Categories
আন্তর্জাতিক

ইরানের জনগণ পাহলভিকে মেনে নেবে কি না সন্দেহ আছেঃ ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরোধী নেতা রেজা শাহ পাহলভি খুবই ভদ্র মানুষ মনে হয়, তবে তিনি আদৌ ইরানের ভেতরে পর্যাপ্ত সমর্থন জোগাড় করতে পারবেন কি না—তা নিয়ে আমি নিশ্চিত না।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ওভাল অফিসে রয়টার্সকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেন এবং ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে নিয়ে বিচার বিভাগের তদন্তে রিপাবলিকানদের সমালোচনা উড়িয়ে দেন।

ইরানে চলমান বিক্ষোভে সহিংস দমন-পীড়নের ঘটনায় হাজারো মানুষের মৃত্যুর খবরের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প আগেও আন্দোলনকারীদের পক্ষে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।

তবে বুধবার তিনি ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভিকে পূর্ণ সমর্থন দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।

ট্রাম্প বলেন, তিনি খুব ভালো মানুষ মনে হয়, কিন্তু নিজের দেশে তিনি কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবেন, তা আমি জানি না। আর আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।

তিনি আরো যোগ করেন, আমি জানি না তার দেশ তার নেতৃত্ব মেনে নেবে কি না।তবে যদি নেয়, তাহলে সেটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রেজা পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। এবার তার মন্তব্যে আরো স্পষ্টভাবে পাহলভির নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে এলো।

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ৬৫ বছর বয়সি রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগেই ইরান ছাড়েন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তিনি একটি পরিচিত কণ্ঠস্বর হলেও ইরানের বিরোধী শক্তিগুলো নানা মতাদর্শে বিভক্ত। রাজতন্ত্রপন্থিরা পাহলভিকে সমর্থন রলেও দেশটির ভেতরে বিরোধীদের সংগঠিত উপস্থিতি সীমিত।

ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভের চাপে তেহরানের সরকার পতনের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বাস্তবতা হলো—যেকোনো সরকারই ভেঙে পড়তে পারে। তবে পতন হোক বা না হোক, সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

দলত্যাগের গোপন ষড়যন্ত্রঃ রবার্ট জেনরিককে বরখাস্ত করলেন কেমি ব্যাডেনক

কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক দলত্যাগের গোপন ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে শ্যাডো জাস্টিস সেক্রেটারি রবার্ট জেনরিককে বরখাস্ত করেছেন। একই সঙ্গে তার হুইপ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে দলীয় সদস্যপদও স্থগিত করা হয়েছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে কেমি ব্যাডেনক জানান, তার কাছে “স্পষ্ট ও অখণ্ডনীয় প্রমাণ” এসেছে যে রবার্ট জেনরিক গোপনে এমনভাবে দলত্যাগের পরিকল্পনা করছিলেন, যা শ্যাডো ক্যাবিনেটের সহকর্মী এবং পুরো কনজারভেটিভ পার্টির জন্য সর্বোচ্চ ক্ষতিকর হতো।

ব্যাডেনক বলেন, ব্রিটিশ জনগণ রাজনৈতিক নাটক ও অন্তর্দলীয় ষড়যন্ত্রে ক্লান্ত। তার ভাষায়, আগের সরকারে এই ধরনের আচরণ ব্যাপকভাবে দেখা গেছে এবং বর্তমান সরকারেও তা অব্যাহত রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অতীতের সেই ভুল তিনি আর পুনরাবৃত্তি করতে চান না।

টাইমস পত্রিকার রাজনৈতিক সম্পাদক স্টিভেন সুইনফোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফ্যারাজের সঙ্গে রবার্ট জেনরিকের যোগাযোগ কয়েক সপ্তাহ নয়, বরং কয়েক মাস ধরেই চলছিল। গত ডিসেম্বর মাসে পার্লামেন্টে তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে কনজারভেটিভ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, কেমি ব্যাডেনকের টিম রবার্ট জেনরিকের একটি প্রায় চূড়ান্ত পদত্যাগ ভাষণের খসড়া হাতে পায়, যা কোথাও পড়ে ছিল। একই সময়ে জেনরিক একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা অনুষ্ঠান বাতিল করেন। এতে দলীয় নেতৃত্বের ধারণা আরও জোরালো হয় যে তিনি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দলত্যাগের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন।

দলীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, এই ঘটনার আগে মঙ্গলবার শ্যাডো ক্যাবিনেট বৈঠকে জেনরিক স্বাভাবিক আচরণ করেন এবং কোনো ইঙ্গিত দেননি।

এমনকি গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত শ্যাডো ক্যাবিনেটের একটি কৌশলগত ‘অ্যাওয়ে ডে’-তেও তিনি অংশ নিয়ে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তৃত নোট নেন, যা ব্যাডেনকের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, রিফর্ম ইউকে কিংবা রবার্ট জেনরিক—কেউই এই আকস্মিক বরখাস্তের বিষয়ে প্রস্তুত ছিলেন না। কেমি ব্যাডেনক কার্যত সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন।

এদিকে নাইজেল ফ্যারাজ মন্তব্য করেছেন, অভিবাসন নীতিতে ব্যর্থতার জন্য রবার্ট জেনরিক কনজারভেটিভ দলেরই অংশ। তবে রিফর্ম ইউকের দৃষ্টিতে জেনরিকের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক ছিল—তিনি ঋষি সুনাকের সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে কনজারভেটিভ পার্টিতে নেতৃত্বের কঠোরতা ও শৃঙ্খলার বার্তা স্পষ্ট হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামাল আইস এজেন্টরা

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে এক নারীকে গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আটক করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) এজেন্টরা।

 

আলিয়া রহমান নামের এই নারী একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং মানবাধিকার ও এলজিবিটি অধিকারকর্মী। তার শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে বাংলাদেশে।

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযানে এসেছিলেন আইস এজেন্টরা। তাদের এই অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামেন স্থানীয় লোকজন। এসময় আলিয়া তার গাড়ি নিয়ে মুখোশধারী এজেন্টদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ তোলা হয়।

এদিকে গত মঙ্গলবারের ঘটনাটির ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

এতে দেখা যায়, মুখোশধারী এজেন্টরা আলিয়ার গাড়ির কাচ ভেঙে তাকে জোর করে বের করে আনছেন। এ সময় আলিয়া নিজেকে অসুস্থ দাবি করে বলেন তিনি চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আশপাশে থাকা বিক্ষোভকারীরাও তখন চিৎকার করে আইস এজেন্টদের থামতে বলছিলেন।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা সংক্ষেপে ‘আইসিই’ যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই সংস্থাটির কর্মীরা ‘আইস এজেন্ট’ হিসেবে পরিচিত। এই সংস্থার সদস্যরা বা এজেন্টরা মূলত অভিবাসন আইন প্রয়োগ, সীমান্ত সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনের কাজ করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের আটক, বিচার ও ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) দায়িত্বও এই সংস্থার। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির কারণে আইস এজেন্টদের তৎপরতা সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

নিউইয়র্ক পোস্ট জানায়, ৪৩ বছর বয়সী আলিয়া রহমান একজন অভিজ্ঞ সফটওয়্যার প্রকৌশলী। তিনি নিজেকে ‘কমিউনিটি-ফোকাসড সিকিউরিটি প্র্যাকটিশনার’ হিসেবে পরিচয় দেন। এর আগে তিনি নিউ আমেরিকার ওপেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ফেলো ছিলেন, যেখানে পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নীতিমালা কাজ করেন।

লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, আলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন এবং সাইবার নিরাপত্তায় সনদপ্রাপ্ত পেশাজীবী।

আলিয়া রহমানের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। ছোটবেলায় তিনি পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে আসেন।

এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি একটি দেশকে গড়ে উঠতে দেখেছি। আমি পোশাকশ্রমিকদের, বিশেষ করে নারীদের রাস্তায় নেমে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে দেখেছি।

শৈশব থেকেই আলিয়া নিজেকে ‘জেন্ডার কুইয়ার’ হিসেবে পরিচয় দেন। পড়ালেখার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। ২০০১ সালে টুইন টাওয়ার হামলার সময় তার দুই কাজিন নিহত হন।

আলিয়া রহমান দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন এবং এলজিবিটি অধিকার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

মঙ্গলবারের ঘটনার পর আলিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে আইসের অভিযোগ, তিনি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে তিনি বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।

সূত্রঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

৮০ হাজার কোটি ডলার চায় ইউক্রেন, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী বললেন—‘টাকা গাছে ধরে না’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে ৮০ হাজার কোটি ডলার দাবি করেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। এমন ‘আকাশকুসুম’ অর্থ সহায়তার বিষয়টি ঠিক রোচেনি হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের। তিনি সাফ বলে দিয়েছেন, ‘টাকা গাছে ধরে না’।

 

ইউক্রেনকে অর্থায়নের পরিণতি নিয়ে হাঙ্গেরির ইইউ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে অরবান লিখেছেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, টাকা গাছে ধরে না। আগামী ১০ বছরে ইউরোপীয়দের কাছে ৮০ হাজার কোটি ডলার দাবি করছে ইউক্রেনীয়রা। এর অর্থ হাঙ্গেরিকেও ৯০০ কোটি ডলারের বেশি আর্থিক বোঝা বইতে হবে। এই অর্থ আসবে কোথা থেকে?’

অরবান বলেছেন, ইউক্রেনকে অর্থায়ন করবে না হাঙ্গেরি। রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ইইউ নেতাদের লক্ষ্যকে সমর্থনও দেবে না দেশটি।

হাঙ্গেরি সরকারের প্রকাশিত নথিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনকে আর্থিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে মোট ১৯ হাজার ৩৩০ কোটি ইউরো প্রদান করেছে। এর একটি অংশ এসেছে পশ্চিমা দেশগুলোতে জব্দ করা রুশ সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত আয় থেকে। প্রতিবেদনে তুলনা টেনে বলা হয়, ‘২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইইউ থেকে হাঙ্গেরি নিট সহায়তা পেয়েছে ৭৩০ কোটি ইউরো।’

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইউক্রেনকে ৯ হাজার কোটি ইউরো ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত দেয় ইউরোপীয় কাউন্সিল। কিয়েভ কখনোই এই অর্থ পরিশোধ করবে না। বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, পরবর্তী সাত বছরের ইইউ বাজেট থেকে ৩৬ হাজার কোটি ইউরোরও বেশি পেতে পারে ইউক্রেন।

এ ছাড়া সামরিক ব্যয় বাদ দিয়ে আগামী ১০ বছরে পুনর্গঠনের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে ৮০ হাজার কোটি ডলার সহায়তা আশা করছে কিয়েভ। প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়, হাঙ্গেরি যদি এতে সম্মতি দেয়, তবে তাকে এই অর্থের ১ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ৯২৯ কোটি ডলার বহন করতে হবে।

দেশটির ইইউ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, ‘হাঙ্গেরির অবস্থান স্পষ্ট: সরকার ইউক্রেনের জন্য সীমাহীন অর্থায়ন ও সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করছে। জনগণের ক্ষতি করে সামরিক কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করার জন্য তহবিল বরাদ্দ দেবে না হাঙ্গেরি।’

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটির পুনরুদ্ধারের জন্য ১০ বছরে ৮০ হাজার কোটি ডলারের একটি ‘বৈশ্বিক প্যাকেজ’ তাদের শান্তি পরিকল্পনার অংশ। এই প্রস্তাবটি ২৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় এবং পরে পশ্চিম ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক উত্থাপন করে দেশটি।

সূত্রঃ তাস

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইরান ইস্যুতে সুর নরম, হত্যা ও ফাঁসি বন্ধের খবর জানালেন ট্রাম্প

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন বন্ধ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি বলেন, “নির্ভরযোগ্য সূত্রে” তিনি জানতে পেরেছেন যে ইরানে হত্যাকাণ্ড থামছে এবং অভিযুক্ত বিক্ষোভকারীদের ফাঁসির কোনো পরিকল্পনাও নেই।

বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে যে ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে—এটি বন্ধ হয়েছে, বন্ধ হচ্ছে। এবং কোনো ফাঁসির পরিকল্পনা নেই। একটিও নয়, একাধিকও নয়।” তিনি যোগ করেন, এই তথ্য এসেছে “অপর পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র” থেকে এবং বিষয়টি শিগগিরই যাচাই করা হবে।

 

এর এক দিন আগে, মঙ্গলবার, সিবিএস ইভিনিং নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া হলে ইরানি সরকারের বিরুদ্ধে “খুব শক্ত পদক্ষেপ” নেওয়া হবে। সেই প্রেক্ষাপটেই তার সাম্প্রতিক মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানে চলমান অস্থিরতা দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। দুটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্রাম্প জানান, তার কাছে আসা তথ্যে বলা হয়েছে, বুধবারই ব্যাপকসংখ্যক ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো হচ্ছে না। “তারা বলেছে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং ফাঁসিগুলোও হবে না। আজ অনেক ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল—কিন্তু সেগুলো হবে না,” বলেন তিনি।

একজন সাংবাদিক জানতে চান, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিকল্প কি আর বিবেচনায় নেই। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমরা দেখব প্রক্রিয়াটি কীভাবে এগোয়।” অর্থাৎ সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, তবে আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এর আগে ট্রাম্প ইরানের জনগণকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, “সহায়তা আসছে।” যদিও তিনি এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের হাতে একাধিক বিকল্প রয়েছে—প্রচলিত সামরিক হামলা থেকে শুরু করে সাইবার অভিযানের মতো কৌশলও এর অন্তর্ভুক্ত।

এই পরিস্থিতিতে ইরানে বাস্তবেই সহিংসতা বন্ধ হয় কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়—সেদিকে এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

সূত্রঃ সিবিএস নিউজ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকটে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব প্রশ্নেঃ BRICS নীরব

ইরানের সাম্প্রতিক দেশজুড়ে বিক্ষোভ কেবল দীর্ঘদিনের অস্থিরতার আরেকটি অধ্যায় নয়। এটি বৈশ্বিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ চাপ বা পরীক্ষা—উদীয়মান শক্তিগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির নৈতিক দিকসমূহ যাচাই করার মুহূর্ত।

 

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ থেকে ইরান অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে দেশজুড়ে উত্তাল। ইরানি রিয়াল মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছে, মূল্যস্ফীতি ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়।

তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে দোকানিদের ধর্মঘট দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত দেশের সব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। অর্থনৈতিক ক্ষোভ রাজনৈতিক বিদ্রোহে রূপ নেয়। জানুয়ারির মাঝামাঝি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ২,০০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদমাধ্যম।

এই বিক্ষোভ ২০২২–২৩ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের তুলনায় ছোট হলেও অর্থনৈতিক ভিত্তিতে আরও অস্থিতিশীল। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট, ভর্তুকিযুক্ত বিনিময় হার তুলে নেওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনের কঠিন অবস্থা জনগণের হতাশা বাড়াচ্ছে। BRICS ব্লকের অন্যান্য সদস্যদের তুলনায় ইরানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেক কম, আর মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি। এটি কোনো উত্থানশীল শক্তির চিত্র নয়, বরং ক্লান্ত রাষ্ট্রের চিত্র।

তবু এই ক্লান্ত রাষ্ট্রটিই এখন BRICS-এর সদস্য। ২০২৪ সালে ইরানের সদস্যপদ বহুমেরুত্ব ও গ্লোবাল সাউথের সংহতি নিয়ে উদযাপন করা হয়েছিল, কিন্তু শুরু থেকেই বিষয়টি বিতর্কিত ছিল। ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা বিভিন্ন কারণে বিরোধিতা করলেও চীন ও রাশিয়া ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের বিপরীতে কৌশলগত ভারসাম্য হিসেবে সমর্থন করেছে।

BRICS এখন কেবল ইরানের অর্থনীতি নয়, তার অভ্যন্তরীণ সংকটও মোকাবিলা করতে বাধ্য। ব্লকটি নিজেকে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার ন্যায়সংগত বিকল্প হিসেবে তুলে ধরলেও, প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের মুখে নীরবতা তাদের দাবিকে শূন্য করে দেয়। চীন শান্তি ও স্থিতিশীলতার আহ্বান জানিয়েছে, রাশিয়া সার্বভৌমত্বের কথা বলেছে, আর ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা শান্তির আহ্বান জানিয়ে সরাসরি সহিংসতা এড়িয়ে চলেছে।

ইরান সরকার তার দেশের ভিতরে অস্থিরতা বিদেশি প্ররোচনায় ঘটেছে বলে দাবি করে, কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারে নীরব নয়। ইরান আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের সদস্য এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা আইন লঙ্ঘনের নথি লিপিবদ্ধ করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হতে পারে—অর্থনৈতিক ক্ষোভ রাজনৈতিক সংকটের রূপ নিতে পারে। ইরান মিসর বা তিউনিসিয়ার মতো নয়; এটি সামরিকভাবে শক্তিশালী, আঞ্চলিকভাবে প্রোথিত এবং মস্কো ও বেইজিংয়ের সমর্থনে সুরক্ষিত। যেকোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপ আঞ্চলিক অগ্নিকাণ্ড এবং বিশ্ব তেলবাজারে বিশাল ধাক্কার ঝুঁকি তৈরি করবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি বিক্ষোভকারীদের জন্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন এবং তেহরানের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেছেন। বিপরীতে, BRICS অংশীদাররা সরাসরি মন্তব্য থেকে বিরত থেকে কূটনৈতিক সমাধান ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততার উপর মনোযোগ দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট BRICS-এর নৈতিক সক্ষমতার পরীক্ষা। বহুমেরুত্ব বাস্তব হলেও, দায়িত্ব ও মানবিক নীতি এখনো অনুপস্থিত। সঠিকভাবে হ্যান্ডেল করলে এটি দেখাবে—বহুমেরুত্ব স্থিতিশীল হতে পারে। ব্যর্থ হলে প্রমাণ হবে—ক্ষমতা ছড়িয়ে গেলেও জবাবদিহিতা নেই।

উদীয়মান শক্তিগুলো যদি স্থিতিশীলতা ও মানবিকতা মেলাতে ব্যর্থ হয়, তবে ন্যায্য বিশ্বের প্রতিশ্রুতি কেবল ফাঁপা ঘোষণাই হয়ে থাকবে।

সূত্রঃ এম ই এম

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক আদালতে নেওয়ার হুঁশিয়ারি জাতিসংঘের

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা UNRWA–কে লক্ষ্য করে নেওয়া আইন বাতিল না করলে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপের বিষয়ে জাতিসংঘ নীরব থাকতে পারে না।

 

২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে লেখা এক চিঠিতে গুতেরেস বলেন, UNRWA–বিরোধী আইন এবং সংস্থাটির সম্পদ ও স্থাপনা জব্দ করা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলের দায়বদ্ধতার সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি এসব ব্যবস্থা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেট ২০২৪ সালের অক্টোবরে একটি আইন পাস করে, যার মাধ্যমে ইসরায়েলের ভেতরে UNRWA–এর সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সংস্থাটির সঙ্গে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা হয়।

গত মাসে ওই আইনে সংশোধনী এনে UNRWA–এর স্থাপনাগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধের বিধান যুক্ত করা হয়। এর ফলে সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর পাশাপাশি গত মাসেই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত UNRWA–এর অফিস ও অন্যান্য স্থাপনা জব্দ করে। জাতিসংঘ পূর্ব জেরুজালেমকে ইসরায়েল-অধিকৃত এলাকা হিসেবে বিবেচনা করলেও ইসরায়েল পুরো জেরুজালেমকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে।
জাতিসংঘের মহাসচিবের এই হুঁশিয়ারি দ্রুতই প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, গুতেরেসের হুমকিতে তারা বিচলিত নন এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ড্যানন দাবি করেন, UNRWA–এর কিছু কর্মচারী সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষায়, মহাসচিব এসব গুরুতর অভিযোগের সমাধান না করে UNRWA–এর কর্মকাণ্ডকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন, যা হামাসের একটি সহযোগী সংস্থার মতো কাজ করছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, UNRWA–কে ঘিরে চলমান এই বিরোধ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্রঃ এম ই এম

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের হয়ে যুদ্ধে টানতে চায় ইসরায়েল—ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ

ইসরায়েল সবসময় যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের পক্ষে যুদ্ধ করতে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এবার ইসরায়েল প্রকাশ্যেই সেই উদ্দেশ্যের কথা স্বীকার করছে।

 

ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪–এর কূটনৈতিক বিষয়ক সংবাদদাতা তামির মোরাগের একটি পোস্ট উদ্ধৃত করে আরাঘচি বলেন, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের হয়ে যুদ্ধ করাতে চেয়েছে। তার দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েল আর বিষয়টি আড়াল করছে না।

ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, দেশের রাস্তাঘাট “রক্তে ভিজে গেছে”। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল বিক্ষোভকারীদের অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে প্রকাশ্যে গর্ব করছে, যার ফলেই শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

তার ভাষায়, ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচিত ইসরায়েলের প্রতি চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা বিক্ষোভকারীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া বন্ধ করে। তিনি বলেন, অস্ত্র সরবরাহই এই রক্তপাতের প্রধান কারণ।

এর আগে তামির মোরাগ এক্স-এ লিখেছিলেন, বিদেশি শক্তিগুলো ইরানে বিক্ষোভকারীদের হাতে জীবন্ত অস্ত্র তুলে দিচ্ছে এবং এর ফলেই শাসনব্যবস্থার পক্ষের বহু মানুষ নিহত হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, কারা এই বিদেশি শক্তি—তা সহজেই অনুমেয়।

এদিকে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের মিশন সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক ও কর্মীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
গত মাসের শেষ দিক থেকে ইরানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে বক্তব্যের সুর আরও কঠোর করেছেন।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প CBS নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র “খুব শক্ত প্রতিক্রিয়া” দেখাবে।
ইরান সরকার পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, চলমান বিক্ষোভকে তারা যাকে “দাঙ্গা” ও “সন্ত্রাসবাদ” হিসেবে বর্ণনা করছে, তার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ সমর্থন রয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো হতাহত বা আটক ব্যক্তিদের কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, চলমান সহিংসতায় অন্তত ২,৫০০ জন নিহত হয়েছে এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে তারা ধারণা করছে।

সব মিলিয়ে ইরান সংকট ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তেহরানের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সূত্রঃ এম ই এম

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইরান ঘিরে উত্তেজনাঃ মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনা প্রত্যাহার

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু সামরিক সদস্য প্রত্যাহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। কাতারের আল-উদেইদ সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা ও কর্মী সরানোর এই সিদ্ধান্তকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে ওয়াশিংটন।

 

বুধবার মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে এই প্রত্যাহার করা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আল-উদেইদ ঘাঁটিতে অবস্থানরত কিছু সেনাকে সাময়িকভাবে চলে যেতে বলা হয়েছে।

এর আগে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর ইরান আল-উদেইদ ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা করেছিল। যদিও সেই হামলাটি ছিল আগাম ইঙ্গিত দেওয়া এবং মূলত প্রতীকী।

গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যও কাতারে অবস্থিত ওই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে।

ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হবে। সৌদি আরব ও তুরস্কসহ যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের এই হুমকির কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। রয়টার্সের বরাতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, তবে হামলার ধরন ও মাত্রা এখনো অনিশ্চিত।

ট্রাম্পের হুমকি উপেক্ষা করে ইরান সরকার জানিয়েছে, আটক বিক্ষোভকারীদের দ্রুত বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই বলেন, “কিছু করতে হলে দেরি নয়, এখনই করতে হবে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এর প্রভাব কমে যায়।”

মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, খুব শিগগিরই বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর হতে পারে। ২৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়, যা চলমান আন্দোলনে প্রথম কোনো বিক্ষোভকারীর সর্বোচ্চ সাজা।

এরফান সোলতানির এক স্বজন CNN-কে বলেন, ট্রাম্পের কথায় বিশ্বাস করে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানান, যেন এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে না দেওয়া হয়।

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র “খুব শক্ত প্রতিক্রিয়া” জানাবে। CBS নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষ হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

তুরস্ক, মিসর ও সৌদি আরবসহ ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এমন পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সূচনা করতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও মারাত্মক হবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানে এখন পর্যন্ত ২,৫৭১ জন নিহত এবং ১৮ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের এই বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
বুধবার তেহরানে নিহত ১০০ জন নিরাপত্তা সদস্যের জন্য গণ-জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েক দশ হাজার সরকারপন্থী অংশ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে বলেছে, ইরান আবারও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি, দ্রুত বিচার ও ইচ্ছামতো মৃত্যুদণ্ডের পথে হাঁটতে পারে। সংগঠনটির মতে, এসব পদক্ষেপ মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।

সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে সামরিক, রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংকট নতুন এক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সেনা প্রত্যাহার সেই উত্তেজনারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান \ এপি \ রয়টার্স

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ডিজিটাল আইডি ইস্যুতে সরকার বিভ্রান্ত, বিরোধী দলের তীব্র আক্রমণ

ডিজিটাল আইডি পরিকল্পনায় পরিবর্তনকে আরেকটি ‘ইউ-টার্ন’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির সমালোচনার মুখে তিনি দাবি করেছেন, সরকার তার মূল অবস্থান থেকে সরে আসেনি এবং ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা আগের মতোই বহাল থাকবে।

মঙ্গলবার গভীর রাতে জানা যায়, বিতর্কিত ডিজিটাল আইডি পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাতিল করা হচ্ছে। কাজের অধিকার প্রমাণে নির্দিষ্ট একটি ডিজিটাল আইডি কার্ড দেখানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর পরিবর্তে পাসপোর্টের ডিজিটাল চিপ বা ই-ভিসার মতো অন্যান্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র ব্যবহারের সুযোগ রাখা হচ্ছে।

ডাউনিং স্ট্রিট এই পরিবর্তনকে ‘কারিগরি সংশোধন’ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও বাস্তবে এতে পরিকল্পনার একমাত্র বাধ্যতামূলক উপাদানটি বাদ পড়েছে। ফলে পুরো ডিজিটাল আইডি স্কিমের কার্যকারিতা ও প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মত দিচ্ছেন সমালোচকরা।

বুধবার এক সম্প্রচার সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, যাচাই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। তার ভাষায়, “মানুষকে অবশ্যই যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। সেই যাচাই হবে ডিজিটাল এবং তা বাধ্যতামূলক।” তিনি জানান, এখন কেবল যাচাইয়ের কাঠামো ও পদ্ধতি নিয়ে পরামর্শ চলছে।

ইউ-টার্নের অভিযোগ প্রসঙ্গে স্টারমার বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য অবৈধভাবে কাজ করা বন্ধ করা। তিনি বলেন, দেশে অনেক মানুষ অবৈধভাবে কাজ করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই প্রবণতা ঠেকাতেই সরকার ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করছে।

এর আগে হাউস অব কমন্সে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক সরকারকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। তিনি ডিজিটাল আইডিকে “একটি বাজে নীতি” বলে উল্লেখ করে বলেন, সরকারের কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই এবং স্টারমার বারবার সিদ্ধান্ত বদলাচ্ছেন।

চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভস অবশ্য পরিবর্তনটির গুরুত্ব কমিয়ে দেখান। তার মতে, কাজের জন্য ডিজিটাল পরিচয় দেখানো বাধ্যতামূলক থাকলেই যথেষ্ট—তা আলাদা ডিজিটাল আইডি কার্ড হোক বা ই-ভিসা কিংবা ই-পাসপোর্ট, এতে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।

ব্যবসা বিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইলও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের বায়োমেট্রিক তথ্য তাদের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকবে, যাতে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কাজের যোগ্যতা যাচাই করতে পারে। তার ভাষায়, ২০২৯ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা চালু হলে ডিজিটাল আইডি অবকাঠামো পুরোপুরি কার্যকর থাকবে।

সব মিলিয়ে ডিজিটাল আইডি পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সরকার যেখানে এটিকে বাস্তবসম্মত সমন্বয় হিসেবে দেখছে, সেখানে বিরোধীদের দাবি—এটি নেতৃত্বের দুর্বলতা ও নীতিগত দোদুল্যমানতার আরেকটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে