Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

অবৈধ প্রবেশ রোধে কঠোর যুক্তরাজ্যঃ ৪০ হাজার প্রবেশ চেষ্টা ঠেকানো, প্রায় ৫০ হাজার বহিষ্কার

ছোট নৌকায় করে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। হোম অফিস জানিয়েছে, ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার অবৈধ প্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। একই সময়ে অবৈধভাবে অবস্থানকারী প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে আটক ও দেশ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

 

হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, ফ্রান্সের সঙ্গে পরীক্ষামূলক চুক্তির আওতায় এখন ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগ অবৈধ চ্যানেলে যুক্তরাজ্যে আসার প্রবণতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

অবৈধ অভিবাসনের প্রণোদনা কমাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সম্প্রতি আধুনিক কালের সবচেয়ে ব্যাপক সংস্কার ঘোষণা করেছেন। যেসব অভিবাসীর যুক্তরাজ্যে থাকার কোনো আইনগত অধিকার নেই, তাদের দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করতে আপিলের সুযোগ একটিমাত্র পথে সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব আশ্রয় আবেদন সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে বহিষ্কার প্রক্রিয়া জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হোম অফিসের তথ্যমতে, জুলাই ২০২৪ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থী, বিদেশি অপরাধী ও অন্যান্য অভিবাসন আইনভঙ্গকারীকে বহিষ্কার বা অপসারণ করা হয়েছে। এটি জুলাই ২০২৪–এর আগের ১৬ মাসের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি।

সরকার আশ্রয়প্রার্থী হোটেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর কথাও জানিয়েছে। ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে যেখানে ৪০০টির বেশি হোটেল ব্যবহৃত হচ্ছিল এবং দৈনিক ব্যয় ছিল প্রায় ৯ মিলিয়ন পাউন্ড, সেখানে এখন ২০০টিরও কম হোটেল চালু রয়েছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সব আশ্রয়প্রার্থী হোটেল বন্ধ করা হবে।

এদিকে মানবপাচার চক্র দমনে বর্ডার সিকিউরিটি, অ্যাসাইলাম অ্যান্ড ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট–এর আওতায় নতুন ও শক্তিশালী ক্ষমতা প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংগঠিত অভিবাসন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের মোবাইল ফোনসহ ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করতে পারছে।

নতুন আইনের আওতায় ছোট নৌকা বা মানবপাচারে ব্যবহৃত হতে পারে—এমন যেকোনো সরঞ্জাম সরবরাহ বা বহন করাও এখন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সরকারের মতে, এসব ব্যবস্থা মানবপাচার চক্রকে দুর্বল করতে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সাল ছিল ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ বছর, যখন ৪৫ হাজারের বেশি মানুষ এ পথে দেশটিতে প্রবেশ করে। বর্তমান সরকার বলছে, নতুন আইন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে সেই প্রবণতা পাল্টে দেওয়া হচ্ছে।

সূত্রঃ ইউকে ডট গভ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ছয় মাসে লন্ডনে অবৈধ কর্মী নিয়োগে £৬.৭ মিলিয়ন জরিমানা, রেস্তোরাঁ খাতেই সর্বোচ্চ ধাক্কা

গত বছরের প্রথম ছয় মাসে লন্ডনের ১১৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ কর্মী নিয়োগের দায়ে মোট £৬.৭ মিলিয়নের বেশি জরিমানা করেছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস।

 

২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুনের মধ্যে পরিচালিত তদন্ত ও অভিযানে এসব প্রতিষ্ঠানে এমন কর্মী পাওয়া যায়, যাদের যুক্তরাজ্যে কাজ করার কোনো আইনগত অধিকার ছিল না।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এই অঙ্কটি আগের ছয় মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় ৯০টি লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রায় £৪.৬ মিলিয়ন জরিমানা করা হয়েছিল। নতুন পরিসংখ্যান বলছে, সরকারের কঠোর অবস্থান ও অভিযান বৃদ্ধির ফলে জরিমানার পরিমাণ এবং আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা—দুটোই বেড়েছে।

জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে রেস্তোরাঁ ও বার। মোট ১১৭টির মধ্যে ৪৪টি প্রতিষ্ঠান এই খাতের, যা এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। সরকার আতিথেয়তা খাতে অভিযান জোরদার করায় রেস্তোরাঁ, পাব ও হোটেলগুলো এখন সবচেয়ে বেশি নজরদারির মুখে। বারবার আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে এসব প্রতিষ্ঠানের মদ পরিবেশন ও দেরি পর্যন্ত খোলা রাখার লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকিও রয়েছে।

রেস্তোরাঁর পাশাপাশি ছোট দোকান, সুপারমার্কেট, কার ওয়াশ, নেইল বার এবং নির্মাণ কোম্পানিগুলোকেও জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে।

হোম অফিস বলছে, অবৈধ কর্মসংস্থান শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, এটি সৎ ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং স্থানীয় শ্রমবাজারে মজুরি কমিয়ে দেয়।
সরকারের নতুন নীতিমালায় শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে। গত বছর প্রথমবার ধরা পড়লে প্রতি অবৈধ কর্মীর জন্য জরিমানা £১৫,০০০ থেকে বাড়িয়ে £৪৫,০০০ করা হয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় করলে জরিমানার অঙ্ক দাঁড়ায় প্রতি কর্মী £৬০,০০০ পর্যন্ত।

নটিং হিলের ওয়েস্টবোর্ন গ্রোভে অবস্থিত রেস্তোরাঁ সাদাফ-এর মালিকদের £৪৫,০০০ জরিমানা করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা যথাযথ মজুরি না দিয়ে খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে অবৈধ কর্মী নিয়োগ করেছিলেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পাওয়া একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিবাসন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা অভিযান চালান।

কেনসিংটন পার্ক রোডের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ লা মিয়া মাম্মা—যা খাঁটি ইতালীয় খাবারের জন্য পরিচিত এবং স্ট্যানলি টুচ্চির সিএনএন ডকুমেন্টারিতে স্থান পেয়েছিল—সেখানেও অবৈধ কর্মী পাওয়া যায়। সেখানে হন্ডুরাসের এক নারী ও একটি এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এক বাংলাদেশি নাগরিক কাজ করছিলেন। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে £৮০,০০০ জরিমানা করা হয়।

এদিকে ক্যামডেনভিত্তিক ফরাসি সেবা প্রতিষ্ঠান সোডেক্সো, যার সঙ্গে হোম অফিস, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও এইচএমআরসির চুক্তি রয়েছে, তাকেও £৫৫,০০০ জরিমানা গুনতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, ক্যাটারিং ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট কর্মীর চাকরি বাতিল করে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে হোম অফিসকে জানানো হয়েছে।

হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেছেন, অবৈধ কর্মসংস্থান সৎ নিয়োগদাতাদের ক্ষতি করে এবং সংঘবদ্ধ অভিবাসন অপরাধকে উৎসাহিত করে। তিনি জানান, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সারা দেশে অভিযান ৭৭ শতাংশ এবং গ্রেপ্তার ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছর ও ভবিষ্যতে এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে স্পষ্ট করেছে সরকার।

সূত্রঃ দ্য স্ট্যান্ডার্ড

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে কেন্টে আবারও পানি সংকটঃ ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা

যুক্তরাজ্যের কেন্ট কাউন্টিতে আবারও গুরুতর পানি সংকট দেখা দিয়েছে। মেইডস্টোনের আশপাশের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় আনুমানিক ৪,৫০০টি বাড়ি এবং টানব্রিজ ওয়েলসের শত শত পরিবার প্রায় কোনো পানি না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

 

পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সাউথ ইস্ট ওয়াটার (এসইডব্লিউ) জানিয়েছে, একটি পানি শোধনাগারে বৈদ্যুতিক ত্রুটি এবং সংরক্ষণ ট্যাংকগুলোতে পানির ধীরগতির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অনেক এলাকায় পানির চাপ একেবারে নেমে গেছে অথবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

মেইডস্টোন এলাকার হ্যারিয়েটশ্যাম, কিংসউড, কক্সহিথ, হেডকর্ন ও আশপাশের গ্রামগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসইডব্লিউ জানিয়েছে, এসব এলাকায় রোববারের শেষ নাগাদ পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

তবে টানব্রিজ ওয়েলসের বিডবরো এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সংকট আরও দীর্ঘ হতে পারে। কোম্পানির মতে, সেখানে সোমবার পর্যন্ত পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

পানি সংকটে পড়া গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সাউথ ইস্ট ওয়াটার। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বোতলজাত পানি বিতরণের জন্য বিশেষ স্টেশন খোলা হয়েছে, যাতে জরুরি প্রয়োজন মেটানো যায়।

এই নতুন সংকটটি সাউথ ইস্ট ওয়াটারের জন্য সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক ব্যর্থতার সর্বশেষ উদাহরণ। গত সপ্তাহেই কেন্ট ও ওয়েস্ট সাসেক্সে প্রায় ৩০,০০০ বাড়িতে টানা ছয় দিন পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে কোম্পানিটি।

ওই ঘটনার পর কেন্ট কাউন্টি কাউন্সিল ‘মেজর ইনসিডেন্ট’ ঘোষণা করে এবং পানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফওয়াট সাউথ ইস্ট ওয়াটারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে।

অফওয়াট জানিয়েছে, গ্রাহকসেবার মান রক্ষা ও ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি তাদের লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন করেছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগেও গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে টানব্রিজ ওয়েলসে দীর্ঘস্থায়ী পানি সংকট দেখা দেয়। সে সময় শহর ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ২৪,০০০ বাড়ি প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পানযোগ্য পানি থেকে বঞ্চিত ছিল।

অফওয়াটের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর লিন পার্কার বলেন, “গত ছয় সপ্তাহ কেন্ট ও সাসেক্সের পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। বারবার পানি সরবরাহে ব্যর্থতা জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে।”

নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে সাউথ ইস্ট ওয়াটার তাদের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করেছে, তাহলে কোম্পানিটির লাইসেন্স বাতিল করে বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় নেওয়া হতে পারে—যতদিন না নতুন কোনো মালিক পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে সাউথ ইস্ট ওয়াটারের ইনসিডেন্ট ম্যানেজার ম্যাথিউ ডিন বলেন, “যেসব গ্রাহক এই সংকটে পড়েছেন, তাদের প্রত্যেকের কাছে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। দীর্ঘ সময় পানি ছাড়া থাকা যে কতটা কষ্টকর এবং দৈনন্দিন জীবনকে কতটা কঠিন করে তোলে—আমরা তা বুঝি।”

ক্রমাগত পানি সরবরাহ ব্যর্থতা কেন্টজুড়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়াচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সমাধান না হলে সাউথ ইস্ট ওয়াটারের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক যুক্তরাজ্য (UK)

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে শুল্ক রাজনীতিঃ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একজোট ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য

গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্ক মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। যুক্তরাজ্যসহ ন্যাটোর আটটি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্ককে একটি “বিপজ্জনক নিম্নমুখী পপরিস্থিতির” দিকে ঠেলে দিতে পারে।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েনের কারণে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও নেদারল্যান্ডসের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। কোপেনহেগেন যদি গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরে সম্মত না হয়, তাহলে জুন থেকে এই শুল্ক ২৫ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলেও হুমকি দেন তিনি।

ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আর্কটিক নিরাপত্তা একটি অভিন্ন ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক স্বার্থ। শুল্কের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ককেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতাকেও দুর্বল করবে।

এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কঠোর জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ইইউর তথাকথিত ‘অ্যান্টি-কোয়ার্শন ইনস্ট্রুমেন্ট’ বা ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা কোনো দেশ বাণিজ্যকে রাজনৈতিক চাপের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টও কড়া অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েনের মধ্যে গত জুলাই স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রভাবশালী দল ইউরোপিয়ান পিপলস পার্টির নেতা মানফ্রেড ভেবার স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি অব্যাহত থাকলে চুক্তিটি অনুমোদন পাবে না।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ইউরোপ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা যাবে না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুটি এখন আর কেবল ডেনমার্কের বিষয় নয়; এটি ইউরোপীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন।

যুক্তরাজ্য তুলনামূলকভাবে সংযত ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই পদক্ষেপকে “সম্পূর্ণ ভুল” আখ্যা দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি “পরিণত ও বাস্তবসম্মত সংলাপ” প্রয়োজন।

তবে ইউরোপের অন্য নেতারা আরও কঠোর সুরে কথা বলেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ফ্রান্স কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপের কাছে মাথা নত করবে না। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনও স্পষ্ট করে জানান, ইউরোপ ব্ল্যাকমেইল মেনে নেবে না।

এই বিভাজিত প্রতিক্রিয়াকে কটাক্ষের সুযোগ হিসেবে নিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়াকে “আতঙ্কগ্রস্ত” বলে মন্তব্য করেন, যা পশ্চিমা জোটের ভেতরের টানাপোড়েনকে আরও উসকে দিয়েছে।
এর মধ্যেই জার্মানি নীরবে গ্রিনল্যান্ড থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করেছে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, বিশ্লেষকদের মতে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের চাপেরই প্রতিফলন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়াই নাকি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে ভালো সমাধান। তার এই বক্তব্য ইউরোপে নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

ডেনিশ ও গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ বারবার স্পষ্ট করেছে—গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। কিন্তু ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি ও সামরিক চাপ সেই অবস্থানকে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে এই সংঘাত কেবল একটি ভূখণ্ডের প্রশ্ন নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইন, সার্বভৌমত্ব এবং পশ্চিমা জোটের ঐক্যের ওপর বড় ধরনের পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপ যদি সত্যিই ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহার করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ সম্পর্ক নতুন এক বাণিজ্য যুদ্ধের যুগে প্রবেশ করতে পারে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

গাজার ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেল পাকিস্তান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গাজা পুনর্গঠন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

 

রোববার (১৮ জানুয়ারি) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে এই আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

পাকিস্তান এই আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত থাকতে সম্মত হয়েছে এবং জানিয়েছে, জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী ফিলিস্তিন সমস্যার একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধান চায় ইসলামাবাদ। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই নতুন কূটনৈতিক মেরুকরণের তথ্য জানানো হয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলের টানা দুই বছরের ধ্বংসযজ্ঞের পর ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে এই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করা হচ্ছে। ট্রাম্প নিজেকে এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ব্যাপক অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা সামনে এনেছেন।

এই বোর্ডে তুরস্ক, মিসর, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, মরক্কো, ব্রিটেন, জার্মানি, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ প্রায় ৬০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে বোর্ডের সনদে গাজার নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকায় অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্প একে জাতিসংঘের একটি বিকল্প আন্তর্জাতিক কাঠামো হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যে এই বোর্ডের একটি শক্তিশালী নির্বাহী প্যানেল ঘোষণা করেছেন। এতে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ।

এছাড়া তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকেও এই বোর্ডে রাখা হয়েছে, যদিও গাজায় তুরস্কের যেকোনো ভূমিকার ঘোর বিরোধিতা করে আসছে ইসরায়েল। প্যানেলের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ সমন্বয়কারী সিগরিড কাগ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একজন মন্ত্রী। এই প্যানেলটি মূলত গাজার প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো তদারকি করবে।

এদিকে, গাজা শাসনের জন্য গঠিত ফিলিস্তিনি প্রকৌশলীদের একটি টেকনোক্র্যাট কমিটি গত শুক্রবার কায়রোতে তাদের প্রথম বৈঠক সম্পন্ন করেছে। এই কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক ফিলিস্তিনি উপমন্ত্রী আলি শাআথ। তাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ ভূমধ্যসাগরে সরিয়ে ফেলা এবং আগামী তিন বছরের মধ্যে ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্গঠন করা।

জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ এই কমিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি এই বোর্ডে মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব আরও জোরালো করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের প্রস্তাবে তোলপাড়ঃ গাজা শান্তি বোর্ডে স্থায়ী সদস্যপদ পেতে গুনতে হবে ১০০ কোটি ডলার

গাজা পুনর্গঠন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার শর্ত হিসেবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে অন্তত ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের হাতে আসা একটি খসড়া সনদে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

 

এই আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই দায়িত্ব পালন করবেন এবং খসড়া অনুযায়ী সংস্থার তহবিল ও সদস্যপদের ওপর তার সর্বময় কর্তৃত্ব থাকবে। এই পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে কোনো সদস্য রাষ্ট্রের সাধারণ মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ তিন বছর। তবে যেসব দেশ প্রথম বছরের মধ্যে নগদ ১০০ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা প্রদান করবে, তারা স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করবে।

বোর্ডের ভোটাভুটি, এজেন্ডা নির্ধারণ এবং সদস্যদের পদচ্যুত করার ক্ষমতা এককভাবে চেয়ারম্যানের হাতে থাকবে। এমনকি চেয়ারম্যান তার নিজের উত্তরসূরিও নিজে মনোনীত করতে পারবেন। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প মূলত জাতিসংঘের বিকল্প বা প্রতিদ্বন্দ্বী একটি সমান্তরাল সংস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন, যেখানে দাপ্তরিক সিলমোহর অনুমোদনের ক্ষমতাও থাকবে তার হাতে।

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা ইতিমধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন যে, এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি।

এছাড়া আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মিলেই এবং কানাডার মার্ক কার্নিসহ বেশ কয়েকজন বিশ্ব নেতাকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও ইউরোপের অনেক দেশ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। বিশেষ করে তহবিলের অর্থ ট্রাম্পের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাওয়ায় অনেক দেশ একে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে এবং এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

হোয়াইট হাউস থেকে ইতিমধ্যে একটি প্রাথমিক নির্বাহী প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে, যারা মূল বোর্ড গঠনের আগেই কার্যক্রম শুরু করবে। এই প্যানেলে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।

সনদে এই বোর্ডকে ‘দ্বন্দ্বকবলিত এলাকায় স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং নির্ভরযোগ্য শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, এর বাণিজ্যিক ও একক আধিপত্যবাদী রূপটি বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ ব্লুমবার্গ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

সরকার বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইসরায়েল

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হাজার হাজার মানুষ তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাস্তায় নেমে আসেন।

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি ছিল গাজায় হামাসের হাতে নিহত শেষ জিম্মি রান গভিলির মরদেহ ফিরিয়ে আনা এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার ঘটনায় একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা। টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা বর্তমান সরকারের বিচার বিভাগীয় সংস্কার পরিকল্পনারও তীব্র বিরোধিতা করছেন।

নিহত জিম্মি রান গভিলির নিজ শহর মেইতারে একটি বিশেষ সমাবেশের আয়োজন করা হয়, যেখানে রানের বাবা-মা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন জিম্মি মুক্তির প্রথম ধাপ পূর্ণাঙ্গভাবে সফল হওয়ার আগেই গাজা পুনর্গঠনের জন্য ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন ও দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করতে তাড়াহুড়ো করছে।

 

রান গভিলির বাবা ইতজিক এবং মা ত্যালিক এক বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলেন, হামাস যেখানে তাদের সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করছে, সেখানে কিসের ভিত্তিতে শান্তি ও পুনর্গঠনের কথা ভাবা হচ্ছে। তারা মনে করেন, হামাসকে চুক্তি পালনে বাধ্য না করে গাজা পুনর্গঠন করা মানে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা।

তেল আবিবের প্রধান সমাবেশে প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আইডিএফ প্রধান মোশে ইয়ালন বর্তমান সরকারকে ‘দুর্নীতিবাজ ও মেসিয়ানিক’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি নেতানিয়াহু সরকারকে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ইসরায়েল কোনো বাহ্যিক অস্তিত্ব সংকটে নেই, বরং অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত।

ইয়ালন অভিযোগ করেন, সরকারের চরমপন্থী মন্ত্রীরা ইরানি শাসনের মতো প্রতিবাদকারীদের দমন করার মানসিকতা পোষণ করছেন। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার ও প্লা্যকার্ডের মাধ্যমে ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতার জন্য রাজনৈতিকভাবে নিয়োগকৃত তদন্ত কমিটির পরিবর্তে নিরপেক্ষ বিচারিক তদন্তের দাবি জানান।

মেইতারের সমাবেশে শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে রান গভিলির স্কুল ও সেনাবাহিনীর বন্ধুরা ছাড়াও ফিরে আসা কয়েকজন জিম্মি ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হওয়া রুমি গোনেনের মা মেইরাভ লেশেম গোনেন আবেগঘন কণ্ঠে জানান, ৭ অক্টোবরের হামলার সময় রান এবং অন্য রক্ষীরা তার মেয়েকে বাঁচাতে জীবন বাজি রেখে লড়েছিলেন।

বিক্ষোভকারীরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই বার্তা দিয়েছেন, যত দিন না শেষ জিম্মি ফিরে আসছেন এবং সরকারের ব্যর্থতার স্বচ্ছ বিচার হচ্ছে, তত দিন রাজপথ ছাড়বেন না তারা।

সূত্রঃ টাইমস অব ইসরায়েল

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

বাংলাদেশের দাবি না মানলে বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে পাকিস্তান!

নিরাপত্তা শঙ্কায় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যা নিয়ে একাধিকার আইসিসির সঙ্গে বৈঠক করেছে বিসিবি। তবে বিষয়টি এখনও সমাধান হয়নি। এরই মাঝে এই জটিলতা এখন নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে।

 

বাংলাদেশের দাবি না মানলে বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে পাকিস্তান। এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ইসলামাবাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ঢাকা। এক সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে সহায়তা পেতে বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের সমস্যা সমাধান না হলে পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

বাংলাদেশের ভেন্যু সমস্যার সমাধান করতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিসিবির সঙ্গে বৈঠক করতে ঢাকায় আসেন আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। বিকালে বিসিবির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এই বৈঠকে অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন আইসিসির ইভেন্টস অ্যান্ড করপোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনাও। ভিসা না পাওয়ায় বৈঠকে সরাসরি যোগ দিতে পারেননি তিনি। আইসিসির সঙ্গে বৈঠক শেষেও ভারতে না সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বিসিবি।

আইসিসির সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, আইসিসির দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বিসিবির বৈঠকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিসিবি আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্বেগও তুলে ধরা হয়। যেখানে দলের নিরাপত্তা, বাংলাদেশি সমর্থক, গণমাধ্যমকর্মী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিরাপত্তার বিষয়টি আইসিসির কাছে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বৈঠকে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের গ্রুপ পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, ‘অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ন্যূনতম লজিস্টিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষয়টি সহজতর করার উপায় হিসেবে বাংলাদেশকে অন্য গ্রুপে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।’ তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূত্রঃ এনডিটিভি

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণঃ ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অভিযান, ইউরোপীয় মিত্রদের ‘গালে চড়’

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসী মনোভাব ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রতায় এক নজিরবিহীন ফাটল ধরিয়েছে।

 

২০২৬ সালে এসে ট্রাম্প যখন ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে সরাসরি দখল বা কিনে নেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন, তখন ইউরোপীয় নেতারা একে ন্যাটোর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। এতদিন ট্রাম্পের বিভিন্ন বিতর্কিত দাবি এবং ন্যাটোর বাজেট বাড়ানোর চাপ মুখ বুজে সহ্য করলেও, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে এবার ইউরোপকে একটি কঠিন অবস্থান বা ‘রেড লাইন’ টানতে হচ্ছে।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ড সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠক করেছেন।

বৈঠক শেষে রাসমুসেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে এটি ২০২৬ সাল এবং আধুনিক বিশ্বে মানুষের অধিকার নিয়ে এভাবে কেনাবেচা হতে পারে না। অন্যদিকে জেডি ভ্যান্স এই আলোচনাকে আরও উসকে দিচ্ছেন বলে মনে করছেন ইউরোপীয় কূটনীতিকরা, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার পেছনে যেমন কৌশলগত ও খনিজ সম্পদের গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি কাজ করছে তার ব্যক্তিগত অহংবোধ বা ‘ইগো’।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, গ্রিনল্যান্ড জয় করাকে তিনি তার সাফল্যের জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রয়োজনীয় মনে করেন। এমনকি যে দেশগুলো তার এই পরিকল্পনায় বাধা দেবে, তাদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এই পরিস্থিতিতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের ওপর যে মানসিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তাকে অনেকেই ‘সেরা বন্ধুর গালে হুট করে চড় মারা’র মতো একটি অদ্ভুত আচরণ হিসেবে দেখছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং ন্যাটো এখন এই সংকট মোকাবিলায় কোমর বেঁধে নামছে। ট্রাম্পের প্রধান যুক্তি হলো গ্রিনল্যান্ড রাশিয়া বা চীনের হামলা থেকে সুরক্ষিত নয়। এই অজুহাত কেড়ে নিতে ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে শুরু করেছে। এছাড়া ইইউ গ্রিনল্যান্ডের জন্য তাদের আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করার এবং গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ নতুন অফিস খোলার প্রস্তাব দিয়েছে।

ইউরোপীয় নেতারা এখন এটি প্রমাণ করতে মরিয়া যে তারা নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করতে সক্ষম এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নিরাপত্তার জন্য নির্ভরশীল হলেও নিজেদের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দেবে না।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.ক

Categories
বাংলাদেশ

বিশ্বসেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তালিকায় তারেক রহমান, পেছনে ফেললেন ট্রাম্পকে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিশ্বসেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণকারী আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ‘সোশ্যাল ব্ল্যাড’ প্রকাশিত শীর্ষ ১০০ ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তালিকায় তিনি ৬৩তম অবস্থানে রয়েছেন।

 

বিশেষ বিষয় হলো, এই র‌্যাঙ্কিংয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও পেছনে ফেলেছেন। ট্রাম্পের অবস্থান তারেক রহমানের চেয়ে চার ধাপ পেছনে।

বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে রোববার (১৮ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কনটেন্ট পোস্টের সংখ্যা এবং জনসম্পৃক্ততার (এনগেজমেন্ট) বিচারে তারেক রহমানের অবস্থান বর্তমানে ট্রাম্পের ওপরে। সোশ্যাল ব্ল্যাডের তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বর্তমানে ৫৫ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি লাইক রয়েছে এবং এর এনগেজমেন্ট বা আলোচনার মাত্রা প্রায় ১৬ লাখ ৪৮ হাজারের উপরে।

চমৎকার পারফরম্যান্সের কারণে সোশ্যাল ব্ল্যাড তার পেজটিকে ‘এ++’ (A++) গ্রেড প্রদান করেছে। গত ১৪ দিনে পেজটিতে প্রায় ৪৮ হাজার নতুন লাইক যুক্ত হয়েছে এবং দৈনিক গড়ে ৩৯ হাজারেরও বেশি লাইক বাড়ছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সক্রিয় ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ফেসবুক পেজগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত।

সোশ্যাল ব্ল্যাডের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ফেসবুকে যাদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও কন্টেন্ট শেয়ার করা হয়, তাদেরই শীর্ষ ক্রিয়েটরের তালিকায় রাখা হয়। সেই হিসেবে তারেক রহমান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম কে