Categories
বাংলাদেশ

ভিসা, আইপিএল ও নিরাপত্তা ইস্যুঃ ভারতীয় নাগরিকদের পর্যটক ভিসা সীমিত করছে বাংলাদেশ

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও ত্রিপুরার আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনার কার্যালয়ে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর এবার কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশের উপ-দূতাবাসগুলো থেকেও ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা দেওয়া সীমিত করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হলেও বুধবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের একাধিক কর্মকর্তা।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন বিভিন্ন ইস্যুতে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় আইপিএলের সব ম্যাচ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভারতে পাঠানো হবে না বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

এই প্রেক্ষাপটে কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসগুলো থেকে ভারতীয়দের পর্যটক ভিসা সীমিত করা হয়েছে কি না—সে প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় আসে। কেউ কেউ বিষয়টিকে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন।

তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ ভিসা স্থগিত বা সীমিত করার বিষয়ে তার পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার কাছে এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই।”

তিনি জানান, যেসব মিশনে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, সেসব স্থানে আপাতত ভিসা সেকশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। “যেখানে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এটি নিরাপত্তার প্রশ্ন,” বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

দিল্লি ও আগরতলার পর এখন কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়েও পর্যটক ভিসা সীমিত হওয়ায় কার্যত গুয়াহাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনারের কার্যালয়ই একমাত্র স্থান, যেখান থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশে ভ্রমণ ভিসা দেওয়া হচ্ছে। তবে পর্যটক ভিসা সীমিত হলেও বাণিজ্যিক ভিসাসহ অন্যান্য ক্যাটাগরির ভিসা কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও, ভিসা কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ এবং বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ভারত সাময়িকভাবে সব ধরনের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখে।

পরবর্তীতে ভিসা সেন্টার চালু হলেও ভারত জানিয়ে দেয়, মেডিকেল ভিসা ও কিছু জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটক ভিসা আপাতত দেওয়া হবে না। বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় পর্যটক ভিসা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

এদিকে দিল্লির কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে হিন্দু চরমপন্থী গোষ্ঠীর বিক্ষোভ এবং ত্রিপুরার আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনার কার্যালয়ের সামনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অতীতে সেখানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

এই সব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা শঙ্কাকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কয়েকটি মিশনে ভিসা কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে কোনো রাজনৈতিক পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকার করা হয়নি।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

মৃত্যুর মুখে ব্রিটিশ কারাগারে অনশনরত দুই ফিলিস্থিনপন্থি অ্যাক্টিভিস্ট

ব্রিটেনের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সঙ্গে যুক্ত দুই অ্যাক্টিভিস্ট হেবা মুরাইসি ও কামরান আহমেদ টানা দুই মাসের বেশি সময় অনশন চালিয়ে যাওয়ায় তাদের স্বাস্থ্য আশঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। চিকিৎসকদের সতর্কতার পরও তারা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবরটি জানিয়েছে।

 

হেবা মুরাইসির বন্ধু আমরিন আফজাল বলেন, “মুরাইসি খুব ফ্যাকাশে, দুর্বল ও শীর্ণ হয়ে পড়েছেন। তার পেশিতে খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, তীব্র ব্যথা এবং স্মৃতিভ্রংশ দেখা দিচ্ছে। একাধিকবার হাসপাতালে নেওয়া হলেও তিনি অনশন ভাঙতে রাজি হননি।”

২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানি এলবিট সিস্টেমসের যুক্তরাজ্যের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানে ব্রিস্টলে চুরি এবং অক্সফোর্ডশায়ারে রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ঘাঁটিতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের রিমান্ডে নিয়ে কারাগারে রাখা হয়েছে।

এই দুজনের সঙ্গে আরও ছয় অ্যাক্টিভিস্টকেও আটক করা হয়েছিল। তারা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যুক্তরাজ্যে বিচার-পূর্ব আটকের (রিমান্ড) সীমা ছয় মাস। কিন্তু তাদের বিচার শুরু হওয়ার আগেই এক বছর কারাগারে কাটাবেন।

মুরাইসি টানা ৬৭ দিন এবং কামরান আহমেদ ৬০ দিন ধরে অনশন করছেন। এ ছাড়া ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বন্দি লিউই কিয়ারামেলো মাঝেমধ্যে খাবার গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। আহমেদ বুকে ব্যথা, শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং হৃদস্পন্দনের পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগচছেন।

অন্যদিকে লিউই কিয়ারামেলোর ক্ষেত্রে ডায়াবেটিক কোমায় চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের শারীরিক অবস্থার স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে এবং যে কোনো সময় মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কামরান আহমেদের বোন শাহমিনা আলম বলেন, “প্রতিবারই আমরা তাদের দেখতে যাচ্ছি, এটাই শেষ দেখা হতে পারে, এটা মাথায় নিয়েই। ওরা জানেও যে, ওরা যেকোন সময় মারা যেতে পারে, ওরা তবুও অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল।”

অনশনকারীরা জামিন, ন্যায্য বিচার এবং যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের স্থাপনা বন্ধের আহ্বান এবং কারাগারে সেন্সরশিপের অভিযোগ তুলেছেন।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বন্দিদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলে নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও অনশনকারীদের হাতকড়া পরানো হয়েছে। শতাধিক চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন।

সমর্থকরা এই অনশনকে ১৯৮১ সালের আইরিশ রিপাবলিকান অনশন আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করছেন, যেখানে নেতা ববি স্যান্ডস অনশনের ৬৬তম দিনে মারা যান, যে দিনটি মুরাইসির অনশনের ৬৬তম দিনের সঙ্গে মিলে যায়।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, সরকার অনশনকারীদের জীবন নিয়ে চরম অবহেলা ও অবজ্ঞা দেখাচ্ছে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের শুল্ক কমানোর প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিলো যুক্তরাষ্ট্র

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকটি বৃহস্পতিবার বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে ড. রহমান ইউএসটিআর সহকারী ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গেও একটি পৃথক বৈঠক করেন। শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বৈঠকের বিষয়টি প্রকাশ করে।
ড. খলিলুর রহমান সাক্ষাৎকালে জেমিসন গ্রিয়ারকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়নের আগেই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে, যা বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া চুক্তির কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক ইতোমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে।

ড. রহমান ইউএসটিআরকে প্রস্তাব দেন বর্তমান ২০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে আনা। রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ার এই প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। একইসঙ্গে, মার্কিন কাঁচামাল ব্যবহার করে উৎপাদিত পোশাকের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কমানো বা পুরোপুরি প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

উভয়পক্ষ পারস্পরিক শুল্ক চুক্তি চূড়ান্ত ও দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের বিষয়ে একমত পোষণ করে। ড. রহমান আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

সাক্ষাৎকালে ড. রহমান রাষ্ট্রদূত গ্রিয়ারকে আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সহজ করার জন্য সদিচ্ছা কাজে লাগানোর। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি তহবিল নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান, যা নিয়ে রাষ্ট্রদূত প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা চালানোর আশ্বাস দেন।

বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাৎটি বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রঃ বে অব বেঙ্গল পোস্ট

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ডে হামলা হলে আগে গুলি, পরে প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ডেনমার্কের

ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে, তবে ডেনিশ সেনারা ‘আগে গুলি চালাবে এবং পরে প্রশ্ন করবে’। এই অবস্থান ১৯৫২ সালের ডেনিশ সেনাবাহিনীর একটি নিয়মের প্রতিফলন, যেখানে বলা হয়েছে—অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে সেনাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।

ডেনিশ প্রভাবশালী সংবাদপত্র বার্লিংস্কে ওই নিয়মটি এখনো কার্যকর আছে কি না—এমন প্রশ্ন তুললে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নির্দেশনাটি এখনো পুরোপুরি ‘বলবৎ’। অর্থাৎ, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনারা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে আইনগতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

এমন ঘোষণার পেছনে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান। ন্যাটোভুক্ত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে তিনি নতুন করে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, আর্কটিক দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে, যার মধ্যে সামরিক শক্তির ব্যবহারও অন্তর্ভুক্ত।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে গ্রিনল্যান্ড দখল যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি অগ্রাধিকার। তাঁর ভাষায়, আর্কটিক অঞ্চলে শত্রু শক্তির তৎপরতা ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই লক্ষ্য অর্জনে সামরিক বাহিনীর ব্যবহার একটি ‘খোলা বিকল্প’ হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে।

তবে কূটনৈতিক পথে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তিনি আগামী সপ্তাহে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে চান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুবিও স্পষ্ট করেছেন—ট্রাম্প সামরিক শক্তি নয়, বরং দ্বীপটি কিনতে আগ্রহী। ডেনমার্ক এই আলোচনাকে ‘প্রয়োজনীয় সংলাপ’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।

এর মধ্যেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ডেনমার্কের সমালোচনা করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটি ‘স্পষ্টভাবেই ব্যর্থ’। তিনি দাবি করেন, আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ট্রাম্প প্রয়োজনে ‘যত দূর যেতে হয়, তত দূর যেতে প্রস্তুত’।

ডেনমার্ক বারবার জোর দিয়ে বলেছে, গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই ‘বিক্রির জন্য নয়’। এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে গত মঙ্গলবার ইউরোপীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের আঞ্চলিক অখণ্ডতা অবশ্যই সম্মান করতে হবে।

ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন আরও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডে যেকোনো মার্কিন আক্রমণের অর্থ হবে ন্যাটো জোটের সমাপ্তি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবসান।

ট্রাম্পের যুক্তি হলো, আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনের হাতে থাকা জরুরি। তবে এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

সূত্রঃ বার্লিংস্কে

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

তুষারপাতের পর বার্মিংহামের আকাশে বিস্ময়কর গোলাপি রং, উচ্ছ্বসিত বাসিন্দারা

ব্রিটেনের অন্যতম প্রধান শহর বার্মিংহামে দেখা গেছে এক বিরল ও বিস্ময়কর প্রাকৃতিক দৃশ্য। চিরচেনা নীল আকাশ হঠাৎ বদলে গাঢ় গোলাপি রঙ ধারণ করে, যা শহরজুড়ে সৃষ্টি করেছে কৌতূহল ও আলোড়ন। আকাশের এই অস্বাভাবিক রঙ পরিবর্তন সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে মুহূর্তেই।

গত এক সপ্তাহ ধরে ব্রিটেনের উত্তরের বিভিন্ন শহরে তীব্র তুষারপাত ও বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছিল।

 

এর প্রভাব পড়ে বার্মিংহামেও। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শহরটির আবহাওয়া ছিল চরম প্রতিকূল, আর বৃহস্পতিবার রাতজুড়ে সেখানে প্রবল তুষারপাত হয়।

শুক্রবার গভীর রাতে তুষারপাত কমে এলে হঠাৎ করেই দৃশ্যপটে আসে ব্যতিক্রমী পরিবর্তন। রাতের আকাশ নীল রঙ ছেড়ে গাঢ় গোলাপি আভা ধারণ করে, যা পুরো শহরজুড়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল। এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখেননি বলে জানান অনেক বাসিন্দা।

আকাশের এই রঙ বদলের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন স্থানীয়রা। হাজার হাজার মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে এসে খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে সেই গোলাপি আকাশ উপভোগ করেন। অনেকে মোবাইলে ভিডিও ও ছবি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন, যা দ্রুতই ভাইরাল হয়ে পড়ে।

তবে হঠাৎ করে আকাশের এমন রঙ পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। আবহাওয়াবিদ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

Categories
আন্তর্জাতিক

এবার মেক্সিকোর ভেতরে স্থল হামলার ঘোষণা ট্রাম্পের

ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোর ভূখণ্ডে সামরিক হামলার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি মেক্সিকোর মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে এই যুদ্ধের ঘোষণা দেন।

 

তিনি দাবি করেন, জলপথে মাদক পাচারের ৯৭ শতাংশ ইতিমধ্যে বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে তার প্রশাসন এবং এখন সরাসরি মেক্সিকোর ভেতরে ঢুকে স্থলভাগে কার্টেলগুলোর ওপর আঘাত হানা হবে। ট্রাম্পের মতে, বর্তমানে মেক্সিকো সরকার নয় বরং শক্তিশালী মাদক কার্টেলগুলোই দেশটি চালাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মেক্সিকোর মাটিতে এমন কোনো হামলা হতে দেওয়া হবে না। তিনি তার দেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্পের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।

যদিও গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুই দেশ মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল, তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই বক্তব্য মেক্সিকো সরকারের সঙ্গে করা সেই কূটনৈতিক সমঝোতাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই ট্রাম্প মাদকের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগরে চালানো মার্কিন অভিযানে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী ওই নৌযানগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল, যদিও এর সপক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো অকাট্য প্রমাণ জনসমক্ষে আনা হয়নি।

ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক অভিযানের পর চীন, রাশিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনলেও তিনি তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্প বুক ফুলিয়ে বলেছেন যে, তিনি এই ধরনের আন্তর্জাতিক আইনের কোনো তোয়াক্কা করেন না।

মেক্সিকোর ভেতরে মার্কিন স্থল হামলার এই ঘোষণা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি নয়, বরং পুরো উত্তর আমেরিকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম যেখানে আলাপ-আলোচনা ও যৌথ অভিযানের ওপর জোর দিচ্ছেন, সেখানে ট্রাম্পের এককভাবে হামলার হুমকি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে মেক্সিকো সীমান্তের কাছাকাছি বিশেষ বাহিনী মোতায়েন শুরু করেছে বলে কিছু অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, যা এই শঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করছে।

সূত্রঃ গালফ নিউজ \ ফক্স নিউজ

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক আইন নয়, নিজের নৈতিকতাই শেষ কথা—নিউইয়র্ক টাইমসে ট্রাম্প

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন, যা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আন্তর্জাতিক আইন তার জন্য বাধ্যতামূলক নয় এবং তার ক্ষমতার একমাত্র সীমা হলো “নিজের নৈতিকতা ও নিজের চিন্তা”।

 

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার ক্ষমতা থামাতে পারে এমন একটাই জিনিস—আমার নিজের নৈতিকতা।” তিনি দাবি করেন, মানুষের ক্ষতি করার কোনো ইচ্ছা তার নেই। যদিও এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে, তবে সঙ্গে সঙ্গে যোগ করেন—আন্তর্জাতিক আইন কী, তার সংজ্ঞার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প মালিকানার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তার ভাষায়, লিজ বা চুক্তির চেয়ে সরাসরি মালিকানাই রাজনৈতিক ও মানসিকভাবে বেশি কার্যকর। শুধু কাগজে সই করে কোনো অঞ্চলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। চীন তাইওয়ান দখল বা রাশিয়ার ইউক্রেন নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির কোনো তুলনা তিনি মানতে নারাজ।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে ট্রাম্প আবারও বিতর্কিত দাবি করেন যে মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাং সদস্য পাঠিয়েছেন। তার মতে, এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “বাস্তব হুমকি” তৈরি করেছিল, যা চীন বা রাশিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।

তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূমিকা নিয়েও ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, শি জিনপিং তার প্রেসিডেন্সির সময় তাইওয়ান দখল করবেন না বলে তিনি বিশ্বাস করেন, যদিও ভবিষ্যতে অন্য কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সময়ে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে থাকা শেষ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়েও ট্রাম্প উদাসীন মনোভাব প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে নতুন ও আরও ভালো চুক্তি করা হবে, যেখানে চীনসহ অন্যান্য দেশকেও অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের সময় যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ উত্তেজনাও বাড়ছে। মিনিয়াপোলিসে আইসিই-এর গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, যা ট্রাম্পের বক্তব্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

গাজায় তাঁবুতে থাকাই ‘উপযুক্ত’: পরিবারকে যুক্তরাজ্যে আনার আবেদন জরুরি নয়ঃ হোম অফিস

গাজা থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে যুক্তরাজ্যে আনার সর্বশেষ আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলাটি ‘জরুরি’ নয় এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের গাজায় মায়ের সঙ্গেই থাকা বেশি উপযুক্ত।

হোম অফিসের পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, ভিসা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্ত্রী মারিমকে ভিসা আবেদন কেন্দ্র (ভিএসি)-এ গিয়ে আঙুলের ছাপ দিতে হবে—এই শর্ত স্থগিত করার মতো কোনো “যথেষ্ট জোরালো কারণ” পাওয়া যায়নি।

 

বাস্তবতা হলো, ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের ফলে গাজায় বর্তমানে কোনো ভিসা আবেদন কেন্দ্র নেই। ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হামলা অব্যাহত থাকায় এসব কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে—যা হোম অফিস অবগত বলেই দাবি করেছেন বাসেম আবুদাগ্গা।

২০২২ সালে ইয়র্ক সেন্ট জন ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি পড়ার জন্য বৃত্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে আসেন ফিলিস্তিনি একাডেমিক বাসেম আবুদাগ্গা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার চার সপ্তাহ আগে গাজা সফরে গিয়ে স্ত্রী মারিম, ছয় বছরের ছেলে কারিম ও ১০ বছরের মেয়ে তালিয়ার সঙ্গে শেষবার দেখা করেছিলেন তিনি।

ইসরায়েলি অভিযানে তাদের পারিবারিক বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে স্ত্রী ও সন্তানরা গাজার সমুদ্রতীরবর্তী একটি শরণার্থী শিবিরে তাঁবুতে বসবাস করছে। ২০২৩ সালের শরৎকাল থেকে পরিবারকে আর সরাসরি দেখেননি আবুদাগ্গা।

হোম অফিসের সিদ্ধান্ত পড়ে তিনি বলেন, তিন বছরের বেশি সময় পর পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের শেষ আশাটুকুও ভেঙে গেছে। তার ভাষায়, এটি ছিল “ভীষণ কষ্টকর” অভিজ্ঞতা।

সংবাদটি শুনে তার স্ত্রী মারিম চরম হতাশায় ভেঙে পড়েন। আবুদাগ্গার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ফোনে বলেছিলেন—যুক্তরাজ্যে নেওয়ার চেষ্টা আর না করতে, বরং পড়াশোনায় মন দিতে।

হোম অফিসের চিঠিতে আরও বলা হয়, আবুদাগ্গার পরিবারের পরিস্থিতি জাতীয় ও সীমান্ত নিরাপত্তার স্বার্থকে ছাপিয়ে যায় কি না—তা বিবেচনা করা হয়েছে। আবেদন প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, এই মানদণ্ড তারা পূরণ করে না।

এ মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে আবুদাগ্গা বলেন, তার পরিবারকে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করা এবং শিশুদের গাজায়ই ভালো আছে বলা—ব্রিটিশ মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সর্বশেষ আবেদনে তিনি অনুরোধ করেছিলেন, তার স্ত্রী ভিএসি-তে উপস্থিত হওয়ার আগেই নীতিগতভাবে ভিসা আবেদনের সিদ্ধান্ত দিতে। তাতে পররাষ্ট্র দপ্তরের সহায়তায় পরিবারকে এমন কোনো দেশে নেওয়া সম্ভব হতো, যেখানে ভিএসি চালু রয়েছে। কিন্তু সেই অনুরোধও নাকচ করা হয়।

হোম অফিস জানায়, স্বাভাবিক নীতি থেকে সরে আসার মতো পরিস্থিতি তারা দেখছে না এবং ভিএসি-তে যাওয়া নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত পরিবার পুনর্মিলন বিলম্বিত করা যেতে পারে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, আবুদাগ্গা ভবিষ্যতে গাজায় ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করায় তার যুক্তরাজ্যে অবস্থানকে অস্থায়ী ধরা হয়েছে। সে কারণে পরিস্থিতি পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত শিশুদের মায়ের কাছেই থাকা উপযুক্ত।

আইনি সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হোম অফিসের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। অভিবাসন ও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমাতে সরকারের চাপের মধ্যেই বিশেষ করে গাজায় আটকে থাকা ফিলিস্তিনিদের অনেক আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।

আবুদাগ্গার ভাষ্য অনুযায়ী, তার স্ত্রী ও সন্তানরা তীব্র খাদ্যসংকট, শীত, ঝড়-বৃষ্টি এবং বোমাবর্ষণের স্থায়ী আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সম্প্রতি মারিম তার বাবাকে হারিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।

এর আগে অনুরূপ এক মামলায় আরেক পিএইচডি শিক্ষার্থী পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে যেতে সক্ষম হওয়ায় আবুদাগ্গার আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। তবে তার ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বৈষম্যের অভিযোগ উঠছে।

আবুদাগ্গার স্থানীয় এমপি রেবেকা লং-বেইলি স্বরাষ্ট্র সচিব শাবানা মাহমুদের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানালেও হোম অফিস সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে।

এ অবস্থায় মানবাধিকার আইন সংস্থা লেই ডে-এর সহায়তায় হোম অফিসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নিয়েছেন আবুদাগ্গা। আইনজীবীদের মতে, হোম অফিসের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ীই পরিবারটির ভিসা আবেদন আগামভাবে নির্ধারণ করা উচিত ছিল।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
স্পোর্টস

তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ আখ্যা বিসিবি পরিচালকের

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের সফলতম ওপেনার তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। নিজের ফেসবুক পাতায় দেওয়া এই মন্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

 

ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিসিবির সিদ্ধান্ত নিয়ে তামিম ইকবাল সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে কিছু মন্তব্য করেন। সেই মন্তব্যের একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে শেয়ার করে নাজমুল ইসলাম লেখেন, “এইবার আরো একজন পরিক্ষিত (পরীক্ষিত) ভারতীয় দালাল এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।”

ওই পোস্টটি দীর্ঘ সময় তার ফেসবুক পাতায় দৃশ্যমান ছিল। তবে সমালোচনার ঝড় ওঠার পর গভীর রাতে কোনো এক সময় তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন। এরপরও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থামেনি।

মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং তার প্রেক্ষিতে আগামী মাসের বিশ্বকাপে খেলতে বাংলাদেশ দলের ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে গত শনিবার থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই সংকট নিয়ে তামিম ইকবাল নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মিরপুরের সিটি ক্লাব মাঠে জিয়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে।

সেখানে তামিমের কাছে প্রশ্ন করা হয়, তিনি বোর্ডে থাকলে কী সিদ্ধান্ত নিতেন। জবাবে তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ ও সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই হতো তার অগ্রাধিকার। মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সময় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।

তামিম আরও বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একটি স্বাধীন সংস্থা হলেও সরকারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ও আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বোর্ডের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকা উচিত। আজকের কোনো সিদ্ধান্ত আগামী ১০ বছরে কী প্রভাব ফেলবে, সেটিও ভাবনায় রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আবেগ নয়, ক্রিকেটীয় বাস্তবতা বিবেচনার ওপর জোর দিয়ে তামিম বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি বড় অংশের অর্থায়ন আসে আইসিসি থেকে। তাই আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান, ভবিষ্যৎ ও ক্রিকেটারদের স্বার্থ—সবকিছু মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

তামিমের এসব মন্তব্য লেখা ফটোকার্ড শেয়ার করেই বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলাম ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য, নাজমুল ইসলাম গত ৬ অক্টোবর বিসিবির নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমির কাউন্সিলর হিসেবে ৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। পরদিন বোর্ড সভায় তাকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ওই বিসিবি নির্বাচন নিয়েও তখন ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নির্বাচনে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে মোট ২১ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। ‘নির্বাচন ফিক্সিংয়ের’ অভিযোগে তামিম ইকবাল নিজেও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলেন। নির্বাচনের আগেই ৯ জন পরিচালকের পদ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছিল।

সাবেক অধিনায়ককে নিয়ে বিসিবি পরিচালকের এমন মন্তব্য নতুন করে বোর্ডের ভূমিকা, আচরণ এবং স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ক্রিকেটাঙ্গনে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

স্টর্ম গোরেত্তির তাণ্ডবে ফ্রান্স ও ব্রিটেনে বিপর্যয়ঃ লাখো ঘর বিদ্যুৎহীন

শক্তিশালী ঝড় স্টর্ম গোরেত্তি আঘাত হানায় শুক্রবার ফ্রান্স ও ব্রিটেনে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উত্তর ইউরোপজুড়ে ঝড়ের প্রভাবে দুই দেশে কয়েক লাখ পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
ফ্রান্সে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান এনেদিস জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নরম্যান্ডি অঞ্চল ও ব্রিটানি এলাকা, যেখানে ঝড়ের তীব্রতা ছিল তুলনামূলক বেশি।

রাতভর ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় মানশ অঞ্চলে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। উপকূলীয় শহর বারফ্ল্যুরে বাতাসের সর্বোচ্চ গতি রেকর্ড করা হয়েছে ঘণ্টায় ২১৩ কিলোমিটার, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী ঝড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফ্রান্সের রাষ্ট্রায়ত্ত রেল সংস্থা এসএনসিএফ প্যারিস ও নরম্যান্ডি অঞ্চলের মধ্যকার ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। যাত্রী নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।

অন্যদিকে ব্রিটেনে ন্যাশনাল গ্রিড জানিয়েছে, স্টর্ম গোরেত্তির প্রভাবে অন্তত ৫৭ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। টানা এক সপ্তাহের তীব্র শীতের পর ঝড়টি নতুন করে তুষারপাত নিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

ঝড়ের প্রভাবে স্কটল্যান্ড এবং মধ্য ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় শত শত স্কুল বন্ধ থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্য ইংল্যান্ডের কিছু অংশে গোরেত্তির প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে।

রেল অপারেটররা এসব অঞ্চলে যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ঝড় ও তুষারপাতের কারণে বেশ কয়েকটি রেল পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা বজায় রাখার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে