Categories
স্পোর্টস

আইসিসির চিঠিতেই প্রমাণ—ভারতে বাংলাদেশের খেলার মতো নিরাপদ পরিবেশ নেইঃ ক্রীড়া উপদেষ্টা

আইসিসির নিরাপত্তা টিমের দ্বিতীয় চিঠিকে কেন্দ্র করে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। চিঠিতে উত্থাপিত শর্ত ও নিরাপত্তা আশঙ্কার প্রেক্ষিতে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এসব শর্ত মেনে কোনো অবস্থাতেই ভারতে জাতীয় দল পাঠানো হবে না।

 

আইসিসির নিরাপত্তা টিম সরকারের কাছে পাঠানো চিঠিতে একাধিক গুরুতর বিষয় উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিশ্বকাপ চলাকালে মোস্তাফিজুর রহমানকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ, বাংলাদেশি সমর্থকদের বাংলাদেশ দলের জার্সি পরে ভারতে প্রকাশ্যে চলাফেরা না করার সতর্কতা এবং ভারতের নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে—এমন আশঙ্কা।

এই চিঠির প্রতিক্রিয়ায় যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা সাফ জানিয়ে দেন, আইসিসির এসব প্রত্যাশা বাস্তবতা-বিবর্জিত ও অযৌক্তিক। তিনি বলেন, কেবল এই চিঠিই প্রমাণ করে দেয় যে ভারতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো পরিস্থিতি নেই। একজন দলের সেরা বোলারকে বাদ দেওয়া, সমর্থকদের জাতীয় জার্সি পরার অধিকার খর্ব করা কিংবা ক্রিকেট খেলার স্বার্থে দেশের নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ধারণা—এসব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সোমবার রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, আইসিসির নিরাপত্তা টিমের বক্তব্য সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে ভারতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলার উপযুক্ত পরিবেশ নেই।

তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৬ মাস ধরে ভারতে যে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা ও উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তার প্রেক্ষাপটে সেখানে ক্রিকেট খেলা বাংলাদেশের জন্য কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, ক্রিকেট খেলার ওপর কোনো দেশ বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া আধিপত্য থাকা উচিত নয়। কেবল বাজার ব্যবস্থার ভিত্তিতে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারণ করা যায় না। আইসিসি যদি সত্যিকার অর্থে একটি বৈশ্বিক সংস্থা হয়ে থাকে এবং যদি তারা এককভাবে ভারতের ইচ্ছার ওপর নির্ভর না করে, তবে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সুযোগ দেওয়া উচিত।

ক্রীড়া উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানান, এই প্রশ্নে বাংলাদেশ কোনো ধরনের আপস করবে না। যেখানে খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নেই, সেখানে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে মাথা নত করে ক্রিকেট খেলতে বাংলাদেশ প্রস্তুত নয়। তার ভাষায়, ভারতের কোনো জায়গাতেই এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ ক্রিকেট পরিবেশ নেই।

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইরানে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা চীনের, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির আহ্বান

ইরানে বিদেশি ‘হস্তক্ষেপের’ বিরোধিতা করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে চীন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা সবসময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে সহায়ক- এমন কাজ আরও বেশি করে করার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।’

এর আগে ইরানে বিক্ষোভকারীদের ‘হত্যা করা হলে’ সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই হুমকির পর বেইজিং এই প্রতিক্রিয়া জানালো।

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইরানের পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’, সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত খুঁজছেন ট্রাম্পঃ আরাঘচি

ইরানজুড়ে চলমান নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও অস্থিরতা কাটিয়ে দেশের পরিস্থিতি এখন ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই দাবি করেন। আরাঘচি জানান, গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মাত্রা ব্যাপক বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে রক্তাক্ত ও সহিংস করা হয়েছে, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করার একটি ‘অজুহাত’ তৈরি করতে পারেন।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বর্তমান সংকট নিরসনে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে সংলাপের পথও খোলা রেখেছি।’ তিনি আরও জানান যে, বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সারা দেশে দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা পুনরায় চালু করার কাজ চলছে।

বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দূতাবাস এবং সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোতে খুব শীঘ্রই ইন্টারনেট সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করেন। এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার দেশজুড়ে কঠোর অবস্থান নেয় এবং কয়েক দিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন রাখে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে তাকে ইতিহাসের কুখ্যাত ও অহংকারী স্বৈরশাসকদের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

খামেনি তার পোস্টে লিখেছেন, ‘যিনি দম্ভের সঙ্গে বসে সারা বিশ্বকে বিচার করছেন, তিনি জেনে রাখুন—ফেরাউন, নমরুদ ও রেজা শাহর মতো অহংকারী শাসকেরা যখন ক্ষমতার চূড়ায় ছিলেন, তখনই তাদের পতন হয়েছিল। তার (ট্রাম্প) পতনও অনিবার্য।’ খামেনির এই মন্তব্য ট্রাম্পের ‘গ্রেট ইরান’ গড়ার আহ্বানের বিপরীতে তেহরানের অনমনীয় অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আরাঘচির আজকের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান এখন বহির্বিশ্বের কাছে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

একই সঙ্গে ট্রাম্পের সামরিক হুমকির মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক আলোচনার পথ দুটোই খোলা রাখার কৌশল নিয়েছে ইরান সরকার। বর্তমান এই সংকটময় মুহূর্তে তেহরানের রাজপথ শান্ত থাকলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এক নতুন মোড় নিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

রিফর্ম ইউকেতে যোগ দিলেন সাবেক টরি চ্যান্সেলর নাধিম জাহাওয়ি

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে সাবেক কনজারভেটিভ চ্যান্সেলর নাধিম জাহাওয়ি রিফর্ম ইউকে দলে যোগ দিয়েছেন। দলটির নেতা নাইজেল ফারাজ নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, যা টরি পার্টির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচনে এমপি পদ থেকে সরে দাঁড়ানো জাহাওয়ি এখন পর্যন্ত রিফর্ম ইউকেতে যোগ দেওয়া সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সাবেক কনজারভেটিভ নেতা।

তার এই সিদ্ধান্তকে রিফর্ম ইউকের জন্য বড় রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দল বদলের ঘোষণা দিয়ে নাধিম জাহাওয়ি বলেন, যুক্তরাজ্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বিগ্ন। তার ভাষায়, “আমাদের সুন্দর, জাদুকরী ও প্রাচীন দ্বীপ রাষ্ট্রের গল্প এখন এক অন্ধকার ও বিপজ্জনক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির অবনতির দিকেই ইঙ্গিত করেন।

জাহাওয়ি জানান, উচ্চ কর আরোপ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণ বা সেন্সরশিপ তাকে কনজারভেটিভ পার্টি ছাড়তে বাধ্য করেছে। তার মতে, এই নীতিগুলো দেশের ভবিষ্যৎ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন, তার এই সিদ্ধান্তে সাবেক দলের অনেক নেতাকর্মী বিস্মিত হবেন। তবে তিনি মনে করেন, বর্তমান বাস্তবতায় রিফর্ম ইউকেই তার রাজনৈতিক বিশ্বাস ও অবস্থানের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন, করনীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব ইস্যুতে কড়া অবস্থান নিয়ে আলোচনায় রয়েছে। নাধিম জাহাওয়ির যোগদান দলটির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব আরও বাড়াবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

মোস্তাফিজকে দলে রাখলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে—বিসিবিকে আইসিসির চিঠি ঘিরে তীব্র প্রতিবাদ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতের মাটিতে টুর্নামেন্ট আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সম্প্রতি আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) একটি চিঠি দিয়েছে, যেখানে তিনটি কারণে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার বাফুফে ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল চিঠিটির বিষয়বস্তু প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে—বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে যদি বিশ্বকাপ দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়তে পারে।

চিঠিতে আরও দুটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। এর মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো—বাংলাদেশ দলের সমর্থকরা যদি জাতীয় দলের জার্সি পরে প্রকাশ্যে চলাফেরা করেন। তৃতীয় কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।

আইসিসির এই অবস্থানকে ‘উদ্ভট’ ও ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, আইসিসি যদি আশা করে বাংলাদেশ তাদের সেরা বোলারকে বাদ দিয়ে দল গঠন করবে, সমর্থকরা জাতীয় জার্সি পরতে পারবে না এবং একটি সার্বভৌম দেশের নির্বাচন সূচি পরিবর্তন করা হবে—তাহলে এর চেয়ে অবাস্তব প্রত্যাশা আর হতে পারে না।

ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কড়া সমালোচনা করে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ভারতে বর্তমানে যে উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিবেশ এবং বাংলাদেশ-বিদ্বেষী মনোভাব বিরাজ করছে, বিশেষ করে গত ১৬ মাস ধরে চলা ধারাবাহিক ক্যাম্পেইনের প্রেক্ষাপটে সেখানে বাংলাদেশের জন্য ক্রিকেট খেলার পরিবেশ নেই। মোস্তাফিজকে ঘিরে আইসিসির নিরাপত্তা উদ্বেগ সেই বাস্তবতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল স্পষ্ট করে বলেন, আইসিসি কোনো একক দেশের প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণে চলতে পারে না। তাঁর মতে, ক্রিকেটের ওপর কোনো দেশের একচেটিয়া কর্তৃত্ব থাকা উচিত নয়। আইসিসি যদি সত্যিকার অর্থে একটি বৈশ্বিক সংগঠন হয়ে থাকে এবং ভারতের সিদ্ধান্তে নির্ভরশীল না হয়, তাহলে বাংলাদেশের জন্য শ্রীলঙ্কা বা অন্য কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।

তিনি আরও জানান, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে পাকিস্তান বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলা হলে বাংলাদেশের কোনো আপত্তি নেই।

সবশেষে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, যেখানে একটি দলের খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না এবং সাম্প্রদায়িক চাপের মুখে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড কাউকে খেলানো না হোক বলে ইঙ্গিত দেয়, সেখানে ভারতের কোনো ভেন্যুতেই বাংলাদেশের জন্য খেলার পরিবেশ নেই। তার মতে, এই বাস্তবতা আইসিসির সামনে এখন সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত।

সূত্রঃ প্রথম আলো

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ দাবি করা ছবি পোস্ট করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে দাবি করা একটি ছবি পোস্ট করেছেন। ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক বিভিন্ন নাটকীয় ঘটনার প্রেক্ষিতে ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে এই ডিজিটাল ছবি শেয়ার করেন।

 

সোমবার(১২ জানুয়ারি) শেয়ার করা ছবিতে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নাম দেখা গেছে, যা মূলত উইকিপিডিয়ার একটি এডিট বা সম্পাদিত অংশ বলে মনে হচ্ছে। সেখানে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তাকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবিতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিস্তারিত তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখানো হয়। এতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, তিনি সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যেই এই ছবি সামনে এলো। ওই সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

মাদুরো অপসারিত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার আইন অনুযায়ী, দেশটির সুপ্রিম ট্রাইব্যুনাল অব জাস্টিস ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ পাঠ করান।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মাদুরো মার্কিন ফেডারেল আদালতে মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।

সামরিক অভিযানের পর ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, তিনি ভেনেজুয়েলাকে অস্থায়ীভাবে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে রাখছেন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, যতক্ষণ না আমরা একটি নিরাপদ, যথাযথ এবং বিচক্ষণ ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন করতে পারছি, ততক্ষণ আমরাই দেশটি পরিচালনা করব।

সূত্রঃ ট্রুথ স্যোশাল

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

২০ বছর পরও ব্রিটেনকে নাড়া দেয় বানাজ মাহমুদের হত্যাকাণ্ডঃ পরিবারই যখন হত্যার নির্দেশদাতা

এই মাসে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ‘অনার কিলিং’ মামলাগুলোর একটি—বানাজ মাহমুদের হত্যাকাণ্ডের ২০ বছর পূর্তি হচ্ছে। ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে সংঘটিত এই ঘটনা ব্রিটেনজুড়ে নারীর অধিকার, পারিবারিক সহিংসতা ও অনার-ভিত্তিক নির্যাতন নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

 

দক্ষিণ লন্ডনের মিচামে বসবাসকারী বানাজ মাহমুদের বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। ১০ বছর বয়সে তিনি পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে আসেন, যখন তার বাবা ইরাক থেকে পালিয়ে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে ব্রিটেনে প্রবেশ করেন। শৈশব থেকেই বানাজ ও তার চার বোন পারিবারিক সহিংসতার শিকার হন, যা যুক্তরাজ্যে বসবাসের পরও থামেনি।

১৭ বছর বয়সে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বানাজকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়েতে বাধ্য করা হয়। সেখানে তিনি নির্যাতনের শিকার হন এবং শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে তিনি নিজের পছন্দে এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যা পরিবার মেনে নেয়নি।

নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে বানাজ একাধিকবার পুলিশের কাছে সহায়তা চান। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে তার পরিবার তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু সেই অভিযোগগুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি—যা পরবর্তীতে তদন্তে বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হয়।

পরিবারের তথাকথিত ‘সম্মান’ রক্ষার অজুহাতে বানাজকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্তে উঠে আসে, এই পরিকল্পনার নেপথ্যে ছিলেন তার বাবা মাহমুদ বাবাকির মাহমুদ এবং চাচা আরি আগা মাহমুদ। ২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং পরে মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

বানাজ নিখোঁজ হওয়ার পর তার সঙ্গী রহমান সুলেমানি বিষয়টি পুলিশকে জানান। দীর্ঘ তদন্তের পর মরদেহ উদ্ধার হয় এবং একে একে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিটেকটিভ চিফ ইনস্পেক্টর ক্যারোলিন গুড বলেন, এটি একটি বিরল মামলা ছিল, যেখানে পরিবার ন্যায়বিচার চায়নি—কারণ তারাই হত্যার নির্দেশদাতা ছিল।

২০০৭ সালে আদালত বানাজের বাবাকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন, ন্যূনতম সাজা নির্ধারণ করা হয় ২০ বছর। চাচাকে দেওয়া হয় ন্যূনতম ২৩ বছরের যাবজ্জীবন। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত অন্য অভিযুক্তদেরও বিভিন্ন মেয়াদে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে আইটিভিতে ‘অনর’ নামে একটি নাট্যধর্মী সিরিজ নির্মিত হয়, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এতে তদন্ত কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগীর কাহিনি তুলে ধরা হয়, যা নতুন প্রজন্মের কাছে ঘটনাটি পরিচিত করে তোলে।

বানাজের বোন বেখাল মাহমুদ বর্তমানে নিরাপত্তাজনিত কারণে নতুন পরিচয়ে জীবনযাপন করছেন। তিনি সম্প্রতি জানান, এই ঘটনা তাদের পরিবারে চিরস্থায়ী ভয় ও মানসিক ক্ষত তৈরি করেছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যে প্রস্তাবিত ‘বানাজ’স ল’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

প্রস্তাবিত এই আইনের লক্ষ্য হলো অনার-কিলিং ভিত্তিক নির্যাতনকে শাস্তির ক্ষেত্রে আলাদা ও গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা। এতে একদিকে যেমন অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে তেমনি আগাম সতর্কতা ও ভুক্তভোগীদের সহায়তা জোরদার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রঃ দ্য মিরর

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ভারতের কারাবন্দি অ্যাক্টিভিস্ট উমর খালিদকে মামদানির চিঠি, চরম অসন্তুষ্ট ভারত

নিউইয়র্কের ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি কারাবন্দি অ্যাক্টিভিস্ট উমর খালিদকে ব্যক্তিগত সংহতিপত্র পাঠানোয় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার।

 

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত উমর খালিদের মা-বাবার সঙ্গে দেখা করে মামদানি একটি হাতে লেখা নোট দেন, যা পরবর্তীতে কারাগারে থাকা খালিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধিদের উচিত অন্য দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা।

সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই পদক্ষেপকে ‘দায়িত্বহীন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে দায়িত্বশীল পদে আসীন ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত পক্ষপাতমূলক মতামত প্রকাশ করা শোভন নয় এবং তাদের উচিত অন্যের বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ না করে নিজের অর্পিত দায়িত্বে মনোযোগ দেওয়া।

উমর খালিদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন ‘ইউএপিএ’-র আওতায় মামলা চলায় এবং বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন হওয়ায় নিউইয়র্কের মেয়রের এই ভূমিকাকে ভারত অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবেই দেখছে।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে (সিএএ) কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে উমর খালিদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি কারাগারে আছেন এবং একাধিকবার আবেদনের পরও তার জামিন মঞ্জুর হয়নি। এই দীর্ঘ কারাবাসের প্রেক্ষাপটে বিদেশি কোনো গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধির সংহতি প্রকাশের ঘটনাটি ভারতের কূটনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

‘মুজিব ভাই’ বিতর্কঃ ৪২ কোটি কীভাবে ৪ হাজার কোটির গুজবে রূপ নিল

নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতাকে ছাপিয়ে হঠাৎ করেই তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে ‘মুজিব ভাই’ নামের একটি অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র। গত ৯ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই একটি সিনেমা নির্মাণে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২১১ কোটি টাকা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের ‘লুটপাট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এই দাবির সূত্র হিসেবে গণমাধ্যমগুলো উল্লেখ করে সরকারের প্রকাশিত একটি ‘শ্বেতপত্র’। ডাক ও টেলিযোগাযোগ খাতে গত ১৫ বছরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও কাঠামোগত দুর্বলতা অনুসন্ধান করে অন্তর্বর্তী সরকার ৫ জানুয়ারি ৩ হাজার ২৭২ পৃষ্ঠার এই শ্বেতপত্র প্রকাশ করে, যা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হয়। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও দুর্নীতি প্রতিরোধে নীতিগত দিকনির্দেশনা দিতেই এই দলিল।

কিন্তু শ্বেতপত্র প্রকাশের পর মূল আলোচনায় আসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক—৪২১১.২২ লাখ টাকা। গণমাধ্যমে সেটিই রূপ নেয় ৪ হাজার ২১১ কোটি টাকায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, শ্বেতপত্রে কোথাও ‘মুজিব ভাই’ সিনেমার নির্মাণ ব্যয় হিসেবে ৪ হাজার কোটি টাকার কোনো উল্লেখ নেই। বরং সেখানে আছে ৪২১১.২২ লাখ টাকার একটি হিসাব, যা সংখ্যাগতভাবে দাঁড়ায় প্রায় ৪২ কোটি ১১ লাখ ২২ হাজার টাকা।

অর্থনীতিবিদ ও হিসাববিদদের মতে, ৪২১১.২২ লাখ টাকা কখনোই ৪ হাজার কোটি টাকা হতে পারে না। লাখ থেকে কোটিতে রূপান্তর করলে অঙ্কটি দাঁড়ায় মাত্র ৪২ কোটি টাকার কিছু বেশি। তবু ভুল ব্যাখ্যা বা অসতর্ক উপস্থাপনার মাধ্যমে এই সংখ্যাই দুই দিন ধরে দেশের বহু গণমাধ্যমে ‘৪ হাজার কোটি টাকা’ হিসেবে প্রচারিত হয়।

শ্বেতপত্রের ফ্যাক্ট ১২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে আইসিটি ডিভিশন অনুৎপাদনশীল ও দলীয় কার্যক্রমে অর্থ ব্যয় করেছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সঙ্গে আইসিটি ডিভিশনের একাধিক সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে ‘খোকা’ নামের অ্যানিমেটেড সিরিজ এবং ‘মুজিব ভাই’ শীর্ষক অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

শ্বেতপত্রে আরও বলা হয়, আইসিটি ডিভিশনের তহবিল থেকে মোট ৪২১১.২২ লাখ টাকা রাজনৈতিক প্রচারণামূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়েছে। এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি যে এই পুরো অর্থ শুধু ‘মুজিব ভাই’ সিনেমার নির্মাণ ব্যয়। বরং এটি বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল ও প্রচারণামূলক কার্যক্রমের সম্মিলিত ব্যয়।

একই প্রসঙ্গে শ্বেতপত্রে ৭ মার্চের ভাষণ (২০১৭), ‘মুজিব ভাই’ (২০২৩), ‘খোকা’ এবং ‘সমৃদ্ধ আগামীর প্রতিচ্ছবি’ (২০২৩) নামের উদ্যোগগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোকে রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিং ও দলীয় বয়ান জোরদারের উপকরণ হিসেবে সমালোচনা করা হয়েছে। তবে কোথাও আলাদাভাবে ‘মুজিব ভাই’ চলচ্চিত্রের নির্মাণ ব্যয় নির্দিষ্ট করে উল্লেখ নেই।

‘মুজিব ভাই’ অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ২৩ জুন রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি তৈরি করে আইসিটি বিভাগের মোবাইল গেম ও অ্যাপ্লিকেশন দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প। চলচ্চিত্রটির পরিচালক ছিলেন চন্দন কুমার বর্মন ও সোহেল মোহাম্মদ।

চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে নির্মাতা আনন্দ কুটুম জানান, তিনি যতদূর জানেন, সিনেমাটির বাজেট ছিল আনুমানিক ৪ কোটি টাকার মতো, যা অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে খুব বড় অঙ্ক নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ অর্থের একটি অংশ কর্পোরেট স্পন্সরশিপ থেকেও এসেছে বলে তিনি শুনেছিলেন। তার মতে, ৪ হাজার কোটি টাকার দাবি সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

সব মিলিয়ে শ্বেতপত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, ‘মুজিব ভাই’ সিনেমা নির্মাণে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের যে দাবি ছড়িয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। মূলত রাজনৈতিক প্রচারণামূলক একাধিক কার্যক্রমে ব্যয় হওয়া ৪২ কোটি টাকার একটি সম্মিলিত অঙ্ক ভুলভাবে ব্যাখ্যা ও উপস্থাপনের ফলেই এই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্রঃ আইসিটি বিভাগ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

শিশুদের আপত্তিকর ছবি তৈরির অভিযোগে এক্স বর্জনের পথে ব্রিটিশ সরকার

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর এআই টুল ‘গ্রোক’ ব্যবহার করে শিশুদের আপত্তিকর ও বিকৃত ছবি তৈরির অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। এই প্রেক্ষাপটে প্ল্যাটফর্মটি সরকারি পর্যায়ে ব্যবহার বন্ধ করা হবে কি না—সে বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন লেবার পার্টির চেয়ারপারসন ও ক্যাবিনেট অফিস মন্ত্রী অ্যানা টারলি।

 

সাম্প্রতিক সময়ে গ্রোকের ইমেজ জেনারেশন সুবিধা ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির, এমনকি শিশুদের ক্ষেত্রেও আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরির অভিযোগ সামনে আসে। ডিজিটাল উপায়ে ছবি বিকৃত করার এই প্রবণতা আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ বাড়িয়েছে।

বিবিসি রেডিও ফোর-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যানা টারলি বলেন, এক্সকে অবিলম্বে এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবেও তিনি এক্স ছাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন এবং সরকারের বিভিন্ন স্তরে অনলাইন নিরাপত্তা ও সুরক্ষার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

সরকার জানিয়েছে, মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমকে প্রয়োজনীয় পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা এক্সের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। অনলাইন নিরাপত্তা আইন ও বিদ্যমান বিধিবিধানের আওতায় প্ল্যাটফর্মটির দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই পরিস্থিতিকে ‘বেআইনি ও অসহনীয়’ আখ্যা দিয়ে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি এক্স কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দেন এবং প্রয়োজনে সরকারের হাতে থাকা সব বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনার কথা বলেন।

ইতোমধ্যে উইমেন অ্যান্ড ইকুয়ালিটিস কমিটিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটি এক্সকে সরকারি যোগাযোগের জন্য অনুপযুক্ত ঘোষণা করে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার বন্ধ করেছে। অনেক প্রভাবশালী এমপি ও সংসদীয় কমিটির একই সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে।

এক্স কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্রোকের ইমেজ তৈরির সুবিধা কেবল পেইড ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় এবং আরও শক্ত নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

সরকারের ভেতরে মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ মন্ত্রী মনে করছেন, বর্তমান আপত্তিকর কনটেন্টের পরিবেশে এক্সে উপস্থিত থাকা সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। যদিও কেউ কেউ বৃহৎ জনসম্পৃক্ততার যুক্তিতে প্ল্যাটফর্মে থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন, তবু শিশু সুরক্ষা ও অনলাইন নিরাপত্তার প্রশ্নে এক্স ছাড়ার পক্ষেই পাল্লা ভারী হয়ে উঠছে।

সূত্রঃ বিবিসি রেডিও ৪

এম.কে