Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ভুক্তভোগীদের আটক রেখে ফ্রান্সে ফেরতঃ প্রশ্নের মুখে যুক্তরাজ্যের ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ নীতি

যুক্তরাজ্য সরকারের বহুল আলোচিত ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ অভিবাসন পরিকল্পনা নির্যাতন ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দাতব্য সংস্থা মেডিক্যাল জাস্টিস। সংস্থাটির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনার আওতায় আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ক্লিনিক্যাল সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

 

মেডিক্যাল জাস্টিস ইমিগ্রেশন আটক কেন্দ্রগুলোতে স্বতন্ত্র চিকিৎসকদের মাধ্যমে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় থাকা ৩৩ জন ব্যক্তির ওপর জরিপ চালায়। এই জরিপই প্রথম যেখানে ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ পরিকল্পনার আওতায় আটক ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৩৩ জনের মধ্যে ১৮ জনের শরীরে ও মানসিক অবস্থায় নির্যাতন ও মানবপাচারের স্পষ্ট ক্লিনিক্যাল প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব দুর্বলতা শনাক্ত হওয়া সত্ত্বেও আটক কেন্দ্রে সুরক্ষার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আটক অবস্থায় ক্লিনিক্যাল সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণে পুরো সিস্টেমটি ব্যর্থ হয়েছে। অনেক আটক ব্যক্তি চিকিৎসা সহায়তা ও মানসিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

মেডিক্যাল জাস্টিস জানায়, বহু ব্যক্তি বলেছেন যে তাদের জীবনে আশাহীনতার সবচেয়ে ভয়াবহ মুহূর্ত ছিল যুক্তরাজ্যে আটক হওয়ার সময়—অতীতের নির্যাতন নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই মানসিক ভেঙে পড়া অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা জানান, তারা পাচারকারী চক্র, মানবপাচারকারী, সীমান্ত বাহিনী, পুলিশ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠীর কাছ থেকে সহিংসতা, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন। অনেককে ভিডিও বা ছবি ধারণ করে হুমকি দেওয়া হয়েছে—ফ্রান্সে ফেরত গেলে এসব ব্যবহার করে তাদের খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে।

প্রতিবেদনে এক ব্যক্তির বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে, যার ক্ষেত্রে পূর্বে নির্যাতনের ক্লিনিক্যাল প্রমাণ ছিল। ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর এক প্রচেষ্টার সময় তাকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও সহিংসতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পরে তার শারীরিক আঘাত ও মানসিক ক্ষতির প্রমাণ চিকিৎসকরা নথিভুক্ত করেন।

মেডিক্যাল জাস্টিসের এক মুখপাত্র বলেন, এই পরিকল্পনার আওতায় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মানবপাচার ও নির্যাতনের শিকারদের অনুপাত অস্বাভাবিকভাবে বেশি। পাশাপাশি আত্মহানির ঝুঁকি উদ্বেগজনক এবং প্রায় সবাই ক্লিনিক্যাল সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার শিকার হয়েছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, সরকার যেকোনো মূল্যে এই ব্যক্তিদের যুক্তরাজ্য থেকে সরিয়ে দিতে চায়।

প্রতিবেদনে ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে এবং ছোট নৌকায় আগতদের আশ্রয় আবেদন যুক্তরাজ্যেই প্রক্রিয়াকরণের সুপারিশ করা হয়েছে। আগস্ট ২০২৫ থেকে এ পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি মানুষকে ছোট নৌকায় আসার পর জোরপূর্বক ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে, একই সময়ে প্রায় সমান সংখ্যক মানুষকে ফ্রান্স থেকে আইনগতভাবে যুক্তরাজ্যে আনা হয়েছে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র দাবি করেন, যুক্তরাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ পরিকল্পনার মাধ্যমে ছোট নৌকায় আগতদের ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, যা একটি নিরাপদ দেশ এবং সেখানে সুরক্ষা দাবি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়। আটক ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে আশ্রয়প্রার্থীদের সহায়তায় নতুন প্রকল্প, অর্থ দিচ্ছে মেয়রের দপ্তর

লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান আশ্রয়প্রার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে একটি লন্ডন কাউন্সিলকে ৪০ হাজার পাউন্ড অনুদান অনুমোদন করেছেন। এই তহবিলের আওতায় আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য মানসিক সহায়তা কার্যক্রমের পাশাপাশি পানিতে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও শিশুদের বিনোদনমূলক সুবিধা প্রদান করা হবে।

গত ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি স্বচ্ছতা নোটিশ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে গ্রেটার লন্ডন অথরিটি (জিএলএ) এই অনুদান প্রদান করে লুইশাম কাউন্সিলকে। কাউন্সিলটির ৫৪ জন সদস্যের মধ্যে ৫২ জন লেবার পার্টি এবং দুইজন গ্রিন পার্টির প্রতিনিধি। অনুদানটি দেওয়া হয়েছে “আশ্রয়প্রার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উদ্যোগ” শীর্ষক একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায়।

নথিতে উল্লেখ করা হয়, বরাদ্দকৃত অর্থের সবচেয়ে বড় অংশ—২৫ হাজার পাউন্ড—ব্যয় করা হবে অ্যাকশন ফর রিফিউজিস লুইশাম (AFRIL) নামের একটি দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে। সংস্থাটি আশ্রয়প্রার্থী, অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য খাদ্যব্যাংক, পরামর্শ সেবা, সম্পূরক শিক্ষা কার্যক্রম এবং কমিউনিটি বাগান পরিচালনাসহ নানা সামাজিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এই অর্থ দিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনে সরাসরি গিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা এবং অতিরিক্ত কেসওয়ার্ক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অনুদানের আরেকটি অংশ থেকে লুইশাম এলাকার অবসর ও ক্রীড়া কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য পানিতে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং শিশুদের সফট প্লে ভাউচার প্রদান করা হবে। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ হাজার পাউন্ড। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিগুলো ২০২৬ সালের মে মাসের শেষ নাগাদ সম্পন্ন করার শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে লন্ডন অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া এক বক্তব্যে মেয়র সাদিক খান জানান, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত লন্ডনের বিভিন্ন বরোতে হোম অফিসের সহায়তায় মোট ১৭ হাজার ১৬১ জন আশ্রয়প্রার্থী বসবাস করছেন। এই প্রেক্ষাপটে আশ্রয়প্রার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক সংযুক্তি নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

একই সময়ে কনজারভেটিভ লন্ডন অ্যাসেম্বলি সদস্য আলেসান্দ্রো জর্জিও সরকারের প্রস্তাবিত কঠোর আশ্রয় নীতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুললে মেয়র সাদিক খান বলেন, “লন্ডনের রয়েছে সারা বিশ্বের মানুষকে স্বাগত জানানোর একটি গর্বিত ইতিহাস। যারা নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের খোঁজে এসেছে, তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

মেয়র আরও জানান, সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাবগুলোর বিষয়টি সরকারকে অবহিত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও কেন্দ্রীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চালিয়ে যাবে কর্তৃপক্ষ।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

শারীরিক নয়, মানসিক প্রতিবন্ধকতাতেও ব্লু ব্যাজ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার

যুক্তরাজ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পার্কিং সুবিধা ‘ব্লু ব্যাজ’ এখন শুধু দৃশ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ব্রিটিশ সরকারের সর্বশেষ নির্দেশনায় লুক্কায়িত (Invisible) প্রতিবন্ধকতা ও বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও নির্দিষ্ট শর্তে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।

 

সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী, পার্সোনাল ইন্ডিপেনডেন্স পেমেন্ট (PIP) বা ডিসএবিলিটি লিভিং অ্যালাওয়েন্স (DLA)-এর নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে থাকা সুবিধাভোগী, দৃষ্টিহীন ব্যক্তি, যুদ্ধাহত সাবেক সেনাসদস্য এবং যারা ৫০ মিটারের বেশি হাঁটতে অক্ষম—তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লু ব্যাজ পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।

এছাড়া হৃদরোগ, ডিমেনশিয়া, ADHD, মৃগী, দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি (Chronic Fatigue Syndrome), পারকিনসনস রোগ কিংবা তীব্র মানসিক উদ্বেগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও বিশেষ মেডিক্যাল ও কার্যকরী মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্লু ব্যাজ পেতে পারেন। সরকারের মতে, এসব অবস্থায় আক্রান্ত অনেকেই দৈনন্দিন চলাচলে উল্লেখযোগ্য সমস্যার মুখে পড়েন, যা পার্কিং সুবিধার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে।

তিন বছরের কম বয়সী গুরুতর অসুস্থ শিশুর অভিভাবকরাও এই সুবিধার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন, যদি শিশুর চিকিৎসা ও চলাচল সংক্রান্ত বিশেষ প্রয়োজন থাকে। এতে করে হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে যেসব ব্যক্তির ট্রাফিক ঝুঁকি বোঝার সক্ষমতা সীমিত, তাদের ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়ায় বিশেষ নিয়ম প্রযোজ্য। এসব আবেদনকারীকে অনলাইনের পরিবর্তে স্থানীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে কাগজে আবেদন করতে হবে, যাতে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা যায়।

ব্লু ব্যাজধারীরা নির্ধারিত প্রতিবন্ধী পার্কিং স্পেস ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি তারা পার্কিং মিটার, পে-অ্যান্ড-ডিসপ্লে বেই এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ইয়েলো লাইনে গাড়ি পার্ক করার সুবিধাও পাবেন, যা দৈনন্দিন চলাচলে বড় ধরনের সহায়তা প্রদান করে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

রোগীকে ‘মিস্টার’ বলে সম্বোধনে বরখাস্তের মুখে নার্সঃ এনএইচএসে লিঙ্গনীতি ঘিরে তীব্র বিতর্ক

একজন রোগীকে ‘মিস্টার’ বলে সম্বোধন করার অভিযোগে বরখাস্তের মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএস-এর একজন অভিজ্ঞ নার্স। ঘটনাটি ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বাস্থ্যখাতে লিঙ্গনীতি, কর্মীদের বিবেকের স্বাধীনতা ও পেশাগত অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

 

৪০ বছর বয়সী নার্স জেনিফার মেলে প্রায় দুই বছর ধরে তার কর্মস্থল এপসম ও সেন্ট হেলিয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা এক ট্রান্সজেন্ডার রোগীকে তিনি ‘মিস্টার’ ও পুরুষবাচক সম্বোধনে উল্লেখ করেন। চিকিৎসা নথিতে ওই রোগীকে পুরুষ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল এবং চিকিৎসার সময়ও সেই পরিচয় ব্যবহার করা হয়।

জেনিফার মেলে জানান, তিনি রোগীকে স্পষ্টভাবে বলেন যে তার খ্রিস্টান বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত বিবেকের কারণে তিনি নারী হিসেবে সম্বোধন করতে পারেন না। তবে তিনি রোগীকে নাম ধরে ডাকতে রাজি ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই বক্তব্যের পর রোগী তার প্রতি তীব্র বর্ণবাদী ও ধর্মবিদ্বেষী গালিগালাজ করেন এবং আক্রমণাত্মক আচরণ প্রদর্শন করেন।

ঘটনার পর মেলে ওই বর্ণবাদী অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে জানালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা রোগীর গোপনীয়তা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং বিষয়টি নার্সিং ও ধাত্রীবিদ্যা নিয়ন্ত্রক পরিষদের কাছে পাঠানো হয়। আসন্ন শুনানিতে তার ১৩ বছরের পেশাগত জীবন ও নিবন্ধন বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং জেনিফার মেলের প্রতি সংহতি জানাতে লন্ডনে একাধিক নার্স ও নারী অধিকারকর্মী একত্রিত হন। তারা বলেন, একজন নার্সকে নিজের বিশ্বাস ও বিবেক অনুযায়ী কথা বলার কারণে শাস্তি দেওয়া পেশাগত স্বাধীনতার পরিপন্থী এবং এতে কর্মক্ষেত্রে নারীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়।

বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কয়েকজন সংসদ সদস্য বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী জৈবিক লিঙ্গ আইনগতভাবে স্বীকৃত হলেও বাস্তবে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান সেই নির্দেশনা অনুসরণ করছে না। তাদের মতে, এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা স্বাস্থ্যখাতে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

জেনিফার মেলের পুনর্বহালের দাবিতে একটি অনলাইন আবেদনপত্রে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে চাকরিতে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, এপসম ও সেন্ট হেলিয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি বর্ণবাদী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছে, রোগীর ব্যক্তিগত চিকিৎসা তথ্য প্রকাশ করা নীতিমালার পরিপন্থী এবং সব কর্মীকে গোপনীয়তা রক্ষার বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।

এই ঘটনা এখন আর শুধু একজন নার্সের ব্যক্তিগত শাস্তির বিষয় নয়। এটি যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যখাতে লিঙ্গনীতি, আইনের প্রয়োগ এবং কর্মীদের মৌলিক অধিকার রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপ বয়কট করবে না পাকিস্তান

বাংলাদেশের ভেন্যু ইস্যুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করবে না পাকিস্তান। পিসিবির একটি সূত্র আরব আমিরাত ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

গালফের প্রতিবেদন বলা হয়, ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ না সরানো হলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ খেলবে না, এমন গুঞ্জন নাকচ করেছে পিসিবি। পিসিবি’র ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানোনো হয়েছে, ‘এটি বোর্ডের অবস্থান নয়। পিসিবির এমন কোনো স্ট্যান্ড নেই। আর পাকিস্তানের সরে দাঁড়ানোর কোনো যুক্তিসংগত কারণও নেই, কারণ শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলার বিষয়টি আগেই নিশ্চিত হয়েছে।’

এর আগে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘জিও সুপার’ এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশকে সমর্থন করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি স্থগিত করেছে পিসিবি। বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে যৌক্তিক বলে অভিহিত করেছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসি যদি সন্তোষজনক কোনো সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে পাকিস্তানও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করবে। এমনকি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে না খেলার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে টিম ম্যানেজমেন্টকে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

তবে গালফ নিউজকে পিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এমন দাবি ভিত্তিহীন। তিনি বলেছেন, ‘এ সব কথা-বার্তা চলমান ইস্যুকে আরও উস্কে দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।’

এর আগে আইপিএল নিলামে দল পাওয়া বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয় ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। এরপর নিরাপত্তা শঙ্কায় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যা নিয়ে একাধিকার আইসিসির সঙ্গে বৈঠক করেছে বিসিবি। তবে বিষয়টি এখনও সমাধান হয়নি।

সূত্রঃ গালফ নিউজ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ভারতীয়দের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা বন্ধ করলো ইরান

হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৬-এর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ভারতীয় পাসপোর্টের বিশ্বব্যাপী অবস্থানের উন্নতি ঘটলেও দুটি দেশ তাদের অনভিব্যক্তি প্রবেশ বা ‘ভিসামুক্ত’ ভ্রমণের সুবিধা বাতিল করেছে।

 

২০২৫ সালে ভারতীয় পাসপোর্ট যেখানে ৮৫তম অবস্থানে ছিল, এ বছর তা ৮০তম স্থানে উঠে এসেছে। তবে র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি সত্ত্বেও ভারতীয় নাগরিকরা আগে যেখানে ৫৭টি গন্তব্যে বিনা ভিসায় যেতে পারতেন, এখন সেই সংখ্যা কমে ৫৫-তে দাঁড়িয়েছে।

ইরান এবং বলিভিয়া তাদের প্রবেশ নীতিতে পরিবর্তন আনায় ভারতীয় পর্যটকদের জন্য এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এনডিটিভি এবং হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরান এখন থেকে ভারতীয় সাধারণ পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা-মুক্ত সুবিধা স্থগিত করেছে। ২০২৫ সালের ২২ নভেম্বর থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১৭ নভেম্বর এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছিল, অনেক ভারতীয় নাগরিককে চাকরির ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা অন্য দেশে পাঠানোর নাম করে ইরানের ভিসা-মুক্ত ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে দেশটিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সেখানে পৌঁছানোর পর অনেককেই অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করার মতো ঘটনা ঘটেছে। এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণেই ইরান সরকার ভারতীয়দের জন্য আগাম ভিসা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে ইরানে ভ্রমণ বা ট্রানজিটের জন্য ভারতীয়দের আগেভাগেই দূতাবাস থেকে ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।

অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া তাদের ‘ভিসা অন অ্যারাইভাল’ বা পৌঁছানোর পর ভিসা দেওয়ার নীতি থেকে সরে এসেছে। ২০২৬ সাল থেকে ভারতীয়দের বলিভিয়া ভ্রমণের জন্য ‘ই-ভিসা’ সংগ্রহ করতে হবে। ই-ভিসার ক্ষেত্রে ভ্রমণকারীকে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে নথিপত্র আপলোড করতে হয় এবং ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ফি জমা দিতে হয়।

অনুমোদিত ভিসার ডিজিটাল কপিটি ভ্রমণের সময় সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। হেনলি ইনডেক্সের মানদণ্ড অনুযায়ী, যেহেতু যাত্রার আগে এই অনুমোদন নিতে হয়, তাই একে আর ‘ভিসা-মুক্ত’ বা ‘অন অ্যারাইভাল’ ক্যাটাগরিতে রাখা সম্ভব নয়। ফলে ভারতীয়দের সহজ প্রবেশাধিকারের তালিকায় গন্তব্যের সংখ্যা কমেছে।

সাধারণত কূটনৈতিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনস্বাস্থ্য রক্ষা বা অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন দেশ তাদের ভিসা নীতি যেকোনো সময় সংশোধন করতে পারে।

ইরান ও বলিভিয়া তালিকায় না থাকলেও ভারতীয়দের জন্য ২০২৬ সালে এখনও ৫৫টি দেশ ভিসা-মুক্ত বা সহজে ভ্রমণের সুযোগ দিচ্ছে। তবে এই দুই দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ভ্রমণকারীদের এখন থেকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেত্রে কোনো দালালের খপ্পরে না পড়ে সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সূত্রঃ এনডিটিভি

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

বাংলাদেশ না খেললে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড

নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে কোনোভাবেই ভারতে দল পাঠাবে না সংস্থাটি। শেষ পর্যন্ত বিসিবি নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে আইসিসিও বিকল্প ভেবে রেখেছে। আইসিসির সূত্রের বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে এএফপি।

মোস্তাফিজুর রহমান ২০২৬ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ পড়ার পর নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না বলে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে বিসিবি। সেই সঙ্গে ‘সি’ গ্রুপে নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে। তবে আইসিসির চাওয়া এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুক বাংলাদেশ। দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠকও হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকায় এসে বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে আলোচিত বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসেছিল আইসিসির প্রতিনিধি দল। সেখানেও নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি বিসিবি। বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি আইসিসি। ক্রিকইনফোসহ ভারতের আরও বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিসিবিকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা। এই সময়ে মধ্যে সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে বাংলাদেশকে ছাড়াই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করবে আইসিসি।

আইসিসির ওই সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশকে নিয়ে চলমান অচলাবস্থায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে ভেবে রেখেছে আইসিসি। ছোট সংস্করণের বিশ্বকাপে যেসব দল জায়গা করে নিতে পারেনি তাদের মধ্যে র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার ওপরে আছে স্কটিশরা। স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে রাখা হয়েছে তাদের।

‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। ‘বি’ গ্রুপে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে ও ওমানের প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড। আইরিশদের সবগুলো ম্যাচ হবে শ্রীলঙ্কায়। ক্রিকবাজের খবর, সবশেষ বৈঠকে আইরিশদের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদলের প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি। তাতেও সমাধান আসেনি। কারণ সূচি পরিবর্তনে রাজি হয়নি ইউরোপের দলটি। ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের (সিআই) এক কর্মকর্তা ক্রিকবাজকে বলেন, ‘বর্তমান সূচি থেকে আমরা সরছি না। এমন নিশ্চয়তা আমাদের দেওয়া হয়েছে। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো অবশ্যই আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলব।’

সূত্রঃ এএফপি

 

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে কাউন্সিলের বাড়ি জালিয়াতিতে বরাদ্দঃ গাঁজা চাষ ও অবৈধ কাজে ব্যবহারের অভিযোগ

বার্কিং ও ড্যাগেনহ্যামে কাউন্সিলের মালিকানাধীন আবাসন জালিয়াতি নিয়ে পুলিশের চলমান তদন্তে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততা প্রকাশ পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এক লেবার কাউন্সিলর। সিটি অব লন্ডন পুলিশ জানিয়েছে, শত শত বাড়ি দুর্নীতিগ্রস্ত হাউজিং কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অনিয়মিতভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

 

লেবার কাউন্সিলর রকি গিল বলেন, তদন্তের পরিধি যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই এটি বৃহৎ পরিসরের সংঘবদ্ধ অপরাধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার মতে, এসব বাড়ি কেবল ভাড়ার জালিয়াতিতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং গাঁজা চাষ, অবৈধ কার্যক্রম এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, যা এই জালিয়াতিকে আরও গুরুতর করে তুলছে।

পুলিশ জানায়, এ পর্যন্ত তদন্তের অংশ হিসেবে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে দু’জনকে ৪ সেপ্টেম্বর আটক করা হয়। তবে এখনো কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি। তদন্তটি সিটি অব লন্ডন পুলিশের ডোমেস্টিক করাপশন ইউনিট পরিচালনা করছে।

বার্কিং ও ড্যাগেনহ্যাম কাউন্সিল স্পষ্ট করেছে যে তদন্তটি তাদের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন বেসরকারি আবাসন কোম্পানি B&D Reside-এর মালিকানাধীন সম্পত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত, কাউন্সিলের নিজস্ব হাউজিং স্টকের সঙ্গে নয়। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি কাউন্সিলের বৃহৎ পুনর্গঠন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সাশ্রয়ী আবাসন ভাড়া ও বিক্রির দায়িত্বে রয়েছে।

লোকাল ডেমোক্র্যাসি রিপোর্টিং সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এসব পুনর্গঠন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাউন্সিল প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ড ঋণ নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভাড়া ও বিক্রির আয় থেকে পরিশোধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কাউন্সিলের কাউন্টার-ফ্রড ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপক কেভিন কী জানান, একাধিক আবাসিক ব্লক এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। এপ্রিল মাস থেকে এখন পর্যন্ত B&D Reside-এর ১২টি জালিয়াতির মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া বাড়ি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু আবেদনকারী ভুয়া নথি ব্যবহার করে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত বাড়ি দখল করেছে, আবার কেউ বৈধ নথি ব্যবহার করেও সেখানে বসবাস না করে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু সম্পত্তি স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার প্ল্যাটফর্মে দেওয়া হয়েছিল, আবার কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো অবৈধ কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডকে “অনৈতিক ও অমানবিক” বলে মন্তব্য করেন কাউন্সিলর রকি গিল।

ডোমেস্টিক করাপশন ইউনিটের ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর অ্যাডাম মাস্কেল জানান, তদন্তটি অত্যন্ত জটিল এবং এতে বিপুল সংখ্যক নথি ও ব্যক্তির সম্পৃক্ততা যাচাই করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, মূল হোতাদের শনাক্ত করাই এই তদন্তের প্রধান লক্ষ্য এবং এ কাজে স্থানীয় সরকার অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে পুলিশ।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধে লেবার এমপিদের আহ্বান

১৬ বছরের নিচে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লেবার পার্টির ৬০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্য।

 

রোববার পাঠানো এক খোলা চিঠিতে ৬১ জন এমপি অভিযোগ করেন, ধারাবাহিক সরকারগুলো অনিয়ন্ত্রিত ও আসক্তিকর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি।

চিঠিতে এমপিরা অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানান, যেখানে গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড ও গ্রিসও একই ধরনের আইন প্রণয়নের পথে রয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাজ্য এই ইস্যুতে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে তারা সতর্ক করেন।

প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এখনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নাকচ করেননি। তিনি বলেছেন, “সব বিকল্পই টেবিলে রয়েছে।” এরই মধ্যে আগামী সপ্তাহে হাউস অব লর্ডসে লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের একটি প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে চলচ্চিত্রের মতো বয়সভিত্তিক রেটিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, এমপিরা তাদের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে একই ধরনের উদ্বেগ শুনছেন। অনেক অভিভাবক ও নাগরিক জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত প্রভাবের কারণে শিশুরা উদ্বিগ্ন ও অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ছে, পড়াশোনায় মনোযোগ হারাচ্ছে এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।

এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন শিক্ষা বিষয়ক সিলেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান হেলেন হেইস, সাবেক হুইপ ভিকি ফক্সক্রফট, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ক্যাথরিন ম্যাককিনেল এবং সাবেক শ্যাডো ক্যাবিনেট মন্ত্রী রিচার্ড বারগনসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী লেবার নেতা। চিঠিটির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্লাইমাউথ মুর ভিউয়ের এমপি ফ্রেড থমাসের নেতৃত্বে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা নিয়ে রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক ঘোষণা দেন, তার দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হলে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা হবে।

অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের প্রস্তাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে বয়সভিত্তিক রেটিংয়ের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসক্তিকর অ্যালগরিদমিক ফিড ব্যবহার করে বা অনুপযুক্ত কনটেন্ট হোস্ট করে—এমন প্ল্যাটফর্মগুলো কেবল ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য সীমিত থাকবে। আর যেসব সাইটে চরম সহিংসতা বা পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট রয়েছে, সেগুলো কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত হবে।

তবে ১৬ বছরের নিচে সবার জন্য একযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে বেশ কয়েকটি শিশু কল্যাণ ও অনলাইন নিরাপত্তা সংস্থা। এনএসপিসিসি, চাইল্ডনেট এবং মলি রোজ ফাউন্ডেশনসহ ৪২টি সংস্থা ও ব্যক্তি যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা ভুল সমাধান হতে পারে এবং এতে মিথ্যা নিরাপত্তাবোধ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করলে শিশুরা ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিগুলো অনলাইনের অন্য প্ল্যাটফর্মে সরে যেতে পারে। তারা জোর দিয়ে বলেন, বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং বয়সভেদে ঝুঁকিপূর্ণ ফিচারগুলোর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করাই শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঠিক পথ।

২০১৭ সালে অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখার পর মারা যাওয়া কিশোরী মলি রাসেলের বাবা ইয়ান রাসেলও নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বদলে সরকারের উচিত বিদ্যমান আইন কার্যকর করা, কারণ হঠাৎ আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

অবৈধ শ্রম দমনে রেকর্ড অভিযানঃ যুক্তরাজ্যে ১৭,৪০০ রেইড, ১২,৩০০-এর বেশি গ্রেপ্তার

অবৈধভাবে কাজ করা দমনে যুক্তরাজ্যে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অভিযান চালিয়েছে হোম অফিসের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট টিম। সরকারি তথ্যমতে, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সারা দেশে অবৈধ কাজ সংক্রান্ত অভিযানের সংখ্যা ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে জুলাই ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালে গ্রেপ্তার বেড়েছে ৮৩ শতাংশ।

 

এই সময়ের মধ্যে ১৭,৪০০টিরও বেশি অভিযান চালানো হয়েছে নেইল বার, কার ওয়াশ, বারবার শপ, টেকঅ্যাওয়ে দোকানসহ বিভিন্ন সন্দেহভাজন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। এসব অভিযানের মাধ্যমে এমন সব প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা হয়েছে, যারা অবৈধ শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে সৎ ব্যবসায়ী ও কর্মীদের সঙ্গে অন্যায্য প্রতিযোগিতা করছিল।

বর্ধিত অভিযানের ফলে ১২,৩০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বছর ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট খাতে অতিরিক্ত ৫ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়ার ফলেই অবৈধভাবে কাজ করানো ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে এই ব্যাপক অভিযান সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে হোম অফিস।

ওয়েলসে অবৈধ শ্রমবিরোধী তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালে সেখানে ১,৩২০টি অভিযান পরিচালিত হয়, যার ফলে ৬৪৯ জন গ্রেপ্তার হন। এটি ২০২৪ সালের তুলনায় অভিযানে ১০৩ শতাংশ এবং গ্রেপ্তারে ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

সরকারের দাবি, অবৈধভাবে কাজ করানোর বিরুদ্ধে এই অভিযান অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অভিবাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। এসব সংস্কারের উদ্দেশ্য হলো অবৈধ অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাজ্যকে কম আকর্ষণীয় করা এবং যাদের দেশে থাকার আইনগত অধিকার নেই, তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন সহজ করা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে কাজ করার কোনো স্থান যুক্তরাজ্যের কমিউনিটিতে নেই। এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে কালো অর্থনীতিতে জড়িত অবৈধ শ্রমিকদের লুকানোর কোনো সুযোগ না থাকে।

ওয়েলস বিষয়ক মন্ত্রী জো স্টিভেন্স বলেন, অবৈধ শ্রম কালো অর্থনীতিকে উসকে দেয় এবং আইন মেনে চলা ব্যবসাগুলোর ক্ষতি করে। নিয়ম ভঙ্গকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ওয়েলসে রেকর্ড পরিমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যজুড়ে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাদের বডি-ওর্ন ভিডিও প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চালু হওয়া এই প্রযুক্তি এখন সব টিম ব্যবহার করছে, যা গ্রেপ্তার ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রমাণ জোগাড়ে সহায়ক হবে।

গত বছরের অভিযানে রেস্তোরাঁ, নির্মাণস্থল ও নেইল বারসহ বিভিন্ন খাতে অভিযান চালানো হয়। একটি গুদাম, একটি বারবার শপ এবং সোয়ানসির একটি নির্মাণস্থলে অভিযানে চীনা, তুর্কি ও সুইডিশ নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে অপসারণের জন্য আটক এবং কয়েকজনকে ইমিগ্রেশন বেইলে রাখা হয়।

নতুন বর্ডার সিকিউরিটি, অ্যাসাইলাম অ্যান্ড ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট–এর আওতায় সরকার কাজ করার অধিকার যাচাইয়ের পরিধি বাড়িয়েছে।

এ ছাড়া অর্গানাইজড ইমিগ্রেশন ক্রাইম ডোমেস্টিক টাস্কফোর্স মানবপাচার চক্র দমনে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও সরকারি সংস্থাকে একত্রে কাজ করতে সহায়তা করছে। গত ১২ মাসে মানবপাচার কার্যক্রমে ৩৩ শতাংশ বেশি ব্যাঘাত সৃষ্টি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে অবৈধ শ্রম, মানবপাচার ও সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারের এই ধারাবাহিক অভিযান ও আইনি সংস্কার যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে।

সূত্রঃ ইউকে ডট গভ

এম.কে