Categories
স্পোর্টস

ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না আয়ারল্যান্ডও

আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতায় স্পষ্ট অবস্থান জানাল ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের আসরটিতে ভারতে গিয়ে খেলবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি। তারা আইসিসি থেকেও আশ্বাস পেয়ে গেছে, বিশ্বকাপে তাদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কা থেকে সরছে না।

 

ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেছেন যে, ‘আমরা স্পষ্ট আশ্বাস পেয়েছি যে নির্ধারিত সূচি বদলাবে না। আমরা নিশ্চিতভাবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই খেলবো।’

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় ২০ দলের অংশগ্রহণে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে ৭ ফেব্রুয়ারি, শেষ হবে ৮ মার্চ। যেখানে আয়ারল্যান্ড আছে গ্রুপ ‘সি’তে। এই গ্রুপে তাদের সঙ্গে আছে সহ–আয়োজক শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে ও ওমান।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ আছে গ্রুপ বিতে। ওই গ্রুপে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, নেপাল ও ইতালি। বাংলাদেশের গ্রুপের ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতা ও মুম্বাইয়ে। কিন্তু, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ভারত সফরে যেতে অনিচ্ছুক।

মূলত, এই কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসির কাছে গ্রুপ বদলের প্রস্তাব করে। যা নিয়ে কয়েক দফা ভার্চুয়াল মিটিংয়ের পর গতকাল শনিবার ঢাকায় দুই পক্ষ আলোচনায় বসে। আইসিসির প্রতিনিধি দলে ছিলেন গৌরব সাক্সেনা এবং অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে বৈঠকে ছিলেন সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম। ছিলেন সহসভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ। আরও ছিলেন ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন এবং সিইও নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।

বৈঠক শেষে বিসিবি জানায়, এই বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব আইসিসি কিংবা আয়ারল্যান্ড কাউকেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ফলে আয়ারল্যান্ডের অবস্থান বদলানোর কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

সূত্রঃ ক্রিকবাজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মিত্রদের ওপর ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি ‘সম্পূর্ণ ভুল’—কিয়ার স্টারমার

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিকে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক রাজ্যের অংশ এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একান্তভাবেই গ্রিনল্যান্ডবাসী ও ডেনমার্কের।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েনকারী ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ এসব দেশকে তিনি সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে কোনো চুক্তি না হলে ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।

ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড ‘অজানা উদ্দেশ্যে’ গ্রিনল্যান্ডে উপস্থিত হয়েছে। তিনি এটিকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেন।

এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কিয়ার স্টারমার বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পুরো ন্যাটোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় মিত্রদের সম্মিলিতভাবে কাজ করা জরুরি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক চাপানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাজ্য এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবে বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের বিরোধী দলগুলোর নেতারাও ট্রাম্পের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের ওপর শুল্ক আরোপ দেশের ব্যবসা ও অর্থনীতির ওপর নতুন বোঝা তৈরি করবে। তার মতে, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব নির্ধারণের অধিকার কেবল সেখানকার জনগণের।
লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ন্যাটো মিত্রদের শাস্তি দিচ্ছে কেবল সঠিক কাজ করার জন্য। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ইউরোপীয় ও কমনওয়েলথ মিত্রদের সঙ্গে জোট গড়ে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

রিফর্ম পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজও শুল্ক হুমকিকে যুক্তরাজ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, সব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত হওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, আর এই ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের স্বার্থ স্পষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
লেবার এমপি স্টেলা ক্রিসি বলেন, ট্রাম্পের শুল্ক ও হুমকি ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কৌশলগত সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রশ্নটিকে আরও জরুরি করে তুলেছে। তার মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে ইউরোপের সঙ্গে বাস্তব ও দ্রুত ‘রিসেট’ অপরিহার্য।

এদিকে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা লর্ড পিটার রিকেটস মনে করেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত শান্ত ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখানো। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শীতল যুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক উপস্থিতি ছিল এবং একতরফা হুমকি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তার নিরাপত্তা স্বার্থ নিশ্চিত করতে পারে। তার মতে, শুল্কের হুমকির পরিবর্তে ন্যাটোর ভেতরে সমন্বয়ের মাধ্যমেই গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক নিরাপত্তা প্রশ্নের সমাধান সম্ভব।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

তেহরানে পৌঁছার আগেই ধরা পড়ে বিপুল অস্ত্র, ভেস্তে যায় ইসরায়েলের পরিকল্পনা

সম্প্রতি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ইরান। দেশটির রাজধানী তেহরানসহ গোটা দেশেই ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন। ইরান সরকারের অভিযোগ, বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইন্ধন রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার ইরানি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।

 

ট্র‍্যাম্প হুমকি দেন হামলার। ইসরায়েলও নিজেদের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের দিয়ে বিক্ষোভে উস্কানি দেওয়ার কথা জানায়। এভাবেই ভয়াবহ রূপ নেয় ওই আন্দোলন।

এদিকে, তেহরানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগেই বিপুল সংখ্যক অস্ত্র জব্দ করে ইরান।

দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, প্রায় ৬০ হাজার অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে মোসাদ-প্রশিক্ষিত একটি সন্ত্রাসী চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে এই চক্র প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছিল বলে দাবি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে বিদেশি মদদপুষ্ট সহিংসতায় রূপ নেয় বলেও তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইরানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কমান্ড (ফারাজা) এক বিবৃতিতে জানায়, বুশেহর প্রদেশে দাঙ্গাকারীদের কাছ থেকে ৬০ হাজার অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

ফারাজা জানায়, এসব অস্ত্র তেহরানে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। অভিযানের সময় দু’জন সন্ত্রাসীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে দেশটির গোয়েন্দা বাহিনী একটি ‘বিপজ্জনক ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ শনাক্ত করে এর সদস্যদের গ্রেফতার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য ছিল মানুষ হত্যা করা এবং বিক্ষোভকে রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ দেওয়া।

স্থানীয় বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সন্ত্রাসী চক্রটি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের মাধ্যমে উন্নত নগর যুদ্ধ কৌশলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছিল।

সাম্প্রতিক অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে তারা বহু সন্ত্রাসী অপরাধে জড়িত ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্ধারিত মূল হোতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও নগর যুদ্ধের সরঞ্জাম পাওয়ার পর চক্রটির সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চলাচল করে এবং নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

সন্ত্রাসী চক্রটির তৎপরতার সঙ্গে সম্পর্কিত যেসব ছবি পাওয়া গেছে, তাতে দেখা যায় একে-৪৭ রাইফেল, শটগানসহ নানা ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও স্যাটেলাইট ফোনের মতো যোগাযোগ সরঞ্জাম বিতরণ করা হচ্ছিল। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত সন্ত্রাসীরা ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে দাবি ইরানি কর্তৃপক্ষের।

এছাড়া চক্রটির সদস্যরা সামরিক ও পুলিশ সদর দফতরে হামলা চালায়, অস্ত্র লুট করে এবং নগর যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে সেগুলো বিতরণ করে, যাতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ে। অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।

ইরানের কর্মকর্তারা এসব দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সরকারের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সরাসরি মাঠপর্যায়ে জড়িত ছিল, যা সংস্থাটি শিকারও করেছে।

এ প্রসঙ্গে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর একটি টুইটের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি সেখানে লিখেছিলেন, “রাস্তায় থাকা প্রতিটি ইরানিকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। আর তাদের পাশে হাঁটা প্রতিটি মোসাদ এজেন্টকেও। ”

এছাড়া ফারসি ভাষায় দেওয়া একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে মোসাদ দাঙ্গাকারীদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বলেছিল, “এখনই সময়। একসঙ্গে রাস্তায় বেরিয়ে আসুন। ” পোস্টে আরও বলা হয়, “মোসাদ এজেন্টরা দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে শুধু দূর থেকে বা কথার মাধ্যমে নয়, মাঠপর্যায়েও রয়েছে। ”

সূত্রঃ প্রেসটিভি \ তাসনিম

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

এ আর রহমানের মন্তব্য ঘিরে তর্ক-বিতর্ক, বলিউডে সাম্প্রদায়িকতা মানতে নারাজ শিল্পীরা

অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমানের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য ঘিরে বলিউডে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, গত আট বছরে তার কাজ তুলনামূলকভাবে কমে যাওয়ার পেছনে ‘হয়তো সাম্প্রদায়িক কারণ থাকতে পারে’। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর শিল্পী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

 

রহমানের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বলিউডে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক ও কলামিস্ট শোভা দে এই বক্তব্যকে ‘বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য শিল্পজগতের বাস্তব জটিলতাকে সরলীকরণ করে ফেলে।

বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বলিউডের কিংবদন্তি গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার। সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, রাহমানের কাজ কমে যাওয়ার সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতার কোনও সম্পর্ক নেই।

জাভেদ আখতারের ভাষায়, “আমি কখনও এমনটা অনুভব করিনি। মুম্বাইয়ে যাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়, সবাই রাহমানের প্রতি অসম্ভব শ্রদ্ধাশীল। অনেকেই মনে করেন, তিনি এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খুব ব্যস্ত—বিদেশে তার কনসার্ট ও নানা কাজ থাকে। তাই হয়তো ধরে নেওয়া হয়, তিনি স্থানীয় প্রজেক্টে সময় দিতে পারবেন না।”

তিনি আরও বলেন, “রাহমান এত বড় মাপের শিল্পী যে, অনেক ছোট প্রযোজক তাকে কাজের প্রস্তাব দিতে গিয়ে দ্বিধায় পড়েন। কিন্তু এটাকে সাম্প্রদায়িক বিষয় বলা ঠিক নয়। তিনি বলিউডে কাজ করবেন না—এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।”

এই বিতর্কে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নেন সংগীতশিল্পী শঙ্কর মহাদেবন। আইএএনএসকে তিনি বলেন, ” শিল্পজগতের মূল সমস্যা অনেক সময় কাঠামোগত। যিনি গান তৈরি করেন আর যিনি সিদ্ধান্ত নেন গানটি বাজারে আসবে কি না—এই দুই ব্যক্তি অনেক সময় এক নন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় প্রায়ই এমন মানুষ থাকেন, যারা সংগীতজ্ঞ নন। এখান থেকেই সমস্যা তৈরি হয়।”

গায়ক শান নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, কাজ না পাওয়া শিল্পীদের জীবনে নতুন কিছু নয়। “আমি বহু বছর গান গেয়েছি, তবুও এমন সময় এসেছে যখন কাজ পাইনি। কিন্তু আমি সেটাকে ব্যক্তিগতভাবে নেই না। প্রত্যেকের নিজস্ব পছন্দ আছে, কতটা কাজ পাবো তা আমাদের হাতে থাকে না।”

শান আরও বলেন, রাহমান যে কাজই গ্রহণ করেন, তাতে তার স্বকীয়তা স্পষ্ট থাকে। তিনি একজন অসাধারণ সুরকার। সংগীতকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিতে দেখাটা ঠিক নয়।”

শিল্পে সাম্প্রদায়িক পক্ষপাত প্রসঙ্গে শান বলেন, “আমি মনে করি না সংগীত এভাবে কাজ করে। যদি করত, তাহলে গত ৩০ বছরে আমাদের তিন সুপারস্টার এভাবে টিকে থাকতে পারতেন না।” তার এই বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত করেন শাহরুখ খান, সালমান খান ও আমির খান–এর দিকে, যারা দীর্ঘদিন ধরে বলিউডের শীর্ষে রয়েছেন।
গায়ক অনুপ জলোটাও এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। আইএএনএসকে তিনি বলেন, “রাহমান পাঁচ বছরে যা করেছেন, তা অনেকেই ২৫ বছরেও করতে পারেন না। মানুষ তাকে অসম্ভব সম্মান করে এবং তার কাজকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করে।”

উল্লেখ্য, এর আগেও বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আর রাহমান বলেছিলেন, তিনি সরাসরি কখনও বৈষম্যের শিকার হননি। তবে ইন্ডাস্ট্রির ক্ষমতার কাঠামো বদলে যাওয়ায় তার কাজের সুযোগ প্রভাবিত হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

এ.আর রহমানের ভাষায়, “হয়তো বিষয়টা আড়ালে থাকে, আমি জানতেও পারি না। কিন্তু আমি সরাসরি কিছু অনুভব করিনি। এখন ক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রে সৃজনশীল নন—এমন মানুষদের হাতে। মিউজিক কোম্পানি শেষ মুহূর্তে একজনের বদলে পাঁচজন সুরকার নিয়ে নেয়—এমন ঘটনাও ঘটে। আমি সেটা মেনে নিই। আমি কাজের খোঁজে বেরোই না, চাই কাজ নিজেই আমার কাছে আসুক।”

এই মন্তব্য ও পাল্টা প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, রাহমানের বক্তব্য শুধুই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নাকি বলিউডের গভীরতর কাঠামোগত সংকটের প্রতিফলন—তা নিয়ে বিতর্ক আপাতত থামছে না।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

নীরবে ট্রাম্পের ওপর পাল্টা ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ভারতের

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্কের জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ডাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। বিশ্ববাজারে ডালের বৃহত্তম ভোক্তা দেশ হিসেবে ভারতের এই সিদ্ধান্ত মার্কিন কৃষকদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

বিশেষ করে গত বছর ৩০ অক্টোবর হলুদ মটরের ওপর এই ৩০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করা হয়, যা ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। যদিও ভারত সরকার এই সিদ্ধান্তটি খুব একটা প্রচার করেনি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী শুল্ক আরোপের একটি নিরব জবাব। ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের এই টানাপড়েনের চিত্র ফুটে উঠেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা ও নর্থ ডাকোটা অঙ্গরাজ্য দুটি ডাল ও মটর উৎপাদনে শীর্ষে থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় শুল্কের কারণে বর্তমানে বড় ধরনের প্রতিযোগিতামূলক অসুবিধার মুখে পড়েছে। এর প্রেক্ষিতে মনটানার সিনেটর স্টিভ ডেইনস এবং নর্থ ডাকোটার সিনেটর কেভিন ক্রেমার গত ১৬ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি চিঠি দিয়েছেন।

ওই চিঠিতে তারা ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন যেন তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই ‘অন্যায্য’ শুল্ক প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেন। সিনেটররা মনে করেন যে, ডাল উৎপাদনে মার্কিন সক্ষমতা ও ভারতের বিপুল চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে একটি পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।

উল্লেখ্য, গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক আরোপ করার পর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নজিরবিহীন অবনতি ঘটে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির দায়ে ভারতকে শাস্তিমূলক এই শুল্কের মুখে পড়তে হয়। তবে এত জটিলতার মাঝেও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (বিটিএ) প্রথম পর্যায় চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল।

বর্তমানে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ভার্চুয়ালি আলোচনা চলছে। বাণিজ্য সচিব নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না জানালেও দাবি করেছেন যে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষ প্রস্তুত থাকলেই খুব দ্রুত এই চুক্তির প্রথম কিস্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

বর্তমানে ভারত বিশ্বের মোট ডাল উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশ ভোগ করে থাকে, যার মধ্যে মসুর, ছোলা ও শুকনা শিম অন্যতম। ভারতের কৃষক সংগঠনগুলোর চাপের মুখে স্থানীয় বাজারের দাম ধরে রাখতে এই শুল্ক কার্যকর করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে মার্কিন বাজারে ভারতীয় টেক্সটাইল, রাসায়নিক ও রত্ন শিল্পের রপ্তানি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই বাণিজ্য লড়াই কেবল দুই দেশের অর্থনীতির ওপরই নয়, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের ওপরেও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ টাইমস নাও নিউজ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সসহ ইউরোপের ৮ দেশের ওপর বাড়তি শুল্কারোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, ডেনমার্কসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় সময় অল্প কিছুক্ষণ আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

 

ট্রাম্প জানান, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড—এই দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা সব ধরনের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে।

ট্রাম্পের ঘোষণানুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। পরবর্তীতে ১ জুন ২০২৬ থেকে এই শুল্কের হার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, গ্রিনল্যান্ডের “সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত ক্রয়” বিষয়ে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক কার্যকর থাকবে।

নিজের পোস্টের শুরুতে ট্রাম্প দাবি করেন, “ডেনমার্কের এখন সময় এসেছে গ্রিনল্যান্ড ফিরিয়ে দেওয়ার—বিশ্ব শান্তি ঝুঁকির মুখে!”

তিনি বলেন, চীন ও রাশিয়া গ্রিনল্যান্ডের দিকে নজর দিচ্ছে এবং এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য কেউ এই ‘খেলায়’ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না।

ট্রাম্পের ভাষ্য, “এটি আমাদের গ্রহের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও অস্তিত্বের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি।” তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট ইউরোপীয় দেশগুলো এমন এক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে, যা টেকসই বা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, গ্রিনল্যান্ড যুক্ত না হলে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ কার্যকারিতা ও দক্ষতায় কাজ করতে পারবে না।

ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন নিয়মঃ নন-ইউকে পাসপোর্টে ব্রিটেনে ঢোকা যাবে না দ্বৈত নাগরিকদের

নতুন প্রবেশসংক্রান্ত নিয়মের আওতায় যুক্তরাজ্যের পাসপোর্ট না থাকলে দ্বৈত নাগরিক ব্রিটিশদের দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া হতে পারে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট অথবা সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট দেখানো বাধ্যতামূলক হবে।

 

এর আগে দ্বৈত নাগরিকরা ব্রিটিশ নয় এমন পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করতে পারতেন এবং প্রয়োজনে অন্যান্য নথির মাধ্যমে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের সুযোগ পেতেন। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই সুযোগ আর থাকছে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের যেকোনো দেশে অবস্থানরত সব ব্রিটিশ ও আইরিশ দ্বৈত নাগরিকের ক্ষেত্রেই এই বিধান প্রযোজ্য হবে।

এই পরিবর্তনের ফলে অনেক দ্বৈত নাগরিককে দেশে ফিরতে নতুন করে ব্রিটিশ পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে, যার খরচ প্রায় £৯৪.৫০। বিদেশ থেকে আবেদন করলে ব্যয় আরও বাড়তে পারে। বিকল্প হিসেবে সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট ব্যবহার করা গেলেও, এর খরচ £৫৮৯, যা অনেকের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

হোম অফিস জানিয়েছে, নতুন নিয়মের লক্ষ্য হলো সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও ডিজিটাল ও কার্যকর করা। হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারির পর দ্বৈত ব্রিটিশ নাগরিকদের বৈধ ব্রিটিশ পাসপোর্ট বা সার্টিফিকেট অব এনটাইটেলমেন্ট দেখাতে না পারলে সীমান্তে বিলম্ব বা প্রবেশে বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।

এই সিদ্ধান্ত হোম অফিসের নতুন ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ETA) কর্মসূচির অংশ। এই ব্যবস্থার আওতায় ভবিষ্যতে যেসব দেশের নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের জন্য ভিসা লাগে না, তাদেরও আগাম অনুমোদন নিতে হবে। যদিও ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিকরা ইটিএ থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন, তবে সেই কারণে তাদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বহনের বাধ্যবাধকতা আরও কঠোর করা হয়েছে।

হাউস অব কমন্সের এক ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, আইন অনুযায়ী ব্রিটিশ নাগরিকদের ব্রিটিশ পাসপোর্টে ভ্রমণ করা বাধ্যতামূলক না হলেও, বাস্তবে পরিবহন সংস্থাগুলোর আগাম যাচাই ব্যবস্থার কারণে পাসপোর্ট ছাড়া যুক্তরাজ্যে আসা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই হোম অফিস দ্বৈত নাগরিকদের ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে আসছিল, তবে জনগণকে প্রস্তুতির সময় দিতে এতদিন নিয়মটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।

ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, অনেকেই মেয়াদোত্তীর্ণ ব্রিটিশ পাসপোর্ট বা নাগরিকত্ব গ্রহণের সনদ ব্যবহার করে কেন যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা যাবে না—সে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব নথি পরিবহন সংস্থার জন্য নির্ধারিত হোম অফিসের যাচাই নির্দেশিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। যথাযথ নথি ছাড়া যাত্রী পরিবহন করলে জরিমানার ঝুঁকি থাকায় সংস্থাগুলো এই নির্দেশিকা কঠোরভাবে অনুসরণ করছে।

নতুন এই নীতি কার্যকর হলে বিদেশে বসবাসকারী লাখো দ্বৈত নাগরিক ব্রিটিশের জন্য যুক্তরাজ্যে যাতায়াত আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে সৌর বিদ্যুৎ বিক্রির আয় গোপন থাকলেই জরিমানা, সতর্ক করল এইচএমআরসি

যুক্তরাজ্যে ছাদের ওপর সৌর প্যানেল স্থাপনকারী ৫৪ হাজারের বেশি পরিবার আসন্ন ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সেলফ অ্যাসেসমেন্ট কর রিটার্ন জমা না দিলে এইচএমআরসির কাছ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০০ পাউন্ড জরিমানার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক গৃহস্থই জানেন না যে অব্যবহৃত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে পাওয়া আয় করযোগ্য হতে পারে। ফলে অজান্তেই তারা কর আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে পড়ছেন।

দ্য সোলার কো–এর প্রতিষ্ঠাতা জর্জ পেনি জানিয়েছেন, সৌর প্যানেল ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশই বুঝতে পারছেন না যে এই আয় কর রিটার্নে ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক হতে পারে। তার মতে, এই অজ্ঞতার সুযোগেই বিপুলসংখ্যক পরিবার জরিমানার আওতায় চলে আসছে।

এইচএমআরসির নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেলফ অ্যাসেসমেন্ট জমা না দিলে কর দিতে না হলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০০ পাউন্ড জরিমানা আরোপ করা হয়। সময়সীমা শেষ হবে ৩১ জানুয়ারি রাত ১২টায়।

এই ঝুঁকির বড় কারণ হলো স্মার্ট এক্সপোর্ট গ্যারান্টি (SEG) স্কিম। এই স্কিমের আওতায় সৌর প্যানেলধারীরা উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে অর্থ পান। অনেক পরিবার এই পথেই বছরে ৩০০ পাউন্ড বা তার বেশি আয় করছেন।

২০২৫ সালে সৌর প্যানেল স্থাপনে রেকর্ড হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৬ লাখ পরিবারে ফটোভোলটাইক সৌর প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ নিয়মিত SEG পেমেন্ট পাচ্ছে।
শিল্পখাতের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৬ লাখের বেশি সৌর প্যানেল মালিক অজান্তেই এইচএমআরসির ১,০০০ পাউন্ড করমুক্ত ট্রেডিং অ্যালাওয়েন্স অতিক্রম করছেন। এই সীমা একক কোনো আয়ের জন্য নয়, বরং সব ধরনের অতিরিক্ত আয়ের মোট হিসাবের ওপর নির্ভরশীল।

SEG পেমেন্টের সঙ্গে যদি ফ্রিল্যান্স কাজ, পার্টটাইম ব্যবসা বা অন্য কোনো সাইড ইনকাম যুক্ত হয়, তাহলে খুব সহজেই এই সীমা ছাড়িয়ে যায়। একবার সীমা অতিক্রম করলেই সেলফ অ্যাসেসমেন্টে নিবন্ধন ও আয় ঘোষণা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে।
তথ্য বলছে, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের প্রায় ৩৯ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো সাইড হাসলে যুক্ত, যা সৌর প্যানেল মালিকদের করঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এইচএমআরসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৯ শতাংশ করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হন। জর্জ পেনির সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এবার এর বড় অংশ হতে পারেন সৌর প্যানেল ব্যবহারকারীরা।

তার ভাষায়, ৫৪,৫০০-এর বেশি পরিবার যদি সময়মতো রিটার্ন না দেয়, তাহলে ১০০ পাউন্ড জরিমানা তাদের বার্ষিক SEG আয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মুছে দিতে পারে।
বর্তমানে যখন জ্বালানি ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ বেড়েই চলেছে, তখন এই ধরনের জরিমানা অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, সৌর প্যানেল মালিকদের উচিত দ্রুত তাদের এনার্জি সাপ্লায়ার স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করা এবং এপ্রিল ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত মোট অতিরিক্ত আয় ১,০০০ পাউন্ড ছাড়িয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা।
এইচএমআরসি পুনরায় জানিয়েছে, আয়ের উৎস যাই হোক না কেন, নিজের কর দায়বদ্ধতা জানা ও তা মেনে চলার সম্পূর্ণ দায়িত্ব ব্যক্তির ওপরই বর্তায়।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রেক্সিটের এক দশকঃ নতুন জরিপে ৫৮% ব্রিটিশের ইইউতে ফেরার পক্ষে রায়

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসার এক দশক পূর্তির প্রাক্কালে প্রকাশিত একটি নতুন জনমত জরিপে দেখা গেছে, দ্বিতীয় কোনো ব্রেক্সিট গণভোট অনুষ্ঠিত হলে বেশিরভাগ ব্রিটিশ ভোটার ইইউতে পুনরায় যোগদানের পক্ষে রায় দেবেন। ডেল্টাপল পরিচালিত এই জরিপটি প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য মিরর।

 

জরিপ অনুযায়ী, মোট ভোটারের ৫৮ শতাংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নে পুনরায় যোগদানের পক্ষে ভোট দিতে আগ্রহী। অর্থাৎ প্রতি ১০ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ছয়জন ব্রেক্সিট বাতিল করে ব্লকে ফেরার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। জরিপটি ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক ব্রেক্সিট ভোটের দশম বার্ষিকীর আগে জনমনে পরিবর্তিত মনোভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তরুণ ভোটারদের মধ্যে ইইউতে ফেরার পক্ষে সমর্থন সবচেয়ে বেশি।

১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের ৮৬ শতাংশ জানিয়েছেন, নতুন কোনো গণভোট হলে তারা ইইউতে পুনরায় যোগদানের পক্ষে ভোট দেবেন। বিপরীতে, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই প্রশ্নে মতামত বিভক্ত। ৫৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৫১ শতাংশ ইইউর বাইরে থাকার পক্ষে, যেখানে ৪৯ শতাংশ পুনঃযোগানের পক্ষে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ব্রেক্সিট সমর্থন আরও শক্তিশালী, যেখানে ৫৮ শতাংশ ব্লকের বাইরে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন।

দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রক্ষণশীল ও সংস্কারবাদী যুক্তরাজ্য (Reform UK) সমর্থকদের মধ্যে ব্রেক্সিটের প্রতি দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। জরিপে ৬৬ শতাংশ রক্ষণশীল ভোটার এবং ৮২ শতাংশ সংস্কারপন্থী ভোটার ইইউর বাইরে থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, লেবার ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ইইউতে ফেরার পক্ষে প্রবল সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে। লেবার সমর্থকদের ৭১ শতাংশ এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাট ভোটারদের ৭৮ শতাংশ পুনঃযোগানের পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

আঞ্চলিকভাবে স্কটল্যান্ডে ইইউতে ফেরার পক্ষে সমর্থন সবচেয়ে বেশি—৭৩ শতাংশ। লন্ডন ও ওয়েলস উভয় অঞ্চলেই ৬৫ শতাংশ ভোটার পুনঃযোগানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মিডল্যান্ডস ও উত্তর ইংল্যান্ডে এই হার তুলনামূলক কম হলেও সেখানেও সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ইইউতে ফেরার পক্ষে—মিডল্যান্ডসে ৫৩ শতাংশ এবং উত্তরে ৫৪ শতাংশ।

বছরের পর বছর ধরে চলা ব্রেক্সিট-পরবর্তী অচলাবস্থার পর প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি গত বছর ব্রাসেলসের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করেন এবং যুক্তরাজ্যের ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচিতে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করেন, যার ফলে ব্রিটিশ শিক্ষার্থীরা আবারও ইউরোপে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন।

রোববার স্টারমার ইইউর সঙ্গে আরও গভীর সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, একক বাজার নিয়ে তিনি “আরও গভীরভাবে ভাবতে প্রস্তুত”। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ব্রেক্সিট সম্পূর্ণভাবে বাতিল করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য ইইউতে পুনরায় যোগ দেবে না এবং লেবার পার্টির ইশতেহারে কেবল ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথাই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দলের ভেতরে ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং বড়দিনের আগে প্রকাশ্যে ইইউর সঙ্গে একটি নতুন কাস্টমস ইউনিয়ন গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে ব্রেক্সিট সম্পর্কিত বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

সিদ্ধান্তে অনড় বিসিবি, আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশকে অন্য গ্রুপে রাখার

নিরাপত্তা শঙ্কায় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিসিবির সঙ্গে বৈঠক করতে ঢাকায় আসেন আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। বিকালে বিসিবির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এই বৈঠকে অনলাইনে যুক্ত হয়েছিলেন আইসিসির ইভেন্টস অ্যান্ড করপোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনাও। ভিসা না পাওয়ায় বৈঠকে সরাসরি যোগ দিতে পারেননি তিনি। আইসিসির সঙ্গে বৈঠক শেষেও ভারতে না সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে বিসিবি।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, আইসিসির দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বিসিবির বৈঠকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিসিবি আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্বেগও তুলে ধরা হয়। যেখানে দলের নিরাপত্তা, বাংলাদেশি সমর্থক, গণমাধ্যমকর্মী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিরাপত্তার বিষয়টি আইসিসির কাছে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিসিবি জানিয়েছে, বৈঠকে ন্যূনতম লজিস্টিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উপায় হিসেবে বাংলাদেশকে ভিন্ন একটি গ্রুপে স্থানান্তরের সম্ভাবনাও আলোচনা হয়েছে।

এম.কে