Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

নিপীড়নের দাবি করা মার্কিন নাগরিকের আশ্রয় আবেদন বাতিল, তবুও পাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের ভাতা

বিশের কোঠায় বয়সী এক মার্কিন নাগরিক, যিনি লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের পরপরই আশ্রয়ের আবেদন করেন। দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দাবি করেন যে বর্ণ, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তিনি নিপীড়নের শিকার এবং সেখানে ফেরত পাঠানো হলে ঝুঁকির মুখে পড়বেন।

 

যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর তাকে লন্ডনের বিভিন্ন অভিবাসী হোটেলে রাখা হয় এবং আশ্রয় আবেদন যাচাই চলাকালে তার থাকার ব্যবস্থা ও ন্যূনতম জীবনযাপনের খরচ রাষ্ট্র বহন করে। তবে গত গ্রীষ্মে হোম অফিস তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে জানায়, উত্থাপিত অভিযোগগুলো “স্পষ্টতই ভিত্তিহীন” এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো অধিকার তার নেই।

হোম অফিসের সিদ্ধান্তপত্রে তাকে স্বেচ্ছায় যুক্তরাজ্য ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সতর্ক করা হয় যে, অন্যথায় তাকে জোরপূর্বক অপসারণের মুখে পড়তে হতে পারে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয়তা, অভিবাসন ও আশ্রয় আইন ২০০২-এর ধারা ৯৪ অনুযায়ী তার সুরক্ষা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত দাবি ভিত্তিহীন হিসেবে প্রত্যয়ন করা হয়েছে।

ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি কৃষ্ণাঙ্গ, ইহুদি এবং চার্চ অব জিসাস ক্রাইস্ট অব ল্যাটার-ডে সেইন্টস (এলডিএস বা মরমন চার্চ)-এর সদস্য হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের ঘটনাও ঘটেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত গেলে তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করবে।

তবে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কয়েক মাস পরও তাকে যুক্তরাজ্য থেকে প্রত্যাবাসন করা হয়নি। বরং পরে তিনি আরও সহায়তা পান—এর মধ্যে অস্থায়ী আবাসন, খাদ্য সহায়তা এবং নগদ ভাতা রয়েছে। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে গৃহহীন হিসেবে চিহ্নিত করার পর স্থানীয় পর্যায়ে এসব সহায়তা দেওয়া হয়।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কাউন্সিলের এক কর্মী তাকে জানান যে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকদের মতোই কিছু সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন। এই বিষয়টি আশ্রয়প্রার্থী ও গৃহহীন সহায়তা ব্যবস্থার সীমারেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

একপর্যায়ে তিনি স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে সম্মত হন এবং আর্থিক সহায়তা ও বিমানের টিকিটের প্রস্তাব পান। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্ট জব্দ করে। তবে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন তাকে উড়তে অযোগ্য ঘোষণা করায় যাত্রা বাতিল হয় এবং তিনি ভ্রমণ নথিহীন অবস্থায় আটকে পড়েন।

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে না পেরে এবং যুক্তরাজ্যে নিজের অবস্থান বৈধ করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি মার্কিন দূতাবাসের সহায়তা চান। একাধিকবার ফেরার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি আবার লন্ডনের ইজলিংটন এলাকায় ফিরে যান, যেখানে তাকে গৃহহীন হিসেবে বিবেচনা করে থাকার ব্যবস্থা ও খাবার সরবরাহ করা হয়। বড়দিনে তিনি কাউন্সিল-সমর্থিত গৃহহীনদের খাবার কর্মসূচিতেও অংশ নেন এবং পরে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অর্থায়নে বাজেট হোটেলে অবস্থান করেন।

যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, ১৯৮৩ সালের ১ জানুয়ারির পর যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পান না, যদি না জন্মের সময় অন্তত একজন অভিভাবক ব্রিটিশ নাগরিক হন বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি থাকে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়, তবে এই ব্যক্তি সে সুযোগও পাননি।

ওই ব্যক্তি জানান, তিনি যে সহায়তা পেয়েছেন তার জন্য কৃতজ্ঞ, তবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে তিনি “অকার্যকর” বলে মন্তব্য করেন এবং নিজেকে দুই ব্যবস্থার মাঝখানে আটকে পড়া একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন।

এদিকে ইজলিংটন কাউন্সিল আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের ভাতা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কাউন্সিলের এক মুখপাত্র বলেন, বৈধ অভিবাসন মর্যাদা না থাকা কাউকে আর্থিক সহায়তা বা সামাজিক বাসস্থান দেওয়া হয় না, তবে গৃহহীনদের জন্য পরামর্শ ও সহায়তা প্রদানে অংশীদার সংস্থার সঙ্গে কাজ করা হয়।

হোম অফিস জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন ওই ব্যক্তিকে উড়তে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল এবং তাকে দ্রুত অপসারণের জন্য কাজ চলছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, বর্তমান সরকারের আমলে যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার না থাকা ব্যক্তিদের প্রত্যাবাসনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে অপসারণ করা হয়েছে, যা আগের সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ইংল্যান্ডে ২২ বছরের নিচে সবার জন্য বিনামূল্যে বাস পাস চায় গ্রিন পার্টি

ইংল্যান্ডে ২২ বছরের নিচে সকল তরুণের জন্য বিনামূল্যে বাস পাস চালুর আহ্বান জানিয়েছে গ্রিন পার্টি। দলটির দাবি, এই উদ্যোগ তরুণদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে প্রবেশ সহজ করবে এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কিছুটা লাঘব করবে।

 

গ্রিন পার্টির মতে, প্রস্তাবিত এই নীতি সরকারের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে না; বরং এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বা self-financing হবে। বাস ব্যবহারের হার বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে, কর্মসংস্থান টিকবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে—যার আর্থিক সুফল সরাসরি রাষ্ট্র ও সমাজে ফিরে আসবে।

তবে সরকার এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। গত বছর সরকার জানায়, বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে বিদ্যমান বাস সেবা রক্ষার জন্য বরাদ্দ অর্থ অন্য খাতে সরাতে হবে, যা তারা সম্ভব বলে মনে করে না।

এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অংশে ভিন্ন ভিন্ন সুবিধা কার্যকর রয়েছে। স্কটল্যান্ডে ২০২২ সাল থেকেই ২২ বছরের নিচে সবার জন্য বাস ভ্রমণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। লন্ডনে ১৮ বছরের নিচের শিশু-কিশোররা বিনা খরচে বাসে চলাচল করতে পারে, আর ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ছাড় সুবিধা।

গ্রিন পার্টি বলছে, বিনামূল্যে বাস ভ্রমণ শুধু শহর নয়, গ্রামীণ এলাকাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চাকরির বাজারে তরুণদের প্রবেশাধিকার বাড়বে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমে যানজট ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাবে, যা পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

দলটি কেপিএমজি (KPMG)-এর একটি গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—বাসযাত্রীরা স্থানীয় ব্যবসায় বছরে প্রায় ৩৯.১ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেন। একই সঙ্গে ২২ লাখের বেশি মানুষ কর্মস্থলে যেতে বাসের ওপর নির্ভরশীল, যার মাধ্যমে বছরে মোট ৭২ বিলিয়ন পাউন্ড আয়ের সৃষ্টি হয়। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, বাস সেবায় প্রতি ১ পাউন্ড বিনিয়োগের বিপরীতে ৪.৫৫ থেকে ৫ পাউন্ড পর্যন্ত অর্থনৈতিক লাভ পাওয়া সম্ভব।

গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট তরুণদের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে। তার মতে, যাতায়াত খরচ অনেক তরুণের জন্য চাকরি বা প্রশিক্ষণের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে নির্বাচিত গ্রিন কাউন্সিলররা নিজ নিজ এলাকায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেবেন এবং জাতীয় পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি করবেন।

এ ছাড়া গ্রিন পার্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বাস পাসে বর্তমান সময়সীমা তুলে দিয়ে ২৪ ঘণ্টার জন্য বৈধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে বয়স্ক নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে ভ্রমণ সুবিধা বজায় রাখা এবং সময়সীমা বাড়ানোর অঙ্গীকারও করেছে দলটি।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ডে বাসই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত গণপরিবহন ব্যবস্থা হলেও গত এক দশকে যাত্রীর সংখ্যা কমেছে এবং এখনো কোভিড-পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসেনি। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে ইংল্যান্ডে স্থানীয় বাসযাত্রা ছিল ৩.৭ বিলিয়ন, যেখানে মহামারির আগে এই সংখ্যা ছিল ৪ বিলিয়নের বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৭ থেকে ২০ বছর বয়সীরাই মাথাপিছু হিসেবে সবচেয়ে বেশি বাসযাত্রা করে।

এর আগে হাউস অব কমন্সের পরিবহন বিষয়ক কমিটিও ইংল্যান্ডে ২২ বছরের নিচে সবার জন্য বিনামূল্যে বাস পাস চালুর সুপারিশ করেছিল, যা নতুন করে এই ইস্যুকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

জুলাইযোদ্ধা হাসনাত আবদুল্লাহর ওপর সশস্ত্র হামলা

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও গেজেটপ্রাপ্ত বীর হাসনাত আব্দুল্লাহ–এর ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার বদুরপাড়া এলাকায় এ হামলা হয়। একই ঘটনায় মাঈনউদ্দীন নামে আরও এক যুবক আহত হন।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠি ও চাকু নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। চন্দনাইশের বদুরপাড়া পাক্কাদোকান এলাকা থেকে পেট্রোল পাম্পের সামনের সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার পেছনে সাম্প্রতিক একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জুলাইযোদ্ধা জানান, চট্টগ্রাম–১৪ আসনের বিতর্কিত প্রার্থী জসিম উদ্দিন–এর মনোনয়ন বাতিল ও গ্রেপ্তারের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে জুলাইযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। ওই স্মারকলিপি দেওয়ার কারণেই এ হামলা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

চট্টগ্রাম–১৪ আসনের এলডিপি প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুক বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে মনে করি, জুলাইযোদ্ধাদের জন্য এখন বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যারা গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিবেশ কখনোই স্বাভাবিক থাকতে পারে না।’

এ ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ ও মাঈনউদ্দীনের ঘনিষ্ঠরা।

ঘটনার পর এনসিপি নেতা হাসান আলী নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমার অত্যন্ত কাছের ছোট ভাই, জুলাইয়ের আহত গেজেটপ্রাপ্ত বীর হাসনাত আব্দুল্লাহর ওপর চন্দনাইশ বদুরপাড়ায় সন্দেহভাজন স্বৈরাচারের দোসররা কিছুক্ষণ আগে হামলা করেছে। এই দৃশ্য আমি কোনোভাবেই স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছি না।’

উল্লেখ্য, হাসান আলী আগে এনসিপির প্রার্থী ছিলেন। পরে ১১ দলীয় জোট গঠনের পর তিনি চট্টগ্রাম–১৪ আসনে এলডিপি প্রার্থী অধ্যাপক ওমর ফারুকের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন ঘোষণা করেন।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

নিয়ন্ত্রণ না হলে এআই হয়ে উঠবে চাকরির ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’— মেয়র সাদিক খান

যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চাকরির জন্য “গণবিধ্বংসী অস্ত্র” হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান। ম্যাসন হাউসে দেওয়া তার বার্ষিক ভাষণে তিনি বলেন, এআইয়ের ইতিবাচক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে না পারলে বিশ্ব একটি নতুন গণবেকারত্বের যুগে প্রবেশ করতে পারে।
লন্ডনের শ্রমবাজার এআই পরিবর্তনের সবচেয়ে তীব্র প্রান্তে অবস্থান করছে বলে মন্তব্য করেন মেয়র। তার ভাষায়, অর্থনীতি, পেশাদার সেবা এবং সৃজনশীল শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এআইয়ের প্রভাব হবে “অত্যন্ত বিশাল”, যা চাকরির কাঠামোকে দ্রুত বদলে দিতে পারে।

সাদিক খান বলেন, এআই জনসেবা উন্নত করতে পারে এবং ক্যানসার চিকিৎসা বা জলবায়ু সংকটের মতো জটিল সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তবে দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যবহারে এটি ব্যাপক বেকারত্ব, দ্রুত বাড়তে থাকা বৈষম্য এবং সম্পদ ও ক্ষমতার অস্বাভাবিক কেন্দ্রীকরণ সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, মানুষ যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন এক ভবিষ্যতের দিকে না এগোয়, যা তারা চায় না। এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—এআইকে ইতিবাচক রূপান্তর ও সৃষ্টির শক্তিতে পরিণত করা হবে, নাকি নিষ্ক্রিয় থেকে দেখা হবে এটি কীভাবে লাখো চাকরি ধ্বংস করে।

সিটি হলের নভেম্বরের এক জরিপে দেখা গেছে, লন্ডনের ৫৬ শতাংশ কর্মজীবী মানুষ মনে করেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই এআই তাদের চাকরিতে প্রভাব ফেলবে। মেয়রের আশঙ্কা, সরকারি হস্তক্ষেপ না হলে নতুন চাকরি তৈরির চেয়ে পুরোনো চাকরি হারানোর গতি বেশি হবে।

বিশেষ করে এন্ট্রি-লেভেল বা প্রাথমিক পর্যায়ের চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে বলে মন্তব্য করেন সাদিক খান। এতে তরুণরা কর্মজীবনের প্রথম ধাপেই সুযোগ হারাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো শ্রমবাজারের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার, দক্ষতা খাত ও এআই শিল্পের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেন তিনি। এই দল ভবিষ্যতে লন্ডনবাসীকে কীভাবে সহায়তা করা যায় তা পর্যালোচনা করবে। তাদের প্রতিবেদন আগামী গ্রীষ্মে প্রকাশের কথা রয়েছে। পাশাপাশি লন্ডনের সব নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে এআই প্রশিক্ষণ চালুর ঘোষণাও দেন মেয়র।

সাদিক খান বলেন, গবেষণা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে একটি চাকরির প্রয়োজনীয় দক্ষতার প্রায় ৭০ শতাংশ বদলে যাবে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এখন নৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।

এদিকে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাজ্যের মোট কর্মশক্তির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ—৭৫ লাখ কর্মীকে এআই-সংক্রান্ত দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এপ্রিল থেকে এআই ও ডিজিটাল দক্ষতা নিয়ে নতুন স্বল্পমেয়াদি কোর্স চালুর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআই ব্যবহার করে নারী ও শিশুদের যৌনায়িত ডিপফেক ছবি তৈরির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ঘোষণা দিয়েছে, তারা গ্রোক এআই চ্যাটবট দিয়ে বাস্তব মানুষের উসকানিমূলক ছবি তৈরি ও সম্পাদনা সীমিত করবে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

নিরাপত্তা বিতর্ক থেকে ভিসা প্রত্যাখ্যানঃ বাংলাদেশ–ভারত ক্রিকেট সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই ভারতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বাংলাদেশ। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত জানায়, যেখানে একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না, সেখানে পুরো জাতীয় দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে গুরুতর সংশয় রয়েছে। এই অবস্থান থেকেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচ ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে।

 

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে অবস্থান পরিবর্তনে রাজি করাতে একাধিক ভিডিও কনফারেন্স ও জুম বৈঠক করে আইসিসি। তবে এসব বৈঠকেও নিরাপত্তা ও লজিস্টিকস নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ দূর করা সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ, সরাসরি আলোচনার জন্য আইসিসি সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকায় এসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে বৈঠক করার।

এই সফর ঘিরে নতুন জটিলতা সামনে এসেছে। আইসিসির প্রতিনিধি দলে থাকা একজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশ ভিসা দেয়নি। bdcrictime-এর তথ্য অনুযায়ী, ভিসা না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ঢাকায় আসতে পারছেন না। তাকে বাদ দিয়েই আইসিসির প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করছে।

আইসিসি সূত্র জানায়, প্রতিনিধি দলের উদ্দেশ্য ছিল বিসিবির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসে ২০২৬ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভারতে সফর নিয়ে আলোচনা করা। আলোচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, যাতায়াত ও আবাসনসহ লজিস্টিকস এবং টুর্নামেন্ট-সংক্রান্ত সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনায় প্রতিনিধি দলে পরিবর্তন এলেও আইসিসির নির্ধারিত সফরসূচি বহাল রয়েছে। ভারতীয় প্রতিনিধিকে ছাড়াই বাকি সদস্যরা ঢাকায় এসে বিসিবির সঙ্গে বৈঠক ও আলোচনা করবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই ঘটনায় কূটনৈতিক বা প্রশাসনিক পর্যায়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার পরবর্তী ইউনুস সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যে কিছুটা শীতল হয়েছে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহ সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ বিডিক্রিকটাইম

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

জামায়াতের সঙ্গে আলোচনাকে নিয়মিত বৈঠকের প্রেক্ষাপটে দেখা উচিতঃ রণধীর জয়সওয়াল

গত বছরের শুরুর দিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ভারতের একজন কূটনীতিকের বৈঠক হয়েছিল, যা বিদায়ী বছরের শেষ দিকে প্রকাশ্যে আসে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান নিজেই এ তথ্য জানান।

 

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এক ভারতীয় সাংবাদিক এ বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে বৈঠকের কথা স্বীকার করে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নিয়মিত বিভিন্ন সংলাপে অংশ নেন। আপনি যে দলটির (জামায়াত) কথা বললেন, তাদের সঙ্গে বৈঠককে সে প্রেক্ষাপটেই দেখা উচিত।

জামায়াত আমির রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, ২০২৫ সালে তার বাইপাস সার্জারির পর ভারতের একজন কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। অন্যান্য দেশের কূটনীতিকেরা যেমন প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, ভারতীয় কূটনীতিক তেমনটি করেননি; অর্থাৎ বিষয়টি গোপন রাখতে বলেছিলেন।

সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ নিয়ে তিনি একটি ব্যাখ্যাও দেন। সেখানে তিনি লিখেন, ‘আন্তর্জাতিক মিডিয়া রয়টার্সকে গতকাল দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রয়টার্সের একজন সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞেস করেন— ভারত যেহেতু আপনাদের প্রতিবেশী দেশ, তাদের সঙ্গে আপনাদের কোনো যোগাযোগ আছে কি না, কোনো কথাবার্তা বা বৈঠক হয় কি না।

পোস্টে আরও বলেন, আমি তখন বলেছিলাম, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আমি অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে যখন বাসায় ফিরি, তখন দেশ-বিদেশের অনেকেই আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। অন্যান্য দেশের সম্মানিত কূটনৈতিকবৃন্দ যেমন এসেছেন, তেমনি তখন ভারতের দুজন কূটনীতিকও আমাকে দেখতে আমার বাসায় এসেছিলেন। অন্যান্যদের মতো তাদের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে।

আমরা তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার সময় বলেছিলাম, যত কূটনীতিক এখানে এসেছেন, তাদের সকলের বিষয়েই আমরা পাবলিসিটিতে দিয়েছি। আপনাদের এই সাক্ষাৎও আমরা পাবলিসিটিতে দিতে চাই। তখন তারা আমাকে এটি না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। আমরা বলেছিলাম, পরবর্তীতে যখনই আপনাদের সঙ্গে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বৈঠক হবে, তা অবশ্যই পাবলিসিটিতে যাবে। এখানে গোপনীয়তার কিছু নেই।

আমি বিস্মিত যে, আমাদের কিছু দেশীয় মিডিয়া ভারতের সঙ্গে জামায়াত আমীরের গোপন বৈঠক হয়েছে বলে সংবাদ পরিবেশন করেছে। আমি এ ধরনের সংবাদের তীব্র নিন্দা জানাই এবং ভবিষ্যতে প্রকৃত বিষয় না জেনে এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাই।’

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

‘লন্ডন যেন মুসলিমদের শহর’—বোরকা বিতর্কে সমালোচনার মুখে রিফর্ম ইউকের মেয়র প্রার্থী

রিফর্ম ইউকের লন্ডন মেয়র পদপ্রার্থী লায়লা কানিংহামের বোরকা পরা নারীদের স্টপ অ্যান্ড সার্চের আওতায় আনার মন্তব্য ঘিরে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এ ধরনের বক্তব্য মুসলিম নারীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এবং সমাজে ইসলামবিদ্বেষ আরও উসকে দেবে।

 

২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণার পর একটি পডকাস্টে কানিংহাম বলেন, “একটি উন্মুক্ত সমাজে কেউ মুখ ঢেকে রাখতে পারে না” এবং “মুখ ঢেকে রাখলে তা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে—এমনটা ধরে নিতে হয়।” তিনি আরও দাবি করেন, লন্ডনের কিছু এলাকায় গেলে সেটিকে “মুসলিমদের শহর” বলে মনে হয় এবং সেখানে “একটি ব্রিটিশ নাগরিক সংস্কৃতি” প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

কানিংহাম নিজে বাই বর্ন ব্রিটিশ মুসলিম এবং ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের সাবেক কৌঁসুলি হলেও, এসব মন্তব্যের পর তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মুসলিম উইমেনস নেটওয়ার্ক ইউকের সিইও ও ক্রসবেঞ্চ পিয়ার শাইস্তা গোহির মন্তব্যগুলোকে “বিপজ্জনক” এবং বর্ণবাদীদের জন্য “ডগ হুইসেল” হিসেবে আখ্যা দেন। তার মতে, এসব বক্তব্য মুসলিম নারীদের আরও প্রান্তিক করে তুলবে।

গোহির জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম সংগঠন ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকি ও ঘৃণামূলক বার্তার সংখ্যা বেড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, তার সংস্থাকে অফিসের বাইরে থাকা সাইনবোর্ড এবং কর্মীদের ছবি সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। তিনি বলেন, কানিংহামের মন্তব্য বিদ্বেষপ্রবণ মানুষদের আরও সাহসী করে তুলছে।

লন্ডনের বর্তমান মেয়র সাদিক খান এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে বলেন, একজন মেয়রের দায়িত্ব মানুষকে বিভক্ত করা নয়, বরং সবাইকে একত্র করা। তার ভাষায়, বৈচিত্র্যই লন্ডনের শক্তি এবং ধর্ম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্রিটিশ সমাজের মৌলিক মূল্যবোধ।

এদিকে লেবার এমপি আফজাল খান মন্তব্যগুলোকে “ইচ্ছাকৃত ও রাজনৈতিকভাবে হিসাব করা পদক্ষেপ” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, অতীতে বোরকা নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে মুসলিমদের বিরুদ্ধে হামলা ও হয়রানি বেড়েছিল, যা প্রমাণ করে—রাজনীতিবিদদের শব্দচয়নের বাস্তব সামাজিক পরিণতি রয়েছে।

বোরকা ইস্যুতে রিফর্ম ইউকের অবস্থানও পুরোপুরি সুসংহত নয়। দলের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়া ইউসুফ আগেই বোরকা নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবকে দলীয় নীতির বাইরে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় দলের ভেতরে ও বাইরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এই বিতর্ক কি সত্যিই জননিরাপত্তার বিষয়, নাকি নির্বাচনী রাজনীতিতে বিভাজন সৃষ্টির ইস্যু মাত্র।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ইচ্ছাকৃত অবহেলা ছিলঃ এফ এম সিদ্দিক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় ইচ্ছাকৃত অবহেলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এফ এম সিদ্দিক। তিনি বলেছেন, এটি নিছক গাফিলতি নয়, বরং ইচ্ছাকৃত অবহেলা, যা অমার্জনীয় অপরাধ।

 

খালোদা জিয়ার জন্য নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় দেওয়া বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেছেন চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী। আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শোকসভা হয়।

প্রফেসর ডা. এফ এম সিদ্দিক বলেন, ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল কোভিড-১৯–সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বর্তমান মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিল। ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারা গভীর বিস্ময় ও উদ্বেগের সঙ্গে দেখতে পান যে, তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। অথচ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসার ছাড়পত্রে তার জন্য আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় মেথোট্রেক্সেট (Methotrexate) নামের একটি ট্যাবলেট নিয়মিত সেবনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং ভর্তি থাকা অবস্থাতেও তাকে এই ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এই ওষুধটি বন্ধ করে দিই।’

এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘ম্যাডাম রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং রিউমাটোলজিস্টদের পরামর্শে তিনি এই ওষুধটি সেবন করছিলেন। এর পাশাপাশি তার এমএএফএলডি (মেটাবোলিক অ্যাসোসিয়েটেড ফ্যাটি লিভার ডিজিজ) ছিল।’

চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ম্যাডামের লিভারের অসুখ নির্ণয় করা খুবই সহজ একটি বিষয় ছিল; এর জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। মেথোট্রেক্সেট সেবনের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্তে লিভার ফাংশনের কয়েকটি উপাদান পরীক্ষা করা জরুরি এবং অস্বাভাবিক ফলাফল পাওয়া গেলে ওষুধটি বন্ধ করে ন্যূনতম পেটের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করে লিভারের অবস্থা যাচাই করা আবশ্যক। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, ম্যাডামের লিভার ফাংশন টেস্ট (যকৃতের কার্যকারিতা পরীক্ষা) খারাপ দেখার পরেও সরকার নির্ধারিত চিকিৎসকেরা একটি আলট্রাসনোগ্রাম পর্যন্ত করেননি এবং এমটিএক্স (মেথোট্রেক্সেট) বন্ধ করেননি।’

তৎকালীন চিকিৎসকদের ওপর আস্থার অভাবে খালেদা জিয়া সেখানে আলট্রাসনোগ্রাফি করাতে রাজি হননি উল্লেখ করে এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘কিন্তু অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনায় তার আস্থাভাজন চিকিৎসকের মাধ্যমে শয্যার পাশে পয়েন্ট অব কেয়ার আলট্রাসাউন্ড–পিওসিইউএস সহজেই করা যেত। অন্ততপক্ষে এমটিএক্স বন্ধ করে দেওয়া ছিল অবশ্যকর্তব্য।’

খালেদা জিয়াকে ‘স্লো পয়জন’ দেওয়া হয়েছিল কি না, সে প্রশ্ন অনেকে করেন উল্লেখ করে এই চিকিৎসক বলেন, ‘আমার উত্তর হলো, মেথোট্রেক্সেট সেই ওষুধ, যেটা তার ফ্যাটি লিভার অসুখ বাড়িয়েছিল এবং সেটা লিভার সিরোসিসে নিয়ে গিয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে এটা তার লিভারের জন্য “স্লো পয়জন” ছিল।’

অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘আজ দেশের লাখোকোটি মানুষের বুকের ভেতরে এক গভীর আফসোস—সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের ভোটাধিকারের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা মানুষটি যদি আর কিছু দিন বেঁচে থাকতেন! যদি তিনি দেখতে পেতেন, মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন!’

এফ এম সিদ্দিক বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় এ ধরণের অবহেলা, লিভার ফাংশনের দ্রুত অবনতি তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। এটি উইলফুল নেগলিজেন্স বা ইচ্ছাকৃত অবহেলা। এটি একটি অমার্জনীয় অপরাধ এবং এটি তাকে হত্যার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ ছাড়া তার ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেডিক্যাল বোর্ডের কাছে রয়েছে।’

এ বিষয়ে আইনগতভাবে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির মাধ্যমে খালেদা জিয়ার চিকিৎসাজনিত অবহেলার তিনটি বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী। ওই তিনটি বিষয় হলো—ক. সরকার কর্তৃক গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা কারা ছিলেন এবং কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় তাঁদের ওপর বর্তায় কি না। খ. ভর্তিকালীন সময়ে কোন কোন চিকিৎসক তার চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না। গ. মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা চলাকালে খালেদা জিয়া আইনজীবীর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন—সে ক্ষেত্রে কেন তা হয়নি এবং কারা এতে বাধা দিয়েছিল?

এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এফ এম সিদ্দিকী।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

ওসমান হাদির ভাইকে যুক্তরাজ্যে সহকারী হাইকমিশনে নিয়োগ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখ সারির নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদির ভাই ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

 

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ওমর বিন হাদিকে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছর মেয়াদে দ্বিতীয় সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আবুল হায়াত মো. রফিক ১৫ জানুয়ারি প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগসংক্রান্ত অন্যান্য শর্ত সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নিয়োগকালীন সময়ে ওমর বিন হাদি অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি অথবা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের কর্মসম্পর্ক রাখতে পারবেন না। অর্থাৎ, এই মেয়াদে তাকে পূর্ণ লিয়েন বা পেশাদারি বিচ্ছিন্নতা বজায় রেখে সম্পূর্ণভাবে সরকারি দায়িত্ব পালন করতে হবে।

উল্লেখ্য, শরিফ ওসমান হাদি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং পরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গঠন করে এর মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন বলে জানা যায়।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাজধানীর পল্টন এলাকার বক্স কালভার্ট রোডে গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুলিতে তিনি মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদি মারা যান। তার মৃত্যু দেশে রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এই প্রেক্ষাপটে তার ভাই ওমর বিন হাদির কূটনৈতিক পদে নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকার পক্ষ বলছে, চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগ সম্পূর্ণ বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দেওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

অবৈধ কাজে লাগাম টানছে যুক্তরাজ্যঃ ইমিগ্রেশন অভিযানে গ্রেপ্তার বেড়েছে রেকর্ড হারে

অবৈধ কাজে কড়াকড়ি জোরদার: যুক্তরাজ্যে ইমিগ্রেশন অভিযানে গ্রেপ্তার ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধি
যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে কাজ করা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অভিযানের ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

 

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর নেল বার, কার ওয়াশ, নাপিতের দোকান, টেকঅ্যাওয়ে ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইমিগ্রেশন অভিযানের সংখ্যা ৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে এসব অভিযানে গ্রেপ্তার বেড়েছে ৮৩ শতাংশ, যা সরকারের সীমান্ত ও অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিরোধী দলগুলো দাবি করছে, যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে কাজ করার সুযোগই অভিবাসীদের জন্য একটি বড় ‘পুল ফ্যাক্টর’ হিসেবে কাজ করছে এবং এর ফলে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে দেশটিতে প্রবেশের প্রবণতা বাড়ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৪১ হাজারের বেশি মানুষ এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা পাড়ি দিয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ এবং আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার বেশি।

কনজারভেটিভ দলের শ্যাডো স্বরাষ্ট্র সচিব ক্রিস ফিল্প অভিযোগ করে বলেন, লেবার সরকার যুক্তরাজ্যকে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য একটি ‘সহজ লক্ষ্য’ বানিয়ে ফেলেছে। তাঁর মতে, যতদিন অবৈধভাবে আসা মানুষ কাজ করতে, আয় করতে এবং দেশে থেকে যেতে পারবে, ততদিন মানবপাচারকারীরা চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার জন্য মানুষকে প্রলুব্ধ করার সুযোগ পাবে।

হোম অফিস জানিয়েছে, ইমিগ্রেশন অভিযানে গ্রেপ্তারের সংখ্যা লেবার ক্ষমতায় আসার আগ থেকেই বাড়ছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই গতি আরও তীব্র হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট দলগুলো ১৭ হাজার ৪০০–এর বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে, যা তার আগের ১৮ মাসের তুলনায় ৭৭ শতাংশ বেশি। এসব অভিযানে ১২ হাজার ৩০০–এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ১ হাজার ৭০০–এর বেশি ব্যক্তিকে যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু অভিযান ও গ্রেপ্তার ছোট নৌকায় অভিবাসন ঠেকাতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির সিনিয়র গবেষক ড. পিটার ওয়ালশ বলেন, ইতিহাসগতভাবে গ্রেপ্তারের তুলনায় আটক ও বহিষ্কারের সংখ্যা অনেক কম। তাঁর মতে, অভিযানের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে নিয়োগকর্তাদের ওপর, কারণ কর্মক্ষেত্রে কঠোর তদারকি অবৈধভাবে কাজের অধিকারহীন ব্যক্তিদের নিয়োগ নিরুৎসাহিত করে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সব অঞ্চলেই ইমিগ্রেশন অভিযানে গ্রেপ্তার বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে লন্ডন, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে। লন্ডনে গত বছর ২ হাজার ১০০–এর বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে গ্রেপ্তার বেড়েছে যথাক্রমে ৭৬ শতাংশ ও ৯১ শতাংশ। ওয়েলসে ১ হাজার ৩২০টি অভিযানে ৬৪৯ জন গ্রেপ্তার হয়েছে, স্কটল্যান্ডে ৬৯৫টি অভিযানে ৪০০ জন এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে ১৮৭টি অভিযানে ২৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযান চালানো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল ওয়েস্ট সাসেক্সের শোরহ্যাম-বাই-সি–এর একটি গুদাম, যেখানে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের মধ্যে ১১ জনকে বহিষ্কারের জন্য আটক রাখা হয়েছে। সুইন্ডনের একটি নির্মাণ সাইটে অভিযানে ভারতীয় ও আলবেনীয় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের প্রায় সবাইকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় রাখা হয়েছে। একইভাবে সারির কেম্পটন পার্ক রেসকোর্সের একটি বাজারে অভিযানে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, যুক্তরাজ্যের সমাজে অবৈধভাবে কাজ করার কোনো স্থান নেই। তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসীরা যেন কালোবাজারি অর্থনীতিতে লুকিয়ে থাকতে না পারে, সে জন্য ইমিগ্রেশন প্রয়োগ কার্যক্রম ব্রিটিশ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। সীমান্তে শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এই অভিযান জোরদারের পেছনে গত বছর ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের জন্য অতিরিক্ত ৫০ লাখ পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে কারও কাজের অধিকার প্রমাণ বাধ্যতামূলক হবে এবং অবৈধভাবে কাজ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে