Categories
আন্তর্জাতিক

অদ্ভুত শুল্কনীতি, আর তার প্রতীক ‘উদাসীন পেঙ্গুইন’: ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন মিম ট্রেন্ড

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শুল্কনীতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা ও ব্যঙ্গের ঢেউ উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এই ব্যঙ্গের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি অপ্রত্যাশিত প্রতীক—‘নিহিলিস্ট পেঙ্গুইন’। জনমানবশূন্য দ্বীপে থাকা পেঙ্গুইনের ওপর শুল্ক আরোপের প্রসঙ্গকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই মিম বর্তমানে টুইটার (এক্স), ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

ট্রেন্ডটির সূচনা হয় ট্রাম্পের অস্ট্রেলিয়ার অধীনস্থ একটি জনমানবশূন্য দ্বীপের ওপর শুল্ক আরোপের প্রসঙ্গ সামনে আসার পর। ওই দ্বীপে মানুষের বসবাস না থাকলেও সেখানে বিপুল সংখ্যক পেঙ্গুইনের আবাস রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে—শুল্ক আদায় হবে কার কাছ থেকে? এর জবাব হিসেবে ব্যঙ্গাত্মক মিমে পেঙ্গুইনদেরই ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

এই ট্রেন্ডে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রতীক হলো ‘নিহিলিস্ট পেঙ্গুইন’ মিম। এর উৎস ২০০৭ সালের একটি তথ্যচিত্র, যেখানে একটি পেঙ্গুইন দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা বরফে ঢাকা পাহাড়ের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের জীবনের উদাসীনতা, রাজনৈতিক হতাশা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রতিক্রিয়ায় এই পেঙ্গুইন মিম নতুন মাত্রা পেয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী পেঙ্গুইনের মুখে কল্পিত সংলাপ বসিয়ে দেখাচ্ছেন—যেন সে জানেই না কেন তার ওপর শুল্ক বসানো হয়েছে। এতে করে ট্রাম্পের নীতিকে ‘যুক্তিহীন’ ও ‘অবাস্তব’ বলে বিদ্রূপ করা হচ্ছে।

এই ব্যঙ্গচিত্রের জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছে যে আলোচনায় এসেছে হোয়াইট হাউসের নামও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে পেঙ্গুইনের সঙ্গে হাঁটছেন—এমন একটি ট্রাম্পের এআই-জেনারেটেড ছবি ভাইরাল হয়, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। অনেকেই একে রাজনৈতিক যোগাযোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ‘নিহিলিস্ট পেঙ্গুইন’ শুধু একটি মিম নয়; এটি ট্রাম্পের অদ্ভুত ও বিতর্কিত শুল্কনীতির বিরুদ্ধে জনমতের একটি সাংস্কৃতিক প্রতিক্রিয়া। হাস্যরসের আড়ালে এই ট্রেন্ড মূলত নীতিনির্ধারণের যুক্তিহীনতা এবং বৈশ্বিক রাজনীতির অদ্ভুত বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিয়েছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

পুরো বিশ্বকাপ বয়কট নয়, বাংলাদেশকে সমর্থনে পিসিবির ভাবনায় ৩ বিকল্প

বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে একাধিক প্রতিবাদী বিকল্প বিবেচনা করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে আচরণ নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে টুর্নামেন্টে থেকেও কীভাবে প্রতিবাদ জানানো যায়, তা নিয়ে ভেতরে ভেতরে আলোচনা চলছে।

 

প্রতিবেদন বলা হয়েছে, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি বোর্ড কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাবেক ক্রিকেটারদের সঙ্গেও এ বিষয়ে পরামর্শ করেছেন। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)–সংক্রান্ত এক কর্মশালাতেও এই আলোচনা হয়, যেখানে নাকভি বাংলাদেশের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন।

সূত্রের দাবি, নাকভি বৈঠকে বলেন, বাংলাদেশকে ‘অপমান করা হয়েছে’ এবং এই পরিস্থিতিতে তাদের একা ফেলে দেওয়া উচিত নয়; এটাই পিসিবির অবস্থান।

প্রতিবেদনে পিসিবির ৩টি বিকল্পের কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে-

প্রথম বিকল্প: বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা কালো বাহুবন্ধনী (ব্ল্যাক আর্মব্যান্ড) পরে মাঠে নামতে পারেন।

দ্বিতীয় বিকল্প: ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান দল। সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আচরণকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

তৃতীয় বিকল্প: টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান যে ম্যাচগুলো জিতবে, সেগুলো বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের উদ্দেশে উৎসর্গ করা হতে পারে।

সূত্রঃ সামা টিভি

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

অস্ট্রেলিয়ায় যাননি, দেশেই আছেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট বুলবুল

রিটার্ন টিকিট না কেটেই মধ্যরাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েছেন বুলবুল-এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর অবশেষে দেখা মিললো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ গণমাধ্যম।

 

এর আগে দেশ ত্যাগের তথ্য সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, তখন তিনি সেসব প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে বলেছিলেন, বিসিবিতে কাজের চাপ থাকায় তিনি কোথাও যাচ্ছেন না।

রোববার গণমাধ্যমের সঙ্গে ফোনালাপে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমি সারাদিন আজকে অফিসে কাজ করেছি, ইনশাআল্লাহ কালকেও কাজ করব। এখন অনেক কাজের চাপ। পরিবারের কাছে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। এই মুহূর্তে আমি কোথাও যাচ্ছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডে আমার বেশ কিছু কাজ আছে। সেগুলো করছি। আমি জানি না, কোথা থেকে এসব নিউজ আসে। ফলস নিউজ আমাদের সবার কাজের গতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করে।’

তবে বিমানবন্দর সূত্রের বরাতে ওই বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি দেশ ছাড়ার দাবি করে সংবাদমাধ্যম ডেইলি সান জানায়, হ্যাঁ, তিনি আজ রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি সাধারণত দুই সপ্তাহের জন্য অস্ট্রেলিয়া যান, এবারও তেমনটাই হতে পারে।

সম্প্রতি দেশের ক্রিকেটাঙ্গন একাধিক ইস্যুতে অস্থির সময় পার করছে। বিশ্বকাপ সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরেই উত্তপ্ত ছিল ক্রিকেটপাড়া। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভারতে খেলতে না যাওয়ার অবস্থান নেওয়ায় বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণা দেয় আইসিসি।

এর পাশাপাশি সদ্য সমাপ্ত বিপিএলে এক বিসিবি পরিচালকের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। গত পরশু পদত্যাগ করেছেন আরেক পরিচালক। আরও দুজন শিগগির পদত্যাগপত্র দিতে পারেন-এমন গুঞ্জনও রয়েছে। সব মিলিয়ে ক্রিকেট প্রশাসনে এখন টালমাটাল অবস্থা।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান সরে যেতে পারে বিশ্বকাপ হতে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিকে আইসিসির বৈষম্যমূলক ও অন্যায় আচরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারাও বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তা করছে।

এজন্য আজ (সোমবার) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবে ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও নিউজ সরকারের উচ্চপদস্থ এক সূত্রের মাধ্যমে জেনেছে, ফেডারেল সরকার ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের জন্য পিসিবিকে দল পাঠানোর অনুমতি হয়তো দেবে না। বাংলাদেশের সঙ্গে করা আচরণকে আইসিসির দ্বিচারিতা হিসেবে অভিহিত করছে তারা।

মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তারা ম্যাচগুলো আরেক দেশ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল আইসিসিকে।

যদিও বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা খুঁজে না পাওয়ায় বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত পাল্টাতে বলেছিল। নয়তো বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার হুমকিও পেয়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিল। শেষ পর্যন্ত তাদেরকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দিয়েছে ক্রিকেটের শীর্ষ সংস্থা।

এই পুরোটা সময়ে পাকিস্তান বাংলাদেশের পাশে ছিল। সবশেষ বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভি জানান, তারাও বিশ্বকাপ বয়কটের চিন্তাভাবনা করছে, সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। আজ প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পিসিবি প্রধান ইসলামাবাদে বৈঠক করবেন।

এক উর্ধ্বতন সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু যতটুকু ইঙ্গিত মিলেছে, তাতে করে সরকার সম্ভবত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা শুধু ক্রিকেটের ব্যাপার না, নীতির ব্যাপার। বাংলাদেশকে তাদের বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আইসিসির বিমাতাসুলভ আচরণে পাকিস্তান তাদের অংশগ্রহণের ব্যাপারটি গুরুত্ব দিয়ে পুনর্বিবেচনা করছে।’

সূত্রটি আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, ক্রীড়া প্রশাসন কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের পছন্দের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না।

তার কথা, ‘আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে দ্বিমুখী নীতি থাকতে পারে না। একদিকে ভারত যখন ইচ্ছামতো ভেন্যু বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা ভোগ করে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো নিরাপত্তার উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও ভেন্যু পরিবর্তনের সুযোগ পায় না। আইসিসি যদি সত্যিই ক্রিকেটকে একটি বৈশ্বিক খেলা হিসেবে বিকশিত করতে চায়, তবে এই ধরনের বৈষম্যমূলক নীতি বন্ধ করতে হবে।’

এদিকে, পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা পিসিবি চেয়ারম্যানের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। লাহোরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে খেলোয়াড়রা সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন যে, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা নাম প্রত্যাহারের বিষয়টি কঠোরভাবে ফেডারেল সরকারের অবস্থানের সঙ্গে সংগতি রেখে নেওয়া হবে।

 

ক্রিকেট বিশ্ব যখন গভীর মনোযোগের সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে, তখন পাকিস্তানের সম্ভাব্য নাম প্রত্যাহার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। যা ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়ে প্রশাসন, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে।

সূত্রঃ জিও নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় কট্টর ডানপন্থী মিছিল ঠেকাতে পুলিশের কড়াকড়ি

হেইট ক্রাইম নিয়ে গুরুতর আশঙ্কার কারণে লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকা দিয়ে কট্টর ডানপন্থী দল ইউকিপ (UKIP)-এর মিছিল করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের পেছনে স্থানীয় জনগণের প্রতিক্রিয়াসহ সম্ভাব্য ব্যাপক সহিংসতার ঝুঁকি কাজ করেছে।

মেট পুলিশ জানায়, ৩১ জানুয়ারি গণহারে যুক্তরাজ্য হতে বহিষ্কারের দাবিতে ইউকিপ যে মিছিলের ডাক দিয়েছে, সেটি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি। বরং জননিরাপত্তার স্বার্থে টাওয়ার হ্যামলেটসের পরিবর্তে লন্ডনের অন্য কোনো এলাকায় আয়োজন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এটি একটি নিরাপত্তাভিত্তিক সিদ্ধান্ত, কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নয়।

মেটের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জেমস হারম্যান বলেন, জনশৃঙ্খলা আইন অনুযায়ী গুরুতর বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার আশঙ্কা থাকলে পুলিশ শর্ত আরোপ করতে পারে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে কর্মসূচি চালু রাখা হলে তা কমিউনিটির সদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।

হারম্যান আরও জানান, পুলিশের ঝুঁকি মূল্যায়নে সবচেয়ে বড় বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে টাওয়ার হ্যামলেটসের স্থানীয় জনগণের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া। তার ভাষায়, বিক্ষোভের ধরন, অবস্থান, অংশগ্রহণকারীদের আচরণ, অতীত অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট কমিউনিটিগুলোর আশঙ্কা—সবকিছু মিলিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস একটি বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা, যেখানে বর্ণবাদী হামলার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। একই সঙ্গে এসব হামলার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে ওঠার নজিরও রয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ আশঙ্কা করছে, ইউকিপের মতো কট্টর ডানপন্থী দলের মিছিল এলাকায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে গত নভেম্বরে বার্মিংহামে ম্যাকাবি তেল আবিবের ফুটবল সমর্থকদের নিষিদ্ধ করার বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ওই ঘটনায় সহিংসতার আশঙ্কায় নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ, এমনকি প্রধান কনস্টেবল ক্রেইগ গিল্ডফোর্ডকে পদত্যাগও করতে হয়।

তবে জেমস হারম্যান স্পষ্ট করে বলেন, ইউকিপের মিছিলের বিষয়টি আলাদা। এটি কোনো পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং নিরাপদ স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ। তার মতে, যেখানে গুরুতর বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই, সেখানে ইউকিপ তাদের কর্মসূচি পালন করতে পারবে।

মেট জানায়, পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে কেউ টাওয়ার হ্যামলেটসে ইউকিপের মিছিলে অংশ নিলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে একই এলাকায় ইউকিপের পরিকল্পিত একটি কর্মসূচিও একই কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

মেটের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক নানা ইস্যুতে বিক্ষোভের সংখ্যা ও জটিলতা বেড়েছে। গত দুই বছরে ৮৮৪টি বিক্ষোভে নিরাপত্তা দিতে গিয়ে পুলিশকে প্রায় ৭৬ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করতে হয়েছে। এর আগেও, ২০১১ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব থেরেসা মে সহিংসতার আশঙ্কায় টাওয়ার হ্যামলেটস দিয়ে ইংলিশ ডিফেন্স লিগের একটি মিছিল নিষিদ্ধ করেছিলেন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা বিশ্বকাপ বর্জন করলেন জাতীয় স্বার্থে

বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ থেকে বর্জনের পর, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকত ঘোষণা করেছেন যে তিনি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আম্পায়ারিং করবেন না। এই সিদ্ধান্ত তার দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

 

শরফুদ্দৌলা বলেন, “যখন আমাদের নিজস্ব দলকে বিশ্বকাপ থেকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, আম্পায়ার হিসেবে আমি মাঠে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু আমাদের দলের সাথে অবিচার ঘটলে, আমি সেখানকার আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে পারি না।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশের চেয়ে বড় কিছু নেই। জাতির সম্মানের সঙ্গে আপস করা আমি কখনোই করতে পারি না। কোটি কোটি ডলারের প্রস্তাব এলে তবুও আমি তা প্রত্যাখ্যান করব। কারণ এই দেশ আমাকে আমার পরিচয় দিয়েছে, এখন এই মাটির ঋণ শোধ করার সময়।”

বিশ্ব ক্রিকেট মহলে এই পদক্ষেপকে একজন দেশের প্রতি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রলোভনেও নৈতিক অবস্থান বজায় রাখা বিরল উদাহরণ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং ভক্তরা শরফুদ্দৌলার এই সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, বিশেষ করে যখন দলীয় খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ থেকে অবিচারের শিকার হয়েছেন।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

আইসিসির দ্বিমুখী নীতির আসল চেহারা উন্মোচন করলো উইজডেন

নিরাপত্তা শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

অথচ গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের জন্য ভারতের করা একই ধরনের অনুরোধ ঠিকই রেখেছিল আইসিসি। আর দুই ঘটনাকে সামনে রেখে বিখ্যাত ক্রিকেট ম্যাগাজিন উইজডেন প্রশ্ন তুলেছে, এটি কি আইসিসির ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ নয়?

উল্লেখ্য, কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে গত ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় বিসিসিআই। ওই ঘটনার পরই নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে ভারতে থেকে বিশ্বকাপ ভেন্যু পরিবর্তনের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটার, স্টাফ, ফ্যান ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আইসিসিকে ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয় বিসিবি।

কিন্তু ভারতীয় জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আমলে নিতে রাজি হয়নি। বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই খেলতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেয় আইসিসি। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় আইসিসি বদলি হিসেবে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। টুর্নামেন্টটি এককভাবে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ভারত জানিয়ে দেয়, তারা পাকিস্তানে সফর করবে না। নিজেদের ম্যাচের জন্য নিরপেক্ষ ভেন্যুর দাবি তুলেছিল দেশটি। দীর্ঘ আলোচনার পর সে দাবি মেনে নেয় আইসিসি। ভারত তাদের সব ম্যাচ দুবাইয়ে খেলে। ভ্রমণের ধকল না থাকা এবং সব ম্যাচ একই মাঠে খেলার ‘বাড়তি সুবিধা’ কাজে লাগিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতে ভারত।

এই দুটি ঘটনা বর্ণনা করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ন্যায্যতা আদৌ শর্তসাপেক্ষ কিনা— সে প্রশ্ন তুলেছে উইজডেন। ভারত তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য তিন মাস সময় পেয়েছিল; অন্যদিকে সূচি ও গ্রুপ ঘোষণার পর বাংলাদেশের হাতে ছিল মাত্র এক মাস। শুধু সময়ের ব্যবধানই কি আইসিসির ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ডকে’ ন্যায্যতা দিতে পারে?

উইজডেনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংকট তৈরিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার ভূমিকা কি উপেক্ষা করা যায়? বিসিসিআই কখনোই মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে নিরাপত্তার কথা বলেনি। ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’—এই একটি কথাই ছিল ব্যাখ্যা।
বাংলাদেশ এটিকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখেছে—যদি একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে পুরো দলকে কীভাবে নিরাপদ রাখা হবে? মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত ছিল নিঃশর্ত ও অনুতাপহীন। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই একজন খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিয়ে বিসিসিআই স্পষ্ট বার্তা দেয়, ক্রিকেট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হতে পারে।

প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ক্রিকেটের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশ তাদের খেলোয়াড়দের সুরক্ষায় দাঁড়ালেও আত্মসম্মান ও নীতির প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্য হুমকির পথে গেছে। যার ফলে আইসিসির জন্য না বলাটা সহজ হয়েছে বলে মনে করে উইজডেন।

অন্যদিকে ভারত জানে, অর্থনৈতিক শক্তি ও সুপারস্টারদের কারণে তাদের ছাড়া আইসিসি টুর্নামেন্ট প্রায় অচল। তাই তারা পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পেরেছে। লড়াইয়ের পাল্লা শুরু থেকেই ভারতের দিকেই ভারী ছিল, যা দেখিয়ে দেয় কীভাবে ক্ষমতা, বিশেষ করে অর্থনৈতিক শক্তি, সিদ্ধান্তকে নিজের পক্ষে বাঁকিয়ে নিতে পারে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের তেমন সামর্থ্য ছিল না। তাই এমন এক সিদ্ধান্তের খেসারত তাদের দিতে হয়েছে, যার কথা তারা তিন সপ্তাহ আগেও ভাবেনি। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ছিল, কিন্তু এখন আর নেই। শুধু নিজেদের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই।

সূত্রঃ উইজডেন

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন সংস্কার নিয়ে লেবার সরকারকে সতর্ক করলেন সাদিক খান

যুক্তরাজ্যের লেবার সরকারের সাম্প্রতিক অভিবাসন সংস্কারের কঠোর সমালোচনা করেছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। তিনি বলেন, অভিবাসন ইস্যুতে “অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নিরলস দানবায়ন এবং নিচের দিকে নামার রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা” থেকে সরে আসা জরুরি।

মধ্য লন্ডনে ফ্যাবিয়ান সোসাইটির নববর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে সাদিক খান বিশেষভাবে সমালোচনা করেন সেটেলড স্ট্যাটাস অর্জনের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের। গত বছর সরকার ঘোষণা দেয়, অভিবাসীদের জন্য ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (ILR) পাওয়ার সময় ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হবে। খান বলেন, এই সিদ্ধান্ত অভিবাসীদের দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তৈরি না করে বরং সেই বন্ধন দুর্বল করবে।

শরণার্থী নীতিতেও সরকারের সংস্কার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন লন্ডনের মেয়র। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শরণার্থী মর্যাদা স্থায়ী না রেখে অস্থায়ী করা হবে এবং প্রতি ৩০ মাস অন্তর নবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে সময় লাগবে প্রায় ২০ বছর। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এ বিষয়ে বলেছিলেন, “এই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা কোনো অধিকার নয়, এটি একটি বিশেষ সুযোগ।”

তবে সাদিক খানের মতে, এই নীতি শরণার্থীদের দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে রাখবে এবং সামাজিকভাবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করবে।

রিফর্ম ইউকের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার প্রেক্ষাপটে সরকারকে ভিন্ন কৌশল নেওয়ার আহ্বান জানান খান। তিনি বলেন, প্রগতিশীলদের দায়িত্ব হলো “নিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের পক্ষে নিঃসংকোচে ইতিবাচক অবস্থান নেওয়া।” অভিবাসন ও সামাজিক সংহতি নিয়ে গত এক দশকের তিক্ত রাজনৈতিক ভাষা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

একই সঙ্গে রিফর্ম ইউকে ও কনজারভেটিভদের সমালোচনা করে সাদিক খান বলেন, তারা লন্ডনকে একটি পতনশীল ও অনিরাপদ শহর হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। রিফর্মের মেয়র প্রার্থী লায়লা কানিংহামের মন্তব্যের জবাবে খান বলেন, লন্ডন বিশ্বের অন্যতম সেরা শহর—এই বাস্তবতা আড়াল করতেই রাজনৈতিকভাবে শত্রু তৈরি করা হচ্ছে এবং সমাজের সব সমস্যার দায় অভিবাসীদের ওপর চাপানো হচ্ছে।

সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সাদিক খান আসন্ন গর্টন অ্যান্ড ডেন্টন উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহামের প্রার্থী হওয়ার বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, অ্যান্ডি বার্নহাম যদি সংসদ সদস্য হতে চান, তাহলে তাকে সেই সুযোগ দেওয়া উচিত—যা লেবার পার্টির উপনেত্রী লুসি পাওয়েলের বক্তব্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সূত্রঃ দ্য নিউজ স্টেইটমেন্ট

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

বিবিসির কিংবদন্তি সাংবাদিক স্যার মার্ক টালি আর নেই

বিবিসির সাবেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক স্যার মার্ক টালি মারা গেছেন। রোববার ভারতের নয়াদিল্লিতে নব্বই বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বিবিসি হিন্দির এক প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

কলকাতায় জন্মগ্রহণ করা স্যার মার্ক টালি ১৯৬৪ সালে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (বিবিসি)-এ যোগ দেন। পরের বছরই, ১৯৬৫ সালে তিনি দিল্লিতে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর কয়েক দশক ধরে ভারত, বাংলাদেশসহ পুরো দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলি কাভার করেন তিনি।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্যার মার্ক টালি ছিলেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষে সত্য তুলে ধরার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, একাত্তরের এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রবেশ করেন মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে।

সে সময় পাকিস্তানি সরকার মাত্র দুইজন বিদেশি সাংবাদিককে পূর্ব পাকিস্তানে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল। স্যার মার্ক টালির সঙ্গে ছিলেন ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকার যুদ্ধ সংবাদদাতা ক্লেয়ার হলিংওয়ার্থ। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে করার পরই এই অনুমতি দেওয়া হয়।

সেই সফরের স্মৃতিচারণে মার্ক টালি বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলেন, তিনি ঢাকা থেকে সড়ক পথে রাজশাহী পর্যন্ত ভ্রমণ করেন। পথে পথে তিনি দেখেছিলেন গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে। স্বাধীনভাবে ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাওয়ায় তাদের পাঠানো সংবাদ আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় সাহসী সাংবাদিকতা ও সত্য প্রকাশের মাধ্যমে বিশেষ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ২০১২ সালে তাকে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করে।

বিবিসি থেকে অবসর গ্রহণের পরও তিনি সাংবাদিকতা থেকে দূরে সরে যাননি। ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে লেখালেখি ও বিশ্লেষণ চালিয়ে যান স্যার মার্ক টালি।

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী ও সত্যের ধারক এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতা অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

‘চীন কানাডাকে জীবন্ত খেয়ে ফেলবে’—শতভাগ শুল্কের হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা

কানাডা ও চীনের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, কানাডা যদি চীনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য প্রবেশের ‘ড্রপ-অফ পোর্ট’ বা মধ্যস্থতাকারী হয়ে ওঠে, তাহলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। তার ভাষায়, “চীন কানাডাকে জীবন্তভাবে খেয়ে ফেলবে এবং সম্পূর্ণভাবে গ্রাস করবে।”

 

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, এ ধরনের পদক্ষেপ কানাডার ব্যবসা, সামাজিক কাঠামো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।

ট্রাম্প একইসঙ্গে কড়া বাণিজ্যিক হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, যদি কানাডা চীনের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তিতে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী সব কানাডীয় পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। পোস্টের শেষে তিনি বিষয়টির প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য পাঠকদের ধন্যবাদ জানান।

এর আগে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) মঞ্চে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ট্রাম্প আরও কঠোর ভাষায় কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, কানাডার উচিত নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া কানাডা টিকে থাকতে পারত না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য এসেছে দাভোসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে কার্নি প্রধান শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ নিয়ে সতর্ক করেন, যা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূমিকাকেই ইঙ্গিত করে বলে মনে করা হচ্ছে।

কার্নির ওই বক্তব্যের পরই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার কূটনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য সেই বিরোধকে আরও প্রকাশ্য ও তীব্র করে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি নয়, বরং উত্তর আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। কানাডা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত প্রতিযোগিতার এক স্পর্শকাতর অবস্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে