Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী পরিবারকে উচ্ছেদে মামলাঃ অনুচ্ছেদ ৮ ঘিরে ফের বিতর্ক

যুক্তরাজ্যের রিডিং শহরের একটি অবসরপ্রাপ্তদের জন্য নির্ধারিত আবাসনে অনুমতি ছাড়া পরিবারসহ বসবাস করানোর ঘটনায় আদালতে গড়িয়েছে একটি মামলা। বাংলাদেশি অভিবাসী শাহিদুল হক দাবি করেছেন, তাকে ও তার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হলে তা ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী তার পারিবারিক জীবনের অধিকারের লঙ্ঘন হবে।

 

৫৯ বছর বয়সী শাহিদুল হক ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ডেভিড স্মিথ কোর্ট নামের ওই আবাসনে ওঠেন, যা কেবল ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য বরাদ্দ। মাত্র পাঁচ মাস পর তিনি কোনো অনুমতি না নিয়েই তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা মনি এবং তিন বছর বয়সী যমজ কন্যাদের সেখানে এনে বসবাস শুরু করান।

আবাসন মালিক সংস্থা সাউদার্ন হাউজিং জানায়, শাহিদুল হক ভাড়াটিয়া চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছেন। এ কারণে ফ্ল্যাটটির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য সংস্থাটি রিডিং কাউন্টি কোর্টে মামলা দায়ের করেছে।

শাহিদুল হকের দাবি, তিনি ইংরেজি পড়তে ও বুঝতে না পারায় চুক্তিতে পরিবারসহ বসবাস নিষিদ্ধ—এ বিষয়টি তিনি জানতেন না। তিনি বলেন, চুক্তিপত্র তার মাতৃভাষায় অনুবাদ করা হয়নি এবং কোনো দোভাষীর সহায়তাও দেওয়া হয়নি।

এদিকে আবাসনের বয়স্ক বাসিন্দারা পরিবারটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত শব্দ ও অসামাজিক আচরণের অভিযোগ করে আসছেন। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৩৯ দিনে বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গভীর রাতে চিৎকার, কান্না, দরজা আছড়ে বন্ধ করা এবং শিশুদের দৌড়াদৌড়ির কারণে নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে।

একাধিক ঘটনায় রাত ১টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা ৩০ মিনিটের মধ্যেও শব্দের অভিযোগ করা হয়েছে।
আদালতের নথিতে আরও বলা হয়, শিশুদের দ্বারা জরুরি সহায়তা কর্ড এক দিনে নয়বার এবং আরেক দিনে চারবার টেনে সক্রিয় করা হয়েছে, যা বয়স্ক বাসিন্দাদের জরুরি সেবার জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ফ্ল্যাটের দেয়ালে ক্রেয়ন দিয়ে আঁকিবুঁকি করার অভিযোগও রয়েছে।

সাউদার্ন হাউজিংয়ের পক্ষে আইনজীবী জ্যারেড নরম্যান বলেন, সমস্যা ভাড়াটিয়ার শারীরিক অবস্থা নয়, বরং এই আবাসন পরিবারসহ বসবাসের জন্য উপযুক্ত নয়। তিনি বলেন, অন্য বাসিন্দাদের ভোগান্তির বিনিময়ে একটি পরিবারকে সেখানে থাকতে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না।

অন্যদিকে শাহিদুল হকের পক্ষে আইনজীবী ইসাবেল বার্টশিঙ্গার বলেন, উচ্ছেদ হলে তার মক্কেলের স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক জীবনে গুরুতর ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব পড়বে। তিনি জানান, পরিবারটি স্বল্প আয়ের এবং উচ্ছেদ হলে তারা গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

২০২৪ সালের আগস্টে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে ফ্ল্যাটের দখল হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়নি এবং মামলাটি মুলতবি করা হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মামলার পরবর্তী শুনানি চলতি বছরের ৫ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাজ্যে ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৮ কীভাবে আদালতে প্রয়োগ করা হচ্ছে—তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে সামাজিক আবাসন ও মানবাধিকার সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে।

সূত্রঃ দ্য ডেইলি মেইল

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ফিলিস্তিনি যুবকের দীর্ঘ সাত বছর অনিশ্চয়তার পর যুক্তরাজ্যে নিরাপদ জীবন

ইসরায়েলের একজন ফিলিস্তিনি নাগরিককে যুক্তরাজ্যে শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জেমস ক্লেভারলির হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও, আদালতের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর হাসান অবশেষে নিরাপদে যুক্তরাজ্যে থাকতে পারবেন।

২৬ বছর বয়সী হাসান (যাকে আদালতের নির্দেশে নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না) যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়া ইসরায়েলি পাসপোর্টধারী প্রথম ফিলিস্তিনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত আসতে হোম অফিসকে দুইবার অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়।
হাসান ইসরায়েলে জন্মগ্রহণ করলেও জীবনের প্রায় পুরো সময় যুক্তরাজ্যে তার মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে কাটিয়েছেন।

তিনি আশ্রয় আবেদন করেন এই যুক্তিতে যে, ইসরায়েলে ফেরত গেলে তিনি নির্যাতনের শিকার হবেন, কারণ তিনি যুক্তরাজ্যে থাকাকালীন অনলাইনে ও সরাসরি ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া একজন ফিলিস্তিনি ও মুসলিম হওয়ায় সেখানে বৈষম্যের শিকার হবারও আশঙ্কা ছিল।

প্রাথমিকভাবে তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে ১১ মার্চ ২০২৪, ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালের শুনানির ঠিক আগের দিন, তাকে জানানো হয় যে নিরাপত্তা যাচাই সাপেক্ষে তাকে শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হবে। কিন্তু মিডিয়া রিপোর্টের পর, স্বরাষ্ট্র সচিব জেমস ক্লেভারলির হস্তক্ষেপে হোম অফিস সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে।

JCWI-এর সহায়তায় হাসান বিচারিক রিভিউ চালান। হোম অফিসের আপিল বাতিল হওয়ার পর বড়দিনের আগে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয় মর্যাদা দেওয়া হয়। হাসান জানান, সাত বছরের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তিনি কাজ করা, পড়াশোনা এবং বাসা ভাড়া নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এছাড়া তাকে তার কমিউনিটি থেকে জোরপূর্বক ইসরায়েলে পাঠানোর হুমকি সহ্য করতে হয়েছে।

জুডিশিয়াল রিভিউতে প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, ১১ মার্চ ২০২৪-এর সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল—ইসরায়েলে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কাঠামোগত বৈষম্য, জোরপূর্বক উচ্ছেদ, অধিকার সীমাবদ্ধতা এবং সমাজ থেকে বঞ্চনার “প্রচুর প্রমাণ” রয়েছে।
হাসানের সলিসিটর তাহের গুলামহুসেইন বলেন, “তিনজন হোম অফিস কর্মকর্তাই একমত ছিলেন যে হাসান একজন শরণার্থী এবং ইসরায়েলের হাতে নির্যাতনের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

কিন্তু স্বরাষ্ট্র সচিব এবং হোম অফিস অযথা সরকারি অর্থ ব্যয় করে এই স্বীকৃতি অস্বীকার করার চেষ্টা করেছে।”

JCWI-এর মুখপাত্র সিমা সাইদা বলেন, সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে—ইসরায়েল কি স্বরাষ্ট্র সচিবের ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছিল। হাসান এখন ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা চালাচ্ছেন এবং তার ই-ভিসা পেতে বিলম্বের কারণে হতাশ।

এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের শরণার্থী আইন ও বিচারব্যবস্থা কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কার্যকর হলেও, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব শরণার্থীদের জীবনে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে রিফর্ম ইউকের উত্থানে শঙ্কিত ব্রাসেলস, চুক্তি রক্ষায় ‘সেফটি প্রোভিশন’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য চুক্তিতে নতুন একটি শর্ত যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে ব্রাসেলস, যা অনানুষ্ঠানিকভাবে “ফ্যারাজ ক্লজ” নামে পরিচিত হচ্ছে। এই ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো—ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের কোনো সরকার যেন সহজে এই চুক্তি বাতিল বা প্রত্যাহার করতে না পারে।

 

ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ধারায় উল্লেখ থাকবে যে যুক্তরাজ্য যদি সম্ভাব্য একটি ভেটেরিনারি বা পশুস্বাস্থ্য সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করে, তাহলে তাকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই ক্ষতিপূরণের আওতায় সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইইউ কূটনীতিকরা এই প্রস্তাবকে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্কের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য একটি “সেফটি প্রোভিশন” হিসেবে দেখছেন।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে নাইজেল ফ্যারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ব্রাসেলস আশঙ্কা করছে—বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কোনো চুক্তি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে বাতিল হয়ে যেতে পারে।

লেবার নেতা কেয়ার স্টারমার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বাণিজ্যিক বাধা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ভেটেরিনারি চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যের খাদ্য ও পানীয় রপ্তানি প্রায় ২২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

তবে এই চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধিতা স্পষ্ট। রিফর্ম ইউকে এবং কনজারভেটিভ পার্টি—উভয় দলই ক্ষমতায় এলে এই ধরনের চুক্তি বাতিলের অঙ্গীকার করেছে। নাইজেল ফ্যারাজের দাবি, প্রস্তাবিত চুক্তি যুক্তরাজ্যের সংসদীয় সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করবে।

একই সুরে কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক বলেছেন, ইউরোপীয় আদালতের অধীনতা মেনে নেওয়া কোনো চুক্তি তিনি গ্রহণ করবেন না। তার মতে, এতে ব্রিটেনের আইনগত স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইন চলতি বছরের শেষ নাগাদ পাস করানোর লক্ষ্য রয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, যুক্তরাজ্য–ইইউর এই নতুন বাণিজ্যিক ব্যবস্থা ২০২৭ সালের শুরু অথবা মাঝামাঝি সময়ে কার্যকর হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং ভবিষ্যৎ ব্রিটিশ রাজনীতির গতিপথ নিয়েও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত বার্তা বহন করছে।

সূত্রঃ ভ্যালি টাইমস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে কিশোরের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল হ্যালিফ্যাক্স, বিস্তারিত জানাতে অনীহা

যুক্তরাজ্যে কোনো স্পষ্ট কারণ না জানিয়েই একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হ্যালিফ্যাক্স ব্যাংক ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা তার বাবা জানতে পারেন কোনো পূর্ব সতর্কতা বা নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই।

 

ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছেলেটির অ্যাকাউন্ট তাদের শর্ত ও নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়নি। তবে কী ধরনের অনিয়মের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানায় কর্তৃপক্ষ। শুধু বলা হয়, ব্যাংকের ফ্রড টিম বিষয়টি তদন্ত করে অ্যাকাউন্ট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভুক্তভোগী বাবা জানিয়েছেন, তার ছেলে অনলাইনে কেনাকাটার সময় কয়েকটি লেনদেনে সমস্যার মুখে পড়ে। পণ্য হাতে না পাওয়ায় সে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়। বাবার আশঙ্কা, এই অভিযোগ প্রক্রিয়াকেই ব্যাংক ‘সন্দেহজনক কার্যক্রম’ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

এই ঘটনার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো—এর প্রভাব ছেলেটির ভবিষ্যৎ আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর পড়বে কি না। বিশেষ করে তার নামে কোনো নেতিবাচক রেকর্ড তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে পরিবার দুশ্চিন্তায় রয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন Which?-এর মানি এডিটর জেনি রস বলেন, যদি ব্যাংক ছেলেটির নামে একটি CIFAS মার্কার দিয়ে থাকে, তাহলে তা ভবিষ্যতে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ঋণ নেওয়া কিংবা ইন্স্যুরেন্স করাকে কঠিন করে তুলতে পারে। এ ধরনের মার্কার সর্বোচ্চ ছয় বছর পর্যন্ত রেকর্ডে থাকতে পারে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ব্যাংক গ্রাহককে সরাসরি না জানিয়েই এই ধরনের মার্কার দিতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনেক সময় বুঝতেই পারেন না কেন বিভিন্ন আর্থিক সেবায় তিনি বারবার প্রত্যাখ্যাত হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত CIFAS-এর কাছে একটি ডেটা সাবজেক্ট অ্যাক্সেস রিকোয়েস্ট (DSAR) করা। এর মাধ্যমে জানা যাবে আদৌ কোনো মার্কার দেওয়া হয়েছে কি না। যদি তা দেওয়া হয়ে থাকে এবং সেটি অন্যায় মনে হয়, তাহলে ব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানাতে হবে।

ব্যাংক যদি আট সপ্তাহের মধ্যে সন্তোষজনক সমাধান না দেয়, তাহলে বিষয়টি ফাইন্যান্সিয়াল ওমবাডসম্যান সার্ভিসে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যেহেতু সংশ্লিষ্ট কিশোরের বয়স ১৮ বছরের নিচে, তাই তার বাবা-মা তার পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।

হ্যালিফ্যাক্স জানিয়েছে, কিশোরটি চাইলে ব্যাংকের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। পাশাপাশি, অন্য কোনো ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প বয়সে এমন অভিজ্ঞতা মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং সময়মতো আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

তিন দেশে মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখাকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা ট্রাম্পের

বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান গ্রহণের অংশ হিসেবে মিশর, জর্ডান এবং লেবাননের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখাকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত নভেম্বরে এই গোষ্ঠীগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করার যে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, তার কয়েক সপ্তাহ পরই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলো। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের ফলে সংগঠনগুলোর আর্থিক লেনদেন বন্ধ হওয়াসহ এদের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হলো।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, মুসলিম ব্রাদারহুডের মিশর ও জর্ডান শাখাকে সাধারণ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে লেবাননের শাখাটিকে আরও কঠোর আইনি পরিভাষা ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ বা এফটিও (FTO) হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা মুসলিম ব্রাদারহুডের সহিংসতা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টাকে বৈশ্বিকভাবে প্রতিহত করার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। রুবিও জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত হওয়া বা সমর্থন দেওয়ার অপরাধে এই গোষ্ঠীগুলোকে যাবতীয় সম্পদ থেকে বঞ্চিত করতে আমেরিকা তার হাতে থাকা সব ধরনের উপায় ও ক্ষমতা ব্যবহার করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে এই তিন সংগঠনের জন্য যেকোনো ধরনের বস্তুগত বা আর্থিক সহায়তা প্রদান এখন থেকে মার্কিন আইনে অবৈধ বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে সংগঠনগুলোর বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া বা দেশটিতে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এছাড়া তাদের বিদ্যমান রাজস্ব প্রবাহ বন্ধ করতে এবং বিশ্বজুড়ে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করতে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার মিত্রদের পাশাপাশি এই রাজনৈতিক-ধর্মীয় সংগঠনগুলোর প্রভাব খর্ব করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এমন আক্রমণাত্মক নীতি গ্রহণ করেছে।

১৯২৮ সালে মিশরীয় ইসলামি পণ্ডিত হাসান আল-বান্নার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম ব্রাদারহুড মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী সংগঠন। সংগঠনটির বিভিন্ন শাখা আরব বিশ্বের দেশগুলোতে দীর্ঘকাল ধরে সক্রিয় রয়েছে এবং তারা সবসময়ই দাবি করে আসছে যে তারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সংগঠনটিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের চার ক্রিকেটারকে ভিসা দেয়নি ভারত

ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-২০ বিশ্বকাপের আর তিন সপ্তাহ বাকি আছে। ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্ট উদ্বোধনের দিন স্বাগতিক ভারত মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্রের। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক টি-২০ দলে জায়গা পাওয়া চার পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারকে ভিসা দেয়নি ভারত।

 

ভারতের সংবাদ মাধ্যম ওয়ান ক্রিকেট জানিয়েছে, ভারতের ভিসা না পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের চার ক্রিকেটার হলেন- পেসার আলী খান, উইকেটরক্ষক ব্যাটার শায়ান জাহাঙ্গীর, মিডিয়াম পেসার ইশান আদিল ও লেগ স্পিনার মোহাম্মদ মহসিন।

পেসার আলী খান নিজের ইনস্টাগ্রামে এক পোস্ট দিয়ে ভিসা না পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে। ভিসা না পাওয়ায় তাদের ভারতে বিশ্বকাপে খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলা পেসার আলী খান এর আগে কলকাতার হয়ে আইপিএল খেলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটারদের ভিসা না পাওয়ার প্রেক্ষিতে আইসিসি কিংবা ইউএসএ ক্রিকেটের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। তবে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটাররা ভারতে বিশ্বকাপ খেলার অনুমতি না পেলে বেশ কিছু দেশ বিপাকে পড়বে।

যেমন প্রথমবার টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইতালি দলে বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার আছেন। জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। নেদারল্যান্ডস দলেও একাধিক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার আছেন।

সূত্রঃ ওয়ান ক্রিকেট

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ডিজিটাল আইডি বাধ্যতামূলক নয়ঃ কাজের অধিকার প্রমাণে পিছু হটল যুক্তরাজ্য সরকার

প্রস্তাবিত ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ থেকে সরে এসেছে যুক্তরাজ্য সরকার। এর ফলে কর্মক্ষম বয়সী মানুষের জন্য ডিজিটাল আইডি আর বাধ্যতামূলক থাকছে না। কাজ করার আইনগত অধিকার প্রমাণে কর্মীরা ডিজিটাল আইডির পাশাপাশি অন্যান্য পরিচয়পত্রও ব্যবহার করতে পারবেন।

 

গত সেপ্টেম্বর ঘোষিত পরিকল্পনায় ডিজিটাল আইডিকে স্বেচ্ছাসেবী বলা হলেও কাজের অধিকার যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এটিই একমাত্র বাধ্যতামূলক উপাদান ছিল। সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ায় সরকার কার্যত পরিকল্পনাটির সবচেয়ে বিতর্কিত অংশে পরিবর্তন আনল, যদিও কর্মকর্তারা একে নীতিগত ‘ইউ-টার্ন’ হিসেবে মানতে নারাজ।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিগগির শুরু হতে যাওয়া পূর্ণাঙ্গ জনপরামর্শের আগে ব্যবস্থাটি কীভাবে কাজ করবে, তা আরও বাস্তবসম্মত করতে এই সংশোধন আনা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসা কর ও কৃষকদের উত্তরাধিকার কর ইস্যুর পর এটি সরকারের আরেকটি নীতিগত পিছু হটার দৃষ্টান্ত।

২০২৯ সালের মধ্যে ডিজিটাল আইডি চালুর ঘোষণা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, অবৈধভাবে কাজ করা ঠেকাতে এটি হবে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। তিনি দাবি করেছিলেন, ডিজিটাল আইডি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং অবৈধ কর্মসংস্থান কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংশোধিত পরিকল্পনায় নাগরিকদের পরিচয় এখনো ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাই করতে হবে, তবে তার জন্য নতুন কোনো আলাদা ডিজিটাল আইডি বাধ্যতামূলক নয়। পাসপোর্ট বা বিদ্যমান ই-ভিসার মতো নথি ব্যবহার করেই ডিজিটাল যাচাই করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো—যারা ডিজিটাল আইডি ব্যবহার করতে চান, তাদের সে সুযোগ দেওয়া এবং একই সঙ্গে কার্যত বাধ্যতামূলক পরিচয়পত্র চালু করার বিতর্ক এড়ানো। এতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জনমনে ছড়ানো আশঙ্কা ও সমালোচনা কমবে বলেও সরকারের ধারণা।

সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, কাজের অধিকার যাচাইয়ে ডিজিটাল পদ্ধতি বাধ্যতামূলক রাখার প্রতিশ্রুতি বহাল আছে। তবে ডিজিটাল আইডি ব্যবস্থার চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে আসন্ন জনপরামর্শ শেষে। তার মতে, এই উদ্যোগ সরকারি সেবাকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করবে, একই সঙ্গে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক থাকবে।

তবে বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি এই সিদ্ধান্তকে সরকারের “আরেকটি লজ্জাজনক ইউ-টার্ন” বলে সমালোচনা করেছে। শ্যাডো ক্যাবিনেট অফিস মন্ত্রী মাইক উড বলেন, অবৈধ কাজ ঠেকানোর নামে যে কঠোর নীতির কথা বলা হয়েছিল, তা এখন ব্যাকবেঞ্চ চাপের মুখে ভেঙে পড়ছে।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকেও তীব্র সমালোচনা এসেছে। দলটির ক্যাবিনেট অফিসবিষয়ক মুখপাত্র লিসা স্মার্ট বলেন, শুরু থেকেই এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার জন্যই তৈরি ছিল এবং এতে করদাতাদের বিপুল অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা ছিল। তার দাবি, ডিজিটাল আইডি প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ এখন এনএইচএস ও সামনের সারির পুলিশিং খাতে ব্যয় করা উচিত।

সরকারি এক সূত্র জানিয়েছে, সংশোধিত পরিকল্পনা মূল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণই থাকবে। নতুন ব্যবস্থায় কাগজপত্রের বদলে ডিজিটাল যাচাই জোরদার করা হবে, যাতে নিয়োগকর্তারা পাসপোর্ট বা ই-ভিসার মাধ্যমে কর্মীর কাজের যোগ্যতা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে যাচাই করতে পারেন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক যুক্তরাজ্য (UK)

গাজা যুদ্ধবিরতি তদারকিতে বিশ্বনেতাদের বোর্ডঃ প্রস্তাব পেয়েছেন কিয়ার স্টারমার

ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত গাজা ‘শান্তি বোর্ডে’ যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এই বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্টারমারকে বোর্ডে বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়নি, তবে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে—স্টারমার প্রস্তাবটি গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বোর্ডের চূড়ান্ত সদস্য তালিকা ও কাঠামো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এই শান্তি বোর্ডের মূল দায়িত্ব হবে সাময়িকভাবে গাজার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা তদারকি করা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটির পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করা। বোর্ডে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প চলতি সপ্তাহেই বোর্ডের সদস্যদের নাম ঘোষণা করতে পারেন।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে মতবিরোধ থাকলেও কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সম্পর্কই স্টারমারের জন্য বোর্ডে যুক্ত হওয়ার পথ সুগম করেছে।

শুরুতে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে এই বোর্ডে রাখার কথা ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাদ দেওয়া হয়। ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনে তার ভূমিকার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ব্লেয়ারের অংশগ্রহণে আপত্তি তোলে। এর ফলে তাকে নীরবে তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, শান্তি বোর্ড গঠনের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে এবং এতে অংশ নিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতারাই এই বোর্ডে থাকবেন।

মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারকে স্টারমারের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে তিনি জানান, গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনাকে যুক্তরাজ্য সমর্থন করেছে এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি ও হামাসের অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণসহ বড় পরিসরের কাজ এখনো বাকি রয়েছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে কিয়ার স্টারমারের ঘন ঘন বিদেশ সফর নিয়ে সমালোচনা উঠলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। লেবার পার্টির এমপিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে স্টারমার বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। তার মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিলে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

এবার ভারতের আরেকটি অঞ্চল দাবি করল চীন

অরুণাচল প্রদেশের পর এবার ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শাক্সগাম উপত্যকাকেও নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করল চীন।

বেইজিং নয়াদিল্লিকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওই অঞ্চল একান্তই চীনের, সেখানে তারা যা খুশি করতে পারে।

 

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) এক প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এই দাবি করেন।

পিটিআই তার কাছে শাক্সগাম ভ্যালিতে চীনের অবকাঠামো উন্নয়নের বৈধতা সম্পর্কে মতামত জানতে চায়।

জবাবে মাও নিং বলেন, আপনি যে ভূখণ্ডের কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি চীনের। শাক্সগাম উপত্যকায় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা চীনের জন্য ‘সম্পূর্ণভাবে ন্যায্য’, কারণ এটি তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড।

এসময় তিনি কাশ্মীরের শাক্সগাম উপত্যকা নিয়ে ভারতের সার্বভৌমত্বের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। বেইজিং স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, ‘শাক্সগাম উপত্যকা চীনের অংশ’ এবং সেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন চালানো তাদের বৈধ অধিকার।

এর আগে শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, শাক্সগাম উপত্যকা যেহেতু ‘ভারতের ভূখণ্ড’ তাই স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার নয়াদিল্লির আছে। এসময় তিনি জানান, ১৯৬৩ সালে চীন–পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে কখনও স্বীকৃতি দেয় না ভারত। দিল্লির মতে ওই চুক্তি অবৈধ ও বাতিল।

ভারতীয় মুখপাত্র আরও বলেন, নয়াদিল্লি চীন–পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি)-কেও স্বীকৃতি দেয় না।

জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ। এই অবস্থান পাকিস্তান ও চীনা কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

এর জবাবে চীনের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ১৯৬০-এর দশকে চীন ও পাকিস্তান একটি সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়। যা তিনি ‘দুটি সার্বভৌম দেশের অধিকার’ বলে উল্লেখ করেন।

সিপিইসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ, যার লক্ষ্য স্থানীয় সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নত করা।

চীন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি ও সিপিইসি কাশ্মীর ইস্যুতে চীনের অবস্থানকে প্রভাবিত করে না; এ বিষয়ে চীনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। তবে ২০২৪ সালে দুই দেশ হিমালয় অঞ্চলের সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় পৌঁছায়। ২০২০ সালে ওই সীমান্তে সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন এবং চীনের চারজন সেনা নিহত হয়। এবার নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে অরুনাচল ও কাশ্মীরে।

সূত্রঃ চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, টাইমস অব ইন্ডিয়া

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ডিপোজিট ছাড়াই ভাড়াটেদের জন্য বাড়ি কেনার সহজ উপায়

যুক্তরাজ্যে ভাড়াটেরা ডিপোজিট ছাড়া প্রথম বাড়ি কিনতে পারবে। সারাদেশে ‘রেন্ট-টু-ওন’ মর্টগেজ চালু হয়েছে। হ্যানলি ইকোনমিক বিল্ডিং সোসাইটির নতুন ‘রেন্ট-টু-ওন’ মর্টগেজ সারা যুক্তরাজ্যে চালু হয়েছে।

এই মর্টগেজের জন্য আবেদন করতে হলে ভাড়াটেদের বছরে ন্যূনতম আয় £২৫,০০০ হতে হবে। ঋণগ্রহীতারা সর্বোচ্চ £৩৫০,০০০ পর্যন্ত মর্টগেজ নিতে পারবেন। তবে শর্ত হচ্ছে, গত ১২ মাসে যে ভাড়া তারা নিয়মিত পরিশোধ করেছেন, তার প্রমাণ দেখাতে হবে।

শুন্য ডিপোজিট মর্টগেজের মাধ্যমে, বাড়ির পুরো মূল্যের ঋণ ল্যান্ডারের নিকট হতে নেওয়া যায়, ফলে রেন্টারদের অগ্রিম ডিপোজিট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। হ্যানলি ইন্টারমিডিয়ারি’স ‘রেন্ট-টু-ওন’ মর্টগেজের ৫ বছরের ফিক্সড রেট ৫.৭৯%, অর্থাৎ £২৫০,০০০ মর্টগেজের মাসিক কিস্তি প্রায় £১,৪০০।

ঋণগ্রহীতারা বছরে ১০% পর্যন্ত অতিরিক্ত কিস্তি দিতে পারবেন, যা তাদের বাড়িতে ইক্যুইটি গড়ে তুলতে এবং ঋণ দ্রুত পরিশোধ করতে সাহায্য করবে।

স্কিমটি শুরুতে স্টাফোর্ডশায়ারে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু হয়েছিল, বর্তমানে তা পুরো যুক্তরাজ্যে শুরু হয়েছে। আবেদন করতে হলে ব্রোকারের মাধ্যমে আবেদন করতে হয় বলে জানিয়েছে হ্যানলি।

২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার আগে হাই স্ট্রিট লেন্ডাররা শুন্য ডিপোজিট মর্টগেজ দিত, তবে নীতিমালা পরিবর্তনের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি কিছু লেন্ডার আবার এগুলো দিচ্ছে, কারণ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে এবং রেন্টাররা ডিপোজিট জমা করতে পারছে না।

সরকারও যারা প্রথমবার বাড়ি কিনতে চাইছেন তাদের জন্য বিভিন্ন স্কিম চালু করেছে। যেমন, ট্যাক্স-ফ্রি সেভিংস অ্যাকাউন্টে প্রতি £২০০ সঞ্চয়ের জন্য সরকার £৫০ বোনাস যোগ করে। নতুন আবেদনকারীদের জন্য এটি বন্ধ হলেও যাদের আগে থেকেই অ্যাকাউন্টে আছে তারা ২০২৯ সাল পর্যন্ত এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

আরেকটি স্কিমে ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সীরা বছরে £৪,০০০ পর্যন্ত সঞ্চয় করতে পারবেন এবং সরকার ২৫% বোনাস যোগ করবে, যা সর্বাধিক £৩২,০০০ পর্যন্ত প্রথম বাড়ির কেনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে অংশ-অধিকার (co-own) পদ্ধতিতেও মানুষ বাড়ির মালিক হতে পারবে। যেখানে একটি অংশ কিনতে পারবে এবং বাকি অংশের জন্য ভাড়া দিতে হবে। ২৫% থেকে ৭৫% পর্যন্ত অংশ কেনা সম্ভব, তবে নির্দিষ্ট প্রপার্টির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে