Categories
স্পোর্টস

তিন কারণ দেখিয়ে বিসিবির অনুরোধ রাখলো না আইসিসি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতেই আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ আইসিসি গ্রহণ করেনি।

 

বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত আইসিসির বোর্ডসভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে ক্রিকইনফোর খবরে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবির সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বিসিবিকে এক দিন সময় দিয়েছে আইসিসি। অন্যথায় বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বকাপে বিকল্প দল নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে।

আইসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ম্যাচ স্থানান্তরের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছে—

নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রমাণ নেইঃ
আইসিসি বলেছে, ‘বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে—এমন কোনো স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি।’

লজিস্টিক ও সূচিগত জটিলতাঃ
টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন করলে অন্যান্য দল, আয়োজক ও বৈশ্বিক দর্শকদের জন্য বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হবে।

নজির সৃষ্টির আশঙ্কাঃ
বিশ্বাসযোগ্য হুমকি ছাড়া সূচি পরিবর্তন করলে ভবিষ্যতে আইসিসির নিরপেক্ষতা, ন্যায্যতা ও শাসনব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

আইসিসি আরও জানিয়েছে, স্বাধীন নিরাপত্তা পর্যালোচনাসহ সব মূল্যায়নে দেখা গেছে, ভারতের কোনো ভেন্যুতেই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী কিংবা সমর্থকদের জন্য কোনো হুমকি নেই।

টুর্নামেন্ট শুরুর সময় ঘনিয়ে আসাঃ

দশম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। আইসিসির ভাষ্য, ‘টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি সময়ে এসে সূচিতে পরিবর্তন আনা বাস্তবসম্মত নয়।’

আইসিসির এক মুখপাত্র বলেন, গত দুই সপ্তাহে বিসিবির সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এ সময় আয়োজক কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা আশ্বাস, ভেন্যুভিত্তিক পরিকল্পনা এবং স্বাধীন মূল্যায়নের বিস্তারিত তথ্য বিসিবিকে দেওয়া হয়েছে।

মোস্তাফিজ প্রসঙ্গে আইসিসির অবস্থানঃ

ভারতে উগ্রপন্থীদের হুমকির প্রেক্ষাপটে ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা প্রশ্ন তোলে বাংলাদেশ। তবে আইসিসি বিষয়টিকে ‘বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে— ‘একজন খেলোয়াড়ের ঘরোয়া লিগসংক্রান্ত একটি পৃথক ঘটনার সঙ্গে আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নিরাপত্তা কাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই।’

আইসিসি আরও জানায়, টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই তাদের আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল এবং তারা এখনও সেই অবস্থানেই রয়েছে।

সূত্রঃ ক্রিকইনফো

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

আচরণবিধি লঙ্ঘনে ক্ষমা চাইলেন নাইজেল ফারাজ, ১৭টি লঙ্ঘনের দায় স্বীকার

ব্রিটেনের পার্লামেন্টারি আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগে ১৭টি লঙ্ঘনের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন রিফর্ম ইউকের নেতা ও ক্ল্যাকটনের এমপি নাইজেল ফারাজ। সময়মতো প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড আয়ের তথ্য ঘোষণা না করায় এই অভিযোগ ওঠে।

নাইজেল ফারাজ জানান, সংসদ সদস্যদের স্বার্থ ঘোষণার অনলাইন রেজিস্টার তিনি নিজে পরিচালনা করেন না। নিজেকে ‘কম্পিউটার-নিরক্ষর’ ও ‘অদ্ভুত মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, আয়ের তথ্য জমা দেওয়ার দায়িত্ব দলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মীর ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত নিজের কাঁধেই নিচ্ছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

ফারাজের ভাষায়, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর রিফর্ম ইউকের দ্রুত সাংগঠনিক বিস্তৃতি, বিপুল ই-মেইল ও প্রশাসনিক চাপের কারণে দলটি গুরুতর প্রশাসনিক সমস্যার মুখে পড়ে। এর ফলেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়ের তথ্য ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।

ঘোষণা না করা আয়ের মধ্যে ছিল জিবি নিউজে সম্প্রচারক হিসেবে কাজের পারিশ্রমিক এবং গুগল ও এক্স (সাবেক টুইটার)–এ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট থেকে পাওয়া অর্থ।

এর আগেও সংসদীয় আচরণবিধি লঙ্ঘনের কথা স্বীকার করেছিলেন নাইজেল ফারাজ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সফরের তথ্য সময়মতো ঘোষণা না করায় তখনও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। ওই অনুষ্ঠানে তিনি ছিলেন প্রধান বক্তা, যেখানে রিপাবলিকান পার্টির নৈশভোজে অংশ নিতে জনপ্রতি ৫০০ ডলার ফি নির্ধারিত ছিল।

সাম্প্রতিক তদন্ত শেষে সংসদীয় মানদণ্ড কমিশনার ড্যানিয়েল গ্রিনবার্গ বলেন, লঙ্ঘনের সংখ্যা যেমন বেশি, তেমনি আর্থিক অঙ্কও উল্লেখযোগ্য। তবে তিনি বিষয়টিকে অনিচ্ছাকৃত ও প্রশাসনিক ত্রুটি হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

ক্ষমা প্রার্থনা করে নাইজেল ফারাজ বলেন, কর্মীরা ভুল করলে শেষ পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকেই তার দায় নিতে হয়—ব্যবসা পরিচালনা হোক বা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন—সব ক্ষেত্রেই বিষয়টি একই।

এদিকে লেবার পার্টি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, রিফর্ম ইউকের নেতা সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্বের চেয়ে নিজের আয়ের দিকেই বেশি মনোযোগী। দলটি এমপিদের দ্বিতীয় চাকরি ও অতিরিক্ত আয়ের বিষয়ে নিয়ম আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

প্রসঙ্গত, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও অতীতে আর্থিক স্বার্থ ঘোষণা দেরিতে করায় আচরণবিধির আটটি ক্ষুদ্র ও অনিচ্ছাকৃত লঙ্ঘনের অভিযোগের মুখে পড়েছিলেন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তাপঃ আমেরিকা বিশ্বকাপ বর্জনের ডাক ব্রিটিশ এমপিদের

গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ও আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার আহ্বান উঠেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে। কনজারভেটিভ ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের দুই সংসদ সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ বর্জনের দাবি জানিয়েছেন।

কনজারভেটিভ এমপি মিস্টার সাইমন হোয়ার এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাট এমপি মিস্টার লুক টেইলর বলেন, প্রতিবাদ হিসেবে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের পাশাপাশি ওয়েলস বা নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড যোগ্যতা অর্জন করলে তাদেরও টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত। তাদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে শক্ত রাজনৈতিক বার্তা দেবে।

আগামী জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। ট্রাম্প এই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকায় এমপিরা মনে করছেন, বিশ্বকাপ বর্জন করলে তা সরাসরি প্রেসিডেন্টের জন্য বিব্রতকর হবে।
হাউস অব কমন্সে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মিস্টার হোয়ার বলেন, কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রতিক্রিয়া জানানো হলেও ট্রাম্প তা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্র‍্যাম্প অহংকারী—তাই তাকে চাপে ফেলতে হলে ‘আগুনে আগুনে লড়াই’ প্রয়োজন। তিনি আরও প্রস্তাব দেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্ধারিত রাজা চার্লসের রাষ্ট্রীয় সফর বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

এমপি মিস্টার লুক টেইলর ট্রাম্পকে ‘অযৌক্তিক ও অনির্ভরযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি আন্তর্জাতিক আইন মানেন না এবং কেবল নিজের অহংকারেই সাড়া দেন। তার মতে, বিশ্বকাপ বর্জন ও রাষ্ট্রীয় সফর বাতিলের মতো সিদ্ধান্তই ট্রাম্পকে বার্তা দিতে পারে যে তার কর্মকাণ্ডের আন্তর্জাতিক পরিণতি রয়েছে।

এই বিতর্কের মধ্যেই ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড পরিকল্পনার বিরোধিতার জেরে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপে তিনি শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এতে ব্রিটেন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিস্টার ইয়েভেট কুপার এমপিদের প্রস্তাবের জবাবে বলেন, সংঘাত নয় বরং সম্পৃক্ততাই সরকারের কৌশল। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলেই যুক্তরাষ্ট্র শুল্কনীতি ও ইউক্রেন ইস্যুতে অবস্থান পরিবর্তন করেছে এবং যুক্তরাজ্যে বিপুল প্রযুক্তি বিনিয়োগ এসেছে।

বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। প্রায় তিন দশক পর স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপে মাঠে নামবে ১৪ জুন। থমাস টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড দল ১৭ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে। স্কটল্যান্ডের ম্যাচগুলো হবে ম্যাসাচুসেটস ও ফ্লোরিডায়, আর ইংল্যান্ড খেলবে টেক্সাস, ম্যাসাচুসেটস ও নিউ জার্সিতে।

সূত্রঃ এল বি সি

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক যুক্তরাজ্য (UK)

সিরিয়ায় সংঘাতে আইএস বন্দিশিবির ভাঙনের আশঙ্কা, শামিমা বেগমের মুক্তি নিয়ে উদ্বেগ

সিরিয়ায় কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে সরকারি বাহিনীর দ্রুত অগ্রগতির মধ্য দিয়ে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। পশ্চিমা দেশ ও তুরস্ক–সমর্থিত অভিযানের ফলে কুর্দি বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স (এসডিএফ) গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হওয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইএস বন্দিশিবির আল-হোলসহ একাধিক কারাগারের নিরাপত্তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

২০১৯ সালে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সঙ্গে যৌথভাবে আইএসকে পরাজিত করার পর থেকেই উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল কুর্দি–নেতৃত্বাধীন এসডিএফ। তাদের পাহারায় ছিল আল-হোল ও আল-রোজ ক্যাম্প, যেখানে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি আইএস সংশ্লিষ্ট বন্দি আটক রয়েছে। আল-রোজ ক্যাম্পেই বন্দি আছেন ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল হওয়া শামিমা বেগম।

কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে দামেস্ক সরকারের সঙ্গে এসডিএফের আলোচনা চললেও ৪ জানুয়ারি সেই আলোচনা ভেঙে যায়। এরপরই তুরস্কের সমর্থনে সিরীয় সরকারি বাহিনী কুর্দি অধ্যুষিত শহর ও জনপদে সামরিক অভিযান শুরু করে। ট্যাংক ও ড্রোন ব্যবহার করে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাক্কা, আলেপ্পো ও কোবানির আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখলে নেয় তারা।

অভিযানের অংশ হিসেবে সিরিয়ার সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্রও সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। একই সঙ্গে এসডিএফ পাহারায় থাকা আইএস কারাগারগুলোতে হামলা হওয়ায় কিছু শিবির পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। এতে করে হাজার হাজার কট্টরপন্থী ইসলামপন্থীর মুক্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেইলি এক্সপ্রেসের হাতে আসা ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, সংঘর্ষে নিহত কুর্দি যোদ্ধাদের মরদেহ অবমাননা করা হচ্ছে। কয়েকটি ঘটনায় শিরচ্ছেদের মতো নৃশংসতার অভিযোগও উঠেছে, যা আইএসের কৌশলের সঙ্গে ভয়াবহ সাদৃশ্য তৈরি করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারি বাহিনীর ভেতরে থাকা আইএস–সহানুভূতিশীল অংশ এই অভিযানের সুযোগ নিয়ে প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় লিপ্ত হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেঙে পড়ে। ব্রিটেনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী হ্যামিশ ফ্যালকনার স্বীকার করেন, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং তা গভীর উদ্বেগের কারণ।

এক বিবৃতিতে এসডিএফ জানায়, “আইএস সন্ত্রাসী সংগঠন বিষয়ে আন্তর্জাতিক উদাসীনতার কারণে” তারা আল-হোল ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রহরীদের শহর রক্ষায় পুনরায় মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।

যুক্তরাজ্যে কুর্দি পিপলস অ্যাসেম্বলি ইন ব্রিটেনের সহসভাপতি ইশাক মিলানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কুর্দিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তার ভাষায়, কুর্দিরাই পশ্চিমাদের হয়ে আইএসের বিরুদ্ধে লড়েছে এবং ইউরোপকে সুরক্ষিত রাখতে বিপজ্জনক জিহাদিদের বন্দিশিবির পাহারা দিয়েছে। অথচ এখন সেই কুর্দিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে নতুন জিহাদি শাসনের মুখে।

শামিমা বেগমের অবস্থান নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আল-রোজ ক্যাম্পে নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যান্ড্রু ড্রুরি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে কাজ করছেন। তার মতে, বর্তমান অগ্রগতির গতি বজায় থাকলে ক্যাম্পটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম সতর্ক করে বলেছেন, সামরিক শক্তি দিয়ে সিরিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি মনে করিয়ে দেন, আইএস ধ্বংসে মাটিতে লড়াই করেছিল এসডিএফ, এবং পশ্চিমাদের তাদের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে।

এদিকে মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক ইঙ্গিত দিয়েছেন, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটতে পারে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, কুর্দিদের স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নে ফেডারাল কাঠামো সমর্থন করবে না ট্রাম্প প্রশাসন।

সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার কার্যালয় জানিয়েছে, দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা ও কুর্দি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে চলমান সংঘর্ষ ও বন্দিশিবিরের অনিশ্চয়তা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ—উভয় অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

মিলিয়ন পাউন্ডের মসজিদ, ন্যূনতম মজুরির নিচে ইমামঃ ব্রিটিশ মুসলিম সমাজের নীরব সংকট

গত দুই দশকে ব্রিটেনে মুসলিম কমিউনিটির দৃশ্যমান অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে আধুনিক স্থাপত্যে নির্মিত অসংখ্য মসজিদ। মিনার, গম্বুজ ও কারুকাজে সমৃদ্ধ এসব উপাসনালয় এখন বহু এলাকায় শহরের ল্যান্ডমার্ক। কিন্তু এই বাহ্যিক জৌলুসের আড়ালে নীরবে গভীর হচ্ছে এক সংকট—যোগ্য, আধুনিকমনস্ক ও ব্রিটেন–উপযোগী ইমামের তীব্র ঘাটতি।

 

সম্প্রতি ড্যাজলিং ডন–এ প্রকাশিত এক গবেষণা এবং বিভিন্ন সমসাময়িক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, ব্রিটেনজুড়ে মসজিদগুলোর বড় অংশেই ইমাম নিয়োগ ও ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়েছে মুসলিম কমিউনিটি। সংকটটি কেবল জনবলের নয়, বরং অর্থনৈতিক, প্রজন্মগত ও কাঠামোগত ব্যর্থতার প্রতিফলন।

জীবনযাত্রার ব্যয় যখন আকাশছোঁয়া, তখন অধিকাংশ মসজিদে ইমামদের বার্ষিক বেতন মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার পাউন্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই আয়ে পরিবার চালানো প্রায় অসম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, বহু ইমাম ব্রিটিশ সরকারের নির্ধারিত সর্বনিম্ন মজুরির চেয়েও কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। অথচ এসব মসজিদের অনেকগুলোর সম্পদের পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে।

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ধর্মীয় উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন বহু মেধাবী তরুণ ইমামতিকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে ভবিষ্যতে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরির ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, বহু মসজিদে ইমামদের কেবল নামাজ পরিচালনাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের পেশাদার স্বাধীনতা সীমিত, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা নেই। অধিকাংশ মসজিদ পরিচালিত হয় প্রথম প্রজন্মের অভিবাসী ট্রাস্টিদের দ্বারা, যাদের মধ্যে অনেকেই সময়ের পরিবর্তন ও নতুন বাস্তবতা গ্রহণে অনাগ্রহী। এই মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ও সম্মানহীন ব্যবস্থাপনার কারণে অনেক শিক্ষিত ইমাম মাঝপথেই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

একজন ইমামের দায়িত্ব কেবল পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে সীমাবদ্ধ নয়। তাকে শিক্ষক, পারিবারিক পরামর্শদাতা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়ক, সমাজকর্মী এবং অনেক ক্ষেত্রে সালিসকারীর ভূমিকাও পালন করতে হয়। অথচ এই বহুমাত্রিক কাজের বিপরীতে নেই কোনো নির্দিষ্ট ছুটির নীতিমালা, স্বাস্থ্যবিমা কিংবা মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা।

ব্রিটিশ বোর্ড অব স্কলারস অ্যান্ড ইমামসের (বিবিএসআই) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও ট্রাস্টিদের দুর্ব্যবহারের কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইমাম মানসিক অবসাদে ভুগছেন। এই অবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কমিউনিটির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

আরও একটি বড় সংকট তৈরি হয়েছে প্রজন্মগত ব্যবধান থেকে। ব্রিটেনের বর্তমান মুসলিম তরুণ প্রজন্ম এ দেশেই বেড়ে উঠেছে। তাদের ভাষা ইংরেজি, চিন্তাজগৎ আধুনিক সমাজের চ্যালেঞ্জকেন্দ্রিক। কিন্তু অনেক মসজিদে এখনো দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা ইমাম নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের ইংরেজি দক্ষতা সীমিত এবং স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই।

ফলে মিম্বর থেকে দেওয়া খুতবা তরুণদের হৃদয়ে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই বিচ্ছিন্নতা মসজিদকে ধীরে ধীরে কমিউনিটির মূল স্রোত থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই সংকট অব্যাহত থাকলে তরুণ প্রজন্ম ধর্মীয় দিকনির্দেশনার জন্য অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনির্ভরযোগ্য উৎসের দিকে ঝুঁকবে। এতে ভুল ব্যাখ্যা ও উগ্রবাদের ঝুঁকি বাড়তে পারে। মসজিদের মিম্বর যদি শূন্য থাকে বা অযোগ্যদের হাতে পড়ে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে ব্রিটিশ মুসলিম পরিচয়ের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠবে।

এই প্রেক্ষাপটে সমাজকর্মীরা মসজিদকে কেবল উপাসনালয় নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ কমিউনিটি হাব হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাদের মতে, এর জন্য সম্মানজনক বেতনকাঠামো, পেশাদার প্রশিক্ষণ, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং পরিচালনা পর্ষদে তরুণ ও নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

ব্রিটেনের মুসলিম সমাজ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পাথর আর সিমেন্টের ঝকঝকে দালান দিয়ে ধর্ম ও পরিচয় রক্ষা করা সম্ভব নয়। প্রাণ সঞ্চার করার মতো যোগ্য, আধুনিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ছাড়া এই বিশাল অট্টালিকাগুলো কেবল ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়েই দাঁড়িয়ে থাকবে—মানুষের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠবে না।

সূত্রঃ ড্যাজলিং ডন ডট কম

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

বাংলাদেশের সমর্থনে পিসিবির চিঠিঃ বিশ্বকাপ ইস্যুতে জরুরি বৈঠকে আইসিসি

২০২৬ ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র ১৭ দিন বাকি থাকলেও ভারত সফরে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে অনীহা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

 

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশের এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) একটি চিঠি পাঠিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবির এই চিঠির পরপরই আইসিসি তাদের বোর্ড সভা ডেকেছে বলে জানিয়েছে ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকইনফো। এই বৈঠকে মূলত বিসিবির করা অনুরোধ এবং বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তন বা বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিসিবি শুরু থেকেই দাবি জানিয়ে আসছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে তাদের ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয়। বিসিবির এই যুক্তিকে ন্যায্য বলে অভিহিত করেছে পিসিবি, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থায় বাংলাদেশের দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

যদিও আইসিসি এখন পর্যন্ত বিসিবির কোনো প্রস্তাবই চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করেনি, তবে পাকিস্তানের এই সরাসরি সমর্থন নতুন করে আলোচনার পথ খুলে দিয়েছে। বিসিবি আগে প্রস্তাব দিয়েছিল গ্রুপ পরিবর্তনের, যাতে তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কার মাটিতে খেলা সম্ভব হয়, কিন্তু আইসিসি সেই প্রস্তাবেও সায় দেয়নি।

এই সংকটের মূলে রয়েছে আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে বাদ দেওয়ার ঘটনা, যার পর থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতে দল না পাঠানোর কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই ইস্যুতে বিসিবি দুই দফায় আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে এবং ঢাকায় আইসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করেছে।

ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিসি বিসিবিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল, যদিও বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো সময়সীমার কথা অস্বীকার করেছে। এমন এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পিসিবির চিঠি আইসিসির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজকের আইসিসি বৈঠকে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়া হবে নাকি অন্য কোনো সমাধান আসবে, তা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে। একদিকে আইসিসি তাদের পূর্বনির্ধারিত সূচিতে অটল থাকতে চাইছে, অন্যদিকে বিসিবি এবং এখন পিসিবিও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করতে রাজি নয়।

বিশ্বকাপের মতো বড় ইভেন্টের ঠিক আগমুহূর্তে এই ধরনের টানাপড়েন আসরটির জৌলুস ও সূচি নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আইসিসির এই জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য।

সূত্রঃ ক্রিকইনফো

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

টেসকো স্টোরে আতঙ্ক: মুমূর্ষু সন্তানকে বাঁচাতে মায়ের লড়াই

ফ্লিন্টশায়ার, যুক্তরাজ্য: ব্যস্ত সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করার সময় হঠাৎ নিথর হয়ে পড়ে সাত মাসের শিশু রুপার্ট। মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় তার শ্বাস-প্রশ্বাস। চারদিকে যখন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, ঠিক তখনই কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে এক লড়াকু মা শুরু করেন মরণপণ যুদ্ধ। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় এবং মায়ের দেওয়া সিপিআর (CPR)-এর মাধ্যমে অলৌকিকভাবে ফিরে আসে শিশুটির প্রাণ।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাজ্যের ফ্লিন্টশায়ারের ব্রোটন শপিং পার্কের টেসকো (Tesco) স্টোরে। শিশুটির নাম রুপার্ট স্মিথ।

যেভাবে শুরু হয় আতঙ্ক

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার সকালে রুপার্টের বাবা ডেভ স্মিথ এবং মা সিওভান তাদের ছেলেকে নিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রিন্ট করতে টেসকো স্টোরে ঢোকেন। হঠাৎ তারা লক্ষ্য করেন রুপার্ট নড়াচড়া বন্ধ করে দিয়েছে এবং তার শরীর নীল হয়ে আসছে। সে সময় তার শ্বাস-প্রশ্বাস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

পেশায় ফার্মেসি টেকনিশিয়ান মা সিওভান কালক্ষেপণ না করে সেখানেই শিশুকে সিপিআর দিতে শুরু করেন এবং অ্যাম্বুলেন্স ডাকেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে উত্তর ওয়েলস পুলিশ এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছায়। পুরো সুপারমার্কেটটি খালি করে দেওয়া হয় এবং পুলিশ এলাকাটি কর্ডন করে ফেলে।

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রুপার্ট

রুপার্টকে দ্রুত লিভারপুলের অল্ডার হে চিলড্রেন’স হাসপাতালে বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার বাবা ডেভ স্মিথ জানান, রুপার্ট এখনও পুরোপুরি বিপদমুক্ত নয়। হাসপাতালের বিছানায় সে এখনও ঘনঘন খিঁচুনির শিকার হচ্ছে।

বিরল রোগ ‘AHC’ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

রুপার্ট আসলে ‘অল্টারনেটিং হেমিপ্লেজিয়া অফ চাইল্ডহুড’ (AHC) নামক এক ভয়াবহ ও বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত। বিশ্বজুড়ে প্রতি ১০ লক্ষ শিশুর মধ্যে মাত্র একজনের এই রোগ দেখা দেয়। এই রোগের কারণে যে কোনো সময় শিশুর শরীর অবশ হয়ে যেতে পারে বা শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

রুপার্টের বাবা বলেন, “যুক্তরাজ্যে এই রোগের স্থায়ী কোনো চিকিৎসা নেই। আমাদের একমাত্র আশা এখন যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে নতুন কিছু ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে যা রুপার্টের প্রাণ বাঁচাতে পারে।”

তহবিলের জন্য আবেদন

রুপার্টের চিকিৎসার বিশাল খরচ মেটাতে তার পরিবার ‘রুপার্টস রেইনবো’ (Rupert’s Rainbow) নামে একটি তহবিল গঠন করেছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৬৫,০০০ পাউন্ড সংগ্রহ হলেও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার জন্য আরও প্রচুর অর্থের প্রয়োজন।

মাতা সিওভান অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, “সে আমাদের জীবনের আলো। তার ওই বড় বড় নীল চোখের হাসির জন্য আমরা পৃথিবীর শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব।”

সূত্রঃ বিবিসি

Categories
আন্তর্জাতিক

ডাভোস ফোরামে বিশ্বনেতাদের বক্তব্যঃ ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে ঐক্য ও শক্তি প্রদর্শনের আহ্বান

ডাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে এইবার গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রেক্ষিতে বিশ্বনেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফোরামের দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, যিনি ট্রাম্পের নাম না নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও শক্তিশালী রাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিষয়ে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, “এটি এমন এক বিশ্ব যেখানে আন্তর্জাতিক আইন পা তলায় নীচু করা হচ্ছে এবং একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ আইন হলো শক্তিশালীদের আইন।”

 

ম্যাক্রোঁর বক্তব্যের সঙ্গে মিলে ইউরোপের নেতারা ট্রাম্পের নীতিকে বিরোধপূর্ণ আখ্যা দিয়েছেন। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার বলেন, ইউরোপকে সচেতন না হলে তারা ট্রাম্পের “দাস” হয়ে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের জেগে থাকতে হবে, নিজেদের পুনঃসজ্জিত করতে হবে, বাজার একীকরণ করতে হবে এবং নতুন জোট খুঁজতে হবে।”

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম বলেন, ইউরোপ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “ট্রাম্প হলো টি-রেক্স—আপনি তার সঙ্গে জোট বাঁধবেন, না হলে সে আপনাকে খেয়ে ফেলবে। শক্তিশালী হোন, দুর্বল নয়।”

ইউরোপীয় কমিশন প্রধান উরসুলা ভন ডার লেইন বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব অ-আলোচ্য এবং আর্কটিক নিরাপত্তা বিষয়ে ইউরোপ নতুন প্যাকেজ গ্রহণ করছে। এতে গ্রিনল্যান্ডে বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্রদের সঙ্গে যৌথভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত। তিনি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শুল্ক আরোপকে “ভুল” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

বিশ্বনেতারা ডাভোসের মঞ্চে স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান এবং শক্তিশালী একতা প্রদর্শন ছাড়া কোনো দেশকে এককভাবে প্রভাবিত হতে দেওয়া যাবে না। আগামীকাল ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের মাধ্যমে এই আলোচনার নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আইন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক টানাপোড়েন

চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে “চরম বোকামি” বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং একে ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে নিজের অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। এ নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও তীব্র আলোচনা চলছে।

 

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ ভারত মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপমালা, যা যুক্তরাজ্য থেকে প্রায় ৫ হাজার ৮০০ মাইল দূরে এবং মরিশাসের উত্তর-পূর্বে প্রায় ১ হাজার ২৫০ মাইল অবস্থান করছে। নেপোলিয়নের পরাজয়ের পর ১৮১৪ সালের প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে মরিশাসের সঙ্গে এই দ্বীপগুলো ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে। ১৯৬৫ সালে মরিশাস থেকে বিচ্ছিন্ন করে দ্বীপগুলোকে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ওশান টেরিটরি ঘোষণা করা হয়, যদিও মরিশাস ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।

ব্রিটিশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক স্বার্থের অংশ হিসেবে চাগোসের সবচেয়ে বড় দ্বীপ ডিয়েগো গার্সিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হয়। ওই সময় দ্বীপের বাসিন্দাদের জোরপূর্বক মরিশাস ও সেশেলসে পুনর্বাসন করা হয়, আর ২০০২ সালে কিছু মানুষ যুক্তরাজ্যে বসবাসের সুযোগ পান।

১৯৮০-এর দশক থেকে মরিশাস দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে উত্থাপন করে। ২০১৯ সালে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রায়ে জানায়, মরিশাসের উপনিবেশমুক্তকরণ প্রক্রিয়া আইনসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়নি এবং যুক্তরাজ্যের উচিত দ্রুত দ্বীপগুলোর প্রশাসন শেষ করা।

২০২২ সালে তৎকালীন কনজারভেটিভ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের নেতৃত্বাধীন সরকার মরিশাসের সঙ্গে সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনায় বসার ঘোষণা দেয়। যুক্তরাজ্য সরকার দাবি করে, আন্তর্জাতিক আইনি চ্যালেঞ্জ এড়াতে এবং প্রতিরক্ষা স্বার্থ রক্ষায় আইনি নিশ্চয়তা জরুরি। কনজারভেটিভ সরকার মোট ১১ দফা আলোচনা চালায়।

২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টি জয়ী হওয়ার পর ৩ অক্টোবর দুই দেশ যৌথভাবে রাজনৈতিক সমঝোতার ঘোষণা দেয়। ২০২৫ সালের ২২ মে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীন রামগুলাম আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। স্টারমার বলেন, আইনি লড়াইয়ে যুক্তরাজ্যের জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা ছিল না এবং দ্রুত অন্তর্বর্তী আদেশ আসতে পারত।

চুক্তি অনুযায়ী মরিশাস দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্ব পাবে, তবে যুক্তরাজ্য ডিয়েগো গার্সিয়ায় ৯৯ বছরের জন্য লিজ বজায় রাখবে, যা প্রয়োজনে বাড়ানো যাবে। এই লিজ বাবদ যুক্তরাজ্যের বার্ষিক ব্যয় গড়ে প্রায় ১০১ মিলিয়ন পাউন্ড এবং মোট আর্থিক প্যাকেজের বর্তমান মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন পাউন্ড।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানায়, বিস্তৃত পর্যালোচনার পর তারা নিশ্চিত হয়েছে যে এই চুক্তি ডিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম নিশ্চিত করবে। তবে ব্রিটিশ কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক ও সংস্কারপন্থী নেতারা এটিকে “আত্মসমর্পণ” বলে অভিহিত করেছেন এবং মরিশাসের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলেছেন।

এই চুক্তি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রসঙ্গ তোলেন। এর জবাবে কিয়ার স্টারমার বলেন, মিত্রদের বিরুদ্ধে শুল্কের হুমকি সম্পূর্ণ ভুল। তবে দুই নেতার সাম্প্রতিক ফোনালাপ আশানুরূপ হয়নি বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নিচ্ছে ভারত

নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের আপাতত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ বিষয়ে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়। বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এটি একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। ওই সূত্রগুলো জানায়, ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনসহ বাংলাদেশে ভারতের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মকর্তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের সাময়িকভাবে ভারতে ফিরে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে সূত্রগুলো স্পষ্ট করে জানায়, বাংলাদেশে ভারতের কূটনৈতিক মিশন এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর খোলা রয়েছে এবং আগের মতোই তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এই সিদ্ধান্তে কূটনৈতিক কার্যক্রম বা সেবায় কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও জানানো হয়েছে।

সূত্রঃ পিটিআই

এম.কে