Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

হিথ্রোতে বাতিল হলো ১০০ মিলিলিটারের তরল সীমা, নিরাপত্তা তল্লাশিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন

ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর হিথ্রোতে যাত্রীদের জন্য নিরাপত্তা তল্লাশির নিয়মে বড় পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। সব টার্মিনালে নতুন প্রজন্মের উচ্চপ্রযুক্তির সিটি (CT) স্ক্যানার পুরোপুরি চালু হওয়ায় এখন যাত্রীরা ব্যাগে সর্বোচ্চ দুই লিটার পর্যন্ত তরল বহন করতে পারবেন।

 

একই সঙ্গে ল্যাপটপ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যাগ থেকে বের করতে হবে না এবং তরলের জন্য আলাদা স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতাও তুলে নেওয়া হয়েছে।

হিথ্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর হিসেবে তারাই প্রথম সব টার্মিনালে একযোগে এই নতুন স্ক্যানিং প্রযুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্পন্ন করেছে। তবে যুক্তরাজ্যে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে হিথ্রোই প্রথম নয়। এর আগে গ্যাটউইক, এডিনবরো ও বার্মিংহাম বিমানবন্দর নতুন স্ক্যানার বসিয়ে তরলের সীমা দুই লিটারে উন্নীত করেছিল।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ বিমানবন্দরে যাত্রীরা ব্যাগে ১০০ মিলিলিটার পর্যন্ত তরল রাখতে পারলেও সেগুলো আলাদা করে বের করা বা স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগে রাখার প্রয়োজন নেই। ব্রিস্টল ও বেলফাস্ট বিমানবন্দরও তরলের সীমা দুই লিটারে উন্নীত করেছে। তবে যেসব বিমানবন্দরে নতুন স্ক্যানার বসানো হয়েছে, তাদের অনেকেই এখনো পরিবহন মন্ত্রণালয় (DfT)-এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে তরলের সীমা বাড়ানোর জন্য।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ‘উইচ?’–এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন স্ক্যানারগুলোর সংবেদনশীলতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কিছু বিমানবন্দরে স্ক্যানের পর হাতে ধরে ব্যাগ তল্লাশির হার বেড়েছে। এতে যাত্রীদের সময় বেশি লাগছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হিথ্রোর দাবি, নতুন স্ক্যানারগুলো কেবিন ব্যাগের আরও স্পষ্ট ও বিস্তারিত ছবি দিতে সক্ষম এবং উচ্চ নিরাপত্তা বজায় রেখেই প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার যাত্রীকে দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে এই নিয়ম পরিবর্তন কেবল হিথ্রো থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিধি আগেই যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যজুড়ে নতুন স্ক্যানার চালুর উদ্যোগ গত কয়েক বছরে নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে গেছে। ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ঘোষণা দিয়েছিলেন, ২০২২ সালের শেষ নাগাদ ১০০ মিলিলিটারের তরল সীমা তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

এরপর ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কনজারভেটিভ সরকার জানায়, ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে ‘দশকের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংস্কার’-এর অংশ হিসেবে আধুনিক স্ক্যানিং যন্ত্র বসানো হবে। তৎকালীন পরিবহনমন্ত্রী মার্ক হার্পার বলেছিলেন, “ছোট ছোট টয়লেট্রির যুগ প্রায় শেষ।”

বাস্তবে দেখা যায়, বড় বিমানবন্দরগুলোর পক্ষে নির্ধারিত জুন ২০২৪ সময়সীমা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। যদিও কম লেন থাকা কয়েকটি ছোট বিমানবন্দর সময়ের আগেই স্ক্যানার বসাতে সক্ষম হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ১৩ জুন সরকার নির্দেশ দেয়, যেসব ছোট বিমানবন্দর ইতোমধ্যে ১০০ মিলিলিটারের নিয়ম তুলে নিয়েছিল, তাদের আবার সেই নিয়ম কার্যকর করতে হবে।

এতে বিমানবন্দর পরিচালকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। একই বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নও পুনরায় ১০০ মিলিলিটারের নিয়মে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।

এই সিদ্ধান্তগুলোর ফলে দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। গত গ্রীষ্মে পরিবহনমন্ত্রী যাত্রীদের ১০০ মিলিলিটারের নিয়ম মেনেই প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। হিথ্রোর প্রধান নির্বাহী থমাস ওল্ডবি বলেন, এক বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের ফলে যাত্রীরা “নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে কম সময় ব্যয় করে ভ্রমণ উপভোগে বেশি সময় দিতে পারবেন।”

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত ১০টি বিমানবন্দরের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে তরলের ১০০ মিলিলিটার সীমা তুলে নেওয়া একমাত্র বিমানবন্দর এখন হিথ্রো। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, নতুন প্রজন্মের নিরাপত্তা সরঞ্জাম যাত্রীদের জন্য নিরাপত্তা পরীক্ষা আরও মসৃণ করতে সহায়তা করবে। তবে যাত্রীদের এখনো ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের নিয়ম যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন ‘অ্যাডভান্টেজ ট্রাভেল পার্টনারশিপ’ জানিয়েছে, বিমানবন্দরগুলো নিজ নিজ সময়সূচি অনুযায়ী নিয়ম পরিবর্তন করায় যাত্রীদের মধ্যে “বিভ্রান্তি ও হতাশা” বাড়ছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী জুলিয়া লো বু–সেইড বলেন, সরকার ও বিমানবন্দরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে স্পষ্ট ও একক বার্তা দেওয়া জরুরি, যাতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির রাজধানী লন্ডনঃ এক কিলোমিটার যেতে সাড়ে তিন মিনিট

বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির রাজধানী শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান টমটম (TomTom)-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে লন্ডনের শহরকেন্দ্রে মাত্র এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে গড়ে সময় লেগেছে ৩ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড।

 

গবেষণায় বলা হয়েছে, লন্ডনের সড়কে ব্যাপকভাবে চালু হওয়া ২০ মাইল প্রতি ঘণ্টা (২০mph) গতিসীমা এই ধীরগতির অন্যতম প্রধান কারণ। ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (TfL) জানিয়েছে, বর্তমানে রাজধানীর অর্ধেকেরও বেশি সড়কে ২০mph গতিসীমা কার্যকর রয়েছে।

লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান–এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন নীতির অংশ ছিল শহরের বহু সড়কে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৩০mph থেকে কমিয়ে ২০mph করা। এই নীতির মূল লক্ষ্য ছিল সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা কমানো। TfL-এর তথ্য অনুযায়ী, কোনো পথচারী যদি ৩০mph গতির গাড়ির ধাক্কায় পড়েন, তাহলে তার মৃত্যুঝুঁকি ২০mph গতির গাড়ির তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি।

ধীরগতির পাশাপাশি যানজটও লন্ডনের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। টমটমের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে লন্ডনের চালকেরা গড়ে ১৪১ ঘণ্টা সময় হারিয়েছেন যানজটে আটকে থেকে। গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর লন্ডনে সবচেয়ে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়, যেদিন টিউব ধর্মঘট চলছিল।

টমটমের ট্রাফিক বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডি মার্চেন্ট বলেন, লন্ডনের কম গড়গতিকে অনেকেই চরম যানজট হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, কিন্তু বিষয়টি আরও জটিল। তার ভাষায়, ২০mph গতিসীমা, আধুনিক চাহিদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সড়ক নকশা এবং সবসময় উচ্চ যানবাহনের চাপ—এই স্থায়ী কারণগুলো মিলেই লন্ডনে যাত্রা ধীর করে তুলছে, এমনকি যখন রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে তখনও।

গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৪৯২টি শহরের মধ্যে কলম্বিয়ার বারানকিয়া (Barranquilla) ছিল একমাত্র শহর, যেখানে গড় গতি লন্ডনের চেয়েও কম ছিল।
তবে যানজটের দিক থেকে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে সমস্যাগ্রস্ত শহর লন্ডন নয়। যানজটের মাত্রা অনুযায়ী শীর্ষে রয়েছে বেলফাস্ট (৫৮ শতাংশ), এরপর এডিনবরো (৫৮ শতাংশ) এবং কেমব্রিজ (৫৪ শতাংশ)। এই তালিকায় লন্ডনের অবস্থান অষ্টম, যেখানে যানজটের হার ৫২ শতাংশ।

এদিকে টমটম বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডি মার্চেন্ট জানিয়েছেন, চলতি বছর নগর পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। কারণ, লন্ডনের ২০টি বরোতে স্বচালিত যানবাহনের (অটোনোমাস ভেহিকল) পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

গোপন প্রযুক্তি ও নজরদারি ভ্যানঃ টিভি লাইসেন্স ফাঁকিতে কড়া অবস্থানে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যজুড়ে টিভি লাইসেন্স ছাড়া লাইভ টেলিভিশন দেখা বা বিবিসির আইপ্লেয়ার ব্যবহারের অভিযোগে দশ হাজারের বেশি মানুষকে শনাক্ত করার দাবি করেছে টিভি লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি জানিয়েছে, লাইসেন্স ফাঁকি শনাক্তে তারা উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঠিকানায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই টিভি সিগন্যাল গ্রহণের তথ্য শনাক্ত করা সম্ভব।
টিভি লাইসেন্সিংয়ের দাবি অনুযায়ী, তারা বিশেষভাবে সজ্জিত ভ্যান ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চালায়। এসব ভ্যানে থাকা প্রযুক্তির মাধ্যমে কোন ঠিকানায় লাইভ টিভি সম্প্রচার গ্রহণ করা হচ্ছে, তা শনাক্ত করা যায়। সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, তাদের কাছে একাধিক গোপন শনাক্তকরণ প্রযুক্তি রয়েছে, যেগুলোর কার্যপ্রণালি সম্পর্কে এক প্রযুক্তিতে কাজ করা প্রকৌশলীরাও অন্য প্রযুক্তির বিষয়ে অবগত নন। এই গোপনীয়তাকেই তারা লাইসেন্স ফাঁকি শনাক্তের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বর্তমানে টিভি লাইসেন্সিংয়ের ডেটাবেইসে যুক্তরাজ্যের প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ ঠিকানার তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে, যার মধ্যে লাইসেন্সধারী ও লাইসেন্সবিহীন উভয় ধরনের ঠিকানা অন্তর্ভুক্ত। মাঠপর্যায়ে কাজ করা পরিদর্শন কর্মকর্তারা এই ডেটাবেইসে সরাসরি প্রবেশাধিকার পান এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়া এক বছরে টিভি লাইসেন্স ফাঁকির অভিযোগে ২৮ হাজার ৫৪২ জনকে আদালতে অভিযুক্ত করা হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া লাইভ টিভি দেখা, রেকর্ড করা বা বিবিসি আইপ্লেয়ার থেকে অনুষ্ঠান ডাউনলোডের প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা এবং আদালতে হাজিরার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

লাইভ টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখা বা রেকর্ড করার ক্ষেত্রে—তা যেকোনো ডিভাইসেই হোক না কেন—যেমন টেলিভিশন, ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট বা মোবাইল ফোন—টিভি লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। একইভাবে, লাইভ অথবা ক্যাচ-আপ যেকোনোভাবে বিবিসি আইপ্লেয়ার দেখার ক্ষেত্রেও লাইসেন্স প্রয়োজন।

তবে নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও, ডিজনি প্লাস, আইটিভিএক্স কিংবা ইউটিউবের মতো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে লাইভ অনুষ্ঠান না দেখলে টিভি লাইসেন্সের প্রয়োজন হয় না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

টিভি লাইসেন্সিং আরও জানিয়েছে, যেসব ঠিকানায় লাইসেন্স নেই বা লাইসেন্স প্রয়োজন নেই—এমন ঘোষণা জমা দেওয়া হয়নি, সেখানে তারা নিয়মিতভাবে চিঠি পাঠিয়ে থাকে। কেউ যদি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন যে তার টিভি লাইসেন্সের প্রয়োজন নেই, তাহলে ওই ঠিকানায় চিঠি পাঠানো বন্ধ করা হয়।

তবে এই ঘোষণা যাচাই করতে সংস্থার কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শনে যেতে পারেন। টিভি লাইসেন্সিংয়ের দাবি অনুযায়ী, এ ধরনের পরিদর্শনে দেখা গেছে—লাইসেন্স প্রয়োজন নেই বলে জানানো প্রতি ১৪ জনের মধ্যে ১ জনের ক্ষেত্রে বাস্তবে লাইসেন্স প্রয়োজন হয়।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে একটি রঙিন টিভি লাইসেন্সের বার্ষিক ফি ১৭৪ পাউন্ড ৫০ পেন্স। চলতি বছরের এপ্রিলে এই ফি বাড়তে পারে বলে আলোচনা থাকলেও, এখনো সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

সূত্রঃ দ্য মিরর

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক যুক্তরাজ্য (UK)

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, কাতারে যুদ্ধবিমান পাঠালো যুক্তরাজ্য

ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে কাতারে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। কাতারের দোহা শহরের কাছে আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে।

 

শুক্রবার যুক্তরাজ্য সরকার জানায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই মোতায়েন করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, কাতার সরকারের আমন্ত্রণে পাঠানো এসব টাইফুন যুদ্ধবিমান যৌথ আরএএফ–কাতারি ইউনিট নম্বর ১২ স্কোয়াড্রনের অংশ হিসেবে কাজ করবে। এর লক্ষ্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা জোরদার করা।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, এই অংশীদারত্ব দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। তার ভাষায়, যৌথ স্কোয়াড্রনের টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে কাতারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা উভয় দেশের অভিন্ন নিরাপত্তা লক্ষ্যকে শক্তিশালী করবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, যা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ একটি স্ট্রাইক গ্রুপ বহন করছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বুধবার মালাক্কা প্রণালি অতিক্রম করেছে রণতরীটি। এর সঙ্গে রয়েছে মার্কিন গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন। পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহ অতিরিক্ত মার্কিন প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামও অঞ্চলটিতে পাঠানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি’ হিসেবে ইরানের দিকে এই ‘নৌবহর’ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বিমানবাহী রণতরী জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ভার্জিনিয়ার নরফোক ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলেও জানা গেছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।

প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র দ্য ন্যাশনালকে জানিয়েছে, এই সামরিক সমাবেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূত্রটি আরও জানায়, ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন শুধু আশ্বাসমূলক নয়, বরং ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা মোকাবিলায় একটি অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করাও এর উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন প্রতিহত করতে টাইফুন যুদ্ধবিমান অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।

টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো আগে সিরিয়ায় আইএসআইএসের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে এবং গত বছর ইয়েমেনে হুতি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার কাতারে এই মোতায়েনকে ‘প্রতিরক্ষামূলক ও সহযোগিতামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা যুক্তরাজ্য–কাতার প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা চুক্তির আওতায় নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইরান আগেও আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাবে আল উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। এই ঘাঁটিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তর অবস্থিত, যা একে ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ইসরায়েল–ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাজ্য এই অঞ্চলে অতিরিক্ত ‘কন্টিনজেন্সি সাপোর্ট’ পাঠিয়েছিল, যাতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়। এছাড়া ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময়ও নিরাপত্তা সহায়তার অংশ হিসেবে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল যুক্তরাজ্য।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো শিগগিরই প্রায় ৫০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে উন্নত রাডার আপগ্রেড পাচ্ছে, যা এগুলোর যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়াবে।

সূত্রঃ দ্য ন্যাশনাল

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

‘শান্তি পর্ষদে’ কানাডাকে দেওয়া আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিলেন ট্রাম্প

ফিলিস্তিনের গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন তদারকিতে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার জন্য কানাডাকে দেওয়া আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

 

মঙ্গলবার দাভোসে দেওয়া বক্তৃতায় শক্তিশালী দেশগুলোর সমালোচনা করে মার্ক কার্নি বলেন, তারা অর্থনৈতিক সম্পর্ককে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে এবং শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার বানাচ্ছে। তার এই বক্তব্যের পরই ট্রাম্প কানাডার আমন্ত্রণ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।

এ বিষয়ে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এই চিঠির মাধ্যমে জানানো হচ্ছে যে, কানাডার কাছ থেকে শান্তি পর্ষদের আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা হলো। এটি একসময় বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নেতাদের পর্ষদে পরিণত হবে।’

শান্তি পর্ষদের আমন্ত্রণ প্রত্যাহার প্রসঙ্গে মার্ক কার্নির দপ্তর কিংবা হোয়াইট হাউস—কোনো পক্ষই রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে কার্নির দপ্তর জানিয়েছিল, তারা শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে এবং তা গ্রহণ করবে।

দাভোসে দেওয়া বক্তৃতায় কার্নি আরও বলেন, নিয়মনীতিভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বিশ্বনেতাদের তা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মধ্যপন্থী শক্তিগুলো’ একসঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের ভুক্তভোগী হওয়া থেকে নিজেদের কীভাবে রক্ষা করতে পারে, সেটি কানাডা দেখাতে পারে। বক্তৃতার পর শ্রোতারা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।

অন্যদিকে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে বেঁচে আছে।’ দাভোসে দেওয়া নিজের বক্তৃতায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদারতার জন্য মার্ক কার্নির কৃতজ্ঞ থাকা উচিত এবং নাম ধরে বলেন, ‘মার্ক, পরেরবার বক্তৃতা দেওয়ার সময় এটা মনে রেখো।’

গতকাল দাভোসে শান্তি পর্ষদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ট্রাম্প। উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি কানাডার আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করেন। এই পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ট্রাম্প।

প্রাথমিকভাবে গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই শান্তি পর্ষদ গঠনের ঘোষণা দিলেও পরে এর পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়। বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের সংঘাত নিরসনই হবে এ পর্ষদের মূল লক্ষ্য। স্থায়ী সদস্য হতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে ১০০ কোটি ডলার করে দিতে হবে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এই পর্ষদ গঠনের সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র রোলান্ডো গোমেজ জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সঙ্গে পর্ষদের যোগাযোগ গাজার প্রেক্ষাপটেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

এ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা, বাহরাইন, মরক্কো, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশ শান্তি পর্ষদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে। তবে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালিসহ কয়েকটি মার্কিন মিত্রদেশ জানিয়েছে, তারা আপাতত এই পর্ষদে যোগ দিচ্ছে না।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ভারতের অধিকাংশ পণ্যে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করল ইইউ

ভারতের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ অধিকাংশ পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা বা জিএসপি (জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস) স্থগিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এই সিদ্ধান্ত চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। ভারতের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও কেনিয়ার পণ্যেও জিএসপি সুবিধা স্থগিত করেছে ইইউ।

ইইউর অফিশিয়াল জার্নাল সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপীয় কমিশন (ইসি) গত ২৫ সেপ্টেম্বর একটি বিধিমালা জারি করে। এর আওতায় ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময়ের জন্য ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও কেনিয়ার কিছু পণ্যে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) জানিয়েছে, জিএসপি সুবিধা স্থগিত হওয়ায় চলতি মাস থেকেই ইইউর বাজারে বড় ধাক্কার মুখে পড়বেন ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা। কারণ, ভারত থেকে ইইউতে রপ্তানি হওয়া প্রায় ৮৭ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে এখন বেশি শুল্ক দিতে হবে আমদানিকারকদের। মাত্র ১৩ শতাংশ পণ্যে জিএসপি সুবিধা বহাল থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্য ও চামড়াজাত পণ্য।

জিএসপি সুবিধার আওতায় ভারতীয় পণ্য আগে ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত জাতি’ (এমএফএন) শুল্কহারের চেয়ে কম হারে শুল্ক দিয়ে ইইউতে প্রবেশ করত। তবে এখন ৮৭ শতাংশ পণ্যে সেই সুবিধা বাতিল হওয়ায় পূর্ণ এমএফএন শুল্ক দিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো তৈরি পোশাকে সাধারণ শুল্কহার যদি ১২ শতাংশ হয়, জিএসপির আওতায় সেখানে দিতে হতো ৯ দশমিক ৬ শতাংশ শুল্ক। এখন সেই পণ্যে পুরো ১২ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।

ইইউ প্রায় সব বড় শিল্প খাতেই ভারতের জন্য জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করেছে। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে খনিজ, রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও রাবার, বস্ত্র ও পোশাক, পাথর ও সিরামিক, মূল্যবান ধাতু, লোহা ও ইস্পাত, মৌলিক ধাতু, যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক পণ্য এবং পরিবহন সরঞ্জাম—যেগুলো ইউরোপে ভারতের রপ্তানির মূল ভিত্তি।

এর আগেও ২০১৩ ও ২০২৩ সালে ধাপে ধাপে ভারতের জিএসপি সুবিধা কমিয়েছিল ইইউ। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিন বছরের জন্য এই সুবিধা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো।

ইইউর সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও জিএসপি স্থগিত হওয়ায় স্বল্প মেয়াদে বড় সংকটে পড়বেন রপ্তানিকারকেরা বলে মন্তব্য করেছেন জিটিআরআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব। তিনি বলেন, “ভারত-ইইউ এফটিএ নিয়ে আশাবাদ থাকলেও বাস্তবে রপ্তানিকারকদের বড় বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। কারণ, জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহারের সময়ই ইইউর কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম) করপর্ব শুরু হচ্ছে।”

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও ইইউর মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৬ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানি ছিল ৭৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ৬০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতের মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ১৭ শতাংশ যায় ইইউর বাজারে। অন্যদিকে, ইইউর মোট রপ্তানির প্রায় ৯ শতাংশের গন্তব্য ভারত।

ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনসের (এফআইইও) মহাপরিচালক অজয় সাহাই বলেন, ইইউ ভারতের প্রায় ৮৭ শতাংশ পণ্যে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করায় অধিকাংশ রপ্তানি পণ্যকে এখন পূর্ণ এমএফএন শুল্কে ইইউতে প্রবেশ করতে হবে। আগে গড়ে প্রায় ২০ শতাংশ শুল্ক সুবিধা পাওয়া গেলেও এখন তা আর থাকছে না। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো দেশের তুলনায় ভারতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাবে, কারণ ওই দেশগুলোর পণ্য এখনো শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে ইউরোপে প্রবেশ করছে।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

গাড়ি কমাতে এলটিএন নীতিঃ লন্ডনের এক বিরাট ট্রাফিক চ্যালেঞ্জ

লন্ডনের কিছু সড়কে অতিরিক্ত বাস লেন ও ‘লো ট্রাফিক নেবারহুড’ (এলটিএন) চালুর ফলে ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচলে যানজট বেড়েছে—এ কথা স্বীকার করেছে ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল)।

 

বুধবার (২১ জানুয়ারি) লন্ডন অ্যাসেম্বলির ট্রান্সপোর্ট কমিটির শুনানিতে টিএফএলের স্ট্রিটস অ্যান্ড নেটওয়ার্ক অপারেশনস বিভাগের পরিচালক কার্ল এডলেস্টন জানান, কোভিড-১৯ মহামারির সময় চালু হওয়া প্রায় ১০০টি এলটিএনের মধ্যে কিছু এলাকায় স্থানীয়ভাবে ট্রাফিকের চাপ বেড়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, অধিকাংশ এলটিএন সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং হাঁটা ও সাইকেল ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য সুফল এনেছে।

এডলেস্টন আরও জানান, এলটিএনের বেশির ভাগ প্রকল্পই বরো কাউন্সিলগুলোর সিদ্ধান্তে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং টিএফএল নিয়মিতভাবে এসব উদ্যোগ পর্যালোচনা করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় পরিবর্তনও আনা হয়েছে।
এদিকে টিএফএলের ট্রান্সপোর্ট স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক ক্রিস্টিনা ক্যালদেরাটো বলেন, লন্ডনের মোট যাত্রার প্রায় ২০ শতাংশ এখনও গাড়ি, ভ্যান ও লরির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। তাই কার্যকর সড়ক নেটওয়ার্ক বজায় রাখা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ও সক্রিয় যাতায়াত বাড়ানোই নীতিগুলোর মূল লক্ষ্য। জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাসের মতো জায়গা-সাশ্রয়ী পরিবহনে সড়ক বরাদ্দ বাড়ানোও অপরিহার্য।
টিএফএলের দাবি, এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে যানজট কমাতে এবং শহরের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশনঃ প্রথম কয়েক মাসে ১০০+ পলাতক অপরাধী গ্রেপ্তার

লন্ডনের ‘অপরাধপ্রবণ এলাকা’ হিসেবে পরিচিত ক্রয়ডনে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন (এলএফআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম কয়েক মাসেই ১০০-এর বেশি পলাতক ও অভিযুক্ত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে। রাজধানীতে এটি প্রথমবারের মতো রাস্তার বাতির খুঁটি ও স্ট্রিট ফার্নিচারে স্থায়ী ক্যামেরা বসিয়ে পরীক্ষামূলক নজরদারি চালানোর উদ্যোগ।

মেট পুলিশ জানিয়েছে, গত অক্টোবর থেকে স্থাপিত ক্যামেরার ফুটেজ দূরবর্তীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হলেও, পুলিশ সদস্যরা সরাসরি উপস্থিত থাকলে ক্যামেরা চালু করা হয়। অপরাধের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় ক্রয়ডনকে এই প্রকল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। আপাতত অন্য এলাকায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেই।

২০২৪ সালের শুরু থেকে ক্রয়ডনে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন ব্যবহার করে মোট ২৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধে জড়িত।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ২০ বছরের বেশি সময় ধরে পলাতক থাকা এক নারী, অপহরণের সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি এবং যৌন ক্ষতি প্রতিরোধ আদেশ ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত এক যৌন অপরাধী।

মেট পুলিশ দাবি করেছে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন ব্যবহার করে লন্ডনজুড়ে ১,৭০০-এর বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই প্রযুক্তির ব্যবহারকে সমালোচনা করেছে। ইক্যুয়ালিটি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস কমিশন একে ‘আইনবহির্ভূত’ বললেও, পুলিশ জানাচ্ছে প্রযুক্তির ব্যবহার আইনসম্মত ও জননিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয়।

এই অবস্থায় যুক্তরাজ্য সরকার ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জনমত সংগ্রহ করছে এবং একটি পৃথক নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের অর্থনৈতিক চাপঃ ম্যাক্রোঁর ‘বোর্ড অফ পিস’ যোগদানে বাধ্য করতে চেষ্টার ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় শান্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে গঠিত “বোর্ড অফ পিস” কমিটিতে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অনুপস্থিতি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেছেন। ম্যাক্রোঁ এই কমিটিতে যোগ দেবেন না জানালে ট্রাম্প বলেন, তাকে কেউ জোর করছে না। তবে সঙ্গে সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, যদি ফরাসি ওয়াইনের ওপর ২০০% শুল্ক আরোপ করা হয়, তবে ম্যাক্রোঁকে যোগ দিতে বাধ্য হতে হবে।

ভিডিও ফুটেজে ট্রাম্পের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে স্পষ্ট যে, তিনি ইউরোপকে মিত্র হিসেবে অনুরোধ করছেন না; বরং রীতিমতো শাসনমূলক ভঙ্গিতে চাপ প্রয়োগ করছেন। এরই প্রমাণ হিসেবে সম্প্রতি ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং ফিনল্যান্ডসহ ন্যাটোর কয়েকটি দেশ গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েন করেছিল। ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তাদের ওপর ১০% শুল্ক আরোপ করা হয়, এবং নীতির সাথে একমত না হলে আগামী জুন থেকে তা ২৫% করার হুমকি দেওয়া হয়।

ইউরোপীয় দেশগুলো ইতিমধ্যেই চাপে পড়ে। যেমন, জার্মানি গ্রিনল্যান্ড থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করেছে। এটি প্রমাণ করে, ট্রাম্প জানেন—যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ন্যাটো কার্যত অচল। একই সঙ্গে তার কৌশল প্রদর্শন করে যে, অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে বজায় রাখা সম্ভব।

বিশ্বের অন্যান্য শক্তিশালী রাষ্ট্র, যেমন চীন ও রাশিয়া যতই কৌশল প্রয়োগ করুক না কেন, পারমাণবিক অস্ত্র বাদ দিলে কনভেনশনাল যুদ্ধে বা জিওপলিটিক্যাল ক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনও একমাত্র সুপার পাওয়ার। ট্রাম্পের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানচিত্রে তার প্রভাবকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে।

সূত্রঃ এম টি এন

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

চালকের পরিচয় না দেওয়ায় যুক্তরাজ্যে একের পর এক মামলায় দোষী টেসলা

যুক্তরাজ্যের পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে বারবার সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইলন মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার ব্রিটিশ শাখার বিরুদ্ধে অন্তত ১৮টি ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব মামলায় মোট জরিমানা, আদালত খরচ ও ফি মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার পাউন্ডেরও বেশি অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

গত দুই বছরে দায়ের হওয়া এসব মামলা মূলত সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে সম্পর্কিত। টেসলা তাদের গাড়িগুলো দীর্ঘমেয়াদি লিজে সরবরাহ করে, যেখানে লিজিং কোম্পানিই গাড়ির নিবন্ধিত মালিক হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে কোনো গাড়ি অতিরিক্ত গতিতে চালানোর সময় ধরা পড়লে, প্রকৃত চালকের পরিচয় পুলিশকে জানানো আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে।

তবে একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, পুলিশি নোটিশ ও চিঠির জবাব সময়মতো না দেওয়ায় চালকের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে চালকের পরিবর্তে টেসলা ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকেই আদালতে অভিযুক্ত হতে হয়েছে এবং দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এমনই এক ঘটনায় দক্ষিণ ওয়েলস পুলিশ জুলাই ২০২৫ সালে এম-ফোর মোটরওয়েতে ঘণ্টায় ৮০ মাইল গতিতে চলা একটি টেসলা গাড়ির চালক শনাক্ত করতে টেসলা ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের কাছে চিঠি পাঠায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক বেকি হজসন ইমেইলের মাধ্যমে দোষ স্বীকার করেন, যদিও তিনি দাবি করেন যে অভ্যন্তরীণ নিয়ম মেনে ডাকযোগে চালকের তথ্য পাঠানো হয়েছিল।

এই মামলায় মার্থার টিডফিল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত টেসলাকে ১,০০০ পাউন্ড জরিমানা, ১২০ পাউন্ড আদালত খরচ এবং ৪০০ পাউন্ড ভিকটিম সারচার্জ প্রদান করার নির্দেশ দেয়।

প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের শুরু থেকে টেসলা ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে অন্তত ১৮টি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় রয়েছে। এসব মামলা মেট্রোপলিটন পুলিশ, হ্যাম্পশায়ার কনস্ট্যাবুলারি ও থেমস ভ্যালি পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী দায়ের করেছে।

নিষ্পত্তি হওয়া একটি মামলায় হ্যাম্পশায়ারের এ-থ্রি সড়কে একটি টেসলা গাড়িকে ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মাইল গতিতে চলতে ধরা হয়। তবে পুলিশের একাধিক চিঠির কোনো জবাব না পাওয়ায় চালককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত কোম্পানিকেই জরিমানার মুখে পড়তে হয়।

আরেক ঘটনায়, এক টেসলা চালক তিনবার অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালাতে ধরা পড়েন, যা তাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকিতে ফেলতে পারত। কিন্তু চালক শনাক্ত না হওয়ায় সে সুযোগ আর তৈরি হয়নি।

শনাক্ত হওয়া অধিকাংশ মামলার বিচার হয়েছে ‘সিঙ্গেল জাস্টিস প্রোসিডিউর’-এর আওতায়, যেখানে সাধারণত ছোটখাটো অপরাধের নিষ্পত্তি করা হয়। এসব মামলায় মোট জরিমানা ও ফি মিলিয়ে ২০,৬৮৬ পাউন্ড আরোপ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে টেসলার কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্রঃ বিবিসি

এম. কে