Categories
আন্তর্জাতিক

রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগে জেপি মরগানের বিরুদ্ধে ৫ বিলিয়ন ডলারের মামলা করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ব্যাংক জেপি মরগান চেজের বিরুদ্ধে ৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে বেআইনিভাবে তার এবং তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তিনি গুরুতর আর্থিক ও সুনামগত ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

 

মামলায় জেপি মরগান চেজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেমি ডাইমনকেও বিবাদী করা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, ২০২১ সালে হঠাৎ করে তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক একাধিক হিসাব বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে অনুপ্রাণিত সিদ্ধান্ত।

২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে দাঙ্গার ঘটনার পর ট্রাম্প সমর্থকদের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে জেপি মরগান এই সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সময় নির্বাচনের ফলাফল অনুমোদনের প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা চালানো হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক করপোরেট প্রতিষ্ঠান ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করে।

ফ্লোরিডায় দায়ের করা মামলায় ট্রাম্প বলেন, তার হিসাব বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ছিল একটি “ব্যবস্থাগত ও গোপন চক্রান্তের অংশ”, যার লক্ষ্য জনগণকে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করা। মামলার নথিতে এটিকে ব্যাংকিং খাতে মতাদর্শভিত্তিক বৈষম্যের একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, তথাকথিত ‘ওক’ বা অতিরিক্ত প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জেপি মরগান মনে করেছিল, রক্ষণশীল রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া তার ও তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাই ব্যাংকের জন্য নিরাপদ।

মামলার ভাষায়, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকটি সচেতনভাবেই তার হিসাব বন্ধ করে।

এছাড়া মামলায় বাণিজ্যিক মানহানির অভিযোগও আনা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, জেপি মরগান তার নাম, তার ব্যবসা এবং পরিবারের সদস্যদের একটি অভ্যন্তরীণ “ব্ল্যাকলিস্টে” অন্তর্ভুক্ত করে, যা অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গেও ভাগাভাগি করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তে জেমি ডাইমনের সরাসরি অনুমোদন ছিল।

অন্যদিকে, জেপি মরগান চেজ এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্যাংকটির এক মুখপাত্র বলেন, মামলার কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কারণে তারা কখনোই গ্রাহকের হিসাব বন্ধ করে না। তাদের দাবি, কেবল আইনি ও নিয়ন্ত্রক ঝুঁকি তৈরি করলে হিসাব বন্ধ করা হয়ে থাকে।

ব্যাংকটি আরও জানায়, অনেক ক্ষেত্রেই কঠোর নিয়ম-কানুন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রত্যাশার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার বন্ধে বর্তমান ও পূর্ববর্তী প্রশাসনের কাছে তারা নিয়ম পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে আসছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ডিব্যাংকিং বা ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি ট্রাম্পের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তিনি প্রকাশ্যে জেপি মরগানসহ বড় বড় ব্যাংকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন এবং তাদের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো জানায়, দেশের শীর্ষ নয়টি ব্যাংক গ্রাহকদের ব্যবসার ধরন অনুযায়ী অনুচিত বৈষম্য করেছে। বিশেষ করে তেল ও গ্যাস, বেসরকারি কারাগার এবং প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন খাতের মতো শিল্পগুলো ব্যাংকিং সেবায় সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে, যা বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম. কে

Categories
বাংলাদেশ

বাংলাদেশ নির্বাচন ইস্যুতে ব্রিটিশ দূতের দিল্লি মিশন ব্যর্থ

বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের আকস্মিক দিল্লি সফর কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নজিরবিহীন এক ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (সাউথ ব্লক) তার সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

সূত্র জানায়, কূটনৈতিক প্রটোকল অনুসরণ না করে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের অনুরোধ জানানোয় গত ২১ জানুয়ারি ভারত সরকার ব্রিটিশ হাইকমিশনারের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।

সারাহ কুক ১৯ জানুয়ারি ঢাকা থেকে দিল্লি পৌঁছান এবং ২২ জানুয়ারি তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

‘নর্থইস্ট নিউজ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লিতে অবস্থানকালে সারাহ কুক বিভিন্ন তথাকথিত “বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের” সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বোঝার চেষ্টা করেন। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে দিল্লিতে অবস্থিত যুক্তরাজ্য হাইকমিশনে একটি বিকল্প বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে দুজন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক, একজন শিক্ষাবিদ এবং একজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত আরেক সাবেক কূটনীতিক বৈঠকে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান, যা বৈঠকের গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।

ওই বৈঠকে সারাহ কুক বাংলাদেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে “খুবই ভালো” বলে উল্লেখ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনকে “গণতান্ত্রিক” হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকলে সেটি অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না।

তবে উপস্থিত সাবেক ভারতীয় কূটনীতিকরা তার এই মূল্যায়নের সঙ্গে তীব্রভাবে দ্বিমত পোষণ করেন। তারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান নির্যাতন, সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে “অকাট্য প্রমাণ” তুলে ধরেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বক্তব্যকে বাস্তবতাবিবর্জিত বলে আখ্যায়িত করেন।

দিল্লি সফরের ঠিক আগেই ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সারাহ কুকের বৈঠক নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। এই সাক্ষাৎ ও পরবর্তী দিল্লি সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। এর আগে ২০২৩–২৪ সালে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে যৌথভাবে কুক বাংলাদেশে “অবাধ ও সুষ্ঠু” নির্বাচনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন।

তবে সাম্প্রতিক বাস্তবতায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান আগের তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়। এই পরিবর্তিত মনোভাব ভারতের কৌশলগত স্বার্থ ও আঞ্চলিক পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র এই ঘটনাকে ২০১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার দিল্লি সফরের সঙ্গে তুলনা করছে। সে সময়ও ভারত সরকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এড়িয়ে তাকে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ও মিয়ানমার বিষয়ক যুগ্ম সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কেউই বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে না। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিএনপিকে চাপে রেখে এবং জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য গোষ্ঠীকে কৌশলগত ছাড় দিয়ে নিজেদের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে—যা ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

সূত্রঃ নর্থ ইস্ট নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে লাইসেন্স পেতে মরিয়া চালকরাঃ ব্লুটুথ আর ভুয়া পরীক্ষার্থীতে ভরে উঠছে ড্রাইভিং সেন্টার

ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে ড্রাইভিংয়ের তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় নকলের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ড্রাইভিং অ্যান্ড ভেহিকল স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি (DVSA)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ড্রাইভিং পরীক্ষায় নকলের চেষ্টা হয়েছে ২ হাজার ৮৪৪ বার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি।

 

তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া উপাত্তে দেখা গেছে, নকলের পদ্ধতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। মোট ঘটনার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ক্ষেত্রে ব্লুটুথ ইয়ারপিস, লুকানো মোবাইল ফোন ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত ডিভাইস ব্যবহার করে তত্ত্বীয় পরীক্ষায় নকল করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু ব্লুটুথ সংক্রান্ত ঘটনাই ছিল ১ হাজার ১১৩টি।

নকলের আরেকটি বড় প্রবণতা হলো পরীক্ষার্থীর ছদ্মবেশ ধারণ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ হাজার ৮৪ বার তত্ত্বীয় পরীক্ষায় এবং ৬৪৭ বার ব্যবহারিক পরীক্ষায় নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর জায়গায় অন্য কেউ পরীক্ষায় বসার চেষ্টা করেছে। এসব ঘটনায় সংগঠিত চক্রের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও উঠে এসেছে তদন্তে।
গত ১২ মাসে ড্রাইভিং পরীক্ষায় নকল বা ছদ্মবেশ ধারণের অভিযোগে মোট ৯৬ জনকে আদালতে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে ড্রাইভিং নিষেধাজ্ঞা, কারাদণ্ড, কমিউনিটি সার্ভিস বা আদালতের খরচ বহনের মতো শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

অ্যাস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রড রিসার্চ গ্রুপের প্রধান ড. রাশা কাসেম সতর্ক করে বলেছেন, অবৈধভাবে ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাস করা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। তার মতে, প্রকৃত দক্ষতা ছাড়া লাইসেন্স পাওয়া চালকদের কারণে দুর্ঘটনা, আহত ও মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, যা শুধু আইন ভঙ্গ নয়—একটি গুরুতর প্রতারণাও বটে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, নকল পরীক্ষার জন্য ছদ্মবেশধারীদের কখনো কখনো একেকটি পরীক্ষায় পাস করিয়ে দিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। ২০২৫ সালে একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে, পেশাদার ভুয়া পরীক্ষার্থী চক্র দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে সক্রিয় ছিল।

এই পরিস্থিতির পেছনে ড্রাইভিং পরীক্ষার দীর্ঘ অপেক্ষাকাল বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে ব্যবহারিক ড্রাইভিং পরীক্ষার স্লট পেতে শিক্ষানবিশ চালকদের মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ন্যাশনাল অডিট অফিস সতর্ক করেছে, বর্তমান গতিতে চললে এই ব্যাকলগ পুরোপুরি কাটতে ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

ড্রাইভিং ইনস্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কার্লি ব্রুকফিল্ড বলেন, অতিরিক্ত চাহিদা ও সীমিত পরীক্ষার সুযোগের কারণে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাচ্ছেন। দ্রুত লাইসেন্সের প্রয়োজন, বিশেষ করে চাকরির তাগিদে, কিছু মানুষকে নকলের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তবে DVSA দাবি করেছে, পরীক্ষার দীর্ঘ অপেক্ষার সঙ্গে নকল বৃদ্ধির সরাসরি প্রমাণ তারা পায়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, নকল ঠেকাতে পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর মুখের সঙ্গে ছবি মিলিয়ে দেখা এবং তত্ত্বীয় পরীক্ষায় ইয়ারপিস, পকেট ও পোশাক পরীক্ষা করা হচ্ছে।

DVSA-এর এনফোর্সমেন্ট সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক মারিয়ান কিটসন বলেছেন, ড্রাইভিং পরীক্ষায় প্রতারণা শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, এটি সড়কে চলাচলকারী সবার জীবন ঝুঁকিতে ফেলে। প্রতারণা দমনে তাদের কাউন্টার-ফ্রড টিম পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

শ্রীলঙ্কায় হলে খেলবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপঃ ভারতের কাছে মাথা নোয়াবে না বাংলাদেশ

মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে সাম্প্রতিক নিরাপত্তাজনিত ঘটনার পরও আইসিসি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেনি, অতএব ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবার কোনো প্রশ্নই আসে না বলে জানালেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বাস্তব নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আইসিসি মূল ঘটনার জায়গায় না গিয়ে কেবল নিয়মতান্ত্রিক নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার কথা বলেছে। ফলে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ তারা দেখছে না।
গতকাল জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর আসিফ নজরুল বলেন, ভারতে খেলতে গিয়ে বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটার যে পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন, সেটি কোনো অনুমান নয়; বরং একটি বাস্তব ও প্রমাণিত ঘটনা, ‘আমাদের নিরাপত্তা আশঙ্কা কোনো থিওরেটিক্যাল অ্যানালাইসিস থেকে তৈরি হয়নি।

যেখানে আমাদের একজন খেলোয়াড় উগ্রবাদীদের চাপে নিরাপত্তা না পেয়ে কার্যত দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, সেই দেশেই আবার বিশ্বকাপ খেলতে বলা হচ্ছে, এটি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে?’ আসিফ নজরুলের অভিযোগ, ওই ঘটনার পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করার মতো কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়া হয়নি, ‘যে ঘটনা থেকে আমাদের আপত্তির জন্ম, সেই ইনসিডেন্ট নিয়েই আইসিসি কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। তারা শুধু বলছে, স্ট্যান্ডার্ড সিকিউরিটি প্রটোকল আছে।

কিন্তু মোস্তাফিজের ক্ষেত্রে সেই প্রটোকল কোথায় ছিল, তার কোনো ব্যাখ্যা আমরা পাইনি।’ নিজেকে ক্রিকেটের একজন বড় ভক্ত দাবি করে ক্রীড়া উপদেষ্টা আরো বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি শুধু খেলোয়াড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দলের সঙ্গে থাকা সাংবাদিক, কর্মকর্তাসহ সম্ভাব্য দর্শকরাও একই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন, ‘একটি বিশ্বকাপ খেললে আর্থিক বা ক্রীড়াগত লাভ হতে পারে সে কথা ঠিক।

কিন্তু মাথা নত করে নিজেদের মানুষকে জেনুইন সিকিউরিটি রিস্কের মধ্যে ঠেলে দিলে যে ক্ষতি হতে পারে, সেটিও আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।’ এই প্রেক্ষাপটে আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে দেন, ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তটি সরকারের, ‘কোনো দেশের নাগরিক অন্য দেশে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কি না, সেটি দেখার দায়িত্ব সরকারের। এটি অন্য কারো বিবেচনার বিষয় নয়। আইসিসি বা অন্য কোনো পক্ষ এই সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে না।’

একই সুরে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি জানান, মুস্তাফিজকে আইপিএলের দল থেকে বাদ দেয়ার পেছনে নিরাপত্তাজনিত কারণ ছিল, এ তথ্য জানার পরপরই বিসিবি বিষয়টি আইসিসিকে অবহিত করে, ‘মুস্তাফিজ ইনজুরড ছিলেন না, নিজে নাম প্রত্যাহারও করেননি, বিসিবিও তার এনওসি বাতিল করেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাকে বাদ দেয়া হয়েছিল। সেখান থেকেই আমরা বুঝেছি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য এটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ইস্যু।’

এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্ব বিরল নয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক আসরেই বেশ কিছু দেশ আয়োজক দেশে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে এমনকি এই ভারতও নিরাপত্তার অজুহাতে বৈশ্বিক আসর বয়কট করেছে, বাংলাদেশ সফরও বাতিল করেছে। আইসিসিও একাধিকবার ভেন্যু পরিবর্তন বা হাইব্রিড মডেল গ্রহণ করেছে।

পাকিস্তান ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদাহরণ তুলে ধরে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেয়া হলেও তা নাকচ করা হয়েছে। তবে হতাশার মধ্যেও বাংলাদেশ পুরোপুরি আশা ছাড়ছে না বলে জানান বিসিবি সভাপতি, ‘আমাদের একটাই চাওয়া, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা ভারতে খেলতে চাই না। আমরা শ্রীলঙ্কার মাটিতে খেলতে প্রস্তুত। দল প্রস্তুত আছে, আমরা শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাব।’

আইসিসির সভায় ভোটে হেরে যাওয়ার পর সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য সময় চেয়ে নিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি। কিন্তু এখন তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন আইসিসিকেই, ‘একটা বৈশ্বিক সংস্থা এভাবে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিতে পারে না। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’ আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশকে নিয়ে যেভাবে কড়া বার্তা দেয়া হয়েছে, সেটি বিসিবির জন্য ‘শকিং’ কি না, জিজ্ঞেস করা হলে আমিনুল বলেন, ‘আমরা প্রেস রিলিজটা দেখিনি। তবে যে মিটিংটা হয়েছে, সেখানে কিছু শকিং বিষয় ঘটেছিল।’

বৈঠকে ক্রীড়া উপদেষ্টা, ক্রীড়া সচিব ও বিসিবি সভাপতি ছাড়াও ছিলেন বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমুল আবেদীন। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের বাইরে টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ছিলেন বৈঠকে।

ক্রিকেটারদের সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে, ক্রিকেটাররা কী বলেছেন, সেসব প্রকাশ করা হবে না বলেও জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা। তবে সিদ্ধান্ত যে সরকারের, তা পরিষ্কার জানিয়ে দেন তারা, ‘আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিই, এই যে সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা এটি আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো একটি দেশের মানুষ অন্য একটি দেশে গেলে সিকিউরিটি রিস্ক আছে কি না, সেটি সরকার বিবেচনা করে দেখে। এটি অন্য কারো বিবেচনার স্কোপ নেই।’

বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের ক্ষতি কেমন হতে পারে, এই প্রশ্নে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা, ‘বিশ্বকাপ খেললে বাংলাদেশের কি ক্ষতি হবে সেটিও আপনাদের বিবেচনায় নেয়া উচিত। মাথা নত করে, নিজের দেশের মানুষকে সিকিউরিটি রিস্কের মধ্যে ফেলে, এই আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা না করে, একটি জেনুইন রিস্কের মধ্যে নিজের দেশের শুধু খেলোয়াড় না, দর্শক এবং সাংবাদিকদেরকে ঠেলে দিলে কী ক্ষতি হতে পারে, সেটিও আপনাদের সবার বিবেচনায় নেয়া উচিত।’

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ বয়কট করতে বললেন রাশিদ লাতিফ

নিরাপত্তা শঙ্কায় নিজেদের বিশ্বকাপ ভেন্যু ভারত থেকে সরিয়ে নিতে আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে আইসিসি সাফ জানিয়ে দেয়, বিশ্বকাপে খেলতে হলে ভারতেই খেলতে হবে। এমন কঠিন সময়ে বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ। শুধু তাই নয়, এই ইস্যুতে পাকিস্তানকেও বিশ্বকাপ বয়কট করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

রশিদ লতিফ বলেন, পাকিস্তান ও ভারতের ম্যাচ যদি না নয়, অর্ধেক বিশ্বকাপই শেষ। এখনকার ক্রিকেট ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর এটা দারুণ একটি সুযোগ। পাকিস্তানের বলা উচিত যে, তারা বাংলাদেশের পাশে আছে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এখনই উপযুক্ত সময় অবস্থান নেওয়ার। এটা করতে হলে শক্ত মনোবল প্রয়োজন।

বাংলাদেশের ভেন্যু জটিলতা নিয়ে বুধবার (২১ জানুয়ারি) সভা করে আইসিসি। এরপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, স্বাধীন নিরাপত্তা পর্যালোচনাসহ সব ধরনের নিরাপত্তা মূল্যায়ন বিবেচনা করে ভারতের ভেন্যুগুলোতে বাংলাদেশের ক্রিকেটার, সংবাদকর্মী, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের কোনো ঝুঁকি বা হুমকি দেখছে না তারা।

আইসিসির এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন রশিদ লতিফ। তিনি বলেন, ‘এটা ভালো সিদ্ধান্ত বলে মনে হচ্ছে না। আইসিসি বলছে, ভারতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। বিশ্বের কোনো সংস্থাই বলতে পারে না যে, কোনো বিপদ হবে না- আইসিসি কীভাবে তা বলতে পারে? সবচেয়ে নিরাপদ স্থানেও কেউ এমন নিশ্চয়তা দিতে পারে না। আশা করি, কোন দলেরই কিছু হবে না।’

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ড কিনতে ১ বিলিয়ন ডলার লাগতে পারেঃ পুতিন

গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করবে না বলে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে- তা রাশিয়ার কোনো বিষয় নয়; এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ককেই নিজেদের মধ্যে সমাধানে পৌঁছাতে হবে।

পুতিন বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ডে কী হচ্ছে, তা আমাদের একেবারেই কোনো উদ্বেগের বিষয় নয়।’ তবে একই সঙ্গে তিনি ডেনমার্কের সমালোচনা করে বলেন, দেশটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডকে কার্যত উপনিবেশ হিসেবে শাসন করেছে এবং সেখানে কঠোর, এমনকি নিষ্ঠুর আচরণ করেছে।

মস্কো এমন এক সময়ে এই মন্তব্য করল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের উদ্যোগ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের ফাটল তৈরি করেছে। যদিও এই উদ্যোগ রাশিয়ার জন্যও ভূরাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পার। কারণ আর্কটিক অঞ্চলে মস্কোর ইতোমধ্যেই শক্ত অবস্থান রয়েছে। তবু এই বিরোধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দূরত্ব বাড়ায় রাশিয়া সন্তোষ প্রকাশ করছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

এদিকে ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে বুধবার ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নেন। তিনি ডেনমার্কের ওপর শুল্ক আরোপ করে চাপ তৈরির হুমকি থেকে সরে আসেন এবং শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেন। বরং আধা-স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি সমঝোতার দিকে অগ্রগতির ইঙ্গিত দেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যু কয়েক দশকের মধ্যে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি করতে পারত।

গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে পুতিন ঐতিহাসিক উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতে এমন ভূখণ্ড বিক্রির নজির রয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৮৬৭ সালে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলাস্কা বিক্রি করেছিল মাত্র ৭.২ মিলিয়ন ডলারে। আবার ১৯১৭ সালে ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভার্জিন আইল্যান্ডস বিক্রি করে।

এই নজিরের কথা তুলে ধরে পুতিন বলেন, মুদ্রাস্ফীতি, গ্রিনল্যান্ডের বিশাল আয়তন এবং স্বর্ণের দামের পরিবর্তন হিসাব করলে দ্বীপটি কিনতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার লাগতে পারে। আমার মনে হয়, ওয়াশিংটন সেই অর্থ দিতে সক্ষম।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট না করতেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে রাশিয়া সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। যদিও ডেনমার্ক ইউক্রেনকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেওয়ায় মস্কো ক্ষুব্ধ, তবু ট্রাম্পের পরিকল্পনার সরাসরি সমালোচনা করেনি রাশিয়া।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ আগেই মন্তব্য করেছিলেন, সম্পদসমৃদ্ধ এই দ্বীপটি ডেনমার্কের স্বাভাবিক অংশ নয়। তবে মস্কো জোর দিয়ে বলছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের আলোচনায় রাশিয়া কোনো পক্ষ নেবে না। পুতিনের ভাষায়, ‘তারা নিজেদের মধ্যেই বিষয়টি মিটিয়ে নেবে।’

সূত্রঃ তাস

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

মার্কিন কূটনীতিকের অডিও ফাঁসঃ জামায়াতের ভালো ফলাফলের সম্ভাবনা, দলটির সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের এক কূটনীতিকের সঙ্গে কয়েকজন নারী সাংবাদিকের কথোপকথনের একটি অডিও পেয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। ওই অডিওতে মার্কিন কূটনৈতিককে বলতে শোনা গেছে, বাংলাদেশ এখন ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকে গেছে। আর আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন পাবে। এমন অবস্থায় তারা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চান।

এমনকি ঢাকাভিত্তিক ওই কূটনীতিক নারী সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন, ছাত্রশিবিরের নেতাদেরকে টিভি অনুষ্ঠানে আনবেন কি না?

জামায়াত শরীয়াহ আইন চালু করবে না বলে মত দেন ওই কূটনৈতিক। যদি শরীয়াহ আইন চালু করে এবং নারীদের পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে না পারার কথা বলা হয়, সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের আর কোনো অর্ডার নেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

তার মতে, ‘অর্ডার না থাকার মানে হলো বাংলাদেশের অর্থনীতিও থাকবে না।’ এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ও উচ্চশিক্ষিত অনেক লোক রয়েছে। তাদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে শরীয়াহ আইন করলে কী হবে।

তখন পোষাক শিল্পের ওপর শুল্কারোপের কথাও বলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমটি আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মোনিকা শিই-র কাছে যোগাযোগ করেছিল ওয়াশিংটন পোস্ট। এই আলোচনার কথা স্বীকার করেন মোনিকা শিই।

তিনি জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বরে এই আলোচনা হয় এবং এটি নিয়মিত বৈঠকের অংশ ছিল। যেখানে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা কথাবার্তা বলেন। তবে এসব কথাবার্তা বাইরে প্রকাশ করা হয় না।

তবে, জোর দিয়ে মোনিকা শিই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না এবং জনগণের ভোটে যে সরকারই নির্বাচিত হোক, তার সঙ্গেই কাজ করবে।

এদিকে, ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকের ব্যাপারে কথা বাইরে বলেন না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান। তবে তিনি জানান, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির ওয়াশিংটনে জামায়াত-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের চারবার বৈঠক হয়েছে। আর ঢাকায় বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে।

এছাড়া, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রেয়ারের সঙ্গে ভার্চুয়ালিও বৈঠক হয় জামায়াতের।

সূত্রঃ ওয়াশিংটন পোস্ট

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

‘বেহেশতের টিকিট বিক্রি শিরকের পর্যায়ে পড়ে’, সিলেটে তারেক রহমান

ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের নিশ্চয়তা দেওয়া শিরকের পর্যায়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচন ব্যবস্থায় পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ডাকাতি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

 

আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান তার প্রথম নির্বাচনী জনসভায় বলেন, ‘দোজখ, বেহেশত ও দুনিয়ার একমাত্র মালিক আল্লাহ। এসব বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কোনো নিশ্চয়তা দেওয়ার অধিকার নেই। অথচ একটি রাজনৈতিক দল বেহেশতের টিকিট দেওয়ার কথা বলছে। যেটার মালিক আল্লাহ, কোনও মানুষ তো সেটা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। এটি আল্লাহর সঙ্গে শিরক করার শামিল।’

এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে জনগণকে নির্বাচনের আগেই প্রতারিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজ তারা বেহেশতের টিকিটের কথা বলে আপনাদের ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পর তারা আপনাদের কীভাবে ঠকাবে, সেটা আপনারাই ভেবে দেখুন। শুধু মানুষকে ঠকানোই নয়, এভাবে তারা মুসলমানদের শিরকের দিকেও ঠেলে দিচ্ছে।’

জনসভায় বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ ইদানীং বলছে—অমুককে দেখেছেন, তমুককে দেখেছেন, এবারও এদের দেখুন। কিন্তু দেশের মানুষ তাদের ১৯৭১ সালেই দেখেছে। মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময়ই আমরা তাদের দেখেছি। তাদের কারণেই লক্ষ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাদের কারণে মা-বোনেরা সম্মান হারিয়েছেন।’

বক্তব্যে পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গেও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি এই ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘ভোটের নামে দেশে ডাকাতি চলছে। বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।‘ তাঁর ভাষায়, ‘পোস্টাল ব্যালটের নামে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। জনগণের ভোট আগেই ডাকাতি করে নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’ ধর্ম, ইতিহাস ও নির্বাচন—সবকিছু ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি এসবের বিরুদ্ধে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

হাসিনা যুগের সমাপ্তি? জয় বললেন ‘সম্ভবত তাই’

ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ যদি আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়, সেক্ষেত্রে শেখ হাসিনাকে আর দলের নেতৃত্বে নাও দেখা যেতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন। পার্টিতে এমনিতেই তার মেয়াদ শেষ। বয়সও হয়েছে।

 

সাক্ষাতকারে জয় বলেন, ‘আমার মা আসলে দেশে ফিরতে চান। তিনি অবসর নিতে চান। তিনি বিদেশে থাকতে চান না।’

মার্কিন নাগরিক সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে তার বাসভবনে এই সাক্ষাতকার নেন আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, ‘অবশ্যই আছে। আওয়ামী লীগ কোথাও যাচ্ছে না। এটা সবচেয়ে প্রাচীন ও বড় দল। আমাদের ৪০-৫০ শতাংশ ভোট আছে। আপনি কি মনে করেন ৪০-৫০ শতাংশ মানুষ হঠাৎ সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে দেবে? দেশের ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৬-৭ কোটি ভোটার আওয়ামী লীগের। তারা কি হঠাৎ সমর্থন বন্ধ করে দেবে?’

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালান টানা চারবারের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা। তিনি ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড সাজা হয়েছে। এমতাবস্থায় দেশে ফিরতে হলে তাকে সাজা ভোগ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে শ্রীনিবাসন জৈন বলেন, ‘আমি জিজ্ঞেস করছি কারণ আপনি বলেছেন, আপনার মা রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন। এখন, যদি তিনি কখনো বাংলাদেশে ফিরে যান, তিনি কি আর রাজনীতিতে থাকবেন না?’

উত্তরে জয় বলেন, ‘না, তার বয়স হয়েছে (৭৮ বছর)। এমনিতেই এটা তার শেষ মেয়াদ হত। তিনি অবসর নিতে চাচ্ছেন।’

শ্রীনিবাসন জৈন তখন প্রশ্ন করেন, তাহলে এটাকে কি ‘হাসিনা যুগের সমাপ্তি’ বলা যায়?

শেখ হাসিনার ছেলে জয় বলেন, ‘সম্ভবত তাই।’

এই সাংবাদিক আবারও প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে আপনি বলছেন যে আওয়ামী লীগ যদি আবার বাংলাদেশে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পায়, তাকে (শেখ হাসিনা) ছাড়াই সেটা হবে?’

জয় বলেন, ‘হ্যাঁ। আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। এটা সবচেয়ে পুরনো দল। ৭০ বছর ধরে আছে। তাকে (শেখ হাসিনা) সঙ্গে নিয়ে অথবা তাকে ছাড়াই এ দল চলবে। তিনি… কেউ তো চিরদিন বাঁচে না।’

ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন শেখ হাসিনা। তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী। জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারছে না।

দলের অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা বর্তমানে দেশের বাইরে আত্মগোপনে আছেন। যারা দেশে ছিলেন, তাদের অনেকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের অধীনে ১৫ বছরে যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে, তার সবগুলোই নানা অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সে সময় জামায়াতে ইসলামী ছিল নিষিদ্ধ। আর এখন আওয়ামী লীগের কার্যকম নিষিদ্ধ, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারছে না।

সে প্রসঙ্গ ধরে শ্রীনিবাসন জৈন প্রশ্ন করেন, ‘আপনি একমত হবেন, সার্বিকভাবে রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ একটি বাজে ধারণা। বহু মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থাও তাই বলে। কিন্তু এখানে কি এক ধরনের আয়রনি নেই? আপনি যখন কারচুপির নির্বাচন ও অনিয়মের অভিযোগ করেন, ঠিক সেই অভিযোগ তো বছরের পর বছর ধরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে।’

ওই অভিযোগ থাকার কথা মেনে নিয়েই জয় তার উত্তরে বলেন, আওয়ামী লীগ ‘কখনো কাউকে’ নিষিদ্ধ করেনি। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছিল আদালতের সিদ্ধান্তে।

আওয়ামী লীগের সময়ের নির্বাচনগুলোতে অনিয়মের অভিযোগ এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও জাতিসংঘের সমালোচনার বিষয়গুলো সামনে আনলে সজীব ওয়াজেদ জয় ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের জরিপের কথা তোলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জরিপ, আমেরিকানদের জনমত জরিপ—সবই দেখাচ্ছিল আওয়ামী লীগ বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবে। আমাদের কারো কোনো অনিয়মের প্রয়োজন ছিল না। প্রশাসনের ভেতরে কিছু লোক নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে এসব করেছে। দলীয় দিক থেকে আমার মা ও আমি ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছিলাম।’

‘আমরা একটি পরিচ্ছন্ন নির্বাচন চেয়েছিলাম, কারণ আমরা যে কোনোভাবেই জিততে যাচ্ছিলাম। আমাদের জনমত জরিপ—আমি নিজেই আমাদের দলের জন্য জরিপ পরিচালনা করি—আমরা ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬০টি আসনে জরিপ করেছিলাম, যেগুলো ছিল মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র। ওই ১৬০টি আসনে আমাদের সর্বনিম্ন জয়ের ব্যবধান ছিল ৩০ শতাংশ। তাই কোনোভাবেই এর প্রয়োজন ছিল না।’

জয় দাবি করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে কোনো ‘কারচুপি হয়নি’। বিরোধী দলগুলো নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটা ‘দুর্ভাগ্যজনক’।

সজীব ওয়াজেদ জয় এর আগে এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো নির্বাচন ‘হতে দেওয়া হবে না’। সরকার যদি দমন–পীড়ন চালায়, তাহলে তা ‘সহিংসতার দিকে যাবে।’

সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে শ্রীনিবাসন জৈন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞার একটি কারণ হিসেবে সরকার বলছে, আপনারা এসব নির্বাচনে সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছেন। আর সেটি কি সত্য নয়? কারণ আপনি সাক্ষাতকারে বলেছেন…’

জবাবে জয় বলেন, ‘দেখুন, যখন কাউকে একেবারে কোণঠাসা করে ফেলা হয়, তখন আর কী… কী হবে? আমরা সহিংসতা চাই না। আমাদের তো প্রতিবাদ করতেও দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ কী সহিংসতা করছে?’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের ওপর নিপীড়নের পাল্টা অভিযোগ এনে জয় বলেন, ‘গত বছরের জুলাইয়ের আন্দোলনের পর থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের শত শত কর্মী নিহত হয়েছেন। ত্রিশের বেশি মানুষ হেফাজতে মারা গেছেন। মাত্র গত সপ্তাহেই আমাদের দলের এক সংখ্যালঘু নেতা, একজন হিন্দু ভদ্রলোক, কারাগারে হেফাজতে নিহত হয়েছেন।’

‘আপনি বলছেন, ভুলকে ভুল দিয়ে ঠিক করা যায় না। আবারও বলছি, যখন কাউকে বলপ্রয়োগ করে দমন করা হয়, কোনো বিকল্প না রাখা হয়, তখন কী হবে?’

শ্রীনিবাসন জৈন তখন বলেন, ‘কিন্তু জনাব ওয়াজেদ, আপনি কি মনে করেন না, এই ধরনের বক্তব্য (সহিংসতার পথে যাবে) ব্যবহার করে আপনি আসলে সেই ধারণাকেই সমর্থন করছেন যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা উচিত? কারণ আপনি সহিংসতার এই হুমকিটা সামনে রাখছেন—আমাদের ভোট করতে দিন, নইলে…।’

জয় উত্তরে বলেন, ‘আমি সহিংসতার হুমকি দিইনি। আমি বলেছি, আমাদের যদি সহিংসভাবে দমন করা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সহিংসতা হবে। আমি আমার কর্মীদের হামলা করতে বলিনি।’

আল জাজিরার সাংবাদিক তখন ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনা এবং তাতে আওয়ামী লীগ কর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করেন।

তিনি বলেন, ‘এটা কি সত্যি? তার হত্যার পেছনে কি আওয়ামী লীগের হাত ছিল?’

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘অবশ্যই না। দেখুন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর মত সক্ষমতা যদি আমাদের থাকত, তাহলে আপনি কি মনে করেন এই রেজিম (অন্তর্বর্তী সরকার) এখনো টিকে থাকত?’

শেখ হাসিনার ছেলে দাবি করেন, হাদি হত্যার পেছনে আওয়ামী লীগ নেই, এমন সহিংস লোকজন আওয়ামী লীগের ‘নেই’, হয়তো অন্য সংগঠনের থাকতে পারে।

হাদিকে গুলি করার জন্য যাকে দায়ী করা হচ্ছে, সেই ফয়সাল করিম মাসুদ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের ভাষ্য। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের কড়া সমালোচক ছিলেন হাদি, সে কারণেই তাকে হত্যা করা হয়, এটি ছিল ‘রাজনৈতিক প্রতিশোধের’ ঘটনা।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জয় বলেন, ‘শুটার কে, তা আমি জানি না। এ বিষয়ে অনেক নাম সামনে এসেছে। তারা এমন অনেকের নাম বলেছে, যাদের এর সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই। আমাদের ছাত্রসংগঠনের কথা যদি বলেন, বিশেষ করে আমরা যখন সরকারে ছিলাম, তখন এর সঙ্গে অসংখ্য তরুণ যুক্ত ছিল। সে (ফয়সাল) কি সত্যিই যুক্ত ছিল? কতটা যুক্ত ছিল? তার কি কোনো পদ ছিল? সবকিছুর দায় তারা আওয়ামী লীগের ওপর চাপাচ্ছে।’

শ্রীনিবাসন তখন বলেন, ‘কিন্তু এই ধারণা করা কি যুক্তিসংগত নয় জনাব ওয়াজেদ? কারণ একদিকে আপনি সহিংসতার সম্ভাবনা, সহিংসতার হুমকির কথা বলছেন, আর অন্যদিকে বাস্তবেই একটি সহিংস ঘটনা ঘটেছে।’

জয় তখন বলেন, তার সহিংসতার কথা এসেছে ‘প্রতিবাদ থেকে’।

‘আপনি কি বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে রাস্তায় নামতে দেখছেন? সেটাই তো হচ্ছে না। আমাদের দশ হাজারের বেশি মানুষ কারাগারে। আমরা যখনই প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছি, তখনই সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত নয়। এখন আমাদের প্রচারণা হল—এই কারচুপিপূর্ণ নির্বাচনে মানুষ যেন ভোট না দেয়। আমরা সেটাই করছি।’

জয়ের কাছে শ্রীনিবাসন জানতে চান, চব্বিশের অভ্যুত্থান দমানোর ‘নির্মম’ চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়। এসবের জন্য কোনো অনুশোচনা আছে কি না।

জবাবে শেখ হাসিনার ছেলে বলেন, ‘সেটা সত্য নয়। আপনি যদি অনলাইনে আমার বক্তব্য শুনে থাকেন, দেখবেন আমি বারবার বলেছি—আওয়ামী লীগ ঠিকমত বিক্ষোভ সামলাতে পারেনি। আমাদের সরকার মিসহ্যান্ডেল করেছে।’

আল জাজিরার সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, যেখানে ‘শেখ হাসিনার নির্দেশে’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শত শত নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে, সেখানে ‘মিসহ্যান্ডেলড’ শব্দটি কি অনেক বেশি নমনীয় নয়?

সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেন, এর কোনো কিছুই তার মায়ের নির্দেশে হয়নি।

জয় বলেন, ‘আমার মা যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করতে চাইতেন, তাহলে তিনি এখনো ক্ষমতায় থাকতেন। ইরানে এখন যা ঘটছে, সেটাই দেখুন। তারা কি কিছু করতে পারছে? না।’

৫ অগাস্ট সরকারপতনের দিনের কথা তুলে ধরে জয় বলেন,‘আমার মা বারবার বলেছেন—সেদিন আমার সঙ্গে আলাপেও তিনি বলছিলেন, ‘তারা (বিক্ষোভকারীরা) প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। আমাদের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রধানমন্ত্রীর দেহরক্ষীরা তাকে রক্ষা করতে প্রস্তুত। কিন্তু যদি সেটা ঘটে, শত শত মানুষ মারা যাবে। আমি তাদের রক্ত আমার হাতে নিতে চাই না।’

‘এটাই আমার মায়ের কথা। ওই সময়ে শত শত পুলিশ সদস্য নিহত হন। আমাদের শত শত কর্মীও নিহত হন। এই রেজিম (অন্তর্বর্তী সরকার) আসলে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়েছে…।’

আল জাজিরার প্রতিবেদন, বিবিসির প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন অডিও রেকর্ডের প্রসঙ্গ টেনে শ্রীনিবাসন জৈন প্রশ্ন করেন, ‘সেগুলোর কথা কীভাবে অস্বীকার করবেন? সেখানে আপনার মাকে বলতে শোনা গেছে, তিনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি তো পুরোপুরি ওপেন অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। এখন ওরা মারবে, যেখানে পাবে সেখানে গুলি করবে।’

জবাব দিতে গিয়ে জয় দাবি করেন, আল জাজিরা ও বিবিসি পুরো ক্লিপ শোনায়নি, ফলে সেখানে প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয়নি।

জয় বলেন, ‘আমি পুরো ক্লিপটি আমার ফেইসবুক পেজে দিয়েছিলাম। সেখানে তিনি বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার এবং জানমাল ও সম্পত্তি রক্ষায় সশস্ত্র জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে জঙ্গিরা জড়িত ছিল। অনলাইনে এমন ভিডিও আছে, যেখানে বেসামরিক লোকদের অস্ত্রসহ দেখা যায়।’

শ্রীনিবাসন বলেন, জয়ের ফেইসবুক পেইজ খুঁজে ওইরকম কোনো অডিও ক্লিপ তিনি পাননি। জয় তখন তাকে বলেন, ওই অডিও ক্লিপ তিনি আবার প্রকাশ করবেন।

জয় যেখানে বলছেন, জানমাল রক্ষায় শেখ হাসিনা ওই নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে কিনা, সেই প্রশ্ন রাখেন আল জাজিরার সাংবাদিক।

উত্তরে জয় বলেন, ‘সেটা (ওই নির্দেশ) ছিল সহিংস বিক্ষোভকারী, সশস্ত্র বিক্ষোভকারী, সন্ত্রাসীদের জন্য। নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের জন্য নয়। এখন বলুন তো, কোনো দেশে যদি সশস্ত্র বিক্ষোভকারীরা মানুষ ও পুলিশকে গুলি করতে থাকে, তাহলে আইনের দৃষ্টিতে সরকার কী করবে?’

সাক্ষাতকারের এ পর্যায়ে শ্রীনিবাসন জৈন প্রশ্ন করেন, তাহলে আবু সাঈদ, জোবায়েদ হোসেন ইমন, মীর রহমান মুগ্ধের মত নিরস্ত্র তরুণরা, যারা পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন, তারাও উগ্রবাদী কিনা।

উত্তরে জয় বলেন, ‘পরিস্থিতি তখন অত্যন্ত সহিংস ছিল। কিছু পুলিশ সদস্য অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছিলেন। আমাদের সরকারের আমলে সে সময় অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তদন্তের জন্য আমরা একটি বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করেছিলাম। সেই তদন্তগুলো কেন আর এগোয়নি?’

জয় কিংবা তার মা শেখ হাসিনা নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত কিনা-সেই প্রশ্ন রাখা হয় সাক্ষাতকারে।

উত্তরে জয় বলেন, আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পরপরই তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তার মা, তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জয় বলেন, ‘আমাদের সরকারের পতনের আগে তিনি এসব পরিবারের কয়েকটির সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনি পূর্ণ তদন্ত ও পূর্ণ জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।’

যখন বলা হল, জুলাই আন্দোলনে কেবল ওই কয়েকজন নন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার তথ্য এসেছে এবং তাদের বেশিরভাগই ছিলেন ‘নির্দোষ, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারী’, তখন জয় বলেন, সরকারের হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা প্রায় ৮০০।

‘১,৪০০ সংখ্যাটি ধরা হয়েছে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত। আমাদের সরকার পতন হয় ৫ অগাস্ট। ৫ অগাস্ট থেকে ১৫ অগাস্টের মধ্যে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের কে হত্যা করেছে?’

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘আমাদের সরকার পতনের পর যে ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে, তাদের কী হবে? তাদের কে হত্যা করেছে? কারা তাদের মেরেছে?’

বিচার ‘সবার জন্য সমান’ হতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘একতরফা বিচার হতে পারে না। একতরফা বিচার মানেই বিচার নয়।’

শ্রীনিবাসন তখন জানতে চান, সেই বিচার তখনকার সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে কিনা, কারণ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তখনকার রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনায় বিক্ষোভকারীদের ওপর যে গুরুতর নিপীড়ন চালানো হয়েছে, আর সেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে শেখ হাসিনাও আছেন।

জবাবে জয় বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি। আমি জানি, জাতিসংঘের প্রতিবেদন পক্ষপাতদুষ্ট। আবারও বলছি, জাতিসংঘের প্রতিবেদন ১,৪০০ মৃত্যুর কথা বলেছে। এর মধ্যে আমাদের সরকার পতনের পরের মৃত্যুগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলোর দায়ও আমাদের সরকারের ওপর চাপানো হয়েছে। এটা কীভাবে ন্যায্য প্রতিবেদন হতে পারে?’

তাহলে কি সেসব হত্যাকাণ্ড, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ‘অপব্যবহারের’ জন্য শেখ হাসিনা একেবারেই দায়ী নন?

এই প্রশ্নে জয় বলেন, ‘আমি মোটেও সেটা বলছি না। আমি যা বলছি তা হল—আমরা কাউকে দায়মুক্তি দিইনি। আমরা সবার জন্য বিচার চেয়েছি। যে কেউ যদি কোনো মৃত্যুর জন্য দায়ী হয়ে থাকে।’

শেখ হাসিনাও সেই বিচারের আওতায় আসতেন কিনা-এমন প্রশ্নে তার ছেলে বলেন, ‘আমার মা কোনো হত্যার নির্দেশ দেননি। আমার মা কোনো মৃত্যু চাননি।’

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

আপাতত আলোর মুখ দেখছে না কুমিল্লা-ফরিদপুর বিভাগ

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও প্রাথমিক প্রস্ততি থাকা সত্ত্বেও আপাতত হচ্ছে না বহুল আলোচিত ফরিদপুর ও কুমিল্লা বিভাগ। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সাম্প্রতিক সভায় নতুন এই বিভাগ গঠনের প্রস্তাবটি তোলা হয়নি। মূলত নতুন বিভাগ গঠনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট বিতর্ক ও আঞ্চলিক বিরোধের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে।

 

গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তার বাসভবন যমুনায় নিকারের ১১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে নিকারের প্রথম সভা।

সভায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত মোট ১১টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এর মধ্যে দেশে চারটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এ ছাড়া, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর সরকার ‘প্রাক নিকার সচিব কমিটি’ গঠন করে। কমিটির সভাপতি মন্ত্রিপরিষদ সচিব। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী কমিটি বৈঠক করে ফরিদপুর ও কুমিল্লার নামে নতুন দুটি বিভাগ গঠনের সুপারিশ তৈরি করে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ফরিদপুর বিভাগে থাকবে ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা। এছাড়া, কুমিল্লা বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলা।

এ খবরকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা, ফরিদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জনসাধারণ ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি দাবি ও প্রতিবাদ দেখা গেছে। এর মধ্যে বৃহত্তর নোয়াখালীকে কেন্দ্র করে ‘নোয়াখালী বিভাগ’ গঠনের দাবি যেমন উঠেছে, তেমনি ফেনীকে প্রস্তাবিত কুমিল্লা বিভাগে অন্তর্ভুক্ত না করে চট্টগ্রাম বিভাগে রাখার পক্ষে জনমত তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, শরীয়তপুরকে প্রস্তাবিত ফরিদপুর বিভাগে অন্তর্ভুক্ত না করে ঢাকা বিভাগের সঙ্গেই বহাল রাখার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বিভাগ গঠনের এই ইস্যুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও ব্যাপক আলোচনা, তর্ক ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, “আপাতত এ বিষয়টি (ফরিদপুর ও কুমিল্লা বিভাগ) নিকার সভায় ওঠেনি। এটি সভায় না তোলারই সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনেক ঝগড়াঝাটি (আঞ্চলিক বিরোধ ও দাবি) আছে, সেজন্য আপাতত এটি আর বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না।”

সভায় বিষয়টি প্রস্তাব আকারে ওঠেনি বলেও জানান তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, এটা নিয়ে বিতর্ক আছে বিভিন্ন জায়গায়। প্রস্তাব তোলা হয়নি, এমনি আলোচনায় তোলা হয়েছিল।

‘জনমুখী প্রশাসনের লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত পুনর্গঠন’ শিরোনামে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের প্রস্তাব দেয়।

কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, বর্তমানে দেশে মোট ৮টি প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে। ভৌগোলিক ও যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগ গঠনের দাবি বহুদিনের। সেই বিবেচনায় কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের সুপারিশ করা হয়।

২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুইদ চৌধুরী সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। প্রস্তাবে ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা নিয়ে ফরিদপুর বিভাগ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলা নিয়ে কুমিল্লা বিভাগ গঠনের সুপারিশ করা হয়।

প্রসঙ্গত, কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে কেন্দ্র করে বিভাগ গঠনের দাবি বহু বছরের। এর আগে ২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকার বৈঠকে বৃহত্তর ফরিদপুরের কয়েকটি জেলা নিয়ে ‘পদ্মা বিভাগ’ এবং কুমিল্লা ও আশপাশের জেলাগুলো নিয়ে ‘মেঘনা বিভাগ’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উঠেছিল। তবে সে সময় প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

এম.কে