Categories
স্পোর্টস

বিসিবি পরিচালকের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ক্রিকেটাররাঃ যদিও এম. নাজমুলের পক্ষে সাধারণ দর্শক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের ধারাবাহিক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেটে নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। ক্রিকেটারদের বেতন ও পেশাদারিত্ব নিয়ে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, আগামীকাল বিপিএলের ম্যাচ শুরুর আগে নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে ক্রিকেটাররা সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম বয়কট করবে।

 

বুধবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক জুম বৈঠকে কোয়াব সভাপতি মিঠুন স্পষ্ট ভাষায় জানান, দায়িত্বশীল একজন বোর্ড পরিচালক এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে পারেন না। তিনি বলেন, ক্রিকেটারদের সম্মান ও পেশাদারিত্ব ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেই তাৎক্ষণিকভাবে নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। দাবি মানা না হলে কোনো ক্রিকেটার মাঠে নামবেন না বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

কোয়াবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নাজমুল ইসলামের মন্তব্য শুধু আপত্তিকরই নয়, বরং এটি পুরো ক্রিকেট অঙ্গনকে আহত করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই প্রথম বিভাগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। এরই ধারাবাহিকতায় তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তবে কোয়াব সভাপতির বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়। অনেক নেটিজেন ক্রিকেটারদের অবস্থানের বিরোধিতা করে নাজমুল ইসলামের পক্ষে দাঁড়ান। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন পর একজন বিসিবি পরিচালক প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষের মনের কথা বলছেন। ক্রিকেটারদের পক্ষে ‘দালালি’ বন্ধ হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচকরা আরও দাবি করেন, মাঠের পারফরম্যান্সে ক্রিকেটাররা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলেও ক্রিকেট ঘিরে জুয়া ও নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। তারা কোয়াব সভাপতির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই এখন সংগঠনটির প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে বিসিবি আগেই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্য অনুপযুক্ত, আপত্তিকর বা আঘাতজনক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে বোর্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে, অনুমোদিত চ্যানেল ছাড়া পরিচালকদের ব্যক্তিগত মন্তব্য বিসিবির নীতি বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।

বোর্ড আরও জানায়, ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মান বা বাংলাদেশ ক্রিকেটের সুনাম ক্ষুণ্ন হলে প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের হয়ে নিষ্ঠা ও গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করা খেলোয়াড়দের প্রতি বিসিবির পূর্ণ সম্মান ও সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

তবে নাজমুল ইসলামের মন্তব্যকে ঘিরে ক্রিকেটারদের অসন্তোষ এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাৎক্ষণিক সমাধান না এলে বিপিএলের ম্যাচ নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন ক্রিকেট প্রশাসন ও ক্রিকেটারদের মধ্যে সমঝোতা ও আলোচনাই একমাত্র পথ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে অনলাইনে ইতোমধ্যেই নাজমুল ইসলামের একটি সমর্থকগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। তাদের মতে, তিনি একজন সৎ মানুষ বলেই বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। তাদের দাবি, এমন মানুষ ক্রিকেট প্রশাসনে থাকলেই দেশের ক্রিকেট দালাল ও জুয়াড়িদের প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ইরানকে জানিয়েছে যে তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড কোনো ধরনের হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেবে না। বুধবার সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র এ তথ্য এএফপিকে জানিয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে জানায়, ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের জবাবে তারা প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। জবাবে তেহরান হুঁশিয়ারি দেয়, নতুন কোনো হামলা হলে তারা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও নৌসম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করবে।

সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে জানায়, ‘সৌদি আরব সরাসরি তেহরানকে জানিয়েছে যে ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া কোনো সামরিক পদক্ষেপের অংশ তারা হবে না এবং এ উদ্দেশ্যে তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।’

সরকারের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে এই বার্তাটি ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

সূত্রঃ এএফপি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য সব ধরনের ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহত থাকবে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭৫টি দেশের কনস্যুলার অফিসে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয় বর্তমান ভিসা প্রক্রিয়ার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া পুননিরীক্ষণ করবে। এ সময়ে যেন এই ৭৫ দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো— আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, বার্মা, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জর্দান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, ম্যাসেডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, ‘মন্ত্রণালয় তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ পুনর্মূল্যায়ন করছে। ফলে এই ৭৫টি দেশ থেকে অভিবাসন স্থগিত রাখা হবে। মূলত বিদেশি নাগরিক হয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ত্রাণ বা সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করবেন, তাদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

মূলত, ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দূতাবাসে একটি নির্দেশনা দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যেখানে কনস্যুলার অফিসারদের অভিবাসন আইনের তথাকথিত ‘পাবলিক চার্জ’ বিধানের অধীনে নতুন যাচাই-বাছাই নিয়মগুলো কঠোরভাবে পালনের জন্য বলা হয়েছিল।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছিল, আবেদনকারীদের স্বাস্থ্য, ইংরেজি ভাষা শেখা, অর্থনৈতিক সুবিধা এমনকি যাদের দীর্ঘকালীন চিকিৎসা সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ত্রাণ বা সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করবেন বলে মনে হয় তাদের ভিসা আবেদন যেন প্রত্যাখ্যান করা হয়। এমনকি বয়স্ক এবং অতিরিক্ত ওজনের মানুষকেও ভিসা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট ৭৫টি দেশের হাজারো ভিসা আবেদনকারী অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

‘নির্বাচনে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ রাখা হয়েছে’

নির্বাচনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতেই আপাতত অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান তিনি।

 

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পোস্টাল ব্যালটের বিষয়টি আমরা দেখেছি, ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে৷ কেউ কেউ পোস্টাল ব্যলটের অপব্যবহার করবে এটা স্বাভাবিক। তবে, আমাদের সাবধান থাকতে হবে৷ পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে মিশনের খুব বেশি কিছু করার নেই৷

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় অনেক রকমের চেষ্টা হতে পারে৷ হুট করে যেন কেউ হাজির হতে না পারে, সেজন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো দরকার বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে চীনের ড্রোন তৈরির কারখানার বিষয়ে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই এমন কিছু করবে না, যাতে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়৷

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে হতাহতের ঘটনায় ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জানানো হয়েছে। আরাকান আর্মিকে লিগ্যাল হিসেবে স্বীকার করে না সে দেশের সরকার৷ মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ত্যাগ করিনি৷ যখন প্রথম স্টেজ শুরু হয়েছিল দীর্ঘ সময় লাগবে বলেছিলাম৷ বাংলাদেশকে এই সংকট সমাধানের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে৷

তিনি বলেন, গাজায় ফোর্স পাঠানোর সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি৷ বাংলাদেশ সেখানে যুদ্ধ করতে যাবে না৷ বাংলাদেশের ৩টি শর্ত রয়েছে, যা না হলে সিদ্ধান্ত হয় না।

সূত্রঃ চ্যানেল 24

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বরখাস্ত অবস্থায় সিক নোট বিক্রিঃ জিএমসির কঠোর শাস্তির মুখে এক চিকিৎসক

ভুয়া সিক নোট বিক্রি ও সামাজিক মাধ্যমে ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে ব্রিটেনের চিকিৎসা পেশা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত হয়েছেন ডা. আসিফ মুনাফ। জেনারেল মেডিক্যাল কাউন্সিলের (জিএমসি) আবেদনের পর মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার্স ট্রাইব্যুনাল সার্ভিস (এমপিটিএস) এই সিদ্ধান্ত দেয়। এর ফলে তিনি আর কখনো চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে পারবেন না কিংবা নিজেকে নিবন্ধিত চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না।

 

৩৭ বছর বয়সী আসিফ মুনাফ, যিনি বিবিসির দ্য অ্যাপ্রেন্টিস অনুষ্ঠানের সাবেক প্রতিযোগী, এর আগে সামাজিক মাধ্যমে ইহুদিবিদ্বেষী কনটেন্ট প্রকাশের কারণে সাময়িকভাবে চিকিৎসা নিবন্ধন থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনাল রায়ে জানায়, তার অনলাইন পোস্টগুলো ছিল প্রকাশ্যভাবে বৈষম্যমূলক ও আপত্তিকর, যা চিকিৎসা পেশার নৈতিক মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

শুনানিতে আরও উঠে আসে, একটি হাসপাতালে লোকাম শিফটে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোনো সহকর্মীকে না জানিয়ে কাজ ছেড়ে চলে যান তিনি, যা রোগীর নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। ট্রাইব্যুনাল এই আচরণকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও পেশাগত শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের শামিল বলে মন্তব্য করে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে প্রমাণিত হয়—চিকিৎসা কার্যক্রম থেকে বরখাস্ত থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালে নিজের প্রতিষ্ঠান ডা. সিক লিমিটেড–এর মাধ্যমে একটি সিক নোট ইস্যু করা। ওই নোটের জন্য একজন রোগীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয় এবং তাতে তার স্বাক্ষর ও জিএমসি নম্বর ব্যবহার করা হয়। ট্রাইব্যুনালের মতে, এটি ছিল সচেতন ও ইচ্ছাকৃত অসততা।

রায়ে বলা হয়, আসিফ মুনাফের আচরণ রোগী ও সহকর্মীদের প্রতি “দাম্ভিক অবহেলা” প্রকাশ করে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি উদ্বেগজনক। নিজের কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে তিনি ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ট্রাইব্যুনালে জানানো হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে তিনি সামাজিক মাধ্যমে একাধিক চরম ইহুদিবিদ্বেষী পোস্ট করেন। এসব পোস্টে তিনি ইহুদিদের সম্পর্কে অবমাননাকর ও ঘৃণামূলক মন্তব্য করেন, যা জিএমসির ভাষায় “বস্তুনিষ্ঠভাবে ইহুদিবিদ্বেষী ও মারাত্মকভাবে আপত্তিকর”।
আসিফ মুনাফ শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন না এবং কোনো আইনজীবীর মাধ্যমেও নিজেকে প্রতিনিধিত্ব করাননি।

জিএমসি জানায়, তিনি পুরো প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন।
ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত দেয়, তার আচরণ চিকিৎসা নিবন্ধন বহাল রাখার সঙ্গে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। জনসাধারণের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পেশার সুনাম রক্ষায় ‘ইরেজার’ বা স্থায়ীভাবে নিবন্ধন বাতিলই একমাত্র উপযুক্ত শাস্তি বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

জিএমসির এক মুখপাত্র বলেন, চিকিৎসা পেশায় ইহুদিবিদ্বেষ, বৈষম্য বা ঘৃণামূলক আচরণের কোনো স্থান নেই এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনে চীনা দূতাবাসের গোপন কক্ষঃ নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সংসদে তীব্র বিতর্ক

লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে প্রস্তাবিত চীনের নতুন ‘সুপার-এম্বেসি’ নির্মাণ পরিকল্পনাকে ঘিরে ব্রিটিশ রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির একাধিক এমপি প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে এই প্রকল্প অনুমোদন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, চীনের আগ্রাসী ও ভীতিপ্রদর্শনমূলক আচরণের প্রেক্ষাপটে এমন একটি দূতাবাস অনুমোদন দেওয়া যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

দ্য টেলিগ্রাফের অনুসন্ধানে প্রকাশ পাওয়া অপ্রকাশিত নকশা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত দূতাবাসের নিচে একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে একটি বড় গোপন কক্ষ থাকবে, যা সিটি অব লন্ডন ও ক্যানারি হোয়ার্ফের মধ্যে আর্থিক তথ্য বহনকারী গুরুত্বপূর্ণ ফাইবার-অপটিক কেবলের একেবারে পাশে অবস্থিত হবে। ওই কক্ষে তাপ নিষ্কাশনের বিশেষ ব্যবস্থা থাকায় উন্নত কম্পিউটার বা নজরদারি প্রযুক্তি স্থাপনের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

সংসদে উত্থাপিত জরুরি প্রশ্নে লেবার এমপিরা একের পর এক এই প্রকল্পের বিরোধিতা করেন। জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল কমিটির সদস্য সারা চ্যাম্পিয়ন বলেন, সরকারি সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অংশীদাররা সবাই এই মেগা-এম্বেসি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তার দাবি, প্রতিটি নিরাপত্তা ব্রিফিংয়েই চীনকে যুক্তরাজ্যের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, ফলে এই দূতাবাস কোনোভাবেই অনুমোদন দেওয়া উচিত নয়।

অন্যান্য এমপিরাও যুক্তরাজ্যে বসবাসরত হংকংবাসী, উইঘুর ও চীনা ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই দূতাবাস আরও ভয়ভীতি, নজরদারি ও চাপ সৃষ্টির কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। লিডসের এক এমপি সংসদে জানান, তার এক ভোটারের মাথার ওপর চীন বিপুল অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছে, ফলে নতুন দূতাবাসে গোপন কক্ষ থাকার বিষয়টি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

যে এলাকায় দূতাবাসটি নির্মাণের কথা, সেই এলাকার এমপিরাও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রস্তাবিত দূতাবাসটি সাবেক রয়্যাল মিন্টের ২২ হাজার বর্গমিটার জায়গা জুড়ে হবে এবং এটি ইউরোপে চীনের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক মিশন হিসেবে বিবেচিত হবে। নকশায় জরুরি জেনারেটর, যোগাযোগ কেবল, লিফট শ্যাফট এবং দীর্ঘ সময় ভূগর্ভে অবস্থানের উপযোগী অবকাঠামোর উল্লেখ রয়েছে।

এই ইস্যুতে সরকারকেও সংসদে অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। নিরাপত্তা মন্ত্রীর পরিবর্তে আবাসনমন্ত্রীকে প্রশ্নের জবাব দিতে পাঠানোয় স্পিকার স্যার লিন্ডসে হোয়েল অসন্তোষ প্রকাশ করেন। যদিও সরকার বলছে, পরিকল্পনাটি এখনো অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে এবং সব নিরাপত্তা ও পরিকল্পনাগত বিষয় বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে সরকারের ভেতর ও বাইরে সমালোচকরা মনে করছেন, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের যুক্তি দেখিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি উপেক্ষা করা হলে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে চীনের ‘সুপার-এম্বেসি’ শুধু একটি কূটনৈতিক স্থাপনা নয়, বরং যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা ও সার্বভৌম সিদ্ধান্তের একটি বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ড দখল রোধে বিল প্রস্তাব মার্কিন সিনেটরদের

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা একটি বিল প্রবর্তন করেছেন, যার লক্ষ্য হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ন্যাটোভুক্ত কোনো সদস্য দেশের ভূখণ্ড দখল করা থেকে বাধা দেওয়া। যার মধ্যে ডেনমার্কের স্বশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডও রয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় এই ‘ন্যাটো ইউনিটি প্রটেকশন অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং পররাষ্ট্র বিভাগকে কোনো ন্যাটো সদস্য দেশের ভূখণ্ডকে ‘অবরোধ, দখল, একত্রীকরণ বা অন্য কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করার জন্য তহবিল ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহীনের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকোস্কি যৌথভাবে এই বিলটি উত্থাপন করেন।

ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনতেই হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ না নেয়, তবে চীন বা রাশিয়া এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদ ও ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেটর জিন শাহীন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই দ্বিদলীয় আইন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে মার্কিন করদাতাদের অর্থ এমন কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না, যা আমাদের নিজস্ব ন্যাটো প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী’

বিপুল পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলটিকে নিজেদের সম্পদের পাশাপাশি ন্যাটোর উত্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং উত্তর মেরুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তাই গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাব্য হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যা ন্যাটোর ভবিষ্যতকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ট্রাম্প ন্যাটো বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কাকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে না আসলে চীন বা রাশিয়া গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তিনি দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এই গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রিপাবলিকান সমালোচক আলাস্কার সিনেটর লিসা মারকোস্কি বলেন, ‘ন্যাটো হলো বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মিত্রদের বিরুদ্ধেই যুক্তরাষ্ট্র তার বিপুল সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করতে পারে, এই ধারণাটাই গভীরভাবে উদ্বেগজনক। কংগ্রেসকে আইনের মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।’

গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দার অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করেছেন। ডেনিশ পত্রিকা বার্লিংস্কের এক জরিপে দেখা যায়, মাত্র ৬ শতাংশের বিপরীতে ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হতে চান না।

এই উত্তেজনার মধ্যে বুধবার ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎসফেল্ট ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

এছাড়া, শুক্রবার ডেনমার্ক সফরে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস এবং রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসসহ যুক্তরাষ্ট্রের এক দ্বিদলীয় কংগ্রেস প্রতিনিধিদল।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

টিকটকে অভিবাসী আটকের ভিডিওঃ মানবাধিকার প্রশ্নে তীব্র সমালোচনার মুখে ব্রিটিশ সরকার

অবৈধ অভিবাসীদের আটক ও ডিপোর্টেশনের দৃশ্য টিকটকে প্রকাশ করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস। সরকার বলছে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার ও ভুয়া তথ্য ঠেকাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী রাজনীতিকদের অভিযোগ, এ ধরনের ভিডিও নিষ্ঠুরতা প্রদর্শনের পাশাপাশি অভিবাসন সংকটকে ‘সস্তা বিনোদনে’ পরিণত করছে।

 

মঙ্গলবার হোম অফিস ‘@SecureBordersUK’ নামে একটি নতুন টিকটক অ্যাকাউন্ট চালু করে। সেখানে ড্রামাটিক সংগীতের সঙ্গে হাতকড়া পরানো ব্যক্তিদের বিমানে তোলার দৃশ্য প্রকাশ করা হয়। ভিডিওর শেষ অংশে লেখা হয়, “This is just the beginning” (এটি কেবল শুরু)। এমন বার্তা সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দেয়।

মানবাধিকার সংস্থা ফ্রিডম ফ্রম টর্চার–এর কর্মকর্তা সাইল রেনল্ডস সরকারের এই পদক্ষেপকে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন। তার মতে, অভিবাসন অভিযানকে এভাবে দৃশ্যমান করে সরকার জনমনে ভীতি তৈরি করতে চাইছে এবং সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছে। রিফিউজি কাউন্সিলও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, যারা যুদ্ধ, নির্যাতন বা দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে ব্রিটেনে আসেন, তাদের সমস্যার সমাধান টিকটক ভিডিও দিয়ে সম্ভব নয়।

হোম অফিস অবশ্য সমালোচনা নাকচ করে বলেছে, তাদের লক্ষ্য অবৈধ অভিবাসন ঘিরে প্রচলিত ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে বাস্তব বার্তা দেওয়া। দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অবৈধভাবে কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে রেকর্ডসংখ্যক অভিযান চালানো হয়েছে। গত বছর প্রায় ৯ হাজার মানুষকে আটক করা হয় এবং এক হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই এবং সরকার এই বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিলপ এই উদ্যোগকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করা যাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ একটি জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়। টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে অভিযানভিত্তিক ভিডিও প্রচার জনসচেতনতা বাড়াতে পারে—সরকারের এমন দাবি থাকলেও, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিগত সমাধান ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

জানুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাজ্যে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা, সতর্ক মেট অফিস

জানুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাজ্য ও ওয়েলসে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন একাধিক আবহাওয়া পূর্বাভাসকারী। মেট অফিসসহ বিভিন্ন সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে ইঙ্গিত মিলেছে, মাসের শেষভাগে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে এবং কিছু অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ শীতকালীন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

 

আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিমে নিম্নচাপ এবং উত্তর-পূর্বে উচ্চচাপ অবস্থান করতে পারে। এই আবহাওয়াগত বিন্যাসের ফলে দেশজুড়ে ঠান্ডা বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে, যা শীতকালীন আবহাওয়াকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

কিছু অনলাইন পূর্বাভাসকারী জানিয়েছেন, সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে অত্যন্ত ঠান্ডা বাতাস ইউরোপ হয়ে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাতে পারে। তাদের ভাষায়, এমন পরিস্থিতি খুব কমই দেখা যায় এবং এটি হলে দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিক ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।

একাধিক আবহাওয়া মডেলের বিশ্লেষণ তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূর্বাভাসকারীরা সতর্ক করেছেন, সম্ভাব্য ‘বিস্ট ফ্রম দ্য ইস্ট’ পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্যাপক তুষারপাত এবং তীব্র ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। কেউ কেউ একে আসন্ন ‘বিগ ফ্রিজ’-এর সম্ভাবনা বলেও উল্লেখ করেছেন।

তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাসের তুলনায় কম নির্ভরযোগ্য। এগুলো বিভিন্ন মডেলের সম্ভাব্য হিসাবের ওপর নির্ভর করে তৈরি হয় এবং নির্দিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

মেট অফিসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৭ জানুয়ারির মধ্যে ধীরে ধীরে ঠান্ডা বাড়ার প্রবণতা বেশি থাকবে, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে। শুরুতে শীতকালীন বৃষ্টি বা তুষারপাত মূলত পাহাড়ি এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিচু এলাকাতেও এর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

২৮ জানুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে আবহাওয়া পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ধীরগতির হতে পারে বলে জানিয়েছে মেট অফিস। এই সময়ে পশ্চিম বা দক্ষিণ-পশ্চিমে নিম্নচাপ এবং উত্তর-পূর্বে উচ্চচাপের কারণে দেশের বিভিন্ন অংশে তীব্র শীত ও শীতজনিত ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

তবে পূর্বাভাসের শেষদিকে তাপমাত্রা আবার ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের কাছাকাছি ফিরে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যদিও বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত।

সূত্রঃ ওয়েলস অনলাইন

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ম্যাকাবি তেলআবিব ইস্যুতে চাপে যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ

ম্যাকাবি তেল আবিব ফুটবল ক্লাবের সমর্থকদের বার্মিংহামে একটি ম্যাচে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা আসছে। পুলিশের কাজ তদারককারী সংস্থা হিজ ম্যাজেস্টিস ইনস্পেক্টরেট অব কনস্ট্যাবুলারি (HMIC)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হবে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় একাধিক গুরুতর ভুল করেছে পুলিশ।

 

এই তদন্তের নির্দেশ দেন যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। তদন্ত প্রতিবেদনটি ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের ওপর চাপ আরও বাড়াবে এবং বাহিনীর প্রধান কনস্টেবল ক্রেইগ গিল্ডফোর্ডের অবস্থান দুর্বল করবে। যদিও তিনি সম্প্রতি সংসদ সদস্যদের সামনে দাবি করেছিলেন, তার বাহিনী সবকিছু সঠিক নিয়মেই করেছে।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের বক্তব্য ছিল, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বার্মিংহামের ভিলা পার্কে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ম্যাচে ম্যাকাবি তেল আবিবের সমর্থকদের উপস্থিতিতে তারা আপত্তি করেনি। তবে সিদ্ধান্ত বদলায় তখনই, যখন ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আমস্টারডামে ম্যাকাবির ম্যাচ ঘিরে ডাচ পুলিশের অভিজ্ঞতার বিষয়ে তারা তথ্য পায়।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ডাচ পুলিশ তাদের জানিয়েছিল যে ওই সহিংসতায় ম্যাকাবি সমর্থকেরাই ছিল মূল অপরাধী। কিন্তু এই দাবি ডাচ পুলিশ এবং অন্যান্য পক্ষ সরাসরি অস্বীকার করেছে। HMIC-এর তদন্তে উঠে এসেছে, ডাচ পুলিশের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের উপস্থাপিত তথ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ ম্যাচের আগে স্থানীয় সেফটি অ্যাডভাইসরি গ্রুপকে একটি প্রতিবেদন দেয়, যার ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত সমর্থকদের নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রতিবেদনে ম্যাকাবি সমর্থকদের আচরণ ও দায় বাস্তব তথ্যের তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তদন্তের সময় HMIC ডাচ পুলিশের সঙ্গে কথা বলে। ডাচ পুলিশ জানায়, সহিংসতার সময় ‘ম্যাকাবি সমর্থকেরা মানুষকে নদীতে ফেলে দিয়েছিল’—এমন দাবি সঠিক নয়। বাস্তবে একজন মাত্র সমর্থক পানিতে পড়ে যান, যা ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের প্রতিবেদনে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বুধবার হাউস অব কমন্সে এই তদন্তের সমালোচনামূলক ফলাফল সংসদ সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করবেন। তিনি বর্তমানে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের প্রধান কনস্টেবলের ওপর তার আস্থা রয়েছে কি না। তবে তাকে বরখাস্ত করার কোনো সরাসরি ক্ষমতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নেই।

ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের পুলিশ অ্যান্ড ক্রাইম কমিশনার সাইমন ফস্টারই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি চাইলে প্রধান কনস্টেবলকে অপসারণ করতে পারেন। এর আগে তিনি গিল্ডফোর্ডের নেতৃত্বে বাহিনীর কর্মদক্ষতা ও জনসেবার মান উন্নয়নের প্রশংসা করেছিলেন।

হোম অফিস জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী HMIC-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছেন এবং বিষয়টি নিয়ে সংসদে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবেন। এদিকে আমস্টারডাম পুলিশও নিশ্চিত করেছে, তারা তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছে এবং আশা করছে সেগুলো চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে