Categories
আন্তর্জাতিক

‘চুক্তি করো, নইলে তেল-অর্থ শূন্য’’—কিউবাকে কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

কিউবাকে ‘চুক্তি করতে’ সরাসরি আহ্বান জানিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কিউবা যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে না আসে, তবে ভেনেজুয়েলা থেকে দেশটিতে তেল ও অর্থের প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।

 

৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকেই কিউবাকে ঘিরে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের মিত্র ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল কিউবায় পাঠাত বলে ধারণা করা হয়, যা দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থার একটি বড় ভরসা ছিল।

ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই একাধিক তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে। সর্বশেষ শুক্রবার পঞ্চম একটি ট্যাংকার আটক করা হয়, যা কিউবাগামী ভেনেজুয়েলার নিষিদ্ধ তেল বহন করছিল বলে দাবি করে ওয়াশিংটন। এই পদক্ষেপের ফলে কিউবায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলার তেল ও অর্থের ওপর নির্ভর করে টিকে ছিল এবং এর বিনিময়ে দেশটি ভেনেজুয়েলার শেষ দুই স্বৈরশাসকের জন্য নিরাপত্তা সেবা দিয়েছে। তিনি ঘোষণা দেন, এখন থেকে কিউবায় আর কোনো তেল বা অর্থ যাবে না এবং ‘দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই’ দেশটিকে চুক্তি করতে হবে।

তবে ট্রাম্প কী ধরনের চুক্তির কথা বলছেন বা কিউবা চুক্তিতে না এলে কী পরিণতির মুখে পড়তে পারে—সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

এদিকে কিউবা এই হুমকিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, কিউবার যে কোনো দেশের কাছ থেকে জ্বালানি আমদানির পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ও জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। তিনি আরও বলেন, কিউবা ব্ল্যাকমেইল কিংবা সামরিক চাপের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেলও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যারা মানবজীবনকেও ব্যবসায় পরিণত করে, তাদের কিউবার বিরুদ্ধে নৈতিক ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। কিউবার জনগণ নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা বেছে নেওয়ার সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা অভিযানে নিহত কিউবান নাগরিকদের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন, মাদুরোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত কিউবানদের বড় অংশ ওই অভিযানে নিহত হয়েছে এবং ভেনেজুয়েলাকে আর কিউবার নিরাপত্তা সেবার প্রয়োজন নেই। তবে কিউবা সরকার জানায়, তারা কোনো দেশকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে কখনো অর্থ বা বস্তুগত সুবিধা নেয়নি।

কিউবা বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভবিষ্যৎ কৌশল স্পষ্ট না হলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন, হাভানার শাসকগোষ্ঠীর জন্য পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক’। একই সঙ্গে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্যও শেয়ার করেছেন, যেখানে রুবিওকে ভবিষ্যতের কিউবার নেতা হিসেবে কল্পনা করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, কিউবাকে ঘিরে এই চাপ ট্রাম্পের পুনরুজ্জীবিত ‘মনরো ডকট্রিন’-এরই অংশ, যাকে তিনি ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে লাতিন আমেরিকার বামপন্থী সরকারগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এই নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্ক বৈরিতার মধ্যেই রয়েছে। বারাক ওবামার আমলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে কিউবাকে আবার সন্ত্রাসে মদদদাতা রাষ্ট্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে সূর্যের আলো কম, ভিটামিন ডি’র ঘাটতি বেশিঃ শীতকালীন সতর্কতা জারি

শীত ও অন্ধকার মৌসুমে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)। হাড়, দাঁত ও পেশি সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় এই ‘সানশাইন ভিটামিন’ পর্যাপ্ত মাত্রায় না পেলে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—উভয়ের ক্ষেত্রেই গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগে হাড়ের বিকৃতি দেখা দিতে পারে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্টিওম্যালাসিয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদি হাড়ের ব্যথা ও দুর্বলতা তৈরি হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্চের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সূর্যের আলো থেকে শরীর নিজেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে। তবে অক্টোবর থেকে মার্চের শুরুর দিক পর্যন্ত সূর্যের আলো পর্যাপ্ত না হওয়ায় এই প্রক্রিয়া কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে শীতকালে সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ ভিটামিন ডির ঘাটতিতে ভোগে।

সরকারি পরামর্শ অনুযায়ী, শরৎ ও শীতকালে প্রত্যেকেরই প্রতিদিন ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার কথা বিবেচনা করা উচিত। এনএইচএস জানায়, বর্তমানে প্রতি ছয়জনের মধ্যে মাত্র একজন নিয়মিত ভিটামিন ডি গ্রহণ করেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছেন ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশু, এক বছরের কম বয়সী শিশুরা (যদি তারা প্রতিদিন ৫০০ মিলিলিটারের বেশি ফর্মুলা দুধ না খায়), বয়স্ক ও ঘরবন্দী মানুষ, কেয়ার হোমে বসবাসকারীরা এবং যারা বাইরে গেলে শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঢেকে রাখেন। এছাড়া আফ্রিকান, আফ্রো-ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত গাঢ় ত্বকের মানুষদের ক্ষেত্রেও সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি তৈরির সক্ষমতা তুলনামূলক কম।

এনএইচএস জানায়, খাবারের মাধ্যমেও আংশিকভাবে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। তেলযুক্ত মাছ যেমন স্যামন ও ম্যাকেরেল, লাল মাংস, ডিমের কুসুম এবং ফোর্টিফায়েড সিরিয়াল ও স্প্রেড এই ভিটামিনের উৎস। তবে শীতকালে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় মাত্রা পূরণ করা কঠিন।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, এক বছর বয়স থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ১০ মাইক্রোগ্রাম (৪০০ IU) ভিটামিন ডি যথেষ্ট। এক বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রয়োজন ৮.৫ থেকে ১০ মাইক্রোগ্রাম। তবে মাত্রাতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এনএইচএস।

দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমে হাইপারক্যালসেমিয়া তৈরি হতে পারে, যা হাড় দুর্বল করার পাশাপাশি কিডনি ও হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে ১০০ মাইক্রোগ্রামের বেশি গ্রহণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।

এনএইচএস আরও জানিয়েছে, সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি গ্রহণে ওভারডোজের ঝুঁকি নেই। তবে দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে ত্বক রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে ত্বকের ক্ষতি ও ত্বক ক্যানসারের ঝুঁকি এড়ানো যায়। ভিটামিন ডি গ্রহণ নিয়ে কারও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটিশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

সূত্রঃ দ্য মেট্রো

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

২৫ বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করে সাজাপ্রাপ্ত হওয়া অবশিষ্ট ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ক্ষমা করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।

রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকায় অবস্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ক্ষমার মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জেরে আমিরাতে সাজাপ্রাপ্ত সব বন্দি মুক্ত হলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মানবিক বিবেচনায় ওই বাংলাদেশিদের ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নেন ইউএই প্রেসিডেন্ট। তারা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আমিরাতে কর্মসূচিতে অংশ নেন। এতে দেশটির আইন লঙ্ঘিত হওয়ায় তাদের গ্রেফতার করে বিচার করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঘটনাবলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে দণ্ডিত বাংলাদেশিদের ক্ষমা প্রদানের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায়।

ইউএই দূতাবাস জানায়, ক্ষমাপ্রাপ্ত ২৫ জন বাংলাদেশির সবাইকে মুক্তি দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই মানবিক উদ্যোগ সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বের করুণা, সহনশীলতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার গভীর ও ভ্রাতৃসুলভ সম্পর্কেরও প্রমাণ।

এর আগেও আমিরাতে বিরল এক প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার দায়ে দণ্ডিত বাংলাদেশিদের কয়েক দফায় ক্ষমা করেছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

সূত্রঃ গালফ নিউজ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

মাদুরো স্টাইলে পুতিনকে ‘অপহরণের’ হুমকি ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘অপহরণের’ হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক দিনের সফরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কিয়েভের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে পরিদর্শনের সময় তিনি কিয়েভ ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেন, যদি কোনো বিশ্বনেতাকে অপহরণের সুযোগ থাকত, তবে তিনি ‘পুতিনকে হেফাজতে নিতেন এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য তার বিচার নিশ্চিত করতেন’।

তিনি আরও বলেন, ‘পুতিনকে থামাতে হবে। এই যুদ্ধ থামাতে হবে। আর আমাদের মিশন হলো আজ ইউক্রেনকে তাদের লড়াইয়ে সমর্থন দেয়া এবং শান্তি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা।’

গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই পুতিনকেও একই কায়দায় তুলে নেয়ার বিষয়টি ইউরোপীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রকে পুতিনের জন্য ‘একই ধরনের পরিকল্পনা’ গ্রহণ করতে বলেছিলেন। এবার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সরাসরি পুতিনকে ‘অপহরণের’ ইচ্ছে জাহির করলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য পুতিনের বিরুদ্ধে মাদুরোর মতো পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে পুতিনের কর্মকাণ্ডে তিনি ‘হতাশ’ হলেও তেমন কোনো পদক্ষেপের ‘প্রয়োজন নেই’।

২০২৩ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইউক্রেনীয় শিশুদের অপহরণের অভিযোগে রুশ প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পুতিনের বিরুদ্ধে ‘শত শত’ ইউক্রেনীয় শিশুকে জোরপূর্বক রাশিয়ায় স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেবে ইউরোপ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

 

রোববার (১১ ডিসেম্বর‍) সানডে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, কোম্পানিগুলো ছাড়াও নিষেধাজ্ঞার আরেক বিকল্প হতে পারে ইউরোপে, মধ্যপ্রাচ্যে এবং অন্যত্র অভিযানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘স্টেজিং পোস্ট’ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়া।

প্রতিবেদন অনুসারে, মেটা, গুগল, মাইক্রোসফ্ট এবং এক্স-এর মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের ইউরোপে কার্যক্রম পরিচালনা স্থগিত করা- আমেরিকান ব্যাংক এবং আর্থিক সংস্থাগুলোও এর আওতায় পড়তে পারে।

ট্রাম্প গত বছরের মার্চে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে সংযুক্ত করবে। তার মতে, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত।

তিনি হুমকি দিয়েছেন, ডেনমার্ক যদি দ্বীপটি ছেড়ে না দেয় তবে তার ওপর উচ্চ বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করা হবে। এমনকি তার প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রত্যাখ্যান করে জোর দিয়ে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ এবং এর অংশই থাকবে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের পূর্বানুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে নয়ঃ হাইকোর্ট

বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না—মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত এই বিধান বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রুল খারিজ করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রতি রায় ঘোষণা করেন।

 

এর আগে ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়। রিটে বলা হয়, বহুবিবাহের ক্ষেত্রে সালিশি কাউন্সিলের অনুমতির বিধান সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিবাহ বলবৎ থাকা অবস্থায় তিনি সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া নতুন কোনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া সম্পাদিত কোনো বিয়েই মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন, ১৯৭৪-এর অধীনে নিবন্ধনযোগ্য নয়।

আইনে আরও বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি চাইলে নির্ধারিত ফিসহ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে এবং সেখানে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না—তা উল্লেখ করতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারী ও বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের প্রতিনিধি মনোনয়নের মাধ্যমে সালিশি কাউন্সিল গঠন করবেন।

সালিশি কাউন্সিল যদি মনে করে প্রস্তাবিত বিয়ে প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সঙ্গত এবং যুক্তিসংগত শর্ত পূরণ হয়েছে, তাহলেই কেবল অনুমতি দিতে পারবে। সিদ্ধান্তের কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সহকারী জজের কাছে রিভিশনের সুযোগ থাকবে, যার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।

আইনে আরও উল্লেখ রয়েছে, সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্পূর্ণ দেনমোহর তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে বকেয়া ভূমি রাজস্ব হিসেবে আদায়যোগ্য হবে। পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী ইশরাত হাসান শুনানিতে বলেন, এখানে নারীর সাংবিধানিক অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। ইসলামে বহুবিবাহের অনুমতি থাকলেও সেখানে সব স্ত্রীদের প্রতি সমান সুবিচারের কঠোর শর্ত রয়েছে, যা বর্তমান আইনে কার্যকরভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। তিনি মালয়েশিয়ার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে আদালতের মাধ্যমে সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করে অনুমতি দেওয়া হয়, যা চেয়ারম্যানভিত্তিক ব্যবস্থায় সম্ভব নয়।

এই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন। রুলে পারিবারিক জীবন রক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে বহুবিবাহ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা এবং স্ত্রীদের মধ্যে সম-অধিকার নিশ্চিত না করে অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়।

রুলের শুনানি শেষে গত ২০ আগস্ট হাইকোর্ট রুলটি খারিজ করেন। ফলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা বহাল থাকলো বলে জানান আইনজীবী ইশরাত হাসান। তবে তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, রিটটি নারীদের সম্মান, অধিকার এবং পারিবারিক সুরক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে দায়ের করা হয়েছে এবং এটিকে জনস্বার্থে করা রিট হিসেবে গণ্য করা হলো। আদালত আরও উল্লেখ করেন, সালিশি কাউন্সিলের স্ত্রী বা স্ত্রীদের বক্তব্য শোনার ক্ষমতা রয়েছে এবং কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সিভিল জজের কাছে রিভিশন ও পরবর্তীতে হাইকোর্টে রিট করার সুযোগও বিদ্যমান।

আদালত বলেন, সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে দেনমোহর আদায় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান সমাজে সচেতনতা তৈরি করবে। যদিও আইনে অভিযোগকারী নির্দিষ্ট করা হয়নি, তবে প্রচলিত বিচারব্যবস্থা অনুযায়ী আগের স্ত্রীই অভিযোগকারী হবেন।

রায়ে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারার প্রসঙ্গও উঠে আসে, যেখানে বহুবিবাহের জন্য সাত বছরের সাজার বিধান রয়েছে। আদালত বলেন, ইসলামী আইনে পুরুষের বহুবিবাহ নিষিদ্ধ নয়, ফলে সাজায় পার্থক্য থাকলেও তা বৈষম্যমূলক নয়।

হাইকোর্ট রায়ে সুরা আন-নিসার ৩ নম্বর আয়াত এবং বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফের একাধিক হাদিসের রেফারেন্স উল্লেখ করেন। পাশাপাশি শাফী ও হানাফি মাজহাবের স্কলারদের অভিমত তুলে ধরে বলা হয়—অর্থনৈতিক সামর্থ্য ও সব স্ত্রীকে সমান মর্যাদা দেওয়ার সক্ষমতা না থাকলে একজন পুরুষের একাধিক বিয়ে করা উচিত নয়।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, তিউনিশিয়া ১৯৫৭ সালে এবং তুরস্ক ১৯২৬ সালেই বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করেছে। এর আগেও হাইকোর্ট সরকারকে বহুবিবাহ আইন সংশোধন বা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তবে বর্তমান কাঠামোয় সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি নাকচ করার ক্ষমতা থাকায় আইনটি বৈষম্যমূলক নয় এবং সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক নয়।

এসব বিবেচনায় হাইকোর্ট ঘোষণা করেন, বহুবিবাহ সংক্রান্ত বর্তমান আইন সংবিধান পরিপন্থি নয় এবং এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করা হলো।

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন কমাতে গিয়ে ২০ বিলিয়ন পাউন্ডের রাজস্ব ঝুঁকিঃ কর বাড়ার আশঙ্কায় ব্রিটেন

ব্রিটেনের নতুন অভিবাসন নীতি ও কঠোর বিধিনিষেধ দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিকভাবে ‘সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ’ ও ‘নেট জিরো মাইগ্রেশন’ স্লোগান জনপ্রিয়তা পেলেও, অর্থনৈতিক বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতির ফল হিসেবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই সরকারকে ব্যাপক কর বৃদ্ধির পথে হাঁটতে হতে পারে।

 

অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস (ONS)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে ব্রিটেনে নেট অভিবাসন ৬ লাখ ৪৯ হাজার থেকে কমে ২ লাখ ৪ হাজারে নেমে এসেছে, যা প্রায় ৬৮ শতাংশ হ্রাস। অর্থনৈতিক গবেষণাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী এক দশকে ব্রিটিশ কোষাগারে প্রায় ২০ বিলিয়ন পাউন্ড রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এই ঘাটতি পূরণে চ্যান্সেলরের সামনে কর বৃদ্ধি ছাড়া কার্যত আর কোনো বাস্তবসম্মত পথ থাকবে না।

রাজনৈতিক অঙ্গনে অভিবাসন বিরোধী বক্তব্যকে অনেকেই ইউরোপজুড়ে উত্থানশীল উগ্র-ডানপন্থী বয়ানের অংশ হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এই বয়ানের আড়ালে চাপা পড়ে যাচ্ছে ব্রিটেনের অর্থনীতির নির্ভরশীল কাঠামো। বাস্তবতা হলো—দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসী শ্রমশক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS), কেয়ার হোম, সোশ্যাল কেয়ার এবং টিচিং কেয়ার খাতে অভিবাসীদের অবদান অপরিহার্য। গবেষণা বলছে, স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ কর্মীদের মধ্যে এসব খাতে কাজ করার আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে অভিবাসীরা কারও চাকরি দখল করছে—এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বরং তারা সেই শূন্যস্থান পূরণ করছে, যা না থাকলে রাষ্ট্রীয় সেবাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

গত এক বছরে স্বাস্থ্য ও কেয়ার ভিসার সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তে কর্মসংস্থান বাড়েনি। বরং হাসপাতাল, কেয়ার হোম ও সামাজিক সেবায় জনবল সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর—চিকিৎসা পেতে দেরি, কেয়ার সুবিধা সীমিত হওয়া এবং সেবার মানে অবনতি দেখা দিচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবিত ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ নীতি নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (ILR) পাওয়ার সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বা ১৫ বছর করার প্রস্তাব অভিবাসী পেশাজীবীদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। যেখানে একজন অভিবাসীকে মাত্র একবার আবেদন করতেই ৩ হাজার ২৯ পাউন্ড ফি দিতে হয় এবং নিয়মিত উচ্চ হারে ট্যাক্স প্রদান করতে হয়, সেখানে দীর্ঘ ১৫ বছর নাগরিকত্বহীন অবস্থায় রাখা ন্যায়সংগত নয় বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক দক্ষ জনশক্তি ক্রমেই ব্রিটেনের বদলে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইউরোপের অন্যান্য দেশের দিকে ঝুঁকছে। এর ফলে ব্রিটেন ভবিষ্যতে মেধা সংকট ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

গত কয়েক বছরে ব্রিটেন–বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী এবং বিশেষ করে কেয়ার খাতের কর্মী ব্রিটেনে এসেছেন। কেবল গত এক বছরেই কয়েক হাজার বাংলাদেশি এই খাতে যুক্ত হয়েছেন।

নতুন অভিবাসন নীতি ও আইএলআর-এর সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব তাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও মানসিক চাপ তৈরি করেছে।
এই অনিশ্চয়তা শুধু অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকেও অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে ফেলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণের একটি বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে ‘ফেয়ার সেটেলমেন্ট’ নীতি। নির্দিষ্ট সময় কাজ ও ট্যাক্স প্রদানের পর অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে, তবে শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত সরকারি বেনিফিট বা ফান্ড ব্যবহারের ওপর সীমাবদ্ধতা রাখা যেতে পারে।

এতে একদিকে অভিবাসীরা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, ঘরবাড়ি কেনা ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আত্মবিশ্বাস পাবেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় কল্যাণ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না। একই সঙ্গে এই নীতি ব্রিটেনের রাজস্ব ঘাটতি কমাতে এবং অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়ক হতে পারে।

সূত্রঃ ও এন এস

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইরান অস্থিতিশীল করতে গোপন অভিযান ও হামলার বিকল্প বিবেচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানে চলমান নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও ব্যাপক প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। মার্কিন সরকারি কর্মকর্তারা ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনা বিবেচনা করেছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং হামলার আগে সামরিক সরঞ্জাম সরানোর মতো দৃশ্যমান পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

 

সাবেক পেন্টাগন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলে তেহরানকে অস্থিতিশীল করতে গোপন সিআইএ অভিযান অনুমোদন দিতে পারেন অথবা ইসরায়েলকে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার অনুমতি দিতে পারেন। এই সম্ভাবনাগুলো ওয়াশিংটনে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে, যদিও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এ নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়নি।

শনিবার ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান “স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে” এবং যুক্তরাষ্ট্র “সহায়তা দিতে প্রস্তুত”। তার এই মন্তব্য মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পুনরায় শেয়ার করলে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর একদিন আগেই ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান “বড় বিপদে” রয়েছে এবং তিনি সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন—এমন ইঙ্গিতও দেন।

এই উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় জার্মানি থেকে দুটি মার্কিন C-17A সামরিক পরিবহন বিমান মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রা করে, যা সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা বাড়িয়ে দেয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এসব উড্ডয়নকে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে স্বীকার করেনি।

অন্যদিকে, ইরানে শাসকগোষ্ঠীর কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেও বিক্ষোভ থামেনি। শনিবার রাতে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে টানা ১৪তম দিনের মতো হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। বিক্ষোভকারীরা “স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক” এবং “মোল্লারা মরার আগ পর্যন্ত দেশ মুক্ত হবে না”—এমন স্লোগান দেয়। ঘরে থাকার নির্দেশ অমান্য করে তারা রাস্তায় নামায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের গুলিতে হতাহতের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

চিকিৎসকদের তথ্যমতে, দেশজুড়ে হাসপাতালগুলো গুলিবিদ্ধ আহতদের ভিড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে নিশ্চিত ৫১ জন নিহতের সংখ্যা প্রকৃত মৃত্যুর তুলনায় অনেক কম বলে তারা মনে করছেন।

বহু পরিবার ভয় ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মৃত্যুর খবর জানাতে পারছে না। আহত বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। রক্তের তীব্র সংকটের কারণে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু একটি হাসপাতালেই এক রাতে ৭০টি মরদেহ আনা হয়। অযাচাইকৃত হিসাবে নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বিক্ষোভকারীদের চোখ লক্ষ্য করে গুলি করছে—যা ২০২২ সালের “নারী, জীবন, স্বাধীনতা” আন্দোলনের সময়ও দেখা গিয়েছিল। তবুও ভয় উপেক্ষা করে মানুষ রাস্তায় নামছে, মহাসড়কে আগুন জ্বালাচ্ছে এবং সরকারবিরোধী স্লোগানে শহরের বিভিন্ন এলাকা মুখর করে তুলছে।

এই আন্দোলনে অনেক তরুণ ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। ১৭ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্র উত্তর ইরানে গুলিতে প্রাণ হারায়, অন্যদিকে দেশের ভিন্ন প্রান্তে দুই সন্তানের এক মা নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। এসব ঘটনা বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে আন্দোলনকে আরও সংগঠিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, কেবল রাস্তায় নামাই নয়, বরং শহরের কেন্দ্রগুলো দখল ও ধরে রাখার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এসেছে।

এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে এই অস্থিরতার পেছনে দায়ী করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, বিদেশি ষড়যন্ত্র ও বিরোধী গোষ্ঠীর সহায়তায় দেশের নিরাপত্তা নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। সেনাবাহিনী ঘোষণা দিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে তারা কৌশলগত স্থাপনা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শিরিন এবাদি সতর্ক করে বলেছেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী বড় ধরনের সহিংসতা চালাতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ইরানের ভেতরে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে আরও অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ইরানবিরোধী আন্দোলনের ঢেউ লন্ডনেঃ দূতাবাস থেকে নামানো হলো তেহরানের পতাকা

লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে নাটকীয় বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এক বিক্ষোভকারী দূতাবাস ভবনের সামনের অংশ বেয়ে উঠে ব্যালকনিতে পৌঁছে ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পতাকা নামিয়ে ফেলেন এবং তার পরিবর্তে প্রাক্-বিপ্লবী ইম্পেরিয়াল ইরানের ‘সিংহ ও সূর্য’ প্রতীকযুক্ত পতাকা উত্তোলন করেন। এই পতাকাটি বহু বছর ধরে ইরানি সরকার নিষিদ্ধ করে রেখেছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, হাইড পার্কের বিপরীতে অবস্থিত দূতাবাস ভবনের সামনে জড়ো হওয়া শত শত ইরানবিরোধী সমর্থক ওই বিক্ষোভকারীকে উল্লাস ও স্লোগানের মাধ্যমে উৎসাহ দেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতেই এই প্রতীকী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় দূতাবাস এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্তত ১৩টি টেরিটোরিয়াল পুলিশ ভ্যান ও পাঁচটি নিয়মিত পুলিশ ভ্যান মোতায়েন করা হয়। দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—একজনকে গুরুতর অনধিকার প্রবেশ ও জরুরি সেবাকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগে এবং অন্যজনকে গুরুতর অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জানায়, বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি এবং দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা এলাকায় অবস্থান করছেন।

বিক্ষোভকারীর উত্তোলিত পতাকাটি বর্তমানে ইরানের গণতান্ত্রিক বিরোধী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। পতাকাটিতে সবুজ, সাদা ও লাল রঙের মাঝে সূর্যের সামনে তলোয়ারধারী একটি সিংহের প্রতীক রয়েছে। কিছু সময় পর দূতাবাসের এক কর্মকর্তা ভবনের ভেতর থেকে ব্যালকনিতে উঠে পতাকাটি নামিয়ে ফেলেন, এ সময় ভিড়ের মধ্য থেকে দুয়োধ্বনি শোনা যায়।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয় গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে। কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনে ডজনখানেক মানুষ নিহত এবং ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, দমনমূলক নীতি ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার অভাব এই আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

লন্ডনের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিক মোরাদ আলিজানি জানান, ইরানে তার বৃদ্ধ বাবা-মা বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন, যা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, “এটা শুধু প্রতিবাদ নয়, এটা একটি বিপ্লব। তরুণ প্রজন্ম আর ভয় পাচ্ছে না।” তিনি ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড নিষিদ্ধ না করার সমালোচনা করেন।

আরেক বিক্ষোভকারী, ৩৪ বছর বয়সী ইরানি চিকিৎসক সেপি দোরোস্তকার বলেন, ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তার মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এবারের আন্দোলন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা।

বিক্ষোভ চলাকালে দূতাবাসের বাইরে পাহলভি রাজবংশের পতাকা হাতে মোটরসাইকেল মিছিল দেখা যায়। কয়েকজন বিক্ষোভকারী ইসরায়েলের পতাকাও বহন করেন। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই দাবি করেন, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পতন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সম্ভাব্য হয়ে উঠেছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ইরানে বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তেহরানকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তিনি বিক্ষোভকারীদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানান এবং মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, লন্ডনে ইরানি দূতাবাসে এই প্রতীকী পতাকা বদলের ঘটনা শুধু প্রবাসী ইরানিদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরানবিরোধী চাপ আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটিশ ক্যাম্পাসে ইউএই শিক্ষার্থী কমছেঃ পেছনে মুসলিম ব্রাদারহুড বিরোধ

মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করতে যুক্তরাজ্যের অস্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার জন্য নিজ দেশের নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় অর্থায়ন সীমিত করেছে।

 

ফাইন্যানশিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবুধাবি রাষ্ট্রীয় বৃত্তির জন্য অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাদ দিয়েছে। একই তালিকায় ইসরায়েল, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে, যা ইউএই-এর নীতিগত অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের সংখ্যায় পড়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য ইউএই থেকে ২১৩ জন শিক্ষার্থী ভিসা পেয়েছেন, যা ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ৫৫ শতাংশ কম। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল শিক্ষানীতির পরিবর্তন নয়, বরং কূটনৈতিক সম্পর্কে গুরুতর অবনতির ইঙ্গিত।

ফাইন্যানশিয়াল টাইমস উদ্ধৃত সূত্রগুলোর দাবি, আমিরাতি কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ—ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাদের সন্তানরা ‘চরমপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত’ হতে পারে। এই অবস্থানের জবাবে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা একাডেমিক স্বাধীনতা ও মুক্ত চিন্তার পরিবেশ রক্ষার গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন।

এই বিরোধের মূল কেন্দ্রে রয়েছে মুসলিম ব্রাদারহুড ইস্যু। ইউএই দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যকে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। গত ডিসেম্বরে আবুধাবি এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজের আবুধাবি সফরের ব্যয় বহন করে, যেখানে তিনি শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডবিরোধী অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন।

জাতীয় জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা রিফর্ম ইউকে ক্ষমতায় গেলে মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের লেবার সরকার জানিয়েছে, সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি তারা ‘ঘনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনা’ করছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

মুসলিম ব্রাদারহুড প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৮ সালে মিসরের কায়রোতে এবং এটি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ইসলামপন্থী সংগঠন হিসেবে পরিচিত। সংগঠনটি নিজেকে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী বলে দাবি করলেও মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার একাধিক দেশ—মিসর, সৌদি আরব, বাহরাইন ও ইউএই—এটিকে নিষিদ্ধ করেছে।

২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যের সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি এক প্রতিবেদনে রাজনৈতিক ইসলামপন্থীদের সহিংস চরমপন্থার বিরুদ্ধে ‘ফায়ারওয়াল’ হিসেবে উল্লেখ করে তাদের সঙ্গে সংলাপের পক্ষে মত দিয়েছিল। তবে সেই তদন্তের পেছনেও ইউএই-এর লবিং ভূমিকা রেখেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে অহিংস রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য ইউএই-এর চাপ নতুন নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দেশটি আটটি ব্রিটিশ সংগঠনকে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করে, যদিও এসব সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ আইনে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষাখাতে এই অর্থায়ন কড়াকড়ি শুধু শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, বরং যুক্তরাজ্য–ইউএই সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। একদিকে একাডেমিক স্বাধীনতা, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক আনুগত্য—এই দ্বন্দ্ব এখন কূটনৈতিক সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।

সূত্রঃ মিডল ইস্ট আই

এম.কে