Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

‘আইন নেই, শৃঙ্খলা নেই’: যুক্তরাজ্যের ব্রাইটন শহর ঘিরে ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের হতাশা

ব্রাইটনকে সাধারণত আধুনিক, সহনশীল ও সফল একটি ব্রিটিশ শহর হিসেবে তুলে ধরা হয়। পর্যটননির্ভর অর্থনীতি, স্বাধীন ব্যবসায় ভরা শপিং স্ট্রিট এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি শহরটিকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তবে এই উজ্জ্বল ভাবমূর্তির আড়ালে ভয়াবহ বাস্তবতার কথা উঠে এসেছে শহরের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক সেন্ট জেমস স্ট্রিট থেকে।

 

সমুদ্রতীরবর্তী এই সড়কটি এখন দোকানচুরি, প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রি, সহিংসতা, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং প্রকাশ্যে মানব মলমূত্র ত্যাগের মতো ঘটনায় জর্জরিত—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কর্মীরা। তাদের ভাষায়, এলাকাটি যেন চার্লস ডিকেন্সের কোনো অন্ধকার উপন্যাসের দৃশ্য।

স্থানীয় দোকান মালিক নিল স্ট্রিবলিং-রাশটন জানান, সমাজবিরোধী আচরণ এখানে এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে মানুষ প্রায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, পাশের কো-অপ সুপারশপটি প্রায় প্রতিদিনই দোকানচুরির শিকার হয় এবং প্রায়ই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে রাস্তায়। অনেক সময় এসব মারামারি দেখে মনে হয় কোনো সিনেমার দৃশ্য চলছে, অথচ এটি তাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা।

তার স্বামী ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রিবলিং-রাশটন ২০২৪ সালের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে বলেন, শনিবার বিকেলে খোলা রাস্তায় প্রকাশ্যে মারামারি চলছিল, যখন মানুষ বাইরে বসে খাবার খাচ্ছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে একপর্যায়ে একজন আহত ব্যক্তির জন্য অ্যাম্বুলেন্স ডাকার অনুরোধ জানাতে হয়।

দোকান মালিকদের অভিযোগ, চুরি শুধু খাদ্য সংকটের কারণে নয়; বরং মাদকাসক্তরা দামি পণ্য চুরি করে তা বিক্রি করে পরবর্তী মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করে। আশপাশের হোস্টেল ও অস্থায়ী আবাসনে বড় সংখ্যায় মাদকাসক্ত মানুষকে একত্রে রাখায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে মনে করেন তারা।

ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রিবলিং-রাশটনের অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ স্টেশন মাত্র কয়েকটি রাস্তা দূরে হলেও নিয়মিত সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা চলতেই থাকে। তার মতে, এটি এমন এক পরিস্থিতি যেখানে নাগরিক সমাজ ভেঙে পড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলার উপস্থিতি কার্যত অনুভূত হয় না।

একাধিক ব্যবসায়ী জানান, পুলিশ গাড়ি মাঝেমধ্যে রাস্তা দিয়ে চলে গেলেও থামে না। ফলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। নিলের ভাষায়, এখন আর সীগালের ডাক শোনা যায় না—চারপাশ ভরে থাকে চিৎকার আর গালাগালিতে। তিনি সড়কটিকে সরাসরি “পাগলা গারদ” বলে বর্ণনা করেন।

সেন্ট জেমস স্ট্রিটের একাধিক স্থানে প্রকাশ্যে প্রস্রাব ও মলত্যাগের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় পাব মালিক স্যাম মরগান জানান, তিনি দিনের আলোতেই মানুষকে প্রকাশ্যে ক্র্যাক ধূমপান করতে দেখেছেন। নিজের বাসার সামনেও মানব মলমূত্র দেখতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আরেক দোকানি কার্পেশ প্যাটেল বলেন, এটি এখন “মদ ও সহিংসতায় ডুবে থাকা একটি রাস্তা”, যেখানে সবাইকে সতর্ক থাকতে হয়। তার মতে, চুরি ও মারামারি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং পুলিশ না থাকায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের অনিরাপদ বোধ করেন।

তবে কেউ কেউ মনে করেন, সমস্যার মূল কারণ সামাজিক সহায়তার অভাব। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী গ্যারি বলেন, অনেক মানুষ প্রকৃতপক্ষে সাহায্যের প্রয়োজন, কিন্তু সেই সহায়তা তারা পাচ্ছে না। আবার কেউ কেউ শুধু মনোযোগ পাওয়ার জন্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বলেও তার মত।

সাসেক্স পুলিশ জানিয়েছে, সেন্ট জেমস স্ট্রিট তাদের অগ্রাধিকারভুক্ত ‘হটস্পট’ এলাকা। এখানে বাড়তি পুলিশি টহল ও গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান চলছে বলে দাবি করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরে সংঘটিত এক ছিনতাই মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে কারাগারে রয়েছে এবং শিগগিরই তার সাজা ঘোষণা হবে।

তবে ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ সিটি কাউন্সিল এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। স্থানীয়দের প্রশ্ন—পর্যটননির্ভর শহরের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কবে আবার নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে?

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ভয়ের দেশে পরিণত সুইডেনঃ কঠোর অভিবাসন নীতিতে বিপর্যস্ত হাজারো অভিবাসী পরিবার

সুইডেনে অভিবাসন ও আশ্রয় নীতির সাম্প্রতিক কড়াকড়িতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেই পরিবারগুলো, যারা বছরের পর বছর দেশটিতে বসবাস করে কাজ করেছেন, ভাষা শিখেছেন এবং সমাজে একীভূত হয়েছেন। নতুন নীতির ফলে হাজারো মানুষ এখন বহিষ্কারের আশঙ্কায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

 

উজবেকিস্তান থেকে আসা তিন সন্তানের মা সোফিয়ে তার জীবনের বড় একটি সময় সুইডেনে কাটিয়েছেন। ২০০৮ সালে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে আসার পর তিনি চাকরি করেছেন, সুইডিশ ভাষা শিখেছেন এবং তার সন্তানরা সুইডিশ শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যেই বড় হয়েছে।

তার ছোট সন্তান সুইডেনেই জন্মেছে। তবে একাধিকবার আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তিনি কাজের অধিকার হারান এবং এখন বহিষ্কারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। গত দুই বছর ধরে তিনি ও তার সন্তানরা স্টকহোমের আরলান্ডা বিমানবন্দরের কাছের একটি আশ্রয় ফেরত কেন্দ্রে বসবাস করছেন।

এই অনিশ্চয়তা তার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘদিন ধরে ঘুমহীনতা, ক্ষুধামন্দা ও বমিতে ভুগছেন তিনি। তার ভাষায়, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এতটাই তীব্র যে সন্তানদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার শক্তিও তার আর নেই।

সুইডেন সরকার বলছে, তারা আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণের বদলে শ্রমভিত্তিক অভিবাসনে বেশি গুরুত্ব দিতে চায়। কট্টর ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের সমর্থনে পরিচালিত বর্তমান সরকার অভিবাসন নীতি কঠোর করেছে এবং দাবি করছে—আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমলে একীভূতকরণ সহজ হবে। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, ১৯৮৫ সালের পর বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সর্বনিম্ন।

তবে বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, বহু মানুষ যারা সুইডিশ সমাজে প্রতিষ্ঠিত, চাকরির বাজারে সক্রিয় এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ দেশটির সঙ্গে যুক্ত—তারাই এখন বহিষ্কারের মুখে পড়ছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আশ্রয় আবেদন বাতিল হলে কেউ আর কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবে না, এমনকি আগে চাকরি থাকলেও ভিসা নবায়নের সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৪,৭০০ মানুষ সরাসরি বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়েছেন।

এছাড়া নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত কঠোর করা হয়েছে, পরিবার পুনর্মিলনের নিয়মে কড়াকড়ি এসেছে এবং কোনো অপরাধে জড়ালে অ-নাগরিকদের বসবাসের অধিকার বাতিল করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অপরাধজনিত কারণে ৪৪০ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ফেরত কেন্দ্রগুলোতে জীবনযাপনও অত্যন্ত কঠিন। অনেক কেন্দ্র শহর থেকে দূরে অবস্থিত হওয়ায় যাতায়াত ব্যয়বহুল ও জটিল। অনেক পরিবার দিনে মাত্র কয়েক ক্রোনা নিয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছে। শিশু ও এলজিবিটিকিউ আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য এসব কেন্দ্র মানসিকভাবে আরও অনিরাপদ হয়ে উঠেছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে।

স্টকহোমভিত্তিক সহায়তা সংস্থার কাউন্সেলর ন্যানি স্কোল্ড জানান, বহিষ্কারের আদেশ পাওয়া মানুষদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে। অনেকেই প্রশ্ন করছেন—সব নিয়ম মেনে কাজ করা, ভাষা শেখা এবং সমাজে একীভূত হওয়াও যদি যথেষ্ট না হয়, তবে তারা নিজেদের মূল্য কীভাবে প্রমাণ করবেন।
ইরাক থেকে কাজের ভিসায় আসা থামের ও ফাতেনের পরিবারও একই বাস্তবতার মুখোমুখি।

তাদের সন্তানদের একজন সুইডেনেই জন্মেছে। কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া ও আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়ায় তারা এখন বহিষ্কারের ঝুঁকিতে। থামের জানান, নিজ দেশে ফিরলে তার সন্তানদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে, তবু সুইডেনে থেকে কাজ করার সুযোগ তিনি পাচ্ছেন না।

সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সি বলছে, তারা কেন্দ্রগুলোকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছে এবং শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর বিষয়ে বিশেষ বিবেচনা নেওয়া হচ্ছে। তবে মানবাধিকারকর্মীদের মতে, বাস্তব চিত্র ভিন্ন—এটি এখন আর আগের ‘শরণার্থীবান্ধব’ সুইডেন নয়, বরং ভয়ের এক নতুন বাস্তবতা।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্পাইওয়্যার মামলায় আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের সংকট

স্পেনের সর্বোচ্চ ফৌজদারি আদালত আবারও ইসরায়েলি তৈরি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য সিনিয়র মন্ত্রীদের ফোন লক্ষ্য করার তদন্ত স্থগিত করেছে। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক সহযোগিতা না থাকার কারণে মামলাটি কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বিচারক হোসে লুইস কালামা বলেছেন, এ ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক আইনি চুক্তির লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সৎ বিশ্বাসের নীতির পরিপন্থী।

মে ২০২২ সালে এই তদন্ত শুরু হয়, যখন স্পেনের সরকার প্রকাশ করে যে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্গারিটা রব্লেসের ফোনে পেগাসাস সংক্রমিত হয়েছিল। পরে জানা যায়, দেশটির অন্তর মন্ত্রী ও কৃষি মন্ত্রীর ফোনও লক্ষ্য করা হয়েছে। ঘটনার পর দেশীয় গোয়েন্দা প্রধান পাজ এস্তেবানকে বরখাস্ত করা হয় এবং জাতীয় গোয়েন্দা কেন্দ্রের (CNI) কিছু অপূর্ণতা স্বীকার করা হয়।

আদালত পূর্বে জুলাই ২০২৩ সালে তদন্ত বন্ধ করেছিলেন, তবে ফরাসি কর্তৃপক্ষের দেওয়া নতুন তথ্যের ভিত্তিতে তা পুনরায় খোলা হয়। ফ্রান্স থেকে প্রাপ্ত খবর সুনির্দিষ্টভাবে কোনো নতুন তথ্য দেয়নি, যা স্পেনীয় রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য করা ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে সহায়ক হতো।

বিচারক কালামা জানান, NSO গ্রুপের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে সাক্ষাৎ নেওয়ার অনুরোধসহ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধানে সাহায্য করে নাই। এর ফলে তদন্ত “থমকে” রয়েছে এবং শুধুমাত্র নতুন প্রমাণ বা ইসরায়েলের সম্ভাব্য সহযোগিতার ভিত্তিতে তা পুনরায় চালু হতে পারে।

NSO গ্রুপ বিবৃতিতে বলেছে, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের নজরদারির জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার “গুরুতর অপব্যবহার” এবং এটি কোম্পানির কাঙ্খিত ব্যবহার নয়।

পেগাসাস সংক্রান্ত বিতর্ক কাতালান স্বাধীনতাবাদী রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য করার ঘটনায়ও প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে অন্তত ৬৩ জন কাতালান স্বাধীনতাবাদী ব্যক্তির ফোনে নজরদারি বা সংক্রমণ ঘটেছিল, যার মধ্যে ১৮ জনকে CNI আইনি অনুমোদনের মাধ্যমে নজরদারি করেছিল।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অজানা হাইওয়ে কোডঃ সামান্য ভুলেই ৮০ পাউন্ড জরিমানা

যুক্তরাজ্যে অনেক চালকই জানেন না, রাস্তার পাশে গাড়ি পার্ক করার সময় একটি তুলনামূলক কম পরিচিত নিয়ম অমান্য করলে তাদের গুনতে হতে পারে মোটা অঙ্কের জরিমানা। হাইওয়ে কোড অনুযায়ী, গাড়ি অবশ্যই রাস্তার কার্ব বা ফুটপাতের ধার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ সেন্টিমিটারের মধ্যে রাখতে হবে।

 

হাইওয়ে কোডে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো গাড়ি এমন জায়গায় পার্ক করা যাবে না যেখানে তা অন্য যানবাহন বা পথচারীদের চলাচলে অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি করে বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির জন্ম দেয়। নিয়ম লঙ্ঘন হলে আইন অনুযায়ী চালককে জরিমানা করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, অনেক চালক ডাবল পার্কিং কেবল অন্য গাড়ির সামনে বা পাশে গাড়ি রাখাকেই মনে করেন। কিন্তু রাস্তার ধার থেকে ৫০ সেন্টিমিটারের বেশি দূরে গাড়ি রাখাও একই ধরনের অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

একটি ব্যতিক্রম রয়েছে। যদি গাড়িটি চিহ্নিত পার্কিং বে’য়ের ভেতরে সম্পূর্ণভাবে রাখা হয়, তাহলে ৫০ সেন্টিমিটার নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। গাড়িটি অবশ্যই পার্কিং বেইয়ের দাগের ভেতরে থাকা আবশ্যক।

ফুটপাতে পার্কিং লন্ডন ও স্কটল্যান্ডে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। ইংল্যান্ডের অন্যান্য এলাকায় এটি সরাসরি অবৈধ না হলেও, পথচারীদের চলাচলে বাধা দিলে পিসিএন (পেনাল্টি চার্জ নোটিশ) দেওয়া হতে পারে।

পেভমেন্ট পার্কিং সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ইংল্যান্ডজুড়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা হয়নি। ফলে নিয়ম প্রয়োগের বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলের ওপর নির্ভর করছে।

জরিমানার পরিমাণ অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও সাধারণত ৫০ থেকে ৮০ পাউন্ডের মধ্যে হয়। অনেক কাউন্সিল দ্রুত জরিমানা পরিশোধ করলে সর্বোচ্চ ৫০% ছাড় দেয়। তবে ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পিসিএন পরিশোধে অবহেলা করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এতে জরিমানার অঙ্ক কয়েকশ পাউন্ড পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কাউন্টি কোর্ট জাজমেন্ট (CCJ) হয়ে ব্যক্তির ক্রেডিট স্কোরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে ওজন কমানোর ট্যাবলেট আসার আগেই নকল ওষুধের শঙ্কা, সতর্ক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা

ব্রিটেনে ওজন কমানোর চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে রয়েছে ট্যাবলেট আকারের ওষুধ। তবে এই চিকিৎসা বাজারে আসার আগেই নকল ও ভুয়া ওষুধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও ওষুধ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইনজেকশনের তুলনায় ট্যাবলেট সহজে নকল করা যায়, যা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

 

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ওজন কমানোর জন্য ওয়েগোভি (Wegovy) ও মাউঞ্জারো (Mounjaro)-এর মতো ইনজেকশন ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদে এসব ওষুধ ব্যবহারে গড় শরীরের ওজন ১৪ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। তবে এসব ইনজেকশন অত্যন্ত ব্যয়বহুল, ফ্রিজে সংরক্ষণের প্রয়োজন হয় এবং নিয়মিত ব্যবহারে ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়তি ঝামেলা তৈরি করে।

এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্লুকাগন-লাইক পেপটাইড-১ (GLP-1) হরমোন অনুকরণকারী ওষুধের ট্যাবলেট সংস্করণ উন্নয়নে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে নোভো নরডিস্কের তৈরি ওয়েগোভির ট্যাবলেট সংস্করণ ইতিমধ্যে এফডিএ অনুমোদন পেয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমএইচআরএ (MHRA) ওষুধটি মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে এলি লিলির তৈরি ওরফরগ্লিপ্রন নামের আরেকটি ওষুধও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ট্যাবলেট তৈরি করতে তুলনামূলক কম প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়, ফলে বড় আকারে নকল ওষুধ উৎপাদন করা অনেক সহজ। এসব ভুয়া ওষুধে কখনো ভুল মাত্রার উপাদান, কখনো ক্ষতিকর রাসায়নিক, আবার কখনো কার্যকর উপাদান একেবারেই না থাকার ঝুঁকি থাকে।

এর ফলে ব্যবহারকারীদের গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এমনকি জীবনহানির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।
এমএইচআরএ জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে নকল ওজন কমানোর ওষুধের বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে।

গত বছর নর্থহ্যাম্পটনের একটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ইনজেকশন জব্দ করা হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ট্যাবলেট বাজারে এলে এই ধরনের অপরাধ দমন আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণ জনগণকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এবং নিবন্ধিত ফার্মেসি ছাড়া কোথাও থেকে ওজন কমানোর ওষুধ না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনলাইনে অবৈধ ওষুধ বিক্রি বন্ধে আরও কঠোর আইন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের দাবি উঠেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন অনশনকারীর কয়েক দিনের মধ্যেই মৃত্যু হতে পারে—চিকিৎসকের সতর্কতা

ব্রিটেনে প্যালেস্টাইন অ্যাকশন–সংশ্লিষ্ট শেষ অনশনকারী উমের খালিদের জীবন নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবারের পাশাপাশি পানি গ্রহণ বন্ধ করায় তিনি কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাণঘাতী ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

 

২২ বছর বয়সী উমের খালিদ গত নভেম্বর থেকে অনশনে রয়েছেন। বড়দিনের সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাময়িকভাবে অনশন স্থগিত হলেও ১৩ দিন আগে তিনি আবার অনশন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি খাবার ও পানি—উভয়ই গ্রহণ করছেন না।

উমের খালিদসহ মোট আটজন প্যালেস্টাইন অ্যাকশন কর্মী তাদের বিরুদ্ধে আনা অনধিকার প্রবেশ ও ভাঙচুরের অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবিতে অনশন শুরু করেছিলেন। তারা সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে খালিদ ছাড়া বাকি সবাই ইতোমধ্যে অনশন শেষ করেছেন।

শেষ তিনজন অনশন ভাঙেন প্রায় ১০ দিন আগে, যখন ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলি অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সহযোগী সংস্থা এলবিট সিস্টেমস ইউকের সঙ্গে প্রস্তাবিত £২ বিলিয়নের প্রতিরক্ষা চুক্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর প্রায় ৬০ হাজার ব্রিটিশ সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল।

উমের খালিদের একটি জেনেটিক রোগ রয়েছে—লিম্ব-গার্ডল মাসকুলার ডিস্ট্রফি—যার ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ জয়েন্টের আশপাশের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। এই শারীরিক অবস্থার কারণে তার ক্ষেত্রে অনশনের ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

প্রিজনার্স ফর প্যালেস্টাইন-এর বরাতে চিকিৎসক ডা. রূপা মারিয়া জানান, পানি গ্রহণ বন্ধ থাকলে সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দেয় এবং উমের খালিদের বিদ্যমান স্বাস্থ্যসমস্যা পরিস্থিতিকে আরও সংকটজনক করে তুলছে।

এর আগে অনশনকারীদের মধ্যে হেবা মুরাইসি টানা ৭২ দিন অনশনে ছিলেন, যা ১৯৮১ সালের আইরিশ অনশন আন্দোলনের ঐতিহাসিক রেকর্ডের কাছাকাছি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এলবিট চুক্তি বাতিল হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও উমের খালিদের জীবন রক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ জরুরি।

প্রিজনার্স ফর প্যালেস্টাইন দাবি করেছে, ২০১২ সালের পর থেকে এলবিট সিস্টেমস ইউকে ১০টির বেশি সরকারি চুক্তি পেয়েছে। তাদের মতে, সর্বশেষ সিদ্ধান্তটি প্রতিরক্ষা নীতিতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও চলমান মানবিক সংকটের দ্রুত সমাধান এখনো প্রয়োজন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

কারাফটকে ছাত্রলীগ নেতা মিনিট পাঁচেক দেখলেন স্ত্রী-সন্তানের লাশ

স্ত্রী ও ৯ মাসের শিশু সন্তানের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তির অনুমতি পাননি বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। এ কারণে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে দূর থেকে তাকে শেষবার স্ত্রী সন্তানের মুখ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

 

কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, মরেদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের নিকট ছয় সদস্যকে কারা ফটকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে মিনিট পাঁচেক সময় দেওয়া হয় সাদ্দামকে। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই পাশেই নিথর অবস্থায় পড়েছিল স্বর্ণালীর ৯ মাসের শিশু নাজিমের নিথর দেহ।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের দাবি, হতাশাগ্রস্ত হয়ে শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন স্বর্ণালী। পুলিশ জানায়, তারা সুবর্ণা স্বর্ণালীকে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে থাকা অবস্থায় এবং ছেলেকে মেঝে থেকে উদ্ধার করেছে। সুবর্ণার স্বামী নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। মর্মান্তিক এই মৃত্যুর পর কারাগারের জেলারের সাথে যোগাযোগ করেন সাদ্দামের স্বজনেরা। প্যারোলে মুক্তির আবেদনও করেছিলেন তারা। তবে জেলার তাদের আবেদন নাকচ করেন। বাধ্য হয়ে শেষবারের মতো স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ জেল ফটকে আনার ব্যবস্থা করেন সাদ্দামের স্বজনেরা।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে সাদ্দামের স্বজনেরা আসেন। তাদের সঙ্গে দুটি মাইক্রোবাসে ১২ থেকে ১৫ জন স্বজন আসেন। সকল কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ছয়জন পরিবারের নিকট সদস্যসহ মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারাকর্তৃপক্ষ। পাঁচ মিনিট পর তাদের আবারও বাইরে বের করে দেওয়া হয়। মর্মান্তিক এই খবরে গণমাধ্যমকর্মী ছাড়া কারাগারের সামনে বসাবসরত অনেক স্থানীয়দের ভিড় লক্ষ করা গেছে। হৃদয় বিদারক এই দৃশ্য দেখে বাইরে অপেক্ষামান স্বজনদের আহাজারিতেও বাতাস ভারী হয়ে যায়।

সাদ্দামের চাচাতো ভাই সাগর ফারাজী বলেন, ‘সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তান মারা যাওয়ার পর আমরা কারাগারে যোগাযোগ করি। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি। উনি তো মার্ডার মামলার আসামি না। রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। মুক্তি না পাওয়ায় আমরা অনেকেই এসেছি কারাগারে। কিন্তু ছয় জনের বেশি প্রবেশ করতে দেয়নি। সাদ্দাম যে ক্লান্তিলগ্নে তার পরিবারটাই নাই। তার এই দুঃসময়ে আমাদের দেখলে ভালো লাগতো। তবে আমাদের ঢুকতে দেয়নি কারাকর্তৃপক্ষ। সাদ্দামের সাথে এই ধরনের ঘটনা নির্দয়, দুঃশাসন। মানবিক দিক থেকেও আজ প্যারোলে মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল।

সাদ্দামের শ্যালিকা কারাফটকে আহাজারি করতে করতে সাংবাদিকদের বলছিলেন, ‘এই রাজনীতির এই পরিনাম হলো! সে তো খুনি না। রাজনৈতিক ছোট একটা মামলা। তাও প্রশাসন তাকে ছাড়লো না। সাদ্দাম আমার দুলাভাই না, বড়ভাই ছিল। সে কখনো কান্না করেনি। আজ তাকে কান্না করতে দেখেছি। তাকে কিছুক্ষণ জামিন দিয়ে স্ত্রী সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে দেওয়া উচিত ছিল।’

সাদ্দামের স্বজনেরা জানান, প্রশাসন মুক্তি না দেওয়াতে বাগেরহাট থেকে যশোরে এসেছি। সড়কও খারাপ। বাদ এশা জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও গভীররাত হয়ে যাবে জানাজা। সাদ্দামের স্ত্রী ও তার সন্তানের জানাজা রাতেই করা হবে।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ বলেন, ‘কারাফটকে মরদেহ নিয়ে আসার পর আমরা ছয়জনকে প্রবেশ করতে দিই। পাঁচ মিনিট সাদ্দাম তার মৃত স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে পেরেছে। সাধারণত অনুমতি না নিলেও কোনো কারাবন্দির স্বজন মারা গেলে, তার মরদেহ যদি কারাফটকে আনে স্বজনেরা, তাহলে আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করি দেখতে দেই।’

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে পুলিশিংয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তনঃ প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ও জবাবদিহিতা জোরদার

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি বহাল রাখতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে একটি ‘লাইসেন্স টু প্র্যাকটিস’ রাখতে হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই লাইসেন্স নবায়নের জন্য কর্মকর্তাদের নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবিলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হতে পারে।

 

আইনজীবী ও চিকিৎসকদের পেশাগত লাইসেন্স ব্যবস্থার আদলে এই নতুন স্কিম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। হোম অফিস জানিয়েছে, পুরো কর্মজীবনজুড়ে কর্মকর্তাদের আধুনিক পদ্ধতি ও হালনাগাদ নির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। এই প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৪৩টি পুলিশ বাহিনীতে একই মানদণ্ডে প্রয়োগ করা হবে, যাতে দেশজুড়ে পুলিশিং আরও সমন্বিত ও স্বচ্ছ হয়।

অপরাধ ও পুলিশিং বিষয়ক মন্ত্রী সারাহ জোনস বলেন, অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় পুলিশকেও দ্রুত বিবর্তিত হতে হবে। তার মতে, নতুন লাইসেন্স ব্যবস্থা নতুন ও অভিজ্ঞ—সব কর্মকর্তাকেই প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে এবং কমিউনিটির নিরাপত্তা জোরদার করবে।
তবে প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থাকে ঘিরে পুলিশের ভেতরে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ম্যাট কেইন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই লাইসেন্স ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ একটি ‘টিক-বক্স’ প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে। তার দাবি, বর্তমানে পুলিশ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাই পর্যাপ্ত নয়, তার ওপর নতুন এই ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।

এই ঘোষণার পাশাপাশি সরকার পুলিশিং কাঠামোয় আরও কঠোর পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। নতুন আইনি ক্ষমতাবলে মন্ত্রীরা এখন দায়িত্বে ব্যর্থ হলে পুলিশ প্রধান কনস্টেবলদের অবসর নিতে বাধ্য করতে, পদত্যাগ করাতে বা সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারবেন। এতদিন এই ক্ষমতা কেবল পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনারদের হাতে ছিল।

এছাড়া কোনো বাহিনীর অপরাধ উদঘাটনের হার বা জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার মান খারাপ হলে সেখানে ‘বিশেষজ্ঞ দল’ পাঠিয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন মন্ত্রীরা। সরকার জানিয়েছে, পুলিশিং নিয়ে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে এবং সেগুলো জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে, যাতে জনগণ জানতে পারে তারা তাদের পুলিশ বাহিনীর কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করতে পারে।

এই সংস্কার পরিকল্পনা এমন এক সময়ে আসছে, যখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সম্প্রতি ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের প্রধান কনস্টেবল ক্রেইগ গিল্ডফোর্ডের ওপর আস্থা হারানোর কথা প্রকাশ করেন। ওই ঘটনার পর তিনি বাহিনী থেকে অবসর নেন। সরকার বলছে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই নতুন ক্ষমতা প্রয়োজন।

হিজ ম্যাজেস্টিস ইন্সপেক্টোরেট অব কনস্ট্যাবুলারি অ্যান্ড ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসেস (HMICFRS) এই সংস্কারকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রধান স্যার অ্যান্ডি কুক বলেন, পুলিশ বাহিনী জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি পরিষ্কার ও ন্যায্য কাঠামো থাকা জরুরি, আর নতুন সংস্কার সেই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।

এদিকে, আগামী সপ্তাহে সরকার পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা বর্তমান ৪৩টি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা দিতে যাচ্ছে। পুলিশ ফেডারেশন অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস সতর্ক করে বলেছে, বাহিনীর সংখ্যা কমালেই যে পুলিশিং উন্নত হবে—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাস্তব সংস্কার কার্যকর করতে হলে দক্ষতা, সক্ষমতা ও সরঞ্জামে বড় পরিসরে বিনিয়োগ অপরিহার্য।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় ছাত্র বহিষ্কারঃ মিসরে নির্বাসনের ঝুঁকিতে ছাত্র

লন্ডনের কিংস কলেজে অধ্যয়নরত মিসরীয় ছাত্র উসামা ঘানেম ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েছেন। অনির্দিষ্টকালের জন্য তাকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি তার ভিসা স্পনসরশিপ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ায় যুক্তরাজ্য ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে হোম অফিস। ফলে অদূর ভবিষ্যতে তাকে মিসরে ফেরত পাঠানো হতে পারে—যেখানে তার ওপর কারাবন্দি ও নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও অবরোধের বিরুদ্ধে ছাত্রদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনে অংশগ্রহণের ঘটনায় ঘানেমের বিরুদ্ধে “নন-একাডেমিক মিসকন্ডাক্ট”-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নিয়ম ভঙ্গ, নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি, অপমানজনক আচরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে বাধা প্রদান। তিন দফা পর্যালোচনার পর মে মাসে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

২৮ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের হোম অফিস ঘানেমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তার শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং ৬০ দিনের মধ্যে যুক্তরাজ্য ত্যাগ করতে হবে। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ঘানেমের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা দণ্ড নেই। তবে ভিসা বাতিলের ফলে তিনি বর্তমানে কার্যত নির্বাসনের মুখে।

ঘানেমের দাবি, মিসরে ফিরে গেলে তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী তাকে, তার ভাই ও বাবাকে আটক করে। সে সময় তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। আটক অবস্থায় নির্যাতন, মারধর ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করার অভিযোগও করেছেন তিনি। তার বাবার মৃত্যু হয়েছে পরে। এই অভিজ্ঞতার ফলে তিনি পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে (PTSD) ভুগছেন বলে আইনি নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের দেশভিত্তিক নির্দেশিকাতেও বলা হয়েছে, মিসর সরকারের প্রকাশ্য সমালোচকরা ইচ্ছামতো গ্রেপ্তার, আটক ও গুরুতর নিপীড়নের ঝুঁকিতে থাকেন। ঘানেমের আইনজীবীদের দাবি, এসব তথ্য জানা সত্ত্বেও কিংস কলেজ কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

অন্যদিকে, কিংস কলেজ লন্ডনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ বা বৈধ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কারণে শাস্তি দেওয়া হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, কেবল তখনই ব্যবস্থা নেওয়া হয় যখন আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা লঙ্ঘন করে। ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে হোম অফিসের এখতিয়ার বলেও তারা উল্লেখ করেছে।

এই ঘটনার পর কিংস কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ঘানেমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের একাডেমিক নেটওয়ার্ক কিংস রেস রিসার্চ নেটওয়ার্ক কর্তৃপক্ষকে লেখা চিঠিতে সিদ্ধান্তটিকে “প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যমূলক” বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ঘানেমের জীবনকে সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঘানেমের ঘটনা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান দমননীতির অংশ। একাডেমিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে ‘নিরাপত্তা’ ও ‘শৃঙ্খলা’-র অজুহাতে সীমিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

উসামা ঘানেম নিজে বলছেন, কর্তৃত্ববাদকে চ্যালেঞ্জ করাই তার অবস্থান। তার ভাষায়, “আমি মিসরের স্বৈরতন্ত্র ছেড়ে এসেছিলাম মুক্ত চিন্তার জন্য। এখন সেই একই দমননীতি অন্য রূপে দেখতে পাচ্ছি।”

সূত্রঃ সিএনএন

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আইসিসির

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে থেকে বাদ পড়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের পরিবর্তে বৈশ্বিক এই আসরে খেলবে স্কটল্যান্ড। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের মাটিতে তাদের নির্ধারিত ম্যাচ আয়োজন নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, তা সমাধানের জন্য আইসিসি একটি বিস্তৃত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আইসিসি বিসিবির সঙ্গে স্বচ্ছ ও গঠনমূলক সংলাপে যুক্ত ছিল। এ সময় একাধিক দফায় ভিডিও কনফারেন্স ও সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।’

আইসিসি আরও জানিয়েছে, ‘এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিসিবির উত্থাপিত উদ্বেগগুলো পর্যালোচনা করা হয়, অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন কমিশন করা হয় এবং কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বিস্তারিত নিরাপত্তা ও পরিচালন পরিকল্পনা শেয়ার করা হয়। টুর্নামেন্টের জন্য উন্নত ও ধাপে ধাপে বাড়ানো নিরাপত্তা ব্যবস্থার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল, যা আইসিসি বিজনেস কর্পোরেশন (আইবিসি) বোর্ডের আলোচনাতেও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে আইসিসি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ভারতে বাংলাদেশ জাতীয় দল, কর্মকর্তা কিংবা সমর্থকদের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই। এই বাস্তবতায় এবং বৃহত্তর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে, প্রকাশিত সূচি পরিবর্তন করা সমীচীন নয় বলে আইসিসি সিদ্ধান্ত নেয়।’

নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা আইসিসিকে জানিয়েছিল বিসিবি। গত বুধবার আইসিসির সভা শেষে বাংলাদেশকে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে ২৪ ঘণ্টা সময় বেধে দেয়। এরপর বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৈঠক শেষে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানান তিনি।

এম.কে