Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ও রাজনীতিতে শিক্ষাগত বিভাজন প্রকটঃ কম শিক্ষিতদের মধ্যে ডানপন্থী সমর্থন বেশি

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন, বৈচিত্র্য ও রাজনীতির বিষয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণে শিক্ষাগত যোগ্যতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে ডানপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হলেও তুলনামূলকভাবে কম শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এসব দলের প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল সেন্টার ফর সোশ্যাল রিসার্চ (NatCen) পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, এ-লেভেলের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি বা তার বেশি যোগ্যতাসম্পন্নদের তুলনায় দুই গুণেরও বেশি হারে ডানপন্থী দলকে সমর্থন করেন।

‘ডেমোগ্রাফিক ডিভাইডস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা ব্যক্তিদের কনজারভেটিভ পার্টি বা রিফর্ম ইউকে-কে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই প্রবণতা আর্থিক অনিশ্চয়তা বা আয়সংক্রান্ত পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়ার পরও অপরিবর্তিত থাকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে কেউ ডানপন্থী রাজনৈতিক দলকে ভোট দিয়েছে কি না—তা পূর্বাভাস দিতে হলে তার শিক্ষাগত পটভূমি জানা থাকলেই যথেষ্ট নির্ভুল ধারণা পাওয়া সম্ভব। এতে স্পষ্ট হয় যে, দেশটিতে রাজনৈতিক মেরুকরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা একটি কেন্দ্রীয় নির্ধারক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল কিছুটা যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতির সঙ্গেও সাদৃশ্যপূর্ণ। সেখানে ২০২৪ সালের নির্বাচনে কলেজ ডিগ্রিধারীদের তুলনায় হাইস্কুল বা তার নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কমালা হ্যারিসের তুলনায় দ্বিগুণ হারে সমর্থন করেছেন।

তবে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা ছাড়াও জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং বসবাসের স্থান রাজনৈতিক সমর্থন নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ, পুরুষ ও গ্রামীণ এলাকার ভোটারদের মধ্যে ডানপন্থী সমর্থন বেশি লক্ষ্য করা যায়।

গবেষণাটি আরও জানায়, জাতিগত বৈচিত্র্য ও অভিবাসন বিষয়ে শিক্ষাগত বিভাজন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় যুক্তরাজ্যে আরও তীব্র। যুক্তরাজ্যে ডিগ্রিধারীদের ৬৫ শতাংশ মনে করেন, বৈচিত্র্য সমাজকে শক্তিশালী করে, যেখানে এ-লেভেল বা তার নিচে শিক্ষিতদের মধ্যে এই হার মাত্র ৩০ শতাংশ।

শ্বেতাঙ্গদের সামাজিক সুবিধা সংক্রান্ত প্রশ্নেও একই ধরনের বিভাজন দেখা যায়। যুক্তরাজ্যে বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ ডিগ্রিধারীদের ৬০ শতাংশ মনে করেন, শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের তুলনায় সমাজে বাড়তি সুবিধা পায়। বিপরীতে, এ-লেভেলের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্নদের মধ্যে এ মত পোষণ করেন মাত্র ৩০ শতাংশ।

অভিবাসন প্রশ্নে কঠোর মনোভাব কম শিক্ষিতদের মধ্যে বেশি দেখা গেছে। যুক্তরাজ্যে এ-লেভেলের নিচে শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্নদের ৫৫ শতাংশ মনে করেন, অনুমতি ছাড়া বসবাসকারী অভিবাসীদের দেশে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। একই মত ডিগ্রিধারীদের মধ্যে রয়েছে ৩৬ শতাংশের।

NatCen-এর গবেষণা পরিচালক অ্যালেক্স স্কোলস বলেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ডানপন্থী রাজনীতির তুলনা প্রায়ই করা হলেও বাস্তবে এই দুই দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণ ভিন্ন ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তার মতে, ব্রিটেনে শিক্ষা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভাজনরেখা হলেও যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক সমর্থন গড়ে ওঠে পরিচয়, ধর্ম, লিঙ্গ, বয়স ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সমন্বয়ে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ইমিগ্রেশন চাপের মধ্যে শিক্ষা খাতে কৌশল বদল যুক্তরাজ্যের

যুক্তরাজ্য সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে এসে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। দেশটিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী আনার লক্ষ্যমাত্রা বাতিল করে, এর পরিবর্তে বিদেশে যুক্তরাজ্যের শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক পর্যায়ে বছরে ৪০ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের শিক্ষা রপ্তানি অর্জন।

 

নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষা কৌশলের আওতায় ২০১৯ সালে নির্ধারিত বছরে ৬ লাখ বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে আনার লক্ষ্য আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। এর বদলে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে শিক্ষা কেন্দ্র ও অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে উৎসাহ দেবে সরকার, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ দেশেই যুক্তরাজ্যের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কঠোরতর মানদণ্ড চালু করা হবে। কেউ শিক্ষার্থী ভিসার অপব্যবহার করছে কি না, তা কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে। এসব মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর শিক্ষার্থী ভর্তি সীমা আরোপ বা লাইসেন্স বাতিলের মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন বলেন, বিদেশে শিক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আয়ের নতুন উৎস পাবে, বৈশ্বিক অংশীদারত্ব জোরদার হবে এবং একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও বাড়বে। তার ভাষায়, এতে বিশ্বমানের যুক্তরাজ্য শিক্ষা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

সরকার স্পষ্ট করেছে, তারা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে না এবং যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে আগ্রহী থাকবে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস+ কর্মসূচিতে পুনরায় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

তবে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা নতুন কৌশল নিয়ে কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব স্টুডেন্টস (NUS UK)-এর সভাপতি আমিরা ক্যাম্পবেল বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা শুধু অর্থনৈতিক অবদানই রাখেন না, তারা ক্যাম্পাসের শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ সমৃদ্ধ করেন। তার মতে, শিক্ষার্থীরা আলাদা দেশে নয়, বরং একই ক্যাম্পাসে সহপাঠীদের সঙ্গে পড়াশোনা করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে স্থাপিত যুক্তরাজ্যের স্যাটেলাইট ক্যাম্পাসগুলোতেও যেন দেশের মূল ক্যাম্পাসের মতোই উচ্চমানের শিক্ষা ও শিক্ষার্থী অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে গত বছরের শরৎকালীন বাজেটে সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর বছরে ৯২৫ পাউন্ড হারে নতুন লেভি আরোপ করে। এর প্রভাব পড়েছে ভিসা সংখ্যায়ও। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে স্টাডি ভিসা দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৩২ হাজার, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

তবে ইউকাস জানিয়েছে, স্নাতক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদন সামান্য বেড়েছে। বিশেষ করে চীন থেকে আবেদনকারীর সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদেশি ক্যাম্পাস ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

ইউনিভার্সিটিজ ইউকে-এর সভাপতি অধ্যাপক ম্যালকম প্রেস নতুন কৌশলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক সুনাম ও প্রভাব বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার জানিয়েছে, বিদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালুর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সহায়তা করা হবে এবং এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ শিক্ষা খাতভিত্তিক অ্যাকশন গ্রুপ গঠন করা হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

সাভারের ‘সিরিয়াল কিলার সম্রাট’ আসলে সবুজ শেখঃ একের পর এক হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলোচিত সিরিয়াল কিলার ‘সম্রাট’-এর আসল পরিচয় প্রকাশ পেয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রকৃত নাম মশিউর রহমান খান সম্রাট নয়; তার আসল নাম সবুজ শেখ। আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির তথ্য যাচাই–বাছাই করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় চলাফেরা করছিলেন, যা তদন্তে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

পুলিশের তথ্যমতে, সবুজ শেখের বাবার নাম পান্না শেখ। তিনি তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান। তার জন্মস্থান ও পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে। পরিবারের কিছু আত্মীয় বরিশাল এলাকায় বসবাস করেন বলেও জানায় পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন এলাকায় ভবঘুরে ও অসহায় নারীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতেন। পরে তাদের পরিত্যক্ত ও নির্জন ভবনে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করতেন। এসব ঘটনায় আদালতে দেওয়া তার বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সবশেষ ঘটনায় পুলিশ জানায়, কয়েক দিন আগে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এর আগে রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সাভার থানার সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

সোমবার তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে সাভার এলাকায় ধারাবাহিকভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। বিভিন্ন সময়ে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। এসব ঘটনার সময় ও স্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে আলাদা আলাদা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, আদালতে দেওয়া সব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনার পূর্ণ চিত্র উদঘাটন সম্ভব হবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ভারতের পাল্টা শুল্ক আরোপ, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডাল জাতীয় শস্যের ওপর ৩০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করায় ভারতের ওপর ক্ষোভ করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর স্টিভ ডেইনস ও কেভিন ক্রেমার। তারা ভারতের এই ‘অন্যায্য’ শুল্ক প্রত্যাহারে বাধ্য করতে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

 

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ওই দুজন প্রভাবশালী সিনেটর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে দাবি করেছেন, ভারতের এই ‘অন্যায্য’ শুল্কের কারণে মার্কিন ডাল উৎপাদনকারীরা বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত বছর ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের পাল্টা জবাব হিসেবেই নয়াদিল্লি এই পদক্ষেপ নিয়েছিল।

সিনেটরদের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মন্টানা এবং উত্তর ডাকোটা রাজ্য যুক্তরাষ্ট্রে ডাল ও মটরশুঁটি উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র।

অন্যদিকে, ভারত হলো বিশ্বের বৃহত্তম ডাল ব্যবহারকারী দেশ, যারা বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ২৭ শতাংশ ভোগ করে। গত বছরের ৩০ অক্টোবর ভারত সরকার হলুদ মটরশুঁটির ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়, যা ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে।

সিনেটররা ট্রাম্পকে জানান, এই উচ্চ শুল্কের ফলে মার্কিন কৃষকরা ভারতীয় বাজারে অন্য দেশের তুলনায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা হলে তা মার্কিন উৎপাদক এবং ভারতীয় ভোক্তা— উভয় পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক হবে বলে তারা মনে করেন।

চিঠিতে সিনেটররা ট্রাম্পের আগের মেয়াদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ২০২০ সালের বাণিজ্য আলোচনার সময়ও তারা এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে তাদের চিঠি প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন, যা মার্কিন উৎপাদকদের আলোচনার টেবিলে জায়গা করে দিতে সাহায্য করেছিল।

সিনেটররা বিশ্বাস করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বাণিজ্যের অসমতা দূর করতে চায়, তবে মার্কিন কৃষকরা বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহের শূন্যতা পূরণে সক্ষম। তবে এর জন্য ভারতের মতো বড় বাজারগুলোতে অনুকূল বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তারা চিঠিতে জোর দিয়েছেন।

মার্কিন সিনেটররা ট্রাম্পকে অনুরোধ করেন, ভারতের সঙ্গে যেকোনো চুক্তি যেন স্বাক্ষরের আগে ডাল জাতীয় শস্যের জন্য বিশেষ ও অনুকূল শর্তাবলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য টানাপড়েন দক্ষিণ এশীয় বাজারে মার্কিন কৃষিপণ্যের ভবিষ্যৎ এবং ভারতীয় বাজারের স্থিতিশীলতাকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

এর আগে, ২০১৯ সালে ভারতকে ‘জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স’ (জিএসপি) সুবিধা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল। বর্তমানে ডাল জাতীয় শস্য যেমন মসুর ডাল, ছোলা এবং মটরশুঁটির ওপর ভারতের এই কড়া অবস্থান দুই দেশের নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ এনডিটিভি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসকে হস্তান্তর করবে ব্রিটেন, ট্রাম্প বললেন ‘চরম বোকামি’

ভারত মহাসাগরে অবস্থিত চাগোস দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব মরিশাসের কাছে হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাজ্য। হস্তান্তরের পরিকল্পনাকে ‘চরম বোকামি’ এবং ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিশাল হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

সোমবার (২০ জানুয়ারি) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প এমন বার্তা দেন।

২০২৫ সালের মে মাসে যখন স্টারমার এই চাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তর চুক্তির ঘোষণাকে ট্রাম্প প্রশাসন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একে ‘যুগান্তকারী অর্জন’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এখন ট্রাম্পের সেই অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়ার ফলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন।

ব্রিটিশ সরকারকে কটাক্ষের স্বরে ট্রাম্প লিখেন, ‘আশ্চর্যজনকভাবে আমাদের “মেধাবী” ন্যাটো মিত্র যুক্তরাজ্য দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপটি মরিশাসের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সেখানে আমাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। কোনো সংগত কারণ ছাড়াই তারা এটি হস্তান্তর করছে।’

গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়া যুক্তিসঙ্গত দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ব্রিটেনের এই ‘বোকামি’ প্রমাণ করে, কেন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়া জরুরি।

ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে ‘চরম দুর্বলতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, চীন ও রাশিয়ার মতো আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো কেবল ‘শক্তিমত্তা’ চিনতে জানে এবং তারা এই দুর্বলতার সুযোগ নেবে। তিনি ডেনমার্ক ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের এ বিষয়ে ‘সঠিক কাজ’ করার আহ্বান জানান।

ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান ব্রিটিশ সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা ও চরম অবমাননাকর হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেও ডাউনিং স্ট্রিটে এক বক্তব্যে কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পের সঙ্গে তার ‘শান্ত ও গভীর সম্পর্কের’ সাফাই গেয়েছিলেন। অথচ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ট্রাম্প সেই সম্পর্ককে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন!

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

উচ্চদক্ষ কর্মী আনতে ভিসা নীতিতে শিথিলতা, কিছু ফি ফেরত দেবে যুক্তরাজ্য

বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উচ্চদক্ষ জনশক্তি যুক্তরাজ্যে আনতে ভিসা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস। মঙ্গলবার বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দিতে দাভোস সফরের অংশ হিসেবে তিনি কিছু আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভিসা ফি ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করবেন।

 

চ্যান্সেলরের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো তথাকথিত ‘ট্রেইলব্লেজার’ বা অগ্রণী বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাজ্যে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় উচ্চদক্ষ কর্মী আনার ক্ষেত্রে ভিসা ফি আংশিক বা সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে অভিবাসী কর্মী নিয়োগের জন্য স্পনসর হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যে সময় লাগে, তা কমিয়ে আনার কথাও জানানো হবে।

দাভোসে র‍্যাচেল রিভসের সঙ্গে থাকবেন ব্যবসা বিষয়ক সচিব পিটার কাইল। তারা বৈশ্বিক প্রযুক্তি, শিল্প ও বিনিয়োগ খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসা নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন। আগাম প্রকাশিত বক্তব্যে চ্যান্সেলর বলেন, “কিছু দেশ আপনাকে শুধু একটি সুযোগ দেয়, কিন্তু ব্রিটেন আপনাকে গতি দেয়। বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাজ্যই বিশ্বের সেরা স্থান।”

তিনি আরও বলেন, লেবার সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলছে যেখানে স্থিতিশীলতা, প্রতিভা ও পুঁজি একসঙ্গে কাজ করবে। তার মতে, এই তিনটি উপাদানই দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থার মূল ভিত্তি।

দাভোসে দেওয়া বক্তব্যে রিভস শিল্পখাতে সরকারের বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরবেন। এর মধ্যে ইস্পাত শিল্প ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ এবং ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে পরিবহন অবকাঠামো নবায়নের প্রতিশ্রুতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে।

তবে তার এই ইতিবাচক বার্তা এমন এক সময়ে আসছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে এবার যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিদল নিয়ে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার মূল বক্তব্য দেবেন। এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্টকে দেশটির শুল্ক নীতির বিষয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে সোমবার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ‘সিটির নতুন স্বর্ণযুগ’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেননি চ্যান্সেলর রিভস। ট্রাম্পের সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে তিনি অনুষ্ঠানটি বাতিল করেন।

দাভোস সফরে প্রযুক্তি খাতের বড় কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি আতিথেয়তা খাত নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন চ্যান্সেলর। নভেম্বরের বাজেটে ব্যবসায়িক করহারে পরিবর্তনের ফলে এই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এরই মধ্যে ১৩০টির বেশি হোটেল ও আবাসন প্রতিষ্ঠান চ্যান্সেলরকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছে যে, ব্যবসায়িক কর বৃদ্ধি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বাটলিন্স, হিলটন, ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনাল ও ট্রাভেলজসহ বড় ব্র্যান্ডগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পরিবর্তন তাদের টিকে থাকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা প্যাকেজের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো বিস্তারিত ঘোষণা আসেনি। এর আগে শীতকালীন জ্বালানি ভাতা, কল্যাণ খাতে ব্যয় এবং কৃষিজমির উত্তরাধিকার কর নিয়ে ট্রেজারিকে একাধিকবার অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল সিলেটের শিক্ষার্থী শাকিলের

উচ্চশিক্ষা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে গত বছর যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান সিলেটের তরুণ শাকিল। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তার পড়াশোনা আর সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে তিনি লন্ডনে ফুড ডেলিভারি কাজে নিয়োজিত হন।

 

গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) লন্ডনের কর্মাশিয়াল রোডে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন শাকিল। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাইভেট কারের দরজা হঠাৎ খুলে গেলে সাইকেল আরোহী শাকিল ভারসাম্য হারিয়ে সড়কে পড়ে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন দিক থেকে আসা একটি লরি তাকে চাপা দেয়।

দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা জরুরি সেবায় খবর দিলে পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাকিলকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেন তিনি।

অবশেষে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিল মারা যান। তার মৃত্যুতে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শাকিলের বাড়ি সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি ব্রাহ্মণগ্রামে। পরিবারের একমাত্র ভরসা ছিলেন তিনি বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। প্রবাসে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া একজন তরুণের এমন করুণ পরিণতি পরিবার ও এলাকাবাসীকে শোকাহত করেছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
ফিচার

বিজ্ঞানীদের নতুন উদ্ভাবনঃ মানুষের জীবন্ত ত্বক, অসুস্থ হলেই ত্বকের সেন্সর দিবে সবুজ সংকেত

জাপানি গবেষকরা এমন একটি উদ্ভাবনী ত্বক ইমপ্লান্ট তৈরি করেছেন যা ব্যবহারকারীর শরীরে অসুস্থতার কোনো সম্ভাবনা দেখা দিলে সবুজ আলো জ্বালাবে। এটি পরিধানযোগ্য স্বাস্থ্য প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

ইমপ্লান্টটি শরীরের অভ্যন্তরীণ বায়োমার্কার নিরীক্ষণ করে, যা প্রদাহ, চাপ বা রোগের সংকেত দেয়। কোনো অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হলে তা দৃশ্যমান সংকেত হিসেবে প্রকাশ পায়, ফলে ব্যবহারকারী অবিলম্বে সতর্ক হতে পারেন।

স্মার্টওয়াচের পরিবর্তে এই ত্বক গ্রাফ্ট ব্যবহারকারীর শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা ২৪/৭ সরাসরি দেখাতে সক্ষম। টোকিও সিটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা RIKEN ও Canon Medical Systems-এর প্রকৌশলীদের সঙ্গে যৌথভাবে এই “লাইভিং সেন্সর ডিসপ্লে” তৈরি করেছেন এবং এটি ইদুঁরের উপর পরীক্ষামূলকভাবে সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষক প্রফেসর হিরোয়াকি ফুজিতা বলেছেন, প্রচলিত পদ্ধতিগুলো আক্রমণাত্মক বা সময়ের একটি ক্ষুদ্র অংশের তথ্য দেয়। এই নতুন সিস্টেমটি জৈবভাবে একীভূত হওয়ায় এটি ধারাবাহিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম এবং ব্যবহারকারীর জন্য সহজবোধ্য ব্যাখ্যা প্রদান করে।

সেন্সরটি জীবন্ত এপিডার্মাল স্টেম সেল দিয়ে তৈরি হওয়ায় এটি ত্বকের প্রাকৃতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টিকে থাকে। কোনো ব্যাটারির প্রয়োজন নেই। প্রফেসর ফুজিতা আরও বলেন, পরীক্ষায় দেখা গেছে, সেন্সরের কার্যকারিতা ২০০ দিনের বেশি সময় ধরে বজায় থাকে কারণ স্টেম সেলগুলি এপিডার্মিসকে ক্রমাগত পুনর্গঠন করে।

গবেষকরা মনে করেন, এই প্রযুক্তি কেবল মানব স্বাস্থ্যসেবায় সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রাণী গবেষণা এবং পশুচিকিৎসাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যেখানে দৃশ্যমান স্বাস্থ্য সংকেত দূর্বল প্রাণীদের অসুস্থতা দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সংকটের দায়ে স্টারমারকে বিদায়ের আহ্বান নিউজ প্রেজেন্টারের

জিবি নিউজের প্রেজেন্টার নানা আকুয়া প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রোববার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দেশের ব্যবসা ও অর্থনীতির বর্তমান সংকটকে সামনে রেখে প্রশ্ন তুলেছেন, “আমরা আর কতটা সহ্য করতে পারব?”

আকুয়া উল্লেখ করেছেন, হসপিটালিটি খাতে ক্রমবর্ধমান খরচ এবং প্রাইভেট স্কুল, হেয়ার স্যালন, ফার্মেসি সহ অন্যান্য ব্যবসার বন্ধ হওয়া সাধারণ জনগণের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও যোগ করেছেন, কৃষকরা জমি বিক্রি বা চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন উচ্চ উত্তরাধিকার করের কারণে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

তিনি লেবার দলের অভিবাসন নীতি এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে করণীয় ভুলে যাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন। এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত শুল্ক ঘোষণা প্রসঙ্গে আকুয়া দাবি করেছেন, স্টারমার হয়তো এই পরিস্থিতিকে “মনোযোগ সরানোর সুযোগ” হিসেবে দেখছেন, যা তার সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে সাহায্য করছে।

প্রেজেন্টার আরও বলেন, বর্তমান সরকারের ভিত্তি মেরামতের পরিবর্তে তারা আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তিনি স্টারমারের সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করেছেন, ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছাকাছি থাকার জন্য, যার কারণে যুক্তরাজ্য প্রতিটি দেশের সঙ্গে সমন্বিত বাণিজ্যিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারছে না।

আকুয়া কিয়ার স্টারমারের কূটনৈতিক দুর্বলতাও তুলে ধরেছেন। ন্যাটোর জন্য গ্রিনল্যান্ডে অনুসন্ধানী সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে স্টারমারের “অপব্যবহার” এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় তার দলীয় নেতাদের অসংযত আচরণকে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন, স্টারমার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে “শক্তিহীন ও অকার্যকর” প্রমাণিত হয়েছেন।

প্রেজেন্টার ব্রিটেনের স্বনির্ভরতা ও শিল্পায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ইসরায়েলর নীতির অনুসরণ করা উচিত। সমাপ্তিতে তিনি বলেছেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প কিয়ার স্টারমারকে গুরুত্ব সহকারে নেবেন না। কেউই নেবে না। কিয়ার স্টারমারকে যেতেই হবে।”

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

‘বাংলাদেশের বিকল্প’ বানানোর বিষয়ে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে কথাই হয়নি আইসিসির

আগামী মাসে হতে যাওয়া পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে বদলে স্কটল্যান্ড খেলতে পারে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল এখনো স্কটল্যান্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করেনি। তবে ডাক এলে খেলতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্কটিশ খেলোয়াড়রা।

 

বাংলাদেশ আইসিসিকে জানিয়েছে, তারা ভারত সফর করবে না। দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণ দেখিয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে তারা তাদের ম্যাচ অন্য কোথাও আয়োজনের অনুরোধ করেছে।

এই পরিস্থিতিতে স্কটল্যান্ড আলোচনায় এসেছে। কারণ তারা এই টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়া দলগুলোর মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে সবার ওপরে আছে। তাই বাংলাদেশ সরে গেলে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ড আসতে পারে।

তবে বিবিসি স্পোর্টস জানিয়েছে, এই মুহূর্তে আইসিসি ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডও নিজে থেকে আইসিসির সঙ্গে কথা বলতে চাইছে না। তারা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই অবস্থান নিয়েছে।

গত গ্রীষ্মে ইউরোপ বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ড চতুর্থ হয়েছিল। এতে তারা ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হারায়। ওই বাছাইয়ে নেদারল্যান্ডস ও ইতালি দুটি জায়গা নিশ্চিত করে।

এদিকে স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড়রা আবার অনুশীলনে ফিরেছেন। মার্চে নামিবিয়া ও ওমানের সঙ্গে একটি ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে তারা উইন্ডহুকে যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবারের মধ্যেই বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। তখনই বোঝা যাবে তারা ভারত সফরে যাবে কি না।

আইসিসি কোন নিয়মে বিকল্প দল ঠিক করবে, তা জানতে বিবিসি স্পোর্টস সংস্থাটির কাছে জানতে চেয়েছে।

এর আগে ২০০৯ সালে রাজনৈতিক কারণে জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়। তখন স্কটল্যান্ডকে বদলি দল হিসেবে নেওয়া হয়েছিল। তারা তখন বাছাইপর্বে পরের সেরা দল ছিল।

এখন পরিস্থিতি আলাদা। কারণ বিশ্বকাপের দল বাছাই এখন অঞ্চলভিত্তিক। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া আইসিসির জন্য সহজ নয়। বিষয়টি তাদের বিবেচনার ওপর নির্ভর করছে।

বর্তমানে টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে স্কটল্যান্ড আছে ১৪ নম্বরে।

এর আগে ইএসপিএনক্রিকইনফো জানায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ বদলের অনুরোধ করেছিল। আয়ারল্যান্ডের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা।

ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের এক মুখপাত্র বিবিসি স্পোর্টকে বলেছেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছে যে সূচিতে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘তবে আমরা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি।’

সূত্রঃ বিবিসি স্পোর্টস

এম.কে