স্কুলছাত্রী আইএসের মহিলা বন্দীদের সঙ্গে আছেন। শিবিরের প্রবেশদ্বারে আবর্জনাপূর্ণ ছোট বাজারে তিনি গ্রোসারি কেনাকাটা করছিলেন। হুডি ও মাস্ক পরা অবস্থায় তাকে বাজারে ঘুরতে দেখা যায়। যখন দ্য টেলিগ্রাফের সাংবাদিকরা তার কাছে যান, ব্রিটিশ উচ্চারণ শুনে দ্রুত তিনি শহরের গভীরে মিলিয়ে যান।

 

শামীমা বেগম, যার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে তিনি এখন মিডিয়াকে এড়িয়ে চলা শিখে ফেলেছেন। আশ্রয় শিবিরে নিজের নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। তবে তার পরিস্থিতি এখন কিছুটা পরিবর্তনের দিকে। উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় গত সপ্তাহে সামরিক অভিযানের ফলে কুর্দি কর্তৃপক্ষের দখলকৃত এলাকা সরকারী বাহিনীর হাতে চলে গিয়েছে। প্রায় ৮০% কুর্দি দখলকৃত এলাকা দ্রুত হাত বদল হয়েছে।

রোজ শিবিরে ২,০০০-এরও বেশি বিদেশী আইএস নারী ও শিশু রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৫ জন ব্রিটিশ বা দ্বৈত নাগরিক নারী। হোল নামক আশ্রয় শিবিরের পতনের পর বহু আইএস সমর্থক বিশৃঙ্খলার সুযোগে পালিয়েছে বলে জানা যায়। যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৭,০০০ পুরুষ বন্দীকে ইরাকে স্থানান্তরের চেষ্টা করছে।

শিবিরের প্রবেশদ্বার ও বাজারের অংশগুলো এখন শুনশান। রোজ শিবিরের কুর্দি ব্যবস্থাপক হেকেমিয়া ইব্রাহিম জানান, “যে নারীরা আগে খুব দৃশ্যমান ছিল, তারা এখন কম দেখা যায়। শামীমা বেগমও তাদের মধ্যে, ধীরে ধীরে সময় কাটাচ্ছে এবং ভাগ্যের পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছেন।” তিনি আরও বলেন, “নারীদের ব্যাগ ইতিমধ্যেই প্যাক করা আছে এবং অনেকেই বিদেশী সমর্থকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

এক ব্রিটিশ নারী, যিনি শামীমা বেগমের পাশে ছিলেন তিনি দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, “আমাদের বড় ভুল হয়েছে। আমরা যে কোনো ফলাফল ভোগ করতে প্রস্তুত।”

মিসরীয় নারী উম্ম হামজা বলেন, “শিবিরের সবচেয়ে বিপজ্জনক নারীরা লুকিয়ে থাকে। কারণ মুখ ঢেকে না রাখলে আক্রমণ হতে পারে।”
এখনও রোজ শিবির কুর্দদের সব-মহিলা Women’s Protection Units (YPJ) দ্বারা সুরক্ষিত। তবে শিবিরের কিছু স্থানে আইএস পতাকা দেখা যায়, যেখানে লেখা আছে “আমরা আবার ফিরে আসব।”

কুর্দি কর্মকর্তা সারা ডেরিক জানান, হোল শিবিরের পতনের পর নারীদের মধ্যে মুক্তির আশা আরও জোরদার হয়েছে। সরকারী বাহিনী এগিয়ে গেলে স্থানীয় উপজাতীয় যোদ্ধারা কুর্দ নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায় এবং শিবিরের ভিতরে বিদ্রোহ ঘটায়।

যুক্তরাজ্য গত বছরে কিছু নাগরিককে রোজ শিবির থেকে ফিরিয়েছে। তবে এখন অনেক বন্দী প্রত্যাবর্তন করতে অস্বীকার করছে এবং আল-শারার বাহিনী দ্বারা মুক্তির আশা করছে। হেকেমিয়া ইব্রাহিম বলেন, “নারীরা বলছে, ‘আমরা আল্লাহ’র উপর অবিশ্বাসী যারা তাদের দেশে ফিরব না। আমাদের স্বামী আল-শারার সঙ্গে আছে।’”

রোজ শিবিরের সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং ভৌগোলিক পরিবর্তন নারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করছে। শিবিরে বন্দীদের মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে যে, আইএস আবার শক্তিশালী হবে এবং খিলাফত পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংল্যান্ডের স্কুলে ফোন নিষিদ্ধঃ ব্যবহার করা যাবে না ক্যালকুলেটর হিসাবেও

ইংল্যান্ডের স্কুলগুলোতে পুরো দিনের জন্য মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ রাখা উচিত বলে প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা সচিব ব্রিজেট ফিলিপসন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীরা ফোন ব্যবহার করতে পারবে না, এমনকি গণিতের ক্যালকুলেটর বা গবেষণার জন্যও নয়।

ফিলিপসন সরকারি আপডেটেড নির্দেশনার প্রতি স্কুলগুলোকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য চিঠি লিখেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “স্কুলগুলো নিশ্চিত করবে যে এই নীতি সব ক্লাসে এবং সব সময় সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, এবং আমরা চাই পিতামাতারাও এই নীতির সমর্থন করবেন।” শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের সামনে ফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্কুল পর্যবেক্ষক অফসটেড এই নীতি কিভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে তা পরীক্ষা করবে। পাশাপাশি, বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি দপ্তর (DSIT) শিশুদের সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। আপডেটেড নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের “পাঠের সময়, বিরতি, মধ্যাহ্নভোজনের সময় বা ক্লাসের মধ্যে ফোন ব্যবহার করার অনুমতি থাকবে না।”

DSIT-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৯.৯% এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯০% ইতিমধ্যেই মোবাইল ফোন নীতিমালা কার্যকর করেছে। তবে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৫৮% শিক্ষার্থী বলেছেন, কিছু ক্লাসে অনুমতি ছাড়াই ফোন ব্যবহার করা হয়, যা চতুর্থ ধাপের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ হেড টিচার্স-এর সাধারণ সম্পাদক পল হোয়াইটম্যান বলেন, “স্কুল নেতাদের সরকার থেকে সমর্থন প্রয়োজন, কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার হুমকি নয়।”

মন্ত্রীরা যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার মতো সামাজিক মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা প্রবর্তনের বিষয়েও পরামর্শ নিচ্ছেন।

গত সপ্তাহে হাউস অফ লর্ডস কনজারভেটিভ নেতৃত্বাধীন একটি সংশোধনীকে সমর্থন দিয়েছে, যা শিশুদের কল্যাণ ও স্কুল বিলের অংশ হিসেবে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করেছিল। যদিও সরকার তা সমর্থন করে নাই। প্রধানমন্ত্রীর উপর এখন দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ বেড়েছে, তবে জানা গেছে কিয়ার স্টার্মার অস্ট্রেলিয়ার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে চান।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

৬০ বছর ব্রিটেনে থাকার পরও হোমলেসঃ উইন্ডরাশ প্রজন্মের জর্জ ক্যাম্পবেলের সংগ্রাম

লন্ডনের পূর্বাঞ্চলে ৬৯ বছর বয়সী জর্জ ক্যাম্পবেল কয়েক মাস ধরে হোমলেস জীবনযাপন করছেন, যদিও তিনি ৬০ বছর আগে বৈধভাবে ব্রিটেনে এসেছিলেন। গত বছর হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর তার নিজস্ব বাসস্থান ছিল না, ফলে তাকে খাদ্য ব্যাংক এবং বাস স্টেশনে থাকার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

কাউন্সিল কর্মকর্তারা তাকে রাষ্ট্রীয় হোমলেসনেস সহায়তার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করেন, কারণ তার কাছে বৈধভাবে ব্রিটেনে থাকার প্রমাণপত্র ছিল না। অক্টোবরের প্রথম দিকে হোম অফিসের উইন্ডরাশ টিমকে তার পরিস্থিতি জানানো হলেও, তাকে বৈধ প্রমাণপত্র দেওয়া পর্যন্ত মাস কয়েক লেগে যায়। বর্তমানে তিনি একটি নাইট শেল্টারে থাকছেন, আর তার রাষ্ট্রপেনশন আবেদনও এখনও প্রত্যাখ্যাত রয়েছে।

জর্জ ক্যাম্পবেল ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি জ্যামাইকায় জন্মগ্রহণ করে শিশু অবস্থায় ব্রিটেনে এসেছিলেন, তার মায়ের সঙ্গে যোগ দিতে। বড় হয়ে তিনি কখনো পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেননি, কারণ বিদেশে ভ্রমণ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তিনি সারাজীবন কাজ করেছেন, কর দিয়েছেন, তবুও হঠাৎ করেই সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।

২০১৭ সালে উইন্ডরাশ স্ক্যান্ডাল প্রকাশিত হলে, অনেক মানুষকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে ভুলভাবে চিহ্নিত করা হয়। জর্জের মতো অনেক নাগরিক সেই নীতির শিকার হয়েছেন, যারা পেনশন, হাউজিং বা স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য আবেদন করার সময় তাদের বৈধতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন।

হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর, তার বান্ধবী তাকে দেখাশোনা করতে সক্ষম ছিলেন না। কয়েক সপ্তাহ হোটেলে থাকার পর অর্থ শেষ হওয়ায়, তিনি ওয়ালথামস্টো বাস স্টেশনে ঘুমাতে বাধ্য হন। সারাজীবন তিনি বিভিন্ন পেশায় কাজ করেছেন—পেইন্টার, ট্রাক ড্রাইভার, মিনি ক্যাব ড্রাইভার, নির্মাণ শ্রমিক—এবং কখনো রাষ্ট্রের উপর নির্ভর করেননি।

স্থানীয় চ্যারিটি ও ব্যক্তিরা তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে লাইব্রেরির কাউন্সিল কর্মী জুয়ানিতা খাদ্য ভাউচার এবং অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থা করেছেন। এমপি স্টেলা ক্রিসি তার মামলা দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করেছেন, তবে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হয়েছে।

একজন দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কেসওয়ার্কার তাকে উইন্ডরাশ স্কিমের অধীনে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে সাহায্য করেছেন, যা এখনও মঞ্জুর হয়নি। তবে তিনি এই মাসের শুরুতে আই,এল,আর (অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য থাকার অনুমতি) পেয়েছেন।

উইন্ডরাশ কমিশনার রেভ ক্লাইভ ফস্টার বলেন, “যারা ছয় দশক ধরে এখানে বসবাস করছেন, তাদের পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত। হোম অফিসকে ঝুঁকিপূর্ণ ও বয়স্ক আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।”

চ্যারিটি এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা বর্তমানে তার হোমলেসনেস মূল্যায়ন করে উপযুক্ত হাউজিং বিকল্প নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন বলে তথ্যমতে জানা যায়।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রকে পারমাণবিক তথ্য ফাঁসের অভিযোগ চীনের শীর্ষ জেনারেলের উপর

চীনের শীর্ষ জেনারেল ঝাং ইউসিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে দেশীয় পারমাণবিক অস্ত্র প্রোগ্রামের গোপন তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েছেন। এটি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেখানে বেনামী সূত্রের বরাতে উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিংয়ের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

৭৫ বছর বয়সী ঝাংয়ের বিরুদ্ধে সরকারি পদে ঘুষ নেওয়া, রাজনৈতিক গোষ্ঠী গঠন এবং সামরিক সিদ্ধান্তে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে। বিশেষভাবে বলা হচ্ছে, তিনি একজন কর্মকর্তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পদে উন্নীত করার বিনিময়ে বড় পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেছেন।
চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে ঝাংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অনুসন্ধান ঝাংয়ের সামরিক ক্ষমতার তত্ত্বাবধানে থাকা সংস্থা, যা সামরিক হার্ডওয়্যারের গবেষণা, উন্নয়ন এবং ক্রয় দেখাশোনা করে, তার কাজকর্মও পর্যবেক্ষণ করছে।

লিউ জেনলি, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় মিলিটারী কমিশনের একজন সদস্য, তার বিরুদ্ধেও “গুরুতর শৃঙ্খলা ও আইনের লঙ্ঘন” অভিযোগে তদন্ত চলছে। উভয় জেনারেলই ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে ভিয়েতনামের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতে অংশ নিয়েছিলেন, যা চীনের সাম্প্রতিক শেষ যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত।

এই অভিযান চীনের সেনাবাহিনীতে শীর্ষ স্তরের শক্তিশালী শুদ্ধি অভিযানকে আরও বিস্তৃত করেছে। এটি শি জিনপিংয়ের ক্ষমতাধর ঘনিষ্ঠ সহযোগীর প্রথমবারের মতো খোঁজ, যা তার ২০২৩ সালে শুরু করা সেনাবাহিনীর দুর্নীতি দূরীকরণ অভিযানের ধারাবাহিক পদক্ষেপ। অভিযানের ফলে ইতিমধ্যেই দুইজন সহ-সেনা চেয়ারম্যান, তিনজন সিএমসি সদস্য, একজন প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং একাধিক সিনিয়র জেনারেল বরখাস্ত হয়েছেন।

এই তদন্ত চীনের সামরিক ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতায় গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র দুর্নীতি উৎপাটনের অংশ নয়, বরং শি জিনপিংয়ের সেনাবাহিনীতে নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপও।

সূত্রঃ ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইরানে হামলা চালাতে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আরব আমিরাত

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালাতে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বিবৃতিতে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক সামরিক কার্যক্রমে নিজেদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমনকি ইরানে কোনো হামলায় লজিস্টিক সহায়তাও দেবে না আমিরাত। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপের পাশাপাশি উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানই সর্বোত্তম উপায় বলে জানিয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ।

অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি তা ব্যাপক আকার ধারণ করে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) ইরানে সাম্প্রতি বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা ধর্মীয় নেতৃত্ব নজিরবিহীন ওই বিক্ষোভ দমনের পর এখনো টিকে আছে। দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরোধিতাকারী অনেকে পরিবর্তনের সবচেয়ে সম্ভাব্য পথ হিসেবে এখনও বাইরের হস্তক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে জোর দিয়ে বলেছেন, সেটি এখনো একটি বিকল্প।

দেশটির রাজধানী আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য অবস্থান করছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনার একটি আমিরাতের এই ঘাঁটি।

এর আগে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, একটি মার্কিন ‘নৌবহর’ উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর ইরানের পরিস্থিতির ওপর ওয়াশিংটন ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

বাংলাদেশি সব সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করলো আইসিসি

ভারতে গিয়ে খেলতে না চাওয়ায় এরই মধ্যে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। পরিবর্তে আইসিসি অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে স্কটল্যান্ডকে।

এবার নতুন খবর হচ্ছে, আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ কাভার করতে বাংলাদেশ থেকে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের জন্য যে সব সাংবাদিক আবেদন করেছিলেন আইসিসিতে, সবার আবেদনই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। অর্থাৎ এবার বাংলাদেশ থেকে কোনো সাংবাদিকই যেতে পারছেন না টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য।
পূর্বতন সূচি অনুসারে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের ৩টি ম্যাচ ছিল কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ ছিল মুম্বাইয়ে। বাংলাদেশের ম্যাচসহ পুরো বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য আইসিসি নির্ধারিত ফর্ম ও বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে আবেদন করেছিলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকরা।

বাংলাদেশ খেলতে যাক কিংবা না যাক, বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিকের ভারত এবং শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল।

১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সর্বপ্রথম বিশ্বকাপ খেলার সময় থেকে শুরু প্রতিটি আসরেই (ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি) উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতি ছিল। শুধু তাই নয়, ১৯৯৯ বিশ্বকাপের আগেও, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উপস্থিতি ছিল না, তখনও অনেকগুলো বিশ্বকাপ আসর কাভার করার অভিজ্ঞতা ছিল বাংলাদেশের সাংবাদিকদের। ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে এদেশের মানুষের তুমুল আগ্রহ বিশ্বকাপ নিয়ে। এ কারণে প্রায় প্রতিটি মিডিয়া হাউসই বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য সাংবাদিক প্রেরণ করে।

আইসিসির এমন সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিবাদ এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা। সেইসঙ্গে দেশের সর্বমহল থেকে প্রতিবাদ জানানোরও আহব্বান জানিয়েছেন তারা।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে চাকরির বাইরে ৭ লাখের বেশি স্নাতক ডিগ্রিধারী

যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি অর্জন করেও ক্রমবর্ধমান সংখ্যক স্নাতক এখন কর্মহীন অবস্থায় সরকারি কল্যাণভাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। একটি থিঙ্ক ট্যাংকের নতুন বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৪ সালে দেশটিতে ৭ লাখেরও বেশি স্নাতক চাকরি না করে এক বা একাধিক সরকারি ভাতা দাবি করেছেন, যা ২০১৯ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
কনজারভেটিভ এমপি স্যার ইয়ান ডানকান স্মিথ প্রতিষ্ঠিত সেন্টার ফর সোশ্যাল জাস্টিস (CSJ) জানিয়েছে, কর্মহীন এই স্নাতকদের মধ্যে প্রায় ৪ লাখ ইউনিভার্সাল ক্রেডিট পাচ্ছেন। ইউনিভার্সাল ক্রেডিট মূলত স্বল্প আয়ের, কর্মহীন বা কাজ করতে অক্ষম কর্মক্ষম বয়সী মানুষের জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে দেওয়া হয়।

CSJ–এর বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে উদ্বেগজনক একটি দিক—এই কর্মহীন স্নাতকদের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ব্যক্তি স্বাস্থ্যগত কারণে কাজ করতে পারছেন না। ২০১৯ সালে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার, সেখানে মাত্র পাঁচ বছরে তা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। থিঙ্ক ট্যাংকটি বলছে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সংকট এই প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের লেবার ফোর্স সার্ভে এবং ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস–এর তথ্য ব্যবহার করে CSJ দেখিয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কর্মহীন ও ভাতাভোগী স্নাতকের সংখ্যা ২ লাখের বেশি বেড়েছে, যা প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি।

বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো তরুণ প্রজন্ম। CSJ জানিয়েছে, বর্তমানে ৩০ বছরের নিচে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার স্নাতক কোনো চাকরি না করেই অন্তত একটি সরকারি ভাতা দাবি করছেন। যদিও সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইংল্যান্ডে কর্মক্ষম বয়সী স্নাতকদের ৮৮ শতাংশ কর্মরত, তবুও এই বড় একটি অংশ শ্রমবাজারের বাইরে রয়ে গেছে।

স্যার ইয়ান ডানকান স্মিথ এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। তার মতে, শিক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীল, ফলে কারিগরি শিক্ষা ও বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা অর্জন উপেক্ষিত হয়েছে। তিনি বলেন, পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় অনেক স্নাতক কর্মহীন হয়ে পড়ছেন।

CSJ–এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রিটেনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র প্রতি তিনজনের একজন কোনো না কোনো কারিগরি বা ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ পান। বিপরীতে, লেভেল–৪ অ্যাপ্রেন্টিসশিপ সম্পন্নকারীরা পাঁচ বছর পর গড়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার পাউন্ড বেশি আয় করেন, যা দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে।

CSJ–এর সিনিয়র গবেষক ড্যানিয়েল লিলি বলেন, তরুণদের এমন সুযোগ দিতে হবে যাতে তারা বাস্তব দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে সফল হতে পারে এবং একই সঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতগুলো প্রয়োজনীয় দেশীয় জনশক্তি পায়।

এদিকে সরকার দাবি করেছে, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সরকারি এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাজ্যে স্নাতকদের কর্মবাজার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার হার বর্তমানে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। তবে তরুণদের আরও বেশি কাজে যুক্ত করতে সরকার নতুন ‘জবস গ্যারান্টি’ কর্মসূচি চালু করেছে, যেখানে E.ON, JD Sports, Tesco ও TUI–এর মতো বড় প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণের অঙ্গীকার করেছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, ১.৫ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের মাধ্যমে লক্ষাধিক তরুণকে কাজ বা প্রশিক্ষণে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রসারণ অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি, তরুণ প্রজন্মকে কী কারণে পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালান মিলবার্নের নেতৃত্বে একটি পর্যালোচনা কমিশন গঠন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি নয়, বরং চাকরিবাজার-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা ও স্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করা এখন যুক্তরাজ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

নির্বাচন উপলক্ষে ৩ দিনের ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

 

একই সঙ্গে, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বুধ ও বৃহস্পতিবার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস-প্রতিষ্ঠান বা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোট গ্রহণের সুবিধার্থে সারাদেশে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক, কর্মচারীদের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হলো।

সূত্রঃ প্রেস উইং

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

কনজারভেটিভ ছেড়ে রিফর্ম ইউকে-তে সুয়েলা ব্রাভারম্যানঃ ১১ দিনে তৃতীয় টোরি এমপির দলত্যাগ

সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব সুয়েলা ব্রাভারম্যান কনজারভেটিভ পার্টি ছেড়ে নাইজেল ফ্যারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে-তে যোগ দিয়েছেন। এর ফলে মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে তিনি তৃতীয় বর্তমান কনজারভেটিভ এমপি, যিনি দলটি ছেড়ে রিফর্ম ইউকে-তে গেলেন। ব্রাভারম্যানের যোগদানে রিফর্ম ইউকের সংসদ সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল আটে।

 

লন্ডনে আয়োজিত এক সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তার দলবদলের ঘোষণা দেন নাইজেল ফ্যারাজ। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ব্রাভারম্যান জানান, তিনি কনজারভেটিভ পার্টির সঙ্গে তার প্রায় ৩০ বছরের সম্পর্কও ছিন্ন করেছেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হচ্ছে আমি ঘরে ফিরে এসেছি,”—যা রিফর্ম সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।

তার এই সিদ্ধান্ত আসে রবার্ট জেনরিক ও অ্যান্ড্রু রোজিনডেলের দলত্যাগের পরপরই। চলতি মাসের শুরুতেই তারাও কনজারভেটিভ পার্টি ছেড়ে রিফর্ম ইউকে-তে যোগ দেন। সাম্প্রতিক এই দলবদলগুলো ব্রিটিশ ডানপন্থী রাজনীতিতে কনজারভেটিভ পার্টির ভেতরের ভাঙনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

২০১৫ সাল থেকে এমপি থাকা সুয়েলা ব্রাভারম্যান বরিস জনসনের সরকারে অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে লিজ ট্রাসের অধীনে স্বরাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই ব্যক্তিগত ইমেইল ব্যবহার করে সরকারি নথি পাঠানোর অভিযোগে তাকে পদত্যাগ করতে হয়। পরে রিশি সুনাক প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মাত্র ছয় দিনের মাথায় তাকে আবার স্বরাষ্ট্রসচিব পদে ফিরিয়ে আনেন।

কিন্তু ২০২৩ সালে লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে লেখা একটি নিবন্ধের জেরে সুনাক তাকে বরখাস্ত করেন। সেই ঘটনার পর থেকেই কনজারভেটিভ নেতৃত্বের সঙ্গে তার দূরত্ব আরও প্রকাশ্য হয়ে ওঠে।

রিফর্ম ইউকের সমাবেশে বক্তৃতায় ব্রাভারম্যান বলেন, ব্রিটেন এখন “ভেঙে পড়েছে” এবং অভিবাসন পরিস্থিতি “নিয়ন্ত্রণের বাইরে”। তিনি দাবি করেন, দেশটি ‘নিয়ন্ত্রিত অবক্ষয়’-এর পথে এগোচ্ছে। তার ভাষায়, “আমরা চাইলে দুর্বলতা ও আত্মসমর্পণের পথে এগোতে পারি, অথবা আমাদের দেশকে ঠিক করে শক্তি ও ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করতে পারি।”

কনজারভেটিভ পার্টি তার দলত্যাগকে প্রত্যাশিত বলেই উল্লেখ করেছে। দলটির এক মুখপাত্র বলেন, “সুয়েলার দলত্যাগ প্রশ্ন ছিল কখন, হবে কি না তা নয়।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্রাভারম্যান ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুখপাত্র স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২২ সালে কনজারভেটিভ নেতৃত্ব নির্বাচনে তিনি ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছিলেন এবং ২০২৪ সালে ব্যালটে উঠার মতো সমর্থনও পাননি।

এই দলত্যাগ নিয়ে বিরোধী দলগুলোও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। লেবার পার্টির চেয়ার আনা টারলি বলেন, “নাইজেল ফ্যারাজ তার দলকে সেই ব্যর্থ টোরিদের দিয়ে ভরিয়ে তুলছেন, যারা ১৪ বছর ধরে ব্রিটেনকে বিশৃঙ্খলা ও স্থবিরতার মধ্যে আটকে রেখেছিল।” লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের উপনেতা ডেইজি কুপার বলেন, রিফর্ম ইউকে ‘নির্বাচিত স্মৃতিভ্রষ্টতায় ভোগা’ সাবেক মন্ত্রীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে।

বর্তমানে চারজন বর্তমান কনজারভেটিভ এমপি এবং সাধারণ নির্বাচনের পর প্রায় ২০ জন সাবেক টোরি এমপি রিফর্ম ইউকে-তে যোগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা ব্রিটিশ ডানপন্থী রাজনীতিতে নতুন শক্তির সমীকরণ তৈরি করতে পারে এবং কনজারভেটিভ পার্টির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে