Categories
আন্তর্জাতিক

আনুগত্যের প্রশ্নে কড়াকড়িঃ যুক্তরাষ্ট্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিষিদ্ধের প্রস্তাব

দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদার নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর বার্নি মোরেনো ‘এক্সক্লুসিভ সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট অব ২০২৫’ নামে একটি বিল উত্থাপন করেছেন, যা আইন হলে আমেরিকানদের একসঙ্গে দুই দেশের নাগরিকত্ব রাখা কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।

বিলটিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দেশটির প্রতি “একক ও একচ্ছত্র আনুগত্য” প্রদর্শন করতে হবে। অর্থাৎ, কোনো মার্কিন নাগরিক একযোগে অন্য দেশের পাসপোর্ট রাখতে পারবেন না। বর্তমানে যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে, তাদের এক বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রাখবেন নাকি অন্য দেশের নাগরিকত্ব বেছে নেবেন।

প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রাখতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার দ্বিতীয় দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে হবে। বিপরীতে, যদি কেউ অন্য দেশের নাগরিকত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়তে হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে কোনো মার্কিন নাগরিক যদি স্বেচ্ছায় অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তবে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগকারী হিসেবে গণ্য করা হবে।

সিনেটর বার্নি মোরেনো বিলটি উত্থাপনের সময় একে জাতীয় আনুগত্যের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব “সব নয়তো কিছুই নয়”—দ্বৈত নাগরিকত্ব জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এবং এতে বিভক্ত আনুগত্যের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিলের ব্যাখ্যামূলক অংশেও জাতীয় পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য একচ্ছত্র নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বর্তমান আইনে মার্কিন নাগরিকদের অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়তে বাধ্য করা হয় না। জন্মসূত্রে, পারিবারিক সূত্রে বা কর্মজীবনের প্রয়োজনে বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্য দেশের নাগরিকত্ব বহন করে আসছেন।

বর্তমানে দ্বৈত নাগরিকদের দুই দেশের আইনগত দায়বদ্ধতা পালন করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে কর প্রদান, ভ্রমণসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামরিক সেবা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও প্রস্থানকালে মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও বিদেশ ভ্রমণের সময় অনেককে তাদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হয়। যদিও প্রক্রিয়াটি জটিল, তবুও এটি দীর্ঘদিন ধরে বৈধ ও স্বীকৃত।

নতুন আইন কার্যকর হলে এই বাস্তবতা দ্রুত বদলে যেতে পারে। বিলটি পাস হলে আইন প্রণয়নের ১৮০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। ফেডারেল সংস্থাগুলোকে দ্বৈত নাগরিকদের সিদ্ধান্ত ও আনুগত্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদারক করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্বের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

তবে আপাতত এটি একটি প্রস্তাবমাত্র। আইন হিসেবে কার্যকর হতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অনুমোদন পেতে হবে এবং সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

সূত্রঃ টাইম আউট ডট কম

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

শিশুমৃত্যুর পর ইংল্যান্ডে খৎনা নিয়ে সতর্কতাঃ সিপিএস নির্দেশিকা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ইংল্যান্ডে চিকিৎসাবহির্ভূত পুরুষ খৎনা নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। পশ্চিম লন্ডনে ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর একজন করোনার সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের খৎনার ওপর যদি স্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ ও বিধিমালা প্রণয়ন না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও শিশু মারা যেতে পারে।

 

চিকিৎসাবহির্ভূত খৎনা বলতে চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়াই ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরুষ শিশু ও কিশোরদের লিঙ্গের অগ্রচর্ম অপসারণকে বোঝায়। ইংল্যান্ডে এ ধরনের খৎনার জন্য বর্তমানে কোনো জাতীয় পর্যায়ের নিয়ন্ত্রক কাঠামো নেই, যা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

ওয়েস্ট লন্ডন করোনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ আবদিসামাদ নামের শিশুটিকে ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি খৎনা করা হয়। তার বাবা-মায়ের অনুরোধে এবং তাদের সুপারিশপ্রাপ্ত একজন খৎনাকারী এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। খৎনার তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।

১৯ ফেব্রুয়ারি শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হিলিংডন হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার হৃদযন্ত্র ও শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সেদিন রাত ২৩:৫৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনাটি দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ ও আলোড়ন সৃষ্টি করে।

২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর শেষ হওয়া একটি জুরি তদন্তে শিশুটির মৃত্যুর চিকিৎসাগত কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়— “পুরুষ খৎনার পর সৃষ্ট আক্রমণাত্মক স্ট্রেপটোকক্কাস পাইওজেনেস সংক্রমণ”। তদন্তে উঠে আসে, খৎনার পর যথাযথ পরিচর্যা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি মারাত্মক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর সহকারী করোনার অ্যান্টন ভ্যান ডেলেন ভবিষ্যতে এ ধরনের মৃত্যু প্রতিরোধে একটি ‘প্রিভেনশন অব ফিউচার ডেথস’ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর তারিখের প্রতিবেদনে তিনি জানান, তদন্তে এমন বহু তথ্য উঠে এসেছে যা গভীর উদ্বেগের কারণ।

প্রতিবেদনে ডা. ভ্যান ডেলেন বলেন, যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতেও এই ধরনের মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইংল্যান্ডে চিকিৎসাবহির্ভূত পুরুষ খৎনার ক্ষেত্রে কোনো জাতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। যারা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন, তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, স্বীকৃতি বা নিবন্ধনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
এছাড়া খৎনার আগে অভিভাবকদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সম্মতি নেওয়ার কোনো নির্ধারিত পদ্ধতি নেই। নথি সংরক্ষণ, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং খৎনার পর চিকিৎসা বা পরিচর্যার ক্ষেত্রেও কোনো স্পষ্ট নিয়ম নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস একটি খসড়া নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে ভুলভাবে সম্পাদিত খৎনাকে ক্ষতিকর প্রথা এবং ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। খসড়া নথিতে খৎনাকে শিশু নির্যাতনের সম্ভাব্য একটি রূপ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতারা। তাদের মতে, ধর্মীয় রীতির অংশ হিসেবে খৎনাকে অপরাধের আওতায় আনা ধর্মীয় স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।

করোনারের প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা বিভাগ এবং আবাসন, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন জারির তারিখ থেকে ৫৬ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিবেদনের অনুলিপি শিশুটির বাবা-মা, নানী, মামা এবং লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ ও মানভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন হলেও বিষয়টি ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বিবেচনায় রেখেই সমাধান করা জরুরি। ফলে শিশু সুরক্ষা ও ধর্মীয় অধিকার—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ইংল্যান্ড সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

মার্কিনীদের টার্গেট করছে ভেনেজুয়েলার মিলিশিয়াঃ ভেনেজুয়েলা ছাড়তে মার্কিন নাগরিকদের নির্দেশ

ভেনেজুয়েলায় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, দেশটিতে মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে সক্রিয় অপহরণ হুমকি তৈরি হয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল।

 

স্টেট ডিপার্টমেন্টের সতর্কবার্তায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় ভেনেজুয়েলায় থাকা মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশ ছাড়তে হবে। যাত্রাকালে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে, আশপাশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে এবং বিমান সংস্থাগুলোর নিয়মিত আপডেট পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, ‘কোলেক্তিভোস’ নামে পরিচিত সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে যানবাহন তল্লাশি করছে। এসব তল্লাশিতে মার্কিন নাগরিকত্বের প্রমাণ বা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থনের আলামত খোঁজা হচ্ছে বলে রিপোর্ট পাওয়া গেছে। সড়কপথে চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ভ্রমণ সতর্কতা তালিকা—লেভেল ৪: ‘ডু নট ট্রাভেল’-এর আওতায় রেখেছে। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য গুরুতর ঝুঁকি হিসেবে বেআইনি আটক, আটক অবস্থায় নির্যাতন, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ, স্থানীয় আইনের ইচ্ছামতো প্রয়োগ, সহিংস অপরাধ, সামাজিক অস্থিরতা এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই সতর্কতা আসে এমন এক সময়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় তেল খাতের নির্বাহীদের ‘পূর্ণ নিরাপত্তা’ দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর কয়েক দিন আগেই মার্কিন বিশেষ বাহিনীর এক আকস্মিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাস থেকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার স্ত্রীসহ তার বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস সংক্রান্ত অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা জানিয়েছে, দুই দেশ পারস্পরিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদলের ভেনেজুয়েলা সফরকে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের বরফ গলার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ছোট কূটনৈতিক দল ও নিরাপত্তা সদস্যরা ভেনেজুয়েলা সফর করে কারাকাসে মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালুর সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক মূল্যায়ন করেছে।

অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা সরকারও যুক্তরাষ্ট্রে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে, যদিও সফরের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো ভেনেজুয়েলান প্রতিনিধিদলের যুক্তরাষ্ট্র সফরের ক্ষেত্রে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ড্রাইভিং পরিবর্তনঃ ড্রাগ ড্রাইভ ও ড্রিঙ্ক-ড্রাইভ কঠোর হচ্ছে

নতুন রূপে চালকদের জন্য ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোটরিং নিয়ম, আইন ও বিধি পরিবর্তন আসছে, যা যাতায়াত খরচ ও নিরাপত্তা মানকে সরাসরি প্রভাবিত করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো চালকদের জন্য জরুরি নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত জরিমানা এড়াতে সহায়ক হবে।

একটি প্রধান পরিবর্তন হলো সিটবেল্ট না পরার জন্য কঠোর শাস্তি। এখন পর্যন্ত অপরাধীদের সর্বোচ্চ £৫০০ জরিমানা করা হয়, কিন্তু নতুন নিয়মে চালক ও যাত্রী উভয়ই তিনটি পেনাল্টি পয়েন্ট এবং সর্বোচ্চ £৫০০ জরিমানা হতে পারে। ১৪ বছরের নিচের শিশুদের জন্য চালক দায়িত্বশীল থাকবেন এবং শিশুদের অবশ্যই উপযুক্ত কার সিট বা সিটবেল্ট ব্যবহার করতে হবে।

লন্ডনের কনজেশন চার্জ ২০২০ সালের পর প্রথমবার বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনে চার্জ পরিশোধ করলে এটি £১৮ হবে। ইলেকট্রিক গাড়ি Auto Pay-এ নিবন্ধিত থাকলে ২৫% ছাড় পাবে, অর্থাৎ £১৩.৫০ চার্জ হবে। ইলেকট্রিক ভ্যান, HGV এবং কোড্রিসাইকেল ৫০% ছাড় পাবেন।

চালকদের জন্য আরও সম্ভাব্য পরিবর্তন হলো ৭০ বছরের ঊর্ধ্বদের জন্য বাধ্যতামূলক চোখের পরীক্ষা।

ড্রিঙ্ক-ড্রাইভ সীমাও কঠোর করা হতে পারে। স্কটল্যান্ডের মতো ইংল্যান্ডে বৈধ সীমা কমিয়ে ২২ মাইক্রোগ্রাম/১০০ মিলি শ্বাস করা হতে পারে, যার ফলে এক গ্লাস পানীয় সীমা অতিক্রমের জন্য যথেষ্ট। গ্রামীণ পাবগুলোতে এ সিদ্ধান্তের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ড্রাগ ড্রাইভের ক্ষেত্রেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রোডসাইড স্যালিভা-ভিত্তিক পরীক্ষা আরও নির্ভরযোগ্য হলে, তা সরাসরি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, যা তদন্ত দ্রুততর করবে এবং দণ্ড দেওয়ার হার বাড়াবে।

Nationwide Vehicle Contracts-এর পরিচালক কিথ হাউস বলেছেন, “চালকদের নতুন নিয়মাবলী সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকা অপরিহার্য। আগেভাগেই প্রস্তুতি নিলে স্থানান্তর সহজ হবে এবং সকল আইনগত মান পূরণ করা সম্ভব হবে।”

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে একযোগে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা ত্যাগ

ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ৩১টি জাতিসংঘভুক্ত সংস্থা এবং ৩৫টি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে মোট ৬৬টি সংস্থা থেকে নাম প্রত্যাহার করবে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সংস্থা জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, শ্রম, লিঙ্গসমতা ও বৈচিত্র্যভিত্তিক তথাকথিত “ওক” (woke) এজেন্ডা অনুসরণ করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

 

যুক্তরাষ্ট্র যেসব ৩১টি জাতিসংঘ সংস্থা ছাড়ছে তা হল;
১\ ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স
২\ ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল (ইকোসক) – আফ্রিকার জন্য অর্থনৈতিক কমিশন
৩\ ইকোসক – লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্য অর্থনৈতিক কমিশন
৪\ ইকোসক – এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন
৫\ ইকোসক – পশ্চিম এশিয়ার জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন
৬\ আন্তর্জাতিক আইন কমিশন
৭\ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অবশিষ্ট কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা সংস্থা
৮\ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র
৯\ আফ্রিকা বিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষ উপদেষ্টার দপ্তর
১০\ সশস্ত্র সংঘাতে শিশু বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির দপ্তর
১১\ সংঘাতে যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির দপ্তর
১২\ শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির দপ্তর
১৩\ শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিশন
১৪\ শান্তি প্রতিষ্ঠা তহবিল
১৫\ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত জনগণের জন্য স্থায়ী ফোরাম
১৬\ জাতিসংঘ সভ্যতার জোট
১৭\ বন উজাড় ও বন অবক্ষয় থেকে নির্গমন হ্রাস বিষয়ক জাতিসংঘ কর্মসূচি
১৮\ জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন
১৯\ জাতিসংঘ গণতন্ত্র তহবিল
২০\ জাতিসংঘ জ্বালানি কর্মসূচি
২১\ নারী ও লিঙ্গসমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক জাতিসংঘ সংস্থা
২২\ জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি)
২৩\ জাতিসংঘ মানব বসতি কর্মসূচি
২৪\ জাতিসংঘ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট
২৫\ জাতিসংঘ মহাসাগর কর্মসূচি
২৬\ জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল
২৭\ প্রচলিত অস্ত্র নিবন্ধন সংক্রান্ত জাতিসংঘ রেজিস্টার
২৮\ জাতিসংঘ সিস্টেম প্রধান নির্বাহীদের সমন্বয় বোর্ড
২৯\ জাতিসংঘ সিস্টেম স্টাফ কলেজ
৩০\ জাতিসংঘ পানি কর্মসূচি
৩১\ জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়

এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইউএনএফসিসিসি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার। ১৯৯২ সালের এই চুক্তির ভিত্তিতেই প্যারিস জলবায়ু চুক্তি গড়ে ওঠে।

ট্রাম্প প্রশাসন আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়বারের মতো প্যারিস চুক্তি ছাড়বে, যা কার্যকর হবে ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার পুরো কাঠামো থেকেই কার্যত বেরিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউএনএফসিসিসি একটি সেনেট অনুমোদিত চুক্তি হওয়ায়, প্রেসিডেন্টের একতরফা প্রত্যাহার সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্র যেসব ৩৫টি অ-জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সংস্থা ছাড়ছে তা হল;
★২৪/৭ কার্বনমুক্ত জ্বালানি কমপ্যাক্ট
★কলম্বো প্ল্যান কাউন্সিল
★পরিবেশগত সহযোগিতা কমিশন
★এডুকেশন ক্যাননট ওয়েট
★হাইব্রিড হুমকি মোকাবিলায় ইউরোপীয় উৎকর্ষ কেন্দ্র
★ইউরোপীয় জাতীয় মহাসড়ক গবেষণাগার ফোরাম
★ফ্রিডম অনলাইন কোয়ালিশন
★বৈশ্বিক কমিউনিটি সম্পৃক্ততা ও স্থিতিশীলতা তহবিল
★বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী ফোরাম
★সাইবার দক্ষতা বিষয়ক বৈশ্বিক ফোরাম
★অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক বৈশ্বিক ফোরাম
★আন্তঃআমেরিকান গ্লোবাল চেঞ্জ রিসার্চ ইনস্টিটিউট
★খনি, খনিজ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক ★আন্তঃসরকারি ফোরাম
★জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃসরকারি প্যানেল (আইপিসিসি)
★জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র বিষয়ক বিজ্ঞান-নীতি প্ল্যাটফর্ম
★সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার বিষয়ক আন্তর্জাতিক কেন্দ্র
★আন্তর্জাতিক তুলা উপদেষ্টা কমিটি
★আন্তর্জাতিক উন্নয়ন আইন সংস্থা
★আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরাম
★শিল্পকলা ও সংস্কৃতি সংস্থার আন্তর্জাতিক ফেডারেশন
★গণতন্ত্র ও নির্বাচন সহায়তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউট
★ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউট
★আন্তর্জাতিক সিসা ও দস্তা গবেষণা গোষ্ঠী
★আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা
★আন্তর্জাতিক সৌর জোট
★আন্তর্জাতিক উষ্ণমণ্ডলীয় কাঠ সংস্থা
★প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন
★প্যান আমেরিকান ভূগোল ও ইতিহাস ইনস্টিটিউট
আটলান্টিক সহযোগিতা অংশীদারত্ব
★এশিয়ায় জলদস্যুতা ও সশস্ত্র ডাকাতি দমন বিষয়ক আঞ্চলিক সহযোগিতা চুক্তি
★আঞ্চলিক সহযোগিতা কাউন্সিল
★একবিংশ শতাব্দীর নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি নেটওয়ার্ক
★ইউক্রেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র
★প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক পরিবেশ কর্মসূচির সচিবালয়

ইউরোপ কাউন্সিলের ভেনিস কমিশন
তবে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম এবং জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা–তে সদস্য হিসেবে থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তাদের মতে, এসব সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও মানবিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

বিশ্লেষকদের মতে, একযোগে এত সংখ্যক আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থা, জলবায়ু কূটনীতি ও মানবাধিকার উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে প্রতিবন্ধী ভাতায় দীর্ঘসূত্রতাঃ পার্লামেন্টারি কমিটির কড়া সমালোচনার মুখে ডিডব্লিউপি

যুক্তরাজ্যে প্রতিবন্ধী ভাতা পার্সোনাল ইন্ডিপেনডেন্স পেমেন্ট (পিআইপি) পেতে আবেদনকারী অনেক মানুষকে এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে তারা ঋণগ্রস্ততা ও দারিদ্র্যের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে সতর্ক করেছে সংসদের ক্রস-পার্টি পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি (পিএসি)।

ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস (ডিডব্লিউপি)–এর নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী, নতুন পিআইপি আবেদনের ৭৫ শতাংশ ৭৫ কর্মদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা। কিন্তু গত অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে মাত্র ৫১ শতাংশ আবেদন। পিএসি বলেছে, এটি “গ্রহণযোগ্যতার বাইরে দুর্বল সেবার” স্পষ্ট প্রমাণ।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, কিছু আবেদনকারীকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ডিডব্লিউপি দাবি করলেও যে এমন চিত্র তাদের পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হচ্ছে না, বিভাগটি স্বীকার করেছে যে বাস্তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে এবং বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে সমাধান প্রয়োজন।

পিআইপি হলো ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য প্রধান প্রতিবন্ধী ভাতা। এটি আয় বা কর্মসংস্থানের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে সহায়তা দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দাবিদারের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে; বর্তমানে প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ এই ভাতা পাচ্ছেন।

ডিডব্লিউপি জানিয়েছে, গত অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত একটি পিআইপি আবেদন নিষ্পত্তিতে গড় সময় ছিল ১৬ সপ্তাহ। বিভাগটি দাবি করছে, আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে কিছু এলাকায় অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে, যার ফলে গড়ে ২০ দিন সময় কমছে। তবে ২০২৬ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ আবেদন অনলাইনে নিষ্পত্তির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এখন পিছিয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।

পিএসি চেয়ারম্যান ও কনজারভেটিভ এমপি স্যার জেফ্রি ক্লিফটন-ব্রাউন বলেন, তিন বছর আগে কমিটিকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কিন্তু এখন বলা হচ্ছে আরও তিন বছর লাগবে। তার ভাষায়, “এটি আমাদের ভোটারদের জন্য মোটেও ভালো খবর নয়। ডিডব্লিউপির এই ধীরগতির কারণে অনেকেই ঋণ ও দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে যাচ্ছেন।”

প্রতিবেদনে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট দাবিদারদের জন্য ওয়ার্ক কোচদের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ ৫০ মিনিট থেকে কমিয়ে ৩০ মিনিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিটির মতে, এতে জটিল প্রয়োজনসম্পন্ন দাবিদাররা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যদি সরকার বিকল্প ব্যবস্থা না নেয়।

এর আগে সরকার পিআইপি পাওয়ার শর্ত কঠোর করার পরিকল্পনা নিয়েছিল, যা লেবার এমপিদের তীব্র বিরোধিতার মুখে বাতিল করা হয়। সরকার ধারণা করেছিল, ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হতো।

পরবর্তীতে সরকার পিআইপি নিয়ে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা শুরু করে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রী স্যার স্টিফেন টিমস। সরকারের দাবি, এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য সাশ্রয় নয়, বরং ভাতাটি যেন ন্যায্য ও ভবিষ্যতের উপযোগী হয় তা নিশ্চিত করা।

ডিডব্লিউপি এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া “ভাঙাচোরা কল্যাণব্যবস্থা” সংস্কার করছে। অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষকে কাজে ফিরতে সহায়তার জন্য প্রায় এক হাজার ওয়ার্ক কোচ পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে এবং ৬৪৭ মিলিয়ন পাউন্ডের আধুনিকায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন ডিজিটাল সিস্টেম চালুর কাজ চলছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইহুদি অধ্যুষিত এলাকায় প্রো-হামাস স্লোগান, নিউইয়র্ক রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড়

যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্সে একটি সিনাগগের সামনে বৃহস্পতিবার রাতে প্রো-প্যালেস্টিনিয়ান বিক্ষোভে “আমরা এখানে হামাসকে সমর্থন করি” স্লোগান ঘিরে নিউইয়র্কের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইহুদি অধ্যুষিত এলাকায় এমন বক্তব্য দ্রুতই রাজ্য ও শহরের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নিন্দার মুখে পড়ে। তবে ঘটনার পর দীর্ঘ সময় নীরব থাকায় সমালোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।

বিক্ষোভের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর গভর্নর, সিটি কাউন্সিল স্পিকার, বরো প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেস সদস্য ও স্থানীয় অ্যাসেম্বলি সদস্যরা একের পর এক বিবৃতি দিয়ে স্লোগানটির তীব্র নিন্দা জানান। এর বিপরীতে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত মেয়রের প্রেস টিম বা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেখা যায়নি, যা রাজনৈতিক মহলে প্রশ্নের জন্ম দেয়।

চাপের মুখে পড়ে মামদানি শেষ পর্যন্ত এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন। একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় তিনি বলেন, “এই ভাষা ভুল। নিউইয়র্ক সিটিতে এই ধরনের ভাষার কোনো স্থান নেই।” তবে কোনো লিখিত বিবৃতি বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় তার প্রতিক্রিয়াকে অনেকেই অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন।

এই ঘটনা নিউইয়র্কে প্রো-প্যালেস্টিনিয়ান আন্দোলন ও ইহুদিবিদ্বেষের মধ্যকার সংবেদনশীল সীমারেখাকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইহুদি জনগোষ্ঠীর শহর হিসেবে নিউইয়র্কে এ ধরনের স্লোগান বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে মামদানির রাজনৈতিক উত্থানের পর শহর ও রাজ্যজুড়ে প্রো-প্যালেস্টিনিয়ান আন্দোলনে উজ্জীবিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি চ্যালেঞ্জগুলোও এই বিতর্ককে আরও তীব্র করছে।

শহরের সাবেক কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার এই স্লোগানকে “জঘন্য ইহুদিবিদ্বেষ” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ভূমি বিক্রির বিরোধিতা করা যায়, কিন্তু তা কখনোই সন্ত্রাসবাদ বা ইহুদিদের গণহত্যার সমর্থন হতে পারে না। একই সুরে বক্তব্য দেন সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার ও নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস।

ইসরায়েলপন্থী রাজনীতিক ও কর্মীরা মেয়রের নীরবতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, এমন স্পষ্ট হামাসপন্থী বক্তব্যের বিরুদ্ধে মেয়রের তাৎক্ষণিক ও জোরালো অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মামদানির রাজনৈতিক অতীত ও বিডিএস আন্দোলনের প্রতি তার সমর্থন এই নীরবতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইসরায়েলে বসবাসের সুযোগ নিয়ে একটি তথ্যসভা ঘিরে প্রতিবাদ জানাতে। বিক্ষোভের প্রচারণায় “চুরি করা ফিলিস্তিনি ভূমি বিক্রি বন্ধ করো” শিরোনামের গ্রাফিক ব্যবহৃত হয়েছিল, যা বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।

এর আগে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মামদানি সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের জারি করা ইহুদিবিদ্বেষ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন এবং অতীতে তিনি বিডিএস আন্দোলনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। যদিও তিনি ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার স্বীকার করেন, ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে সমর্থন করেন না বলে আগেও মন্তব্য করেছেন।

সব মিলিয়ে, কুইন্সের এই বিক্ষোভ নিউইয়র্কে রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করেছে। হামাসকে কেন্দ্র করে দেওয়া স্লোগান শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, বরং শহরের নেতৃত্ব, নীতি ও মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—যার প্রভাব সামনে আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সূত্রঃ পলিটিকো ডট কম

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতি আস্থা তলানিতে, চাপে স্টারমার প্রশাসন

যুক্তরাজ্যে নিট অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলেও জনমনে এর বিপরীত ধারণা প্রবলভাবে বিদ্যমান—এমন তথ্য উঠে এসেছে একটি সাম্প্রতিক জনমত জরিপে। মোর ইন কমন পরিচালিত এই জরিপ অনুযায়ী, দেশের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার ভুলভাবে মনে করেন অভিবাসন বেড়েছে, যা সরকারের নীতিগত সাফল্যকে ছাপিয়ে জনআস্থার ঘাটতিকে সামনে এনেছে।

 

২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাজ্যে নিট অভিবাসন দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি কমে ২ লাখ ৪ হাজারে নেমে এসেছে, যা মহামারির পর সর্বনিম্ন। অথচ জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অভিবাসন বেড়েছে। রিফর্ম ইউকে সমর্থকদের মধ্যে এই ধারণা আরও প্রবল—পাঁচজনের চারজন মনে করেন অভিবাসন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৬৩ শতাংশের মতে তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

জরিপে সরকারের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা নিয়েও গভীর অনাস্থা প্রকাশ পেয়েছে। ৭৪ শতাংশ ভোটার বলেছেন, অভিবাসন ইস্যুতে সরকারের ওপর তাদের অল্প বা কোনো আস্থা নেই। মাত্র ১৮ শতাংশ ভোটার সরকারের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় কম। বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো—২০২৪ সালে লেবারকে ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যেই আস্থা কমেছে ১৭ শতাংশ পয়েন্ট।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ গত নভেম্বরে আশ্রয় ব্যবস্থায় “এক প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংস্কার” আনার ঘোষণা দেন। নতুন পরিকল্পনায় শরণার্থীদের নাগরিকত্ব পেতে ২০ বছর অপেক্ষা, আশ্রয়প্রার্থীদের সম্পদ জব্দ, পরিবার পুনর্মিলন সীমিত করা এবং নিজ দেশে পরিস্থিতির উন্নতি হলে শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর মতো কঠোর ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে এসব কঠোর নীতির পরও জনমনে আস্থা ফিরছে না। মোর ইন কমনের নির্বাহী পরিচালক লুক ট্রাইল বলেন, লেবার সরকার অভিবাসন নিয়ে একটি ক্রমবর্ধমান বিশ্বাসযোগ্যতার সংকটে পড়েছে। তার মতে, কেবল পরিসংখ্যানের উন্নতি যথেষ্ট নয়—জনমনের আস্থার ব্যবধান দূর না হলে রাজনৈতিক চাপ বাড়তেই থাকবে।

ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার বিষয়টি জনমতের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। জরিপে দেখা গেছে, ৭৯ শতাংশ ভোটার চান সরকার প্রধানত এই নৌকাগুলো থামানোর দিকে মনোযোগ দিক। যদিও বাস্তবে ছোট নৌকায় আগত’রা মোট অভিবাসীর খুবই ক্ষুদ্র অংশ—২০২৫ সালে তা ছিল পাঁচ শতাংশেরও কম।

২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বছরে প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৮ শতাংশ বেশি হলেও ২০২২ সালের সর্বোচ্চ সংখ্যার নিচে। তবুও এই দৃশ্যমান প্রবাহ জনমনে অভিবাসন বৃদ্ধির ধারণাকে আরও জোরালো করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

জরিপে আরও দেখা গেছে, সঠিক অভিবাসন তথ্য জানানো হলেও পাঁচজনের একজনেরও কম ভোটার এই হ্রাসের কৃতিত্ব বর্তমান সরকারকে দেন। প্রায় সমান সংখ্যক ভোটার এর কৃতিত্ব আগের কনজারভেটিভ সরকারের ঘাড়ে চাপিয়েছেন, যা স্টারমার প্রশাসনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জকে আরও স্পষ্ট করে।

এদিকে ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যে ভিসা আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। দক্ষ কর্মী ভিসার আবেদন ৩৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য ও যত্ন খাতের ভিসা আবেদন ৫১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সরকার এটিকে নীতিগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকদের মতে, এতে গুরুত্বপূর্ণ খাতে জনবল সংকটের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

লেবার এমপি কিম জনসন সতর্ক করে বলেন, রিফর্ম ইউকের মতো দলের ভাষা ও অবস্থান অনুকরণ করলে বর্ণবাদ বাড়তে পারে এবং কর্মী ভিসা হ্রাসের ফলে স্বাস্থ্য ও সামাজিক যত্ন খাত গভীর সংকটে পড়তে পারে। তার মতে, সরকারকে অবশ্যই অভিবাসন নিয়ে একটি ইতিবাচক ও মানবিক বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে হবে, নচেৎ বিভাজনমূলক রাজনীতির সুফল বিরোধী দলগুলোই পাবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ-চীনের ওপর নজর রাখতে হলদিয়া নদীতে ঘাঁটি স্থাপন করছে ভারত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া নদীতে নতুন একটি নৌ ঘাঁটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির নৌবাহিনী। চীনের নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান তৎপরতা এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে পরিবর্তিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উত্তর বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক উপস্থিতি জোরদার করতে এই উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে জানায়, এই ঘাঁটিটি একটি নৌ ‘ডিটাচমেন্ট’ (পুরো নৌবাহিনীর একটি বড় ঘাঁটির মতো নয়, বরং ছোট আকারের নৌযান মোতায়েনের জন্য পৃথক ইউনিট হিসেবে কার্যকর হবে) হিসেবে কাজ করবে। এখানে মূলত ছোট আকারের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে।

এই নৌ ঘাঁটির জন্য হলদিয়ার বিদ্যমান ডক কমপ্লেক্স ব্যবহার করা হবে। এতে অতিরিক্ত অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন কম হবে। তাই ঘাঁটিতে দ্রুত কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি নির্দিষ্ট জেটি নির্মাণ এবং জাহাজ ও নৌসেনাদের কার্যক্রম পরিচালনার যাবতীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

হলদিয়ার এই নৌঘাঁটিতে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট (এফআইসি) এবং ৩০০ টন ওজনের নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট মোতায়েন করা হতে পারে। এসব উচ্চগতির যুদ্ধবিমানগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে সক্ষম এবং দ্রুততার সঙ্গে সামুদ্রিক অভিযানে সাড়া দেওয়ার মতো সক্ষম করে তৈরি করা হয়েছে।

এই জাহাজগুলিতে সিআরএর-৯১ কামান থাকবে। এসব কামানকে নাগাস্ত্রের মতো লয়টারিং মিউনিশন ব্যবস্থায় সজ্জিত করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এর ফলে লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালানো এবং নজরদারি আরও কার্যকর হবে।

সূত্রঃ ইন্ডিয়া টুডে

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

তাইওয়ান দখলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদুরো মডেল’ অনুকরণ করতে পারে চীনঃ বিশেষজ্ঞের সতর্কতা

তাইওয়ান দখলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদুরো মডেল’ অনুকরণ করতে পারে চীন—বিশেষজ্ঞের সতর্কতা
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক সামরিক অভিযান বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

 

সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এক মার্কিন বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, বেইজিং চাইলে এই ‘মাদুরো মডেল’ ব্যবহার করে তাইওয়ানের নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারির ভোরে ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ নামে পরিচিত অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করে। এফ-২২ ও এফ-৩৫ স্টেলথ ফাইটার, বি-১বি ল্যান্সার বোমারু বিমান এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা ব্যবহার করে ফোর্ট তিউনা সামরিক ঘাঁটি ও লা কার্লোটা বিমানবন্দরকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

অভিযানের স্থলপর্যায়ে ডেল্টা ফোর্স কমান্ডোরা কারাকাসে মাদুরোর সুরক্ষিত বাসভবনে ঢুকে তাকে এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে। নিরাপদ কক্ষ ভেঙে ঘুমন্ত অবস্থায় এই আটক অভিযান সম্পন্ন হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আটক করার পর মাদুরোকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আইও জিমায় নেওয়া হয় এবং পরে নিউইয়র্কে আদালতে হাজির করা হয়।

বেলমন্ট অ্যাবি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তা ড. ক্লার্ক এইচ সামার্স মনে করেন, এই অভিযান চীনের জন্য একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে। তার মতে, চীন যদি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে কোনো আন্তর্জাতিক অপরাধে অভিযুক্ত করে, তবে তা জোরপূর্বক আটক বা ‘আইন প্রয়োগমূলক’ পদক্ষেপের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।

ড. সামার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি না করেও এমন অভিযান চালিয়েছে, অথচ চীন ইতোমধ্যেই তাইওয়ানের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি করে। ফলে বেইজিংয়ের কাছে এমন অভিযানের জন্য আরও কম রাজনৈতিক ও আইনি ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতে পারে। তার ভাষায়, চীনের জন্য মূল প্রশ্ন কখনোই ন্যায্যতা নয়, বরং সফলতার সম্ভাবনা।

এই অভিযানে চীনা সরবরাহকৃত ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাও প্রকাশ্যে এসেছে। জেওয়াই-২৭ অ্যান্টি-স্টেলথ রাডার এবং বুক-এম২ই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মার্কিন স্টেলথ বিমানের গতিবিধি কার্যকরভাবে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি পিপলস লিবারেশন আর্মির জন্য বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রযুক্তির সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।

ড. সামার্সের মতে, এই ব্যর্থতা স্বল্পমেয়াদে চীনের জন্য বিব্রতকর হলেও দীর্ঘমেয়াদে উপকারী হতে পারে। কারণ এতে চীন ভবিষ্যতে তাইওয়ান সংক্রান্ত কোনো অভিযানের আগে নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত ও সংশোধনের সুযোগ পাবে।

ভেনেজুয়েলা অভিযানের সময়ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি শক্ত অবস্থানে ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের অধীনে একাধিক নৌবহর ও বিমানবাহী রণতরী প্রস্তুত থাকায়, তাৎক্ষণিকভাবে তাইওয়ান প্রতিরক্ষায় কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই অভিযানের প্রতিক্রিয়া তীব্রভাবে বিভক্ত। চীন ও রাশিয়া এটিকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন বলে নিন্দা করলেও পশ্চিমা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধের পর এই ধরনের সমালোচনার নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বেইজিং সরাসরি সামরিক সংঘাতের বদলে যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করবে যে তাইওয়ান রক্ষার মূল্য অত্যন্ত বেশি। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার পথ খোঁজা হতে পারে।

ভেনেজুয়েলায় অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও এই অভিযানের শিক্ষা বিশ্বজুড়ে আলোচিত হচ্ছে। শি জিনপিংয়ের ‘পুনরেকত্রীকরণ’ লক্ষ্য অটল থাকায়, তাইওয়ান প্রণালীতে হঠাৎ ও দ্রুত অভিযানের আশঙ্কা আগের চেয়ে আরও বাস্তব হয়ে উঠছে—যা তাইপের জন্য যেমন সতর্কবার্তা, তেমনি বিশ্ব রাজনীতির জন্য নতুন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে