Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে নারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে এইচআইভি(HIV) সংক্রমণ করায় ডেভিসকে ৪.৫ বছরের কারাদণ্ড

নারীকে অবহেলাপূর্ণভাবে এইচআইভি সংক্রমণ করায় কিডারমিনস্টারের ৩১ বছর বয়সী লুক ডেভিসকে চার বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হেরেফোর্ড ক্রাউন কোর্টে সোমবার তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

ডেভিস তার এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে কোনো তথ্য জানাননি এবং তিনি দীর্ঘ সময় চিকিৎসা বন্ধ রেখেছিলেন। মামলায় জানা যায়, সংক্রমণের সময়ে নারীটি কেবল ডেভিসের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক রেখেছিলেন। ২০২১ সালে রুটিন স্ক্রিনিংয়ে ভুক্তভোগী নিজে এইচআইভি পজিটিভ হন।

ভুক্তভোগী আদালতে পাঠানো বিবৃতিতে বলেছেন, “ডায়াগনোসিসের পর আমি অসুস্থ বোধ করেছিলাম। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার সময়। আমি নিজেকে ভালোবাসতে কষ্ট পাই কারণ মনে হয় এই রোগ চিরকাল আমার সঙ্গে থাকবে।”

ডেভিস ২০১৭ সালের আগস্টে এইচআইভি পজিটিভ হন এবং পরের জানুয়ারিতে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসকরা তাকে প্রতিদিন ঔষধ নেওয়ার গুরুত্ব এবং ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সংক্রমণ রোধ করার পরামর্শ দেন। কিন্তু তিনি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর ক্লিনিকে যাননি এবং ২০১৯ সালে ঔষধ নেওয়া বন্ধ করেন। পরবর্তীতে ডায়াগনোসিস নিশ্চিত করে ভুক্তভোগীকে সংক্রমিত করেছেন ডেভিস, একই স্ট্রেনের এইচআইভি দ্বারা।

বিচারক মার্টিন জ্যাকসন বলেছেন, “যিনি অন্যকে জানাতে চান না যে তিনি এইচআইভি বহন করছেন এবং যিনি অংশীদারদের জানানো নিয়ে পরামর্শ উপেক্ষা করেন, তিনি এটি পরিকল্পিতভাবে করেছেন। ভুক্তভোগীকে এখন এই ভাইরাসের সম্ভাব্য মারাত্মক প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে।”

সিআরএস-এর জিওভানী ডি’আলেসান্দ্রো বলেন, “ডেভিস একজন স্বার্থপর ব্যক্তি। তিনি যথাযথ ঔষধ নিতেন এবং নিয়মিত পরীক্ষা করতেন। তবুও তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুক্তভোগীকে জানান নাই তার রোগ সম্পর্কে এবং সংক্রমণ ঘটিয়েছেন।”

ডেভিসের মায়ের লিখিত আদালতের বক্তব্যে বলা হয়েছে, “জীবন তার প্রতি দয়ালু ছিল না—২০১৭ সালে তার ১৩ মাসের শিশুর মৃত্যু হয়, ২০২০ সালে কোভিডে তার দাদুর মৃত্যু হয়। মানসিক আঘাত তাকে এমন পথে নিয়ে গিয়েছে।”

ওয়েস্ট মেরসিয়া পুলিশের ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট জেরাল্ড স্মিথ বলেন, “সাজা ভুক্তভোগীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভুক্তভোগীর সাহস প্রশংসার যোগ্য, যিনি পুলিশকে রিপোর্ট করেছেন এবং জটিল ও সংবেদনশীল তদন্ত চলাকালে অসাধারণ সাহস দেখিয়েছেন।”

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে স্কুলে মুসলিম শিশুদের নামাজ পড়া নিয়ে মন্তব্যে বিতর্কঃ রাজনৈতিক উত্তেজনা

রিফর্ম ইউকের সিনিয়র কাউন্সিলর কার্ল অ্যাবট মুসলিম প্রার্থনা নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, “আমি উদ্বিগ্ন শিশুদের প্রাইমারি স্কুলে মুসলিম প্রার্থনার পদ্ধতি শেখানোর বিষয়ে।”

 

এই মন্তব্য তিনি লেইস্টারশায়ার কাউন্টি কাউন্সিলের অভ্যন্তরীণ প্রিভেন্ট (সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ) ব্রিফিংয়ে করেছিলেন, যেখানে রাজনীতিবিদ ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত লেবার কাউন্টি কাউন্সিলর জুয়েল মিয়া বলেন, অ্যাবটের মন্তব্য পক্ষপাতমূলক এবং তিনি কার্ল অ্যাবটকে তার পদ থেকে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কাউন্সিলরের মন্তব্যগুলি সঠিক নয়, এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”

অ্যাবট বলেন, তিনি “ব্যক্তিগতভাবে এতে একমত নন” এবং নিজের মন্তব্যকে “উদ্বেগ প্রকাশ” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে জুয়েল মিয়া মন্তব্য করেন, মুসলিম প্রার্থনা শিখলে শিশুদের র‌্যাডিকালাইজেশনের সঙ্গে যুক্ত করে এমন কোনো প্রমাণ নেই।

বিরোধী ও অন্যান্য দলের কাউন্সিলররা অ্যাবটের মন্তব্যকে ইসলামফোবিক ও বিভাজক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

কনজারভেটিভ কাউন্টি কাউন্সিলের নেত্রী দেবোরাহ টেলর বলেন, “মুসলিম প্রার্থনার সঙ্গে চরমপন্থাকে যুক্ত করা অনুপযুক্ত এবং সরকারি দায়িত্বের বা মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় অ্যাবটের উক্তি।”

গ্রিন পার্টির কাউন্সিলর নাওমি বটমলি বলেন, “শিশুদের বিভিন্ন ধর্ম শেখানোকে ভয় পাওয়া বা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করা সম্পূর্ণভাবে ভুল ও বিপজ্জনক।”

রিফর্ম ইউকের মুখপাত্র বলেছে, অ্যাবট সঠিকভাবে তার উদ্বেগ তুলে ধরেছেন এবং ব্রিটেন খ্রিস্টান দেশ হিসেবে সংস্কৃতিগত পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য অ্যাবট কথা বলেছেন।

কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি বলে জানা যায়।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

নেপলস–এডিনবরা ফ্লাইটে যৌন নিপীড়ণের ঘটনাঃ ইতালীয় নাগরিক দোষী সাব্যস্ত

ইজি জেট ফ্লাইটে স্কটিশ এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টার দায়ে ৪৫ বছর বয়সী ইতালীয় নাগরিক নিকোলা ক্রিস্তিয়ানো দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ১৩ মে নেপলস থেকে এডিনবরা যাওয়ার রাতের ফ্লাইটে তিনি নিজের আসন পরিবর্তন করে ওই নারীর পাশে বসেন। আইনগত কারণে ওই নারীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। আদালতে জানানো হয়, ভুক্তভোগী ১৯৯৩ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং অ্যাবারডিনশায়ারের বাসিন্দা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ক্রিস্তিয়ানো নারীকে ওয়াইন দেওয়ার প্রস্তাবের পর জোরপূর্বক তার হাত ও মাথা নিজের উন্মুক্ত গোপনাঙ্গের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ভিডিও ও ফরেনসিক প্রমাণে দেখা গেছে, ভুক্তভোগীর গালে অভিযুক্তের বীর্যের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ক্রিস্তিয়ানো দাবি করেছিলেন, শুরুতে নারী সম্মতি দিয়েছিলেন, পরে মত পরিবর্তন করেন। তবে জুরি সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে ক্রিস্তিয়ানোকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতে এক সহযাত্রী ও কেবিন ক্রুর সাক্ষ্য বিষয়টি সমর্থন করেছে।

ঘটনার সময় ক্রিস্তিয়ানো নারীটিকে টয়লেটে যেতে ইশারা করেছিলেন। নারী প্রথমে যাবেন বলে রাজি হলেও সুযোগে কেবিন ক্রুকে ঘটনার তথ্য জানান। একজন কেবিন ক্রু বলেন, ভুক্তভোগী নারী দৃশ্যত অত্যন্ত বিচলিত ছিলেন।

ক্রিস্তিয়ানো সাক্ষ্যে স্বীকার করেন, তিনি ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে যৌন সংস্পর্শ করেছেন। তিনি বলেন, “সে আমাকে উসকে দিয়েছে। সে আমাকে উত্তেজিত করেছে।”

বিচারক অ্যালিসন স্টার্লিং জানিয়েছেন, এই মামলা ছিল কঠিন ও উদ্বেগজনক। স্কটিশ আইনি ব্যবস্থায় ‘নট প্রুভেন’ রায় বাতিল হওয়ায় নতুন ব্যবস্থার অধীনে এটি প্রথমবারের মতো রায়প্রদান হওয়া মামলার মধ্যে একটি। বিচারক বলেন, “আজ নতুন ব্যবস্থার অধীনে রায় দেওয়া হচ্ছে—আপনারা ইতিহাস গড়ার অংশীদার।”

ক্রিস্তিয়ানোকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং ৬ ফেব্রুয়ারি এডিনবরার হাইকোর্টে সাজা ঘোষণার আগে তার পটভূমি সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

এক বাসায় বহু পোস্টাল ব্যালট গণনার ভিডিও ভাইরালঃ তদন্ত ও ব্যবস্থা চায় বিএনপি

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালট নিয়ে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাসার ভেতরে কয়েকজন ব্যক্তি একসঙ্গে অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট গণনা করছেন।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

ভাইরাল হওয়া প্রধান ভিডিওটির দৈর্ঘ্য ৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ড। এতে পোস্টাল ব্যালটের খামের ওপর বাহরাইনের ঠিকানা লেখা দেখা যায়। ভিডিওতে কয়েকজনকে ব্যালট গুনতে দেখা গেলেও সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ফেসবুকে ভিডিও না ছড়ানোর অনুরোধ জানাতে শোনা যায়।

ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যায়, একাধিক ব্যক্তি ভিডিও করলে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এতে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। পাশাপাশি আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, এমন ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে বাহরাইনে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ফ্যাক্ট চেক বা যাচাই করে দেখা গেছে, আলোচিত ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নয়। অর্থাৎ ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার চিত্র ধারণ করছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদিকে একই ধরনের আরেকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যার দৈর্ঘ্য ২৭ সেকেন্ড। ওই ভিডিওতে অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট একসঙ্গে গণনা করতে দেখা যায়। জুনায়েন বিন সাদ নামের এক ব্যক্তি ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করে দাবি করেছেন, এটি ওমানে জামায়াতে ইসলামীর এক ব্যক্তির বাসার ভিডিও।

কিছু ব্যবহারকারী আবার দাবি করছেন, প্রথম ভিডিওটিও বাহরাইনে জামায়াতের একজন নেতার বাসায় ধারণ করা। তবে এসব দাবির বিষয়ে এখনো কোনো দলীয় বা সরকারি পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ আসেনি।

২৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে চট্টগ্রাম–৩ আসনের নাম উচ্চারিত হতে শোনা যায়। বিষয়টি জানতে চাইলে চট্টগ্রাম–৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, তারা রাতেই ভিডিওটির বিষয়ে অবগত হয়েছেন। তবে ভিডিওটি কোন দেশে ধারণ করা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ইস্যুতে শনিবার বিকেলে বিএনপির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়টি উত্থাপন করা হয়।

বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, বাহরাইনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতারা বহু পোস্টাল ব্যালট ‘হ্যান্ডেল’ করছেন—এমন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নজরে নিয়েছে এবং বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের আশ্বস্ত করেছে যে বিষয়টি তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ ভোটে কারচুপির চেষ্টা করলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার তালিকায় ব্লক দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। একইভাবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আগে আইন থাকলেও সুযোগ সীমিত ছিল। এবার ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট’ পদ্ধতি চালু করতে নির্বাচনী আইনে পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন।

ইসি সূত্র জানায়, ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ জন ভোটারের পোস্টাল ভোট নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার। বাকি নিবন্ধিতদের মধ্যে রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনী কর্মকর্তা, আনসার-ভিডিপির সদস্য এবং কারাবন্দীরা।

পোস্টাল ব্যালট ঘিরে সাম্প্রতিক ভিডিওগুলো প্রবাসী ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, যা আসন্ন নির্বাচনে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স-২০২৬ প্রকাশঃ ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স-২০২৬ সালের বৈশ্বিক পাসপোর্ট র্যাংকিং অনুযায়ী, পাঁচ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৫ নম্বরে। এই সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা এখন আগাম ভিসা ছাড়া বা ভিসা অন-অ্যারাইভাল ও ই-ভিসার মাধ্যমে মোট ৩৭টি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণ করতে পারবেন।

হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন তালিকায় বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণসুবিধা আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। আগের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০০ নম্বরে।

চলতি বছরের সূচকে শীর্ষ তিনটি পাসপোর্টই এশিয়ার দেশগুলোর দখলে। তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা বিশ্বের ২২৭টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ১৯২টিতে ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন। যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, যাদের নাগরিকরা ১৮৮টি দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ পান।

একই স্কোর পাওয়া দেশগুলোকে একই অবস্থানে রাখার নিয়ম অনুযায়ী, ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশ ও অঞ্চলে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পান। চতুর্থ স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ে—যাদের স্কোর ১৮৫। পঞ্চম স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), স্কোর ১৮৪।

হেনলি সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়া যেসব দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন, তার মধ্যে রয়েছে বাহামা, বার্বাডোজ, ভুটান, বলিভিয়া, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কেপ ভার্দ আইল্যান্ডস, কোমোরো আইল্যান্ডস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার ও মালদ্বীপ।

এছাড়া তালিকায় রয়েছে মাইক্রোনেশিয়া, মন্তসেররাত, মোজাম্বিক, নেপাল, নুউয়ে, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাউন, গাম্বিয়া, তিমুর, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, টুভ্যালু ও ভানুয়াতু।

তবে উল্লেখ্য, এসব দেশের মধ্যে কয়েকটিতে সরাসরি ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার থাকলেও কিছু দেশে বিমানবন্দরে পৌঁছে ভিসা (ভিসা অন-অ্যারাইভাল) নিতে হয়। আবার কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে আগাম ই-ভিসা আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হওয়া ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও আন্তর্জাতিক ভ্রমণসুবিধা বাড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও ভিসা উদারীকরণ নীতিতে আরও অগ্রগতি প্রয়োজন।

সূত্রঃ হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অবৈধ কাজে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অভিযানঃ ৭৭% বেড়েছে রেইড, গ্রেপ্তার বৃদ্ধি ৮৩%

যুক্তরাজ্যে অবৈধ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান ও গ্রেপ্তার ব্রিটিশ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। হোম অফিসের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট টিমের ধারাবাহিক অভিযানে সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সারা দেশে অভিযান বেড়েছে ৭৭ শতাংশ এবং গ্রেপ্তার বেড়েছে ৮৩ শতাংশ।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জুলাই ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে সারা যুক্তরাজ্যে ১৭ হাজার ৪০০–এর বেশি অভিযানে অন্তত ১২ হাজার ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নেইল বার, কার ওয়াশ, নাপিতের দোকান, টেকঅ্যাওয়ে শপসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান ছিল এসব অভিযানের মূল লক্ষ্য।

হোম অফিস জানায়, ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টকে গত বছর অতিরিক্ত ৫০ লাখ পাউন্ড তহবিল দেওয়ার ফলে এই বড় পরিসরের অভিযান সম্ভব হয়েছে। এই অর্থ অবৈধ কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমন এবং চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সরকারের মতে, অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে এই অভিযান অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের প্রলোভন বন্ধ করার কৌশলের অংশ। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের অধীনে ৫০ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে অপসারণ ও বহিষ্কার করা হয়েছে, যা আগের সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি।

এই উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘প্রাইড ইন প্লেস’ কর্মসূচির সঙ্গেও যুক্ত। ৫ বিলিয়ন পাউন্ড তহবিলের এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো হাই স্ট্রিট পুনরুজ্জীবিত করা, স্থানীয় পাড়া-মহল্লা শক্তিশালী করা এবং অবৈধ ও বিরক্তিকর ব্যবসা বন্ধে কমিউনিটিকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান প্রকাশের আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অভিবাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা দেন, যাতে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাজ্য কম আকর্ষণীয় হয় এবং যাদের এখানে থাকার অধিকার নেই, তাদের দ্রুত অপসারণ করা যায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, অবৈধ কাজের কোনো স্থান যুক্তরাজ্যের কমিউনিটিতে নেই। তিনি জানান, ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আইন প্রয়োগ জোরদার করা হয়েছে, যাতে কালোবাজার অর্থনীতিতে জড়িতদের লুকানোর কোনো সুযোগ না থাকে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে অভিযান সবচেয়ে বেশি ফল দিয়েছে লন্ডন, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস ও সাউথ ওয়েস্ট অঞ্চলে। লন্ডনে এক বছরে ২ হাজার ১০০–এর বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস ও সাউথ ওয়েস্টে গ্রেপ্তার বেড়েছে যথাক্রমে ৭৬ শতাংশ ও ৯১ শতাংশ।

সারা দেশে পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন জাতীয়তার নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুদাম, রেস্তোরাঁ, বাজার ও নির্মাণস্থলসহ নানা স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ কর্মীদের আটক করা হয় এবং অনেককে যুক্তরাজ্য থেকে অপসারণের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।

হোম অফিসের ইমিগ্রেশন, কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালক এডি মন্টগোমারি বলেন, অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে এই সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও অভিযান এখানেই শেষ হবে না। শহর, নগর ও গ্রামে অভিবাসন আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাদের বডি-ওর্ন ভিডিও প্রযুক্তি দেওয়া হয়েছে, যা গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি নতুন বর্ডার সিকিউরিটি, অ্যাসাইলাম অ্যান্ড ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট–এর আওতায় ‘রাইট টু ওয়ার্ক’ যাচাই, ক্যাজুয়াল ও অস্থায়ী কাজের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

সরকার আরও জানিয়েছে, ডিজিটাল আইডি চালুর মাধ্যমে কাজের অধিকার প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা হবে। এতে অবৈধ অভিবাসীদের কাজ পাওয়া কঠিন হবে এবং নিয়ম ভঙ্গকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা সহজ হবে।

এই সব পদক্ষেপ মিলিয়ে যুক্তরাজ্য সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, শ্রমবাজার সুরক্ষা এবং অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে।

সূত্রঃ ইউকে ডট গভ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

রেকর্ড ভিসা বাতিলঃ ২০২৫ সালে এক লাখের বেশি মার্কিন ভিসা প্রত্যাহার

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে, যা এক বছরে সর্বোচ্চ রেকর্ড। আগের বছর ২০২৪ সালে যেখানে প্রায় ৪০ হাজার ভিসা বাতিল হয়েছিল, সেখানে চলতি বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, জানুয়ারি ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশের পর থেকেই ভিসা বাতিলের হার দ্রুত বেড়েছে। ওই আদেশের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের জন্য কঠোর যাচাই-বাছাই নীতি পুনর্বহাল করা হয় এবং ভিসা ইস্যুর পর নজরদারি আরও বিস্তৃত করা হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ছিল শিক্ষার্থী ভিসা এবং ২ হাজার ৫০০টি ছিল বিশেষায়িত কর্মী ভিসা। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভিসাধারীরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছিলেন।
তবে মোট ভিসা বাতিলের বড় অংশই ছিল ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা ব্যক্তিদের (ওভারস্টে) ভিসা ব্যাপকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক মুখপাত্র জানান, অনেক শিক্ষার্থী ও কর্মী ভিসা গ্রেপ্তার, ফৌজদারি অভিযোগ বা আদালতের মামলার পর বাতিল করা হয়েছে। অন্য কিছু ভিসা বাতিল হয়েছে নতুন করে চালু হওয়া বর্ধিত স্ক্রিনিং ও নিরাপত্তা পর্যালোচনার আওতায়।

বিশেষায়িত কর্মী ভিসাধারীদের বিরুদ্ধে যেসব অপরাধ উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, হামলা, চুরি, প্রতারণা এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ।

এই কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র চালু করেছে ‘কন্টিনিউয়াস ভেটিং’ বা নিরবচ্ছিন্ন যাচাই ব্যবস্থা। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পরও ভিসাধারীদের তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের আগস্টে জানানো হয়, বৈধ মার্কিন ভিসাধারী প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ বিদেশি নাগরিকের স্ট্যাটাস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিও আবার সক্রিয়ভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন—এমন আশঙ্কা থাকলে তার ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর স্বাস্থ্য, বয়স, আর্থিক সক্ষমতা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বিবেচনায় নেওয়া হয়।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা। তবে ভিসা বাতিলের এই ব্যাপকতা বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়োগকর্তা এবং অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তারা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এরই মধ্যে ২০২৫ সালের শুরুতে কিছু শিক্ষার্থী ভিসা বাতিলের ঘটনায় আইনি চ্যালেঞ্জও দেখা গেছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বর্ধিত যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা বহাল থাকায় ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভিসা পর্যালোচনা ও বাতিলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সূত্রঃ দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

এবার নিউ ইয়র্ক সিটিতে বিক্ষোভ, পাশে দাঁড়িয়েছেন মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির ইতিহাসে বৃহত্তম নার্স বিক্ষোভ-ধর্মঘটে শামিল হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী। বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের দাবিতে সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোর থেকে মাউন্ট সিনাই, মন্টিফিওর এবং নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান—এই তিনটি প্রধান বেসরকারি হাসপাতালের নার্সরা কর্মবিরতি শুরু করেন।

 

দীর্ঘ সময় ধরে চলা চুক্তিভিত্তিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর নিউ ইয়র্ক স্টেট নার্সিং অ্যাসোসিয়েশন (এনওয়াইএসএনএ) এই ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘটরত নার্সদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে রাজপথে নেমেছেন সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। মেয়রের এই প্রকাশ্য সমর্থন নিউ ইয়র্কের স্বাস্থ্যখাতের প্রভাবশালী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।

নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, কয়েক মাসের দরকষাকষি সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপদ স্টাফিং বা পর্যাপ্ত নার্স নিয়োগের বিষয়ে কোনো অর্থবহ অগ্রগতি করতে পারেনি। উল্টো ধনকুবের হাসপাতালগুলো নার্সদের বর্তমান স্বাস্থ্য বিমা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

অথচ নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান হাসপাতাল ৫৪৭ মিলিয়ন ডলার এবং মন্টিফিওর প্রায় ২৮৯ মিলিয়ন ডলার নিট মুনাফা করেছে। নার্সদের দাবি, হাসপাতালের প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন এবং কর্মস্থলে সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্প্রতি মাউন্ট সিনাই ও নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান হাসপাতালে গোলাগুলির ঘটনায় কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ধর্মঘট এমন এক সময়ে শুরু হলো যখন নিউইয়র্ক সিটি ভয়াবহ ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা মৌসুমের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের প্রায় ৯ শতাংশই ছিল ফ্লু আক্রান্ত। কানি গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর অধ্যাপক ব্রুস ওয়াই লি মনে করেন, এই সংকটের সময় নার্সদের অনুপস্থিতি স্বাস্থ্যসেবাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তবে নার্সদের এই অবস্থানকে ‘নৈতিক লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি।

এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের নার্সরা এই শহরকে সবচেয়ে কঠিন সময়ে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, তাই তাদের মর্যাদা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।’ সোমবার তিনি সশরীরে পিকেট লাইনে যোগ দিয়ে হাসপাতাল মালিকদের অতি মুনাফার মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, তারা নার্সদের জন্য পর্যাপ্ত বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে যা তাদের শহরের সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের কাতারে রাখবে। নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান হাসপাতালের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, তারা একটি ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছাতে এখনো প্রস্তুত। তবে নার্সিং ইউনিয়ন বলছে, কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত ল্যাম্প-সাম বা এককালীন অর্থ সহায়তা নার্সদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য বিমা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।

এই ধর্মঘট এখন কেবল স্বাস্থ্য খাতের আন্দোলন নয়, বরং গভর্নর ক্যাথি হোকুলের আসন্ন পুনর্নির্বাচন ও মেয়রের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে কোনো পক্ষই এখনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

আসছে ‘জনযাত্রা’ নামে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম

কয়েকটা দিন পরেই ‘জনযাত্রা’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্মের আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন এ রাজনৈতিক প্লাটফর্ম গঠনে যুক্ত হচ্ছেন-বিভিন্ন মতাদর্শের তরুণ, ছাত্রনেতা,বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর ব্যক্তিরাসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিল্পবী নেতারা।

 

এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করা অনেক শীর্ষ নেতারাও এ ‘জনযাত্রা’য় সম্পৃক্ত হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, নতুন এ রাজনৈতিক প্লাটফর্মটি বিকল্প রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় থাকবে দলে, এবং এখানে উপর থেকে কেউ ছড়ি ঘোরাবে না।

এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু বলেন, নতুন এ রাজনৈতিক প্লাটফর্মটি আগামী শুক্রবার আত্মপ্রকাশ করবে।

এখানে মূলত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সম্পৃক্ত বীররাই নেতৃত্ব দেবে। বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের তরুণরা যুক্ত হবে। জুলাইয়ের পরবর্তী সময়ে যারা ধর্মভিক্তিক রাজনীতি করছে, সাম্প্রদায়িকতার মধ্য দিয়ে যে রাজনীতি বিগত সময়গুলোতে হয়েছে এর বিপরীতে এ প্লাটফর্মটি দাঁড়াচ্ছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পরও নারী বিদ্বেষী, আদিবাসী বিদ্বেষী, হিন্দু বিদ্বেষী অর্থাৎ দক্ষিণপন্থী যে রাজনীতি হয়েছে-হচ্ছে সেই দক্ষিণপন্থী রাজনীতির বিপক্ষে আমরা ঐক্য হচ্ছি।

মেঘমল্লার বসু আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে একটি ভিন্ন শক্তি ছিল, সেই অভ্যুত্থানে নানান সামাজিক শ্রেণী পেশার মানুষ সম্পৃক্ত ছিল। তারা একটি বৈষম্যহীন সমাজ এবং একটা শোষনমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য এক একত্রিত হয়েছিল। আমরা আসলে সত্যি সত্যি বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীন দেশ হিসেবে দেখতে চাই।

যেখানে একজন মানুষ যে কোন ধর্মের অনুসারী হউক কিংবা নাস্তিক হোক-তার ধর্মীয় অধিকার সমান হবে। নারী পুরুষের মধ্যে যে সামাজিক সাংস্কৃতিক পার্থক্য বা বৈষম্য আছে, সেগুলো থাকবে না। আমরা মূলত নতুনভাবে গণতান্ত্রিক ধারায় রাজনীতি করতে চাই। এমন রাজনীতিতে সহায়ক হতে চাই।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নতুন এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বাম ও মধ্যপন্থী ভাবাদর্শের অনেকে নতুন এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছেন।

গত সেপ্টেম্বরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পদত্যাগ করা অনিক রায়, মঈনুল ইসলাম তুহিন (তুহিন খান) ও অলিক মৃ থাকছেন এই প্ল্যাটফর্মে। তাদের মধ্যে অনিক রায় বামধারার ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। পরে এনসিপিতে যোগ দিয়ে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছিলেন তিনি।

লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট তুহিন খান ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব। আর আদিবাসী ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সাবেক নেতা অলিক মৃ ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক। ইতোমধ্যে তারা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন।

জনযাত্রা নামের নতুন এ প্ল্যাটফর্মে সম্পৃক্ত হচ্ছেন, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহ, লেখক ও গবেষক মীর হুযাইফা আল মামদূহ, লেখক ফেরদৌস আরা রুমী, ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাজিফা জান্নাত, সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু, সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদসহ বাম ও মধ্যপন্থী মতাদর্শের বহু তরুণরা।

এছাড়া বিভিন্ন মতাদর্শের তরুণ অ্যাকটিভিস্ট, ছাত্রনেতা, বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর অনুসারীরা এই প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত হবেন।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রায় এক বছর আগে থেকে নতুন এই রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ শুরু হয়। সেসময় এর প্রস্তাবিত নাম ছিল ‘নিউ পলিটিক্যাল অ্যাকশন’ (নতুন রাজনৈতিক প্রয়াস)। তবে প্ল্যাটফর্মের জন্য তিন-চারটি নাম বিবেচনায় থাকলেও প্রাথমিক ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জনযাত্রা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অনেকেই নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছেন-এমনটা জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত বীর-যোদ্ধারাও সম্পৃক্ত হবেন এ প্লাটফর্মে।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অবৈধ প্রবেশঃ বহিষ্কার আদেশ অমান্য করে বারবার প্রত্যাবর্তন আলবেনীয় অভিবাসীর

যুক্তরাজ্যে প্রবেশে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পঞ্চমবারের মতো অবৈধভাবে দেশে ঢুকে পড়ায় দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন আলবেনীয় নাগরিক রোমিও জানি। ইউরোপ থেকে আনা গাড়ির যন্ত্রাংশ বোঝাই একটি সিল করা ট্রেলারের ভেতরে লুকানো অবস্থায় তাকে সান্ডারল্যান্ডের নিসান কারখানাগামী পথ হতে আটক করা হয়।

 

নিউক্যাসল ক্রাউন কোর্টে সাজা ঘোষণার সময় রেকর্ডার নিকোলাস ওয়ার্সলি বলেন, বহিষ্কার আদেশকে প্রকাশ্যভাবে উপেক্ষা করার এ প্রবণতা সমাজের ভিত্তিকে দুর্বল করে এবং অপরাধকে উৎসাহিত করে। আদালত জানায়, এটি পঞ্চমবার, যখন জানিকে যুক্তরাজ্য থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো।

রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, গ্রেপ্তারের পর জানি স্বীকার করেন যে তিনি আলবেনিয়া থেকে বেলজিয়াম হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন এবং মানবপাচারকারীদের ৫ হাজার পাউন্ড প্রদান করেন। তার দাবি ছিল, নিজ দেশে তার জীবন ঝুঁকির মুখে থাকায় তিনি এই অবৈধ পথে যাত্রা করেন।

অভিবাসীর পক্ষের আইনজীবী জানান, জানি যুক্তরাজ্যকে বেছে নেন কারণ এখানে তার বন্ধু ও দূরসম্পর্কের স্বজন রয়েছে। তবে আদালতে স্পষ্ট করা হয়, তিনি যুক্তরাজ্যের মাটিতে বৈধভাবে প্রবেশ করেননি এবং বহিষ্কার আদেশ অমান্য করেই বারবার দেশে ঢুকেছেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালে প্রথমবার জানি যুক্তরাজ্যের নজরে আসেন। সে সময় তিনি স্বীকার করেছিলেন যে লরির পেছনে করে দেশে ঢুকেছিলেন এবং অবৈধভাবে কাজ করছিলেন। স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তনে সই করার পর ওই বছরের ডিসেম্বরে তাকে প্রথমবার অপসারণ করা হয়।

এরপর ২০১৮ সালে তিনি আবার গ্রেপ্তার হন এবং ভুয়া পরিচয়পত্র রাখা, মাদক-সম্পর্কিত ষড়যন্ত্র ও অর্থপাচারের অভিযোগে ২০ মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তার বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের বহিষ্কারাদেশ জারি হয় এবং মার্চে তাকে দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাজ্য থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

২০২১ সালে তিনি আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে আত্মগোপনে যান এবং এক বছরের বেশি সময় ‘পলাতক’ হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে একাধিকবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ২০২৪ সালের মে মাসে তাকে তৃতীয়বার অপসারণ করা হয়, যা ছিল বহিষ্কার আদেশ ভঙ্গের প্রথম ঘটনা।

২০২৫ সালের এপ্রিলে কর্নওয়ালের ফালমাউথে একটি বিলাসবহুল ইয়টে লুকানো অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় বহিষ্কার আদেশ ভঙ্গের দায়ে তাকে আবার কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং আগস্টে চতুর্থবারের মতো অপসারণ করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ইয়ট ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসী পাচার সাম্প্রতিক সময়ে মানবপাচার চক্রের একটি নতুন কৌশল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনায় বর্ডার ফোর্স নজরদারি বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে এক মানবপাচারকারীকে ২১ জন অভিবাসীকে বিলাসবহুল ইয়টে গোপনে আনার দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক ট্রেলার ঘটনায় তৃতীয়বারের মতো বহিষ্কার আদেশ ভঙ্গের দায়ে রোমিও জানিকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাজা শেষে তাকে পঞ্চমবারের মতো যুক্তরাজ্য থেকে অপসারণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্য আদালত।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস / ইয়াহু ডট নিউজ

এম.কে